fbpx
 

ফের শিক্ষার্থী নির্যাতন: অপরাধীদের সাজা ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করুন

Pub: Monday, November 18, 2019 2:36 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আবারও শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ছাত্রলীগের দুই কর্মী পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছে সোহরাব মিয়া নামের একই হলের ফাইন্যান্স বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে।

শুক্রবার রাত বারোটার দিকে তাকে ডেকে নিয়ে রড দিয়ে মাথা ও হাতে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে সোহরাবের মাথা ফেটে যায় ও হাত ভেঙে যায়।

উদ্বেগের বিষয়, কয়েকদিন ধরেই নির্যাতনকারী ছাত্রলীগ কর্মী আসিফ লাক ও হুমায়ুন কবির নাহিদ সোহরাবকে হুমকি দিয়ে আসছিল। এমনকি একবার চড়থাপ্পড়ও মেরেছিল।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ক্রমাগত হুমকি ও চড়থাপ্পড়ের পরও কোনো জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়নি বলেই আরও বেপরোয়া হয়ে বেধড়ক পেটায় তারা। আমরা মনে করি, এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে না পারার দায় হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

এমন একটা সময় রাবিতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা ঘটল, যখন ছাত্রলীগের কিছু শিক্ষার্থীর চরম নির্যাতনে প্রাণ হারানো বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের স্মৃতি তরতাজা। অর্থাৎ থেমে নেই উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রছাত্রী নির্যাতনের মতো ন্যক্কারজনক বিষয়।

কখনও র‌্যাগিংয়ের নাম করে সিনিয়রদের হাতে আবার কখনও প্রভাব বিস্তার ও নিজের ক্ষমতা দেখানোকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের হাতে চলছে শিক্ষার্থী নির্যাতন।

কয়েকদিন আগে বরিশালের ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি আইএইচটিতে এক ছাত্রীকে ড্রয়িং রুমে নির্যাতন করা হয়েছে সিনিয়রদের নির্যাতন-নিপীড়ন নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার কারণে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও এক ভর্তি পরীক্ষার্থীকে নির্যাতনের চেষ্টা করে ছাত্রলীগের দুই কর্মী। কিন্তু প্রক্টরিয়াল টিমের আকস্মিক উপস্থিতির কারণে বড় কোনো অঘটন ঘটতে পারেনি।

এ থেকে স্পষ্ট যে, কর্তৃপক্ষ সজাগ হলে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ করা অসম্ভব নয়।

আশার কথা, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের পর রাজশাহীতে শিক্ষার্থী নিপীড়নের ঘটনায় প্রশাসন ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করতে হবে।

জীবন গড়ার একই উদ্দেশ্য নিয়ে ক্যাম্পাসে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর হাতে অন্য শিক্ষার্থীর নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে থাকা পিতামাতার আমানত তথা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় অবহেলাও কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না।

সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে অবিলম্বে নজরদারি তীব্র করা। অন্যথায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষাঙ্গন স্বপ্নই থেকে যাবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ