ঢাকা ১১-২০: কে কার মুখোমুখি

Pub: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮ ১০:১৩ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮ ১০:১৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তিলোত্তমা নগরী ঢাকা, বাংলাদেশের রাজধানী। বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠা এ শহরের বয়স চার’শ বছর। চার’শ বছরের এই শহর শুধু স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানীই নয়, কালে কালে আগেও রাজধানী ছিল ঢাকা। মসলিন কাপড়ের জন্য বিখ্যাত ঢাকা মুঘল আমলে ছিল বাংলা সুবহে তথা বাংলা প্রদেশের রাজধানী। এরপর মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ঢাকার নাম বদলে করেন জাহাঙ্গীরনগর।

ব্রিটিশ আমলেই শুরু হয় ঢাকার আধুনিকায়ন। এসময় ঢাকা শাসিত হতো পুরান ঢাকার নবাবদের দ্বারা। দেশ ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী হয় ঢাকা। এরপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। ইতিহাস, ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ঢাকা তাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার দিকে নজর থাকবে সারাদেশের মানুষের। ঢাকার আসনগুলো নির্বাচন করবেন অনেক বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, পরিচিত মুখ। রাজধানী ঢাকার ফলাফল কার পক্ষে যাবে তা নিয়েও চিন্তা থাকবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর।

ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে ঢাকার নির্বাচনী পরিবেশ। মহাগনর ঢাকায় রয়েছে ১৬টি সংসদীয় আসন। এ ১৬টি আসন ছাড়াও ঢাকা জেলায় রয়েছে আরও ৪টি সংসদীয় আসন। এ আসনগুলো ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতার বাইরে। অর্থাৎ ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলা মিলিয়ে এখানে মোট সংসদীয় আসন ২০টি।

ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের আজ থাকছে ১১ থেকে ২০ আসনে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তথা এদের শরীকদের কে কার মুখোমুখি হচ্ছে তার বিবরণ।

ঢাকা-১১: ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনটি রাজধানীর বাড্ডা থানা ও ভাটারা থানার বেরাইদ, ভাটারা, সাঁতারকুল ইউনিয়ন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২১, ২২ ও ২৩ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ আসনে বর্তমান সাংসদ ঢাকা উত্তর সভাপতি আওয়ামী লীগের একেএম রহমতউল্লাহ। এবারও তিনি এ আসনের নৌকার প্রার্থী।

নবম জাতীয় সংসদে একেএম রহমতউল্লাহ ঢাকা-১০ আসনের সাংসদ ছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১১ আসন থেকে বিনা প্রদিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল তিনি ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতির বিপরীতে ঢাকা উত্তর বিএনপির সভাপতি নির্বাচনী দৌড়ে না থাকলেও আছেন তার স্ত্রী। অর্থাৎ এ আসনে একেএম রহমতউল্লাহর বিপরীতে লড়বেন ঢাকা উত্তর বিএনপির সভাপতি এম.এ কাইয়ুমের স্ত্রী শামীম আরা বেগম। ঢাকার রাজনীতির পরিচিত মুখ একেএম রহমতউল্লাহর বিপরীতে একেবারেই নবীন প্রার্থী বেছে নিয়েছে বিএনপি।

এ আসনে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান স্বরাষ্ট্র আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়া এ আসনে ২০০১ সালে বিএনপির এস.এ খালেক, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদার, ১৯৯৩ সালের উপ-নির্বাচনে বিএনপির সৈয়দ মুহাম্মদ মহসিন, ১৯৯৬ সালে বিএনপির হারুন রশিদ মোল্লাহ, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির হয়ে এস.এ খালেক, ১৯৭৯ সালে বিএনপির সামসুল হক ও ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের বোরহান উদ্দিন আহমেদ সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ঢাকা-১২: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩৫ ও ৩৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ সংসদীয় আসন। মূলত তেজগাঁও অঞ্চল এ আসনের এলাকা। বর্তমানে এ আসনের সাংসদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকা-১১ থেকে সাংসদ হলেও এ আসনে একবার নির্বাচিত হয়েছেন। দ্বিতীয় বারের মতো তিনি নৌকা প্রতীকে এ আসনের সাংসদ হওয়ার দৌড়ে আছেন। এ আসনে তার বিপরীতে বিএনপি থেকে লড়বেন সাইফুল আলম নিরব। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। বিএনপির ঢাকার রাজনীতিতে অপরিহার্য নাম নিরব।

এ আসনে ২০০৮ সালে সাংসদ ছিলেন আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। সবচেয়ে বেশি দুইবার এ আসনে সাংসদ ছিলেন বিএনপির দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন। তিনি ২০০১ ও ১৯৯৬ সালে এ আসনের সাংসদ ছিলেন। ১৯৯১ সালে এ আসনের সাংসদ ছিলেন মো. নিয়ামতউল্লাহ। ১৯৮৮ সালে আশরাফ উদ্দিন খান ইমু, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের সামসুদ্দোহা খান মজলিশ, ১৯৭৯ সালে বিএনপির জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে এ আসনের সাংসদ হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ঢাকা-১৩: রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরে-বাংলানগর নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসন। বর্তমানে এ আসনের সাংসদ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি এবার মনোনয়ন পাননি। আওয়ামী লীগ থেকে এবার এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সাদেক খান।

সাদেক খান ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ আসনে নৌকার মাঝি নানক না সাদেক হবেন তা নিয়ে চলেছে নানা আলোচনা। দুই জনের সমর্থকের মধ্যে সাদেক খানের দুই সমর্থকও মারা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতীক উঠেছে সাদেক খানের হাতেই।

সাদেক খানের বিপরীতে এ লড়বেন বিএনপির আবদুস সালাম। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা।

এ আসনে ২০০৮ সালেও সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।

ঢাকা-১৪: ঢাকা-১৪ সংসদীয় আসনটি সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ০৭, ০৮, ০৯, ১০, ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। বর্তমানে এ আসনের সাংসদ আওয়ামী লীগের আসলামুল হক। তিনি এবারও এ আসনে নৌকার প্রার্থী।

আসলামুলের বিপরীতে এ আসনে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হকের লড়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত সাংসদ এস.এ খালেকের ছেলে এস.এ সাজু।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে সৃষ্ট এ আসনে ২০০৮ সালেও নির্বাচিত হয়েছিলেন আসলামুল হক।

ঢাকা-১৫: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ০৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসন। মিরপুরের এ আসনের বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদার। তিনি এবার দলটির হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।

কামাল আহমেদ মজুমদারের বিপরীতে এ আসনে বিএনপি কাউকেই মনোনয়ন না দিলেও তারা তাদের শরীক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দিয়েছে। দলটির নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় এ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন জামায়াত নেতা শরীফুর রহমান।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে সৃষ্ট এ আসনে ২০০৮ সালেও সাংসদ ছিলেন কামাল আহমেদ মজুমদার।

ঢাকা-১৬: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২, ৩, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৬ সংসদীয় আসন। এ আসনটিও মিরপুর এলাকায় অবস্থিত। বর্তমান এ আসনের সাংসদ আওয়ামী লীগের ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ।

ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ এবারও এ আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তার বিপরীতে বিএনপি থেকে এ আসনে লড়বেন আহসান উল্লাহ হাসান।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে সৃষ্ট এ আসনে ২০০৮ সালেও সাংসদ ছিলেন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ ।

ঢাকা-১৭: রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট ও ভাষানটেক নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসন। বর্তমানে এ আসনের সাংসদ বিএনএফ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। মহাজোটের শরীক বিএনএফ তথা আবুল কালাম কালাম আজাদকে এবার মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে এবার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক)। তার বিপরীতে ধানের শীষ নিয়ে এ আসনে লড়বেন বিজেপি সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।

এ আসনে রয়েছেন আরও দুই হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহমাম্দ এরশাদ এবং বিএনপির সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী, বর্তমানে তৃণমূল বিএনপির সভাপতি ব্যারিস্টার নাজুমল হুদা। এরশাদ লাঙ্গল ও নাজমুল হুদা সিংহ প্রতীকে এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন।

২০০৮ সালে সৃষ্ট এ আসনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে এ আসনের সাংসদ হন এরশাদ।

ঢাকা-১৮: রাজধানীর দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, তুরাগ, উত্তরা এবং উত্তরখান থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসন। বর্তমানে এ আসনে সাংসদ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন।

সাহারা খাতুন এবারও এ আসনে নৌকা প্রতীকে লড়বেন। তার বিপরীতে ধানের শীষে নির্বাচন করবেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির শহীদ উদ্দীন মাহমুদ।

এ আসনটিও ২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে সৃষ্টি করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর ২০০৮ সালে এ আসনে সাংসদ হন সাহারা খাতুন।

ঢাকা-১৯: সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ সংসদীয় আসন। বর্তমানে এ আসনের সাংসদ আওয়ামী লীগের ডা. এনামুর রহমান।

সাভারের এনাম মেডিকেলের মালিক ডা. এনামুর রহমান এবারও নৌকার প্রার্থী। তার বিপরীতে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন।

২০০৮ সালে এ আসনের সাংসদ ছিলেন আওয়ামী লীগের তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ।

ঢাকা-২০: ঢাকা ধামরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-২০ সংসদীয় আসন। বর্তমানে এ আসনের সাংসদ আওয়ামী লীগের এম এ মালেক। তিনি এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি।

আওয়ামী লীগ থেকে এবার মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সাবেক সাংসদ বেনজীর আহমেদকে। তার বিপরীতে বিএনপি থেকে এ আসনে লড়বেন তমিজ উদ্দিন।

২০০৮ সালে এ আসনে সাংসদ হয়েছিলেন বেনজীর আহমেদ। থেকে সর্বোচ্চ তিন বার সাংসদ হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান খান। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির হয়ে আসন থেকে সাংসদ হন। তখন এ এলাকা অবশ্য ঢাকা-১৩ আসনের অন্তর্ভূক্ত ছিল।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ