চাঁদপুরে কে হচ্ছেন কার প্রতিদ্বন্দ্বী?

Pub: বুধবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৮ ১২:৪২ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৮ ১২:৪২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের দুটিতে একক প্রার্থী, তিনটিতে জোড়া প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে সব আসনেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের একাধিক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ের পর বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে কে হচ্ছেন প্রতিপক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বী, তা নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা চলছে।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে শেষ মুহূর্তে নৌকার হাল ধরার অপেক্ষায় আছেন দুজন। তাঁরা হচ্ছেন প্রভাবশালী সাবেক সচিব মো. গোলাম হোসেন ও বর্তমান সংসদ সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দলের হাইকমান্ডের গুড লিস্টে আছেন মো. গোলাম হোসেন। একই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, তাঁর সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবী ও প্রবাসী বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন। এ তিনজনের মধ্যে কার হাতে ধানের শীষ—এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে অস্বস্তি বিরাজ করছে।

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল। এদের মধ্যে মামলার রায় আর আইনি মারপ্যাঁচে এখনো ঝুলে আছেন মায়া। অন্যদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান ড. জালাল উদ্দিন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী নুরুল হুদার ছেলে তানভীর হুদা। তাঁদের মধ্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে চাঙ্গা আছেন ড. জালাল উদ্দিন।

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি। ফলে বেশ ফুরফুরে মেজাজে তিনি। অন্যদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ও সাবেক নারী সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা। তাঁদের সঙ্গে আরো প্রার্থী হয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার, অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর ও এস এম আলম। তবে এ আসনে বিএনপি বেশ সংগঠিত হওয়ায় তাদের শেষ ভরসা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া প্রথমে মনোনয়ন পান। কিন্তু ব্যাংকে ঋণসংক্রান্ত ঝামেলা থাকায় গত ২৭ নভেম্বর নতুন করে তাঁর সঙ্গে মনোনয়ন দেওয়া হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমানকে। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে শেষ পর্যন্ত ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া ঋণ বিপর্যয় কেটে উঠেছেন। এ দুজনই এখন নৌকার অপেক্ষায় আছেন। অন্যদিকে স্থানীয় রাজনীতিতে মূলধারার নেতাকর্মীদের প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে বিএনপির মনোনয়ন বাগিয়েছেন বহিষ্কৃত হওয়ার পর সদ্য দলে ফিরে আসা এম এ হান্নান ও সাবেক ছাত্রদল নেতা কাজী রফিকুল ইসলাম। এতে দলের মনোনয়নবঞ্চিত হন সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ ও বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন পাটোয়ারী।

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম। এখানে বিএনপি থেকে দুজন মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মতিন ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক। এদিকে শোনা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এক হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে শেষ পর্যন্ত ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা বাহাদুর শাহ নৌকার হাল ধরতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য ব্যক্তিকেই নৌকার ভার তুলে দেবেন। সেই অপেক্ষায় আছি আমরা।’ অন্যদিকে জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম বলেন, ‘কেন্দ্র সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ও তৃণমূলকে মূল্যায়ন করে উপযুক্ত প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ তুলে দেবেন।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1049 বার