ভালবাসার টানে ১৪ হাজার কিলোমিটার পাড়ি

Pub: রবিবার, এপ্রিল ১৫, ২০১৮ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, এপ্রিল ১৫, ২০১৮ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সঙ্গীর ওড়ার সামর্থ নেই। তাতে মোটেও ভাটা পড়েনি তাদের প্রেমে। একজনের সামর্থ নেই দেখে অন্যজন পাড়ি দিচ্ছে কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ। এটা শুধু এক বছরের জন্য নয়, প্রতিবছর এভাবে ভালোবাসার টানে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয় একটি সারস।

টানা ১৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিজের সঙ্গীর সঙ্গে দেখা করতে যায় পুরুষ সারসটি। ক্রোয়েশিয়ার এই দুটি সারসের নাম ক্লেপেটান ও মালেনা। তারাই স্থাপন করেছে এই অসাধারণ দৃষ্টান্ত।

মার্চের শেষ নাগাদ পশ্চিম ক্রোয়েশিয়ার ছোট্ট গ্রাম ব্রডস্কি ভারোসে ফিরে আসে ক্লেপেটান। যেখানে বিগত ১৬ বছর যাবত দক্ষিণ আফ্রিকার শীতকালীন ঘর ছেড়ে ফিরে ফিরে আসছে সারসটি। সেখানেই সে তার জীবনের প্রেম সাদা সারস মালেনার সঙ্গে মিলিত হচ্ছে প্রতিবছর।

লং ডিসট্যান্স সম্পর্কটি এই সারস জুটিকে ক্রোয়েশিয়ায় বিখ্যাত করে তুলেছে। এরই মধ্যে ৬২টি বাচ্চা রয়েছে এই জুটির সংসারে এবং এখন আরো কিছু বাচ্চা গ্রহণের অপেক্ষা করছে তারা।

সেখানকার স্থানীয় এক স্কুলের নিরাপত্তারক্ষী ৭১ বছর বয়সী স্টিয়েপান ভোকিক ১৯৯৩ সালে মালেনাকে দত্তক নেন। তখন একটি পুকুরের পাশে শিকারীর গুলিতে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন মালেনাকে।

সারসসেবছর পুরো শীতটা খাঁচা, তাপ ও অ্যাকুরিয়াম সম্পন্ন একটি গুদাম ঘরে কাটায় মালেনা যেটাকে ভোকিক নাম দিয়েছেন ‘উন্নত আফ্রিকা’। এরপর বসন্তে ভোকিক একটি বড় খাঁচা বানান মালেনার জন্য ভবনের ছাদে।

বাবা ক্লেপেটান মালেনার সঙ্গে দেখা করতে এসে বাচ্চাদের উড়তে শেখায়, তারপর অগাস্টে বাচ্চাদের নিয়ে আবার দক্ষিণ আফ্রিকায় উড়ে যায়। আর এই সময়টা মালেনা ভোকিকের কাছেই থাকে। ভোকিক তাকে গোসল করায় এবং তার পায়ে ক্রিম লাগিয়ে দেয় যেন সেগুলো শুষ্ক না হয়ে যায়। কেননা নিজের আর্দ্র বাসস্থান থেকে অনেক দূরে বসবাস করে মালেনা।

ভোকিক সাংবাদিকদের বলেন, আমি তাকে মাছ ধরতে নিয়ে যায় কেননা আমি তাকে আফ্রিকায় নিয়ে যেতে পারি না। আমরা একসঙ্গে টিভিও দেখি। তখন পুকুরে তাকে ফেলে আসলে শেয়ালে তাকে খেয়ে ফেলতো। আমিই তার ভাগ্য বদলেছি তাই তার জীবনের জন্য আমিই দায়িত্বশীল।

ঠোঁট দিয়ে এক অদ্ভূত আওয়াজ তৈরি করে ক্লেপেটান। তার পায়ে চিহ্ন হিসেবে একটি আংটি পরিয়ে রাখা হয়। সর্বশেষ সে মালেনা থেকে ১৪ হাজার ৫শ’ কিলোমিটার দূরে কেপটাউনে উড়ে গিয়েছিল। সেখানে যেতে তার সময় লেগেছিলো প্রায় ১ মাস। ক্রোয়েশিয়ায় প্রায় ১৫শ’ জোড়া সারস বসবাস করে। তার মধ্যে একেবারেই আলাদা এই সারস জুটি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1156 বার