জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রয়েছেন ৯ জন। এদের মধ্যে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মো. শরীফুল আলম। এ আসনে এবারো পঞ্চম বারের মতো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছেন শরীফুল। যদিও দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ১০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী আতাউল্লাহ আমীন। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। এ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মো. মুসা খানও বসে নেই। তিনি নির্বাচন করছেন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে। এ ছাড়াও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আয়ুব হোসেন (লাঙ্গল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. হাবিল মিয়া (কাস্তে), ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির (এনপিপি) মনোনীত মো. নজরুল ইসলাম (আম), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী মো. রুবেল হোসেন (মোমবাতি), গণফোরামের মনোনীত প্রার্থী শাফিউদ্দিন আহমেদ (উদীয়মান সূর্য) ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের মনোনীত প্রার্থী নাঈমুল হাসান (আপেল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। এদিকে জনগণের মন জয় করতে প্রতিদিনই প্রার্থীদের চলছে উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগসহ নানা রকম প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচনী এলাকার সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা কেমন হবে এবারের নির্বাচন? আর কাকে নির্বাচিত করলে এলাকার মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে ও উন্নয়নের গতি বাড়বে। এ ছাড়াও একটি বড় প্রশ্ন অনেকের মুখে ঘুরছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে? এই সব প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক সচেতনতা যেমন বাড়ছে, তেমনি ভোটারদের প্রত্যাশাও ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বিগত নির্বাচনগুলোতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আওয়ামী লীগ আসনটি দখলে রেখেছিল। ভৈরব উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন এবং কুলিয়ারচর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন-১৬৭। জানা যায়, টানা দ্বিতীয়বারের মতো কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শরীফুল আলম (সিআইপি)। তিনি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী
কমিটিরও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছর ২০শে সেপ্টেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি জেলা বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তিনি।
শরীফুল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি হিসেবে রয়েছে তার সারা দেশ ব্যাপক সুনাম। জানা যায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এ আসনে
আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে জিল্লুর রহমান ৭ বার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। শরীফুল ২০০৮ সালে প্রথম প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলহাজ জিল্লুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। পরে একই বছর উপনির্বাচনে জিল্লুর রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরে ২০১৪ সালে ও ২০১৮ সালে বিএনপি’র মনোনয়ন পান শরীফুল। পরিসংখ্যান অনুসারে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগ ৫ বার, বিএনপি ৩ বার (১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনসহ) ও জাতীয় পার্টি একবার নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। শরীফুল বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দল। বর্তমান বিএনপি যেকোনো সময়ের চেয়ে গোছানো এবং শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি
বলেন, ভৈরব-কুলিয়ারচর এলাকার নদীভাঙন, বেকারত্ব, কৃষি সংকটসহ দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত সমস্যা সমাধানে তিনি একটি পরিকল্পিত উন্নয়ন রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করতে চান। তিনি স্থানীয় জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের প্রত্যাশা করেন। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী আতাউল্লাহ আমিন বলেন, মানুষ এবারের নির্বাচনে পরিবর্তনের আশায় রয়েছে। এবারে নির্বাচনে আমাদের কিছু সাইলেন্স ভোটার আছে। যে ভোটাররা ভয়ে কথা বলতে পারে না যাদের ওপর ১৫-১৬ মাস জুলুম-অত্যাচারসহ চাঁদাবাজি চলেছে তারা প্রকাশ্যে আসতে রাজি না। তারা এবার প্রতিশোধ নিতে ভৈরবে ভোটের বিপ্লব ঘটাবে। বিপুল ভোটে রিকশা মার্কা জয়যুক্ত হবে। এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাজী মো. মুসা খান বলেন,
আমরা শরিয়াহ্ আইনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই এই আইন সকলের কল্যাণের জন্য। আমাদের কাজ থাকবে ইসলামের পক্ষে সেই সঙ্গে দেশ ও মানবতার পক্ষে আমাদের কাজ থাকবে। আমি জনগণের খাদেম হতে চাই। ভৈরব-কুলিয়ারচর উপজেলার নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভৈরব উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৩ জন। এ উপজেলায় পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭০৪ জন ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৩৯ জন। কুলিয়ারচর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৬১ জন। এ উপজেলায় পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৮০ হাজার ৭৯১ জন ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ৭৮ হাজার ৪৭০ জন। এ আসনে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৪০৪ জন।












