fbpx
 

নির্বাহী ক্ষমতার অভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না ইউজিসি’

Pub: বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯ ৯:২৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯ ৯:২৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নির্বাহী ক্ষমতার অভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন(ইউজিসি)। কাজেই মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় গঠন ও উচ্চশিক্ষার মান বাড়াতে ইউজিসিকে ক্ষমতায়িত করা জরুরি।

বুধবার সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা উঠে আসে। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ।

এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে এই সংস্থাটি শুধু অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে কেবল সুপারিশ করে থাকে। কোনো ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা নেই তাদের।

শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইরাব) সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এই সভায় বলা হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে অন্যান্য কমিশনের যে পরিমাণ ক্ষমতা আছে; তাও নেই এই কমিশনের।

‘অথচ ভিশন-২০৪১ এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আইনগতভাবে ইউজিসিকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।’

ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যদিয়ে কাজ করে ইউজিসি। উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা বা বিষয়ের উদ্ভব হলে সাধারণ মানুষ মনে করে থাকে- ইউজিসি কিছু করছে না কেন। তাদের প্রত্যাশা যে, ইউজিসি বেআইনি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

‘কিন্তু আইনের দিক থেকে এই সংস্থা কেবল কোনো বিষয়ে সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখে। ব্যবস্থা নিতে পারে না।’

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে যে প্রেক্ষাপটে ইউজিসি গঠিত হয়েছিল, তখন এসবের দরকারও ছিল না। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইউজিসিকে একটি শক্তিশালী ও ব্যবস্থা নেয়ার মত কার্যকর সংস্থায় পরিণত করা জরুরি। তাই ইতিপূর্বে এই সংস্থাকে আইনগতভাবে ক্ষমতায়িত করার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল; তার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

‌বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেঠিক লোককে দিয়ে কখনো সঠিক কাজ হয় না। শত চাপ আর প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার মতো নৈতিকভাবে আলোকিত অনেক অধ্যাপক আছেন। তাদেরকে পদায়ন করা হলে শেষ ফলাফল ভাল হবেই।

ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসি সুপারিশ করার সুযোগ পেলে সেই সঠিক লোক বের করা সম্ভব বলে তিনি জানান।

সভায় অন্যদের মধ্যে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন, অধ্যাপক ড. এম শাহ নওয়াজ আলি, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন এবং সচিব ড. মো. খালেদ বক্তৃতা করেন।

এছাড়াও ইরাব সভাপতি মুসতাক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির নেওয়াজ, সিনিয়র সদস্য আমানুর রহমান, সহসভাপতি এম মামুন হোসেন, কোষাধ্যক্ষ শরীফুল আলম সুমন, সাংগঠনিক এমএম জসিম, দফতর সম্পাদক এমএইচ রবিন, প্রচার সম্পাদক রশিদ আল রুহানী, তথ্য, গবেষণা ও আইসিটি সম্পাদক এনআর সোহেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সভার শুরুতে ইরাব সভাপতি মুসতাক আহমদ বলেন, সাংবাদিকরা ইউজিসির কাছে পেশাগত কাজে সহায়তা চান। ইউজিসিতে প্রবেশকালে গেটে সাক্ষাৎ প্রার্থীর নাম লিখতে হয়। এতে সোর্স প্রকাশ পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অথচ মন্ত্রণালয়সহ কোনো সংস্থায়ই প্রবেশকালে এটা করতে হয় না।

পেশাগত কাজে বিদ্যমান এসব বিধিনিষেধ দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

অনিয়ম, দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং, সনদ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ চিহ্নিত করে ২৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে দেয়া গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের উপর কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন বলেন, প্রতিবেদনের ওপর কাজ চলছে। খোঁজখবর নিয়ে কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি বলা যাবে।

অধ্যাপক ড. এম শাহ নওয়াজ আলি বলেন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যক্তিগত অনিয়ম-দুর্নীতি বরদাশত করে না ইউজিসি। কিছুদিন আগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রকল্পের কাজে সম্মানী চাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ উঠেছিল। সেটি তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

‘কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ওই ঘটনায় জড়িত সরকারি কর্মকর্তারা এখনও ঠিকই চাকরি করছেন।’

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গুচ্ছবদ্ধ করে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন অত্যন্ত জরুরি। এ নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভিসিদের বৈঠক হয়েছে। মন্ত্রণালয়েও বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এই কাজটি করার জন্য যে কমিটি দরকার ছিল, সেটি ছিল না।

‘তাছাড়া বড় চারটি বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসনের ইস্যুতে রাজিও হচ্ছিল না। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রাজি হয়ে যায়। এরপর বাকি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও ঐক্যবদ্ধ করা সহজ হয়েছে।’

তিনি বলেন, এখন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুচ্ছবদ্ধ করে একটি পরীক্ষা নিচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীবছর থেকে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুচ্ছবদ্ধ হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেবে।

অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আগামী ২১ বছরের মধ্যে আমাদের মাথাপিছু আয় ১৫ হাজার ডলার করতে হবে। বর্তমানে আছে ২ হাজার ডলার। এটি একটি কঠিন লক্ষ্য। কিন্তু আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি মানসম্মত হয় তাহলে কোনো লক্ষ্যই কঠিন নয়।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যদি গবেষণা নির্ভর না হয় এবং শিক্ষকরা যদি আন্তর্জাতিকভাবে যুক্ত এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর না হন; তাহলে দেশ এগোবে না। মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কোনো দেশ দাঁড়াতে পারে না।

‌‌‘পাস করা গ্রাজুয়েটদের চাকরির বাজার সৃষ্টিতেও দরকার মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়। তাই আমাদেরকে মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে হবে। সেটার জন্যই ক্ষমতায়িত ইউজিসি দরকার।’

তিনি বলেন, ইউজিসি শক্তিশালী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য ক্ষমতাবান না হলে উচ্চআয়ের দেশে রূপান্তরের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে না। তাই জাতীয় স্বার্থে এ ব্যাপারে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ