ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আমি নিজেই গৃহবন্দি: বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবো: নৌকার প্রার্থী

Pub: শনিবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৮ ৩:২১ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৮ ৩:২১ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের ফলাফল পরিষ্কার। বিএনপি প্রার্থী আবদুল খালেক বলেছেন-‘পজিটিভ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এজেন্ট দেওয়াই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। আমি নিজে গৃহবন্দি অবস্থায় আছি। লজ্জাই লাগে আর্মিতে চাকরি করে, পুলিশে চাকরি করে এখন নিজের প্রটেকশনই দিতে পারছি না। কি ইলেকশন করবো। পুলিশ আমাকে হেল্পফুল ছিল সবসময়। কথা শুনতো।

এখন যা বলি তার উল্টোটা করে।’ আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী ক্যাপ্টেন অব. এবি তাজুল ইসলাম বলেছেন-‘লিখে দিতে পারেন বিপুল ভোটে জয়ী হবো আমরা। আর কারো জামানত থাকবে না। বিএনপি প্রার্থীকে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন- তারে অবরুদ্ধ করবে কে। তারে ছইবো কে। মইরা গেলে নির্বাচনইতো বাতিল হয়ে যাবে। উনি আসলে সরমে বের হন না। উনার দল কোথায়, উনার অফিস কোথায়। উনি কোনো পোস্টার লাগাইছে? সেন্টারে অফিস করছে? মিথ্যা কথা বলা ছাড়া আর কোনো কাজ আছে তাদের। আসনটিতে মোট ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ভোটের মাঠ শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের তাজের দখলে। দলের মনোনয়ন বঞ্চিতরাও তার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামেন। এর সঙ্গে উন্নয়নের বিষয়টিও রয়েছে। অন্যদিকে আবদুল খালেক ২/১ দিন প্রচারণা চালানোর পরই মাঠ ছাড়া হয়ে যান। যুবলীগের এক নেতার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয় দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
খালেক নানা অভিযোগ তুলে ধরে বলেন- ‘চারদিকে পুলিশ লাগাইয়া রাখছে। কোথাও যাওয়ার উপায় নাই। আমার ভাইটাই যারা আসছিল তাদের দৌড়ের ওপর রেখেছে। বৃহস্পতিবার আমার প্রচারণার অফিস রেইট করে তছনছ করছে। অফিসটি বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমার আশপাশে কোনো ছেলেপেলে থাকতে পারছে না। সব ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এখানে কোনো নির্বাচনই হবে না। আমাদের নেতাকর্মী সবাইকে বের করে দিয়েছে। জোর করে জয়েন করাচ্ছে। যারা যোগ না দিচ্ছে তাদের গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার করছে।’ এই অবস্থায় নির্বাচন কি হবে বুঝতেছি না। লোকজনকে এত আতঙ্ক করেছে। প্রত্যেক রাতে প্রত্যেক গ্রামে বিজিবি, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট যাচ্ছে যত নেতা আছে তাদের বাড়িতে। ভয়ে আমাদের দলের লোকজন তাদের দলে জয়েন করছে। বলা হচ্ছে ভোট না দেও ফলাফল কি হবে পরে বুঝে নিতে হবে। লোকজন তটস্থ হয়ে গেছে। এটা ইমাজিনেরও বাইরে। আমি এর আগে ২টি নির্বাচন করেছি । এটি তৃতীয় নির্বাচন। ভাবতে পারিনি যে এত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করবে। যেখানে আমার ৮০ ভাগ সাপোর্ট রয়েছে সেখানে লোকজনকে এত তটস্থ করেছে তারা। আর আমিতো মুভ করে যেখানে যাই সেখানেই অ্যাটাক করে। সেখানেই মামলা। আর মামলাতো গোটা বিশেক দিয়ে রেখেছে। ধরে ধরে একেকটা মামলায় ঢুকাচ্ছে।
অন্যদিকে ক্যাপ্টেন অব. এবি তাজুল ইসলাম বলেছেন- আমরা রেডি ফেস দি ইলেকশন এবং ৩০ তারিখের নির্বাচনে স্মরণকালের সর্বশেষ বিজয় অর্জন করবো আমরা। ’৭০ এর নির্বাচনের সময় বঙ্গবন্ধুর নৌকা সারা দেশে হায়েস্ট পার্সেন্টেজে ছিল। শেখ হাসিনার নৌকাও সেই রেকর্ড ভঙ্গ করে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পাবে। আমার মনে হয় না বিএনপি বাঞ্ছারামপুরে এজেন্ট দেয়ার মতো লোক পাবে। তিনি বলেন- ডেভলপমেন্টইতো একমাত্র জিনিস না। মানুষের প্রতি আমার মমত্ববোধ, ভালোবাসা। দরদ-সেবা, সার্বিক বিবেচনায় সমস্ত লোক আজ আমার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। তারা (বিএনপি) কোনো লোকই খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি তার ইউনিয়নেই এজেন্ট দিতে পারবেন না। তার গ্রাম ও পাশের গ্রামে দিতে পারবেন। তিনি আরো বলেন আমি রাজনীতি করি ভালোবাসা দিয়ে। আমি এমন ভালোবাসা দিতে চাই, এমন আচরণ করতে চাই, যে ভালোবাসা এবং ব্যবহারে শক্তিশালী আকর্ষণ সৃষ্টি হয়, যাতে সবাই পিঁপড়ের মতো আওয়ামী লীগে চলে আসবে। তিনি বলেন বাঞ্ছারামপুর আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতারা বলছেন আজকে বাঞ্ছারামপুরে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ৭০ এর নির্বাচনেও এমনটা দেখেননি তারা। পুরো বাঞ্ছারমাপুরের লোক ঘরের বাইরে। ৮৪ সাল থেকে এই এলাকার মানুষের পাশে ছিলাম আমি। তারই সুফল পাচ্ছি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ