‘নুর তোর কী হয়?ওর জন্য কেন মাইর খাচ্ছিস’

Pub: বুধবার, মে ২৯, ২০১৯ ৮:৪০ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, মে ২৯, ২০১৯ ৮:৪০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বগুড়ায় হামলার শিকার হয়েছেন তিনি।

ঘটনার দিন যখন নুরের ওপর হামলা হয়, তখন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাতুল সরকার।

এদিন সেই হামলা থেকে বাঁচাতে নিজেই নুরকে জাড়িয়ে ধরেন। চতুর্দিক থেকে নুরের ওপর সেই আঘাত এসে পড়ে রাতুলের ওপর। একপর্যায়ে নিজেই রক্তাক্ত হন রাতুল। ঘটনার সময় বারবার হামলাকারীরা প্রশ্ন করেন, কে তুই? নুর তোর কি হয়? ওর জন্য কেন মাইর খাচ্ছিস?

সেই ঘটনার বর্ণনা ও প্রশ্নের জবাব দিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন রাতুল।

স্ট্যাটাসে রাতুল লেখেন, ‘বগুড়ায় জঙ্গি লীগের সন্ত্রাসীরা নুরকে যখন আক্রমণ করে, প্রায় পুরোটা সময় নুরকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ছিলাম। আর ওরা বারবার আমাকে উদ্দেশ্য করে বলছিল, ‘ও কেন সরে না? ওকে সরাও। কে তুই? নুর তোর কী হয়? ওর জন্য কেন মাইর খাচ্ছিস? আমি চাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনারাই পৌঁছে দেন ওইসব জঙ্গি লীগের কাছে।’

নুরকে জড়িয়ে ধরে বাঁচানোর বর্ণনা দিয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আবু সাইদ নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘এটাই ভালোবাসা। ভিপি নুরের ওপর উপর্যুপরি লাথি ঘুসির সময় নুরের শরীরের ওপর শুয়ে পড়ে নিজের শরীর পেতে দিয়ে নুরকে কোলে তুলে নেন প্রিয় সহযোদ্ধা ছাত্রসমাজের সাহসের বাতিঘর রাতুল সরকার।

উপর্যুপরি হামলার সময় নিজের শরীর পেতে দিয়ে ভিপি নুরকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন রাতুল সরকার
উপর্যুপরি হামলার সময় নিজের শরীর পেতে দিয়ে ভিপি নুরকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন রাতুল সরকার

প্রসঙ্গত, রোববার বগুড়ায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে যোগ দিয়ে হামলার শিকার হন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সঙ্গীরা। ওই দিন বিকালে শহরের পৌর পার্কের উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তন চত্বরে হামলায় নুরসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

পরে পুলিশ নুরকে উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইফতার পার্টিতে যেতে নুরকে বাধা দেয়ার একদিন পরই এ ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বগুড়া জেলা আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান রাকিব জানান, শহরে পৌর পার্কে উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ইফতারে ভিপি নুরকে প্রধান অতিথি করা হয়। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফের নেতৃত্বে ৩০-৪০ নেতাকর্মী সেখানে অবস্থান নেন।

এর আগে পুলিশ দিয়ে অনুষ্ঠান না করতে হুমকি এবং ব্যানার সরিয়ে ফেলতে বলা হয়। বিকাল ৫টার দিকে মাইক্রোবাসে ১৩ সঙ্গী নিয়ে নুর অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। কিলঘুষি, লাথি ও ইটপাটকেলের আঘাতে নুরসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। স্টেডিয়ামে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজ হাসান রক্তাক্ত নুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

এদিকে নুরসহ তার সমর্থকদের ওপর বগুড়ায় হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। সেই সঙ্গে হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করেছেন তারা। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ডাকসু ভিপির ওপর হামলাকারীদের তালিকা প্রকাশ করেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয় বলে তারা জানান। এতে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকভির ইসলাম খান, প্রচার সম্পাদক মো. মুকুল ইসলাম, সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ।

জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন, পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান, মশিউর রহমান প্রমুখ। ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর এ সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ