জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ -৩ (জগন্নাথপুর- শান্তিগঞ্জ) আসনে ভোটের মাঠে সরব প্রবাসীরা। ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশ থেকে আগত প্রবাসীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে জোর প্রচারণায় নেমেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বিএনপির সমর্থক, কেউ আবার জামায়াতে ইসলামীর। এনসিপি, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দলের সমর্থকেরাও এসেছেন ভোট দিতে, প্রচারে অংশ নিতে।
জানা গেছে, এ আসনে ৭ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন প্রবাসী। তিনজন যুক্তরাজ্য ও একজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। অপর তিনজন প্রবাসী না হলেও তাদের আত্মীয়-স্বজন প্রবাসে আছেন। প্রচারণায় অংশ নিতে তারাও ছুটে এসেছেন দেশে। এই তিন প্রার্থীর নিজেদেরও বিদেশে যাতায়াত আছে।
নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ (ধানের শীষ), যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (তালা) এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুশতাক আহমেদ (দেয়াল ঘড়ি) যুক্তরাজ্য প্রবাসী। আমার বাংলাদেশ এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল পাখি) যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী (রিকশা), স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু খালেদ তুষার (টেবিলঘড়ি) যুক্তরাজ্যে নিয়মিয়ত যাতায়াত করে থাকেন। নির্বাচনের তফসিলের আগে শাহীনুর পাশা চৌধুরী লন্ডন ঘুরে এসেছেন। সেখানে তিনি খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু খালেদ তুষার দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে ছিলেন। এখন ঢাকায় আইনপেশায় থাকলেও যাতায়াত আছে লন্ডনে। তাই এ দু’জনই হাফ লন্ডনী হিসেবে পরিচিত।
অপর প্রার্থী হুসাইন আহমেদ দেশে থাকলেও প্রবাসী স্বজনদের আর্থিক সহায়তায় নির্বাচন করছেন।
গত ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রবাসীরা দেশে আসতে শুরু করেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদের সমর্থনে বিপুল সংখ্যক লন্ডন প্রবাসী দেশে আসেন। তারা ভোটের মাঠে প্রচারণায় সরব আছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় নির্বাচন এলেই প্রবাসীরা দেশে আসা এক রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচন হোক আর জাতীয় নির্বাচন। প্রবাসীরা এসে নির্বাচনকে উৎসবে পরিণত করেন।
এবার প্রবাসী চার প্রার্থীদের পাশে দাড়াতে গত দুই মাসে কয়েক শ প্রবাসী দেশে আসেন। তবে, বিএনপির প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদের পক্ষে বেশিসংখ্যক প্রবাসীকে প্রচারণায় সরব থাকতে দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর আহমেদের সমর্থনে বিএনপিপন্থী শত শত প্রবাসী ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সবাই বদ্ধপরিকর। দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সবাই উৎফুল্ল।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক ও ছাত্রদলের জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এম এ কাদির বলেন, এই অঞ্চলে ভোটের মাঠে প্রবাসীরা ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে গেছেন। কারণ, প্রবাসীরা এখানে সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। এখানে প্রবাসীদের কথায় মানুষ প্রভাবিত হয়। সবাই প্রবাসীদের কথা শোনেন, মানেন এবং পছন্দ করেন। প্রবাসীদের কথায় ভোটও দেন।
তিনি বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় আটটি ইউনিয়ন। এর মধ্যে পাচটিতেই মানুষ ভালোবেসে প্রবাসীদের চেয়ারম্যান বানিয়েছে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী প্রার্থীদের আধিক্য থাকায় প্রবাসীদের ভোট উৎসবে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজাতুর রেজা জানান, বিএনপির টানা তিনবারের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কয়ছর আহমেদ। তিনি এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় যুক্তরাজ্য বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী দেশে এসে প্রচারণা শুরু করেছেন।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মির্জা নিকসন জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ মাতৃভূমিতে এসে স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পেরে খুবই ভাল লাগছে।
এদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর ও ১০ দলীয় জোটের উন্মুক্ত প্রার্থী শাহীনুুর পাশা চৌধুরীর পক্ষেও অনেক প্রবাসী দেশে এসে প্রচারণায় নেমেছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সাজাওয়ার। তিনি জানান, কমপক্ষে ২০ জন প্রবাসী রিকশা প্রতীকের প্রচারণায় আছেন।
খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুশতাক আহমেদ জানান, যুক্তরাজ্যে তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ধলা মিয়া তাঁর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে দেশে এসেছেন।
অপরদিকে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের পক্ষে যুক্তরাজ্য থেকে তাঁর স্বজন শুভানুধ্যায়ীরা দেশে এসে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। ব্যারিষ্টার আনোয়ার দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।
তাছাড়া, আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের পক্ষে রয়েছে প্রবাসীদের জোরালো প্রচারণা। তাঁর পক্ষেও প্রবাসীদের সক্রিয় প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।
ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মুহিব চৌধুরী বলেন, কয়ছর এম আহমেদ আমাদের ট্রাস্টের একজন ট্রাস্টি তাই তাঁর সমর্থনে দেশে এসে সকল ট্রাস্টি কে দলমতের উর্ধে উঠে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছি।












