বরিশালের ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৯ জন

Pub: রবিবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮ ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮ ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বরিশাল প্রতিনিধি :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আজ (৩০ ডিসেম্বর)। দেশের ২৯৯টি আসনে সকাল ৮টায় একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। একটানা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুল আলম জানান, এবার বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৬২৯ । এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫৮৫ এবং নারী ভোটার ৮ লাখ ৮২ হাজার ৪৪ । ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮০৫। ভোট কক্ষের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৭।

এদিকে মোট ভোট কেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি (৪৬৩টি) কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ (নৌকা), বিএনপির এম. জহিরউদ্দিন স্বপন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাসেল সরদার (হাতপাখা) ও জাকের পার্টির মো. বাদশা মিয়া (গোলাপ ফুল)। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৯ হাজার ৪২৮ ও নারী ভোটার ১ লাখ ২৮ হাজার ৬০৬ । ভোট কেন্দ্র ১১৫, ভোটকক্ষ ৫৭৮টি। এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্রর মধ্যে ৩৭টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন ।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. শাহে আলম (নৌকা), বিএনপির সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মো. মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা (লাঙল), স্বতন্ত্র (জাসদ-আম্বিয়া) মো. আনিছুজ্জামান, ওয়ার্কার্স পার্টির মো. জহুরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নেছারউদ্দিন (হাতপাখা) ও এনপিপির সাহেব আলী। এরমধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির মো. জহুরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২ হাজার ৬৪৪। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫০৬ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৩৮। ভোট কেন্দ্র ১৩৬, ভোটকক্ষ ৬৮৫টি। এই আসনে ১৩৬ ভোট কেন্দ্রর মধ্যে ৭৩টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ)।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন- বিএনপির অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু, ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতান, স্বতন্ত্র (যুবমৈত্রী) আতিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সিরাজুল ইসলাম ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের মো. এনায়েত কবির। এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৪। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৯৯ ও নারী ভোটার ১ লাখ ২৬ হাজার ৬২৫। ভোট কেন্দ্র ১২৩টি, ভোটকক্ষ ৫৮৭টি। এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্রর মধ্যে ৫৯টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের পংকজ দেবনাথ, বিএনপির (নাগরিক ঐক্য) জেএম নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ মো. নুরুল কারিম, ইসলামী ঐক্যজোটের সাইফুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রুহুল আমীন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) এনামুল হক এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাহবুবুল আলম। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৭৩। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৯৪। ভোট কেন্দ্র ১৪৮, ভোটকক্ষ ৭৪৪টি। এই আসনে ১৪৮ ভোট কেন্দ্রর মধ্যে ৭৯ অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ)।

বরিশাল-৫ (সদর-মহানগর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, বিএনপির অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম, জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট একেএম মুর্তজা আবেদীন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মতিন) এইচএম মাসুম বিল্লাহ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির অধ্যাপক আবদুস সাত্তার এবং এনপিপির শামীমা নাসরিন। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট একেএম মুর্তজা আবেদীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে ইতোমধ্যে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৪। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬১৯ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮৯৫। ভোট কেন্দ্র ১৭৪, ভোটকক্ষ ৮৯৫টি। এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্রর মধ্যে ১২৩টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ)।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন ৮জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির নাসরিন জাহান রত্না আমীন, বিএনপির আবুল হোসেন খান, জাতীয় পার্টির-জেপি খন্দকার মাহতাব উদ্দিন, জাসদের (ইনু) মো. মোহসীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নুরুল ইসলাম আল-আমিন, জেএসডির একেএম নুরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র মো. আলী তালুকদার ফারুক এবং ইঞ্জিনিয়ার ওসমান হোসেন মনির। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আলী তালুকদার ফারুক জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৫৪ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৩৮৬ জন। ভোট কেন্দ্র ১০৯টি, ভোটকক্ষ ৫৫৮টি। মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯২টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বে থাকবেন ১ হাজার ৯০০ জন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য। আনসার সদস্য থাকবেন ৫ হাজার। প্রতিটি কেন্দ্রে ১ থেকে ৩ জন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য, ১২ জন আনসার সদস্য এবং একজন করে গ্রাম পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি জানান, পুরো জেলায় ২১ প্লাটুন বিজিবি ও র্যাব সদস্য ভোট কেন্দ্র ও চারপাশের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে দায়িত্ব পালন করবেন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকছেন ৬০০ জন সেনা সদস্য। আপৎকালীন সমস্যা দেখা দিলে তারা জরুরি ভিত্তিতে সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেবে। এছাড়া ৩৬ জন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন সবই করা হয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1096 বার