আজকে

  • ৭ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২২শে আগস্ট, ২০১৮ ইং
  • ১০ই জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সাইবার ইউজার দল’র একাত্মতা ঘোষনা

Pub: শনিবার, আগস্ট ৪, ২০১৮ ২:২৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, আগস্ট ৪, ২০১৮ ২:২৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

গত ২৯শে জুলাই ২০১৮ কুর্মিটোলায় ২ জন শিক্ষার্থীকে গাড়ি চাপায় হত্যার বিচারের দাবীতে আন্দোলনরত কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের উপর ২৯ জুলাই থেকে শুরু করে আজ ৩রা আগস্ট অবধি পুলিশের বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সাইবার রাজনৈতিক সংগঠন, বিএনপি’র প্রযুক্তি-নির্ভর সহযোগী শক্তি ও বিকল্প মিডিয়া ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল’ কেন্দ্রীয় সংসদ।

সংগঠনের সকল নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি বহিঃবিশ্ব কমিটির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল-কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস. আলম রাজীব বলেন, লাইসেন্সবিহীন গাড়ীর ড্রাইভারের মতো ভোট বিহীন (জনগণের লাইসেন্সবিহীন) লাগামহীন মন্ত্রী, শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যকারী, সারাদেশে ছাত্র সমাজের আবেগকে অপমানকারী, অবৈধ সরকারের অবৈধ নৌ মন্ত্রী শাহজাহান খানকে পদচ্যুত করার এবং নিরাপদ সড়কের জোড় দাবিতে দেশ ও জাতির আগামীর ভবিষ্যত, মেধাবী ও কোমলমতি সচেতন ছাত্র-ছাত্রীদের চলমান এই আন্দোলনের সাথে আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দলের পক্ষ থেকে একাত্মতা ঘোষনা করছি এবং সেই সাথে সহপাঠী হত্যার বিচার, নিরাপদ সড়কসহ শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ১৯৫৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ২৯ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য অ্যালেকজান্ডার নামে নিয়মিত একটি বাস চলতো, হঠাৎ সে বাস সার্ভিসের ভাড়া ১ পয়সা বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাসযাত্রীরা বাস বয়কট করে এবং ২৯ কিলোমিটারের দূরে জোহান্সবার্গে হেঁটে যাতায়াত করতে শুরু করে, যা কিনা তৎকালীন বাস বয়কট কর্মসূচী হিসেবে পুরো বিশ্বে সারা জাগিয়েছিলো, যাত্রীদের টানা ৩ দিনের এই ধর্মঘট বাস মালিককে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করে এবং ৪ পয়সার কুপন দিয়ে ৫ বার যাতায়াতের সুযোগ দিলে এই বয়কটের অবসান ঘটে। আমাদের শিক্ষার্থীদের এই শান্তিপূর্ণ এবং গঠনমূলক আন্দোলন ভাড়া কমানোর জন্য কিংবা সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য না, এটি শুধু নিজেদের চলার পথে জীবনের নিরাপত্তার জন্য আন্দোলন।

তাই বাংলাদেশের সকল পেশার মানুষদের অনুরোধ করছি, যার যার অবস্থান থেকে শিক্ষার্থীদের চলমান এই আন্দোলনে গণপরিবহন বর্জন করে তাদের নৈতিক আন্দোলনে পাশে দাঁড়ান, মনে রাখবেন ওদের এই গঠনমূলক আন্দোলন আমাদের জন্য শিক্ষনীয়, আমাদের নিজেদের বিবেককে জাগরণের এখনই সময়।

দেশ ও জাতির স্বার্থে আমাদের দলের আহবানে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুললে যখন প্রশাসন লীগ নগ্ন হস্তক্ষেপ চলায়, তখন এই কিশোর ছাত্রদের অহিংস আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষনা করে ওদের ভ্যানগার্ড হিসেবে রাজপথে থাকার বিকল্প নেই, এখন নীরবে বসে থাকলে আগামীর প্রজন্মের কাছে আমাদের অপরাধী হয়ে থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই চলমান আন্দোলনকে আমরা দেশের সিস্টেমের শুদ্ধি অভিযান হিসেবেও নিতে পারি। আমরা ইতিমধ্যে দেখতে পাচ্ছি যে, অপরাধ আর অপরাধীর উৎস রাষ্ট্রীয় সিস্টেমের দায়িত্ববানদের মধ্যেই। আইন প্রনয়নকারীরাই বর্তমানে আইন ভঙ্গকারীদের অন্যতম। শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা ও প্রশাসনের জন্য শিক্ষক রূপে অবতীর্ণ হয়েছে, এরা শিক্ষা দিচ্ছে কিভাবে সদিচ্ছা শক্তিকে জাগ্রত করতে পারলেই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব।

দেশের প্রশাসন ও মিডিয়া কর্মীদের উদ্দেশে রাজীব তার বিবৃতিতে বলেন, আপনারা গণতন্ত্রের কর্মচারী ও জনগণের রক্ষক হয়েও অপরাধী সরকারের রক্ষক হিসেবে জনগণের ভক্ষক না হয়ে দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের এই অহিংস আন্দোলনে ওদের নিরাপত্তা দিন, আপনারও তো স্কুল/কলেজ পড়ুয়া সন্তান বা ভাই-বোন আছে বাসায়, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরকে রাজপথে নির্লজ্জের ন্যায় নগ্ন আক্রমণ করে বাসায় ফিরে আপনার সন্তানের দৃষ্টিতে দৃষ্টি রাখবেন কিভাবে, বিবেককে প্রশ্ন করুন। দেশের মিডিয়া কর্মীদেরকে আহবান জানাচ্ছি, অবৈধ সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে চলমান এই আন্দোলনের চিত্র ব্যাপকভাবে প্রচারের মাধ্যমে আপনারা জাতির বিবেক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব যথাভাবে পালন করুন। আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, আন্তরিকতা ও নির্ভীক ভূমিকা ওদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে পারে অনেকাংশে।

সেই সাথে রাজীব বিবৃতিতে তার সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা আমাদের অভিভাবক দল শিক্ষার্থীদের চলমান এই আন্দোলনে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে কিনা আমি জানি না, যেহেতু তাদের কে দলীয়ভাবে সমর্থন না দেওয়ার পরও রাজপথে তাদের সক্রিয় আর নির্ভীক ভূমিকা এবং সুন্দর গোছানো অর্গানাইজিং ক্যাপাবিলিটিকে বিশ্লেষণ করে সরকার আমাদের দলকে ইঙ্গিত করছে এই আন্দোলনের কারিগর হিসেবে, তাই দেশের মিডিয়াকে অবৈধ সরকার রক্তচক্ষু দিয়ে কুক্ষিগত করার পর দেশ ও জাতিকে সত্য সংবাদ পরিবেশনের নির্ভীক প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠিত দেশের সর্বপ্রথম সাইবার রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ইতিহাস রচনাকারী ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল’-এর নেতাকর্মীদের চলমান এই যুগোপযোগী আন্দোলনে অনেক দায়িত্ব রয়েছে এবং সময় এসেছে দায়িত্ব পালনের। আমাদের সংগঠন সাইবার রাজনৈতিক সংগঠন, তাই এর বেশির ভাগ নেতাকর্মীই শিক্ষার্থী এবং শিক্ষিত সচেতন নাগরিক। আর তাই আন্দোলনকারীদের প্রতি আমাদের এই সমর্থন রাজনৈতিকভাবে নয় বা কোনো রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের জন্য নয়, একজন সচেতন বাংলাদেশী হিসেবে আমি আহবান জানাচ্ছি আমাদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, দেশের সকল শাখা কমিটি ও প্রবাসী কমিটিগুলোকে যার যার অবস্থান থেকে উক্ত আন্দোলনে তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করার জন্য এবং তাদের আন্দোলনের কর্মসূচি, স্লোগান, পজিটিভ ব্যাপারগুলো ফলাও করে সাইবারের সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে জনসচেতনতা ও জনমত তৈরিতে ভূমিকা পালন করার জন্য। আসুন চেষ্টা করি সম্মিলিতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দল-মত নির্বিশেষে যার যার অবস্থান থেকে আরো একটি নতুন বিপ্লবী ইতিহাস রচনা করতে।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 2291 বার

 
 
 
 
আগষ্ট ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জুলাই    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com