fbpx
 

রাজশাহীর ৬টি আসনে যে যার প্রতিদ্বন্দ্বী

Pub: বুধবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮ ২:২৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮ ২:২৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিভাগীয় জেলা রাজশাহীর ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সব কটি আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা স্থানীয় ভোটারদের মাঝে।

প্রার্থীরাপ্রতীক বরাদ্দের পরই শুরু করেছেন ভোটের প্রচারণা। বিশেষ করে বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজশাহীতে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার সাঁটাতে থাকেন। রাজশাহী জেলার প্রধান প্রধান মোড় থেকে শুরু করে অলিগলির রাস্তাও ব্যানার, ফেস্টুনে ভরে গেছে।

রাজশাহী-১
আসনটি জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক চৌধুরী পেয়েছেন নৌকা, বিএনপির ব্যারিস্টার আমিনুল হক পেয়েছেন ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল মান্নান পেয়েছেন হাতপাখা, বাসদের আলফাজ হোসেন পেয়েছেন মই প্রতীক।

১৯৭৩ সালে প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের মন্ত্রী জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান। এরপর ১৯৭৯ সালের আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোহসীন। এরপর ১৯৮৬ সালে জামায়াতের মাওলানা মজিবুর রহমান, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ দুরুল হুদা এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হোন বিএনপির ব্যারিস্টার আমিনুল হক। এবারও তিনিই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক চৌধুরীও ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে টানা দুইবার সংসদ নির্বাচিত হোন।

রাজশাহী-২
রাজশাহী শহরের রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মহাজোটের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা পেয়েছেন নৌকা, বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু পেয়েছেন ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলনের ফয়সাল হোসেন পেয়েছেন হাতপাখা, সিপিবির এনামুল হক পেয়েছেন কাস্তে প্রতীক।

১৯৯১ সালের নির্বাচন থেকে ২০০১ পর্যন্ত এ আসনে একক আধিপত্য ছিল বিএনপির। ১৯৯১ ও ৯৬ সালের টানা সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপির কবির হোসেন। ২০০১ সালে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু জয় পান। আর ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মহাজোটের ফজলে হোসেন বাদশা সাংসদ হোন।

রাজশাহী-৩
পবা উপজেলা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৫ জন। তারা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আয়েন উদ্দীন পেয়েছেন নৌকা, বিএনপির শফিকুল হক মিলন পেয়েছেন ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলনের ফজলুর রহমান হাতপাখা, বিকল্পধারার মনিরুজ্জামান কুলা, সাম্যবাদী দলের সাজ্জাদ আলী চাকা প্রতীক।

প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ লোকের এই আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-দলীয় এমপি ছিলেন। ২০০৮ সালে রাজশাহী সদর আসন থেকে আলাদা হওয়ার পর দুই মেয়াদ ধরে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।

রাজশাহী-৪
বাঘমারা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৩ জন। তারা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের এনামুল হক নৌকা, বিএনপির আবু হেনা ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তাজুল ইসলাম খান হাতপাখা প্রতীক পেয়েছেন।

এই আসনে ১৯৭০, ৭৩ ও ৮৬ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে এবং ১৯৮৮ ও ৯১ সালে জাতীয় পার্টির টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন প্রয়াত সরদার আমজাদ হোসেন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির টিকেটে এমপি হন সাবেক সচিব আবু হেনা। টানা ‍দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ধানের শীষের আবু হেনা। এবারও বিএনপির প্রার্থী আবু হেনা। আর ২০০৮ থেকে দুই সংসদ দখলে নেয়া নৌকার এনামুল হক এবারও প্রার্থী।

রাজশাহী-৫
জেলার পুঠিয়া উপজেলা ও দুর্গাপুর উপজেলা নিয়ে এই আসন গঠিত। এখানে এবার আওয়ামী লীগের ডা. মনসুর রহমান নৌকা, বিএনপির নাদিম মোস্তফা ধানের শীষ, জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন লাঙ্গল, ইসলামী আন্দোলনের রুহুল আমিন হাতপাখা, জাকের পার্টির শফিকুল ইসলাম গোলাপফুল প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

১৯৮৬ সালে এ আসনের এমপি ছিলেন মুসলিম লীগ নেতা প্রয়াত আয়েন উদ্দিন। এরপর ১৯৮৮ সালে এমপি হন জাতীয় পার্টির মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন। ১৯৯১ সালে এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক এমপি হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এমপি হন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফা। ২০০১ সালেও নাদিম মোস্তফা পুনর্নির্বাচিত হন।

এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে নাদিমের পরিবর্তে বিএনপি থেকে পুঠিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ নির্বাচনে এমপি হন আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও দারা পুনর্নির্বাচিত হন। দারা এবার মনোনয়ন বঞ্চিত। আর বিএনপির প্রবীণেই ভরসা রেখেছে।

রাজশাহী-৬
চারঘাট উপজেলা ও বাঘা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. শাহরিয়ার আলম নৌকা, বিএনপির আবু সাঈদ চাঁদ ধানের শীষ, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন লাঙ্গল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুস সালাম সুরুজ হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপির মোকসেদ আলী, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পাটির প্রার্থী নূরুন্নবী চাঁদ। ১৯৯১ সালে বিএনপির আজিজুর রহমান, ১৯৯৬ সালে বিএনপির ডা. আলাউদ্দীন নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপির অ্যাডভোকেট কবির হোসেন নির্বাচিত হন।

এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রবীণ রাজনীতিবিদ আজিজুর রহমানকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের দখলে নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ২০১৪ সালেও তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে সাংসদ নির্বাচিত হন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ