fbpx
 

জাবির হলে হলে আগ্নেয়াস্ত্রের মজুদ! নির্বিকার প্রশাসন

Pub: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৪, ২০১৯ ৮:০৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) হলগুলো যেন অস্ত্র মজুদের কারখানা। ছেলেদের প্রত্যেকটি হলেই দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রের মজুদ। সংঘর্ষ বাঁধলেই শোনা যায় এসব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানি। বার বার ক্যাম্পাসে এমন অস্ত্রের মহড়া সংগঠিত হওয়ার পরও অস্ত্র উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনও উদ্যোগ নেই। প্রতিটি সংঘর্ষ ঘটার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় অস্ত্র উদ্ধারে হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে। কিন্তু সেই অভিযান আর আলোর মুখ দেখেনি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে উদ্যোগ না নিলে যেকোনও সময় ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। 

সর্বশেষ গত বুধবার এক ছাত্রলীগ কর্মীর গায়ে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় দুই হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে শিক্ষক, সাংবাদিক, পুলিশসহ আহত হন অন্তত ৮০ জন। দেশি বিভিন্ন অস্ত্রের পাশাপাশি এদিনও হয় আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার। অন্তত ৮-১০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেন ছাত্রলীগ নেতারা। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারি সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন। সংঘর্ষ থামাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার চেষ্টা করলেও পাত্তা পাননি অস্ত্রসস্ত্র সজ্জিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কাছে। পরে পুলিশ এসে গুলি-টিয়ারশেল ছুঁড়ে আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগের দুগ্রুপের মধ্যে সংঘটিত হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। প্রকাশ্য দিবালোকে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা যায় দুইপক্ষের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের হাতে ছিল বিপুল পরিমাণ রামদা, রড, জিআইপাইপ ও চাপাতির মতো দেশি অস্ত্রশস্ত্র।

অন্যদিকে গতবছরের ৩ অক্টোবর গভীর রাতে নারীঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় আল বেরুনি হল ও মীর মশাররফ হোসেন হলের শিক্ষার্থীরা। বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্রের পাশাপাশি এ সংঘর্ষে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। 

এসব ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কোনও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখিনি। কিংবা এসব ঘটনায় কেউ শাস্তির আওতায় আসেনি।

এ বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘ গত বছরের সংঘর্ষ ও যৌন হয়রানিসহ এ বছরের কোনও সংঘর্ষের বিচার হয়নি। যেখানে প্রত্যক্ষভাবে ছাত্রলীগে জড়িত। বিচারহীনতার এ সাংস্কৃতি ক্রমেই সহিংসতাকে উস্কে দিচ্ছে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘তদন্তকারী শিক্ষকরা অনেকে ব্যস্ত থাকেন। এজন্য বিচারে বিলম্ব হয়। অনেকগুলো তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হয়েছে আমরা আলাদা একটা সিন্ডিকেট সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ