পেঁচা: ডানায় তাদের বিনিদ্র রাত্রির গান

Pub: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৮, ২০১৮ ৯:৪৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৮, ২০১৮ ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই পেঁচা নামের নিশাচর পাখিটির দেকা মেলে। এই প্রজাতির পাখিরা সাধারণত গাছের খোঁড়লে, পাহাড়ের গুহায় বাস করে। রাতে শিকার ধরতে বের হয়। এরা ইঁদুর, ব্যাং, পোকামাকড় ইত্যাদি প্রাণী শিকার করে খায়। কাছের জিনিস খুব ভালোভাবে দেখতে না পেলেও এদের ঠোঁট ও নখের কাছে যে বিশেষ ধরনের পালক আছে তা দিয়ে কী শিকার করল তা বুঝতে পারে। পেঁচার শ্রবণশক্তি খুব প্রখর। ইঁদুরের শস্যদানা চিবানোর শব্দও সে শুনতে পায় এবং তা অনুসরণ করে শিকার ধরতে পারে।

লক্ষ্মীপেঁচা,  খুড়ুলে পেঁচা, হুতুম পেঁচা, ভুতুম পেঁচা, কুপোখ এবং নিমপোখ পেঁচা অধিক দেখা যায়। প্রজাতি হিসেবে পেঁচার ডাকেরও ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

বাংলাদেশে যেসকল পেঁচার দেখা পাওয়া যায় তাদেরকে দুটি গোত্রে ভাগ করা যায়। একটিকে বলা হয় সাধারণ পেঁচা যা স্ট্রিগিডি বংশের অন্তর্গত, আরেকটি হলো লক্ষ্মীপেঁচা যা টাইটোনিডি বংশের অন্তর্গত।

পেঁচা সাধারণত এপ্রিল থেকে নভেম্বর মসের দিকে প্রজননক্ষম হয়ে থাকে। একটি স্ত্রী পেঁচা সংখ্যায় ২-৫টি ডিম দিয়ে থাকে। টানা ১২-১৪ দিনের মতো ডিমে তা দেয়ার পর ধীরে ধীরে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয়। ৩০ দিনের মাথায় বাচ্চাগুলোর গায়ে পালক গজায়। আর পরবর্তী এক মাসের মধ্যে এরা উড়তে শেখা শুরু করে।

পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই পেঁচার দেখা পাওয়া যায়। তবে কুমেরু, গ্রীনল্যান্ড এবং এধরনের কিছু নিঃসঙ্গ দ্বীপে এদের উপস্থিতি চোখে পড়ে না।

পরিবেশবিদদের মতে, পৃথিবীজুড়ে ১৭০ এর অধিক প্রজাতির পেঁচা লক্ষ্য করা গেলেও বাংলাদেশে মোট ১৭ প্রজাতির পেঁচা রয়েছে যার মধ্যে ১৫ প্রজাতি স্থায়ীভাবে আমাদের দেশে অবস্থান করে। বাকি দুটি প্রজাতি পরিযায়ী, যার অর্থ হলো এরা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বসবাস করে না। বিভিন্ন সময়ে পরিবেশের কারণে অথবা খাবারের উৎসের কারণে বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপন করে।

পেঁচা নিজের মাথাকে দুই দিকে মিলে ২৭০ ডিগ্রী পর্যন্ত ঘোরাতে পারে, যার ফলে নিজের কাঁধের উপর দিয়ে পেছনের দিকে অনেকটাই দেখতে পারে। তাই যেকোনো শিকার ধরতে বা কোনো বিপদের আভাস পেলে পেঁচা অনেক আগেই সতর্ক হয়ে যেতে পারে।

পেঁচার শ্রবণশক্তি খুব প্রখর। এই কারণে শিকারের জন্যে পেঁচা রাতের আঁধারকেই বেছে নেয়। শুধুমাত্র শব্দের উৎসের উপর ভিত্তি করেই এরা নিকশ অন্ধকারেও শিকার ধরতে সক্ষম। সামান্য মাথা ঘুরিয়েও এরা অনেক সময় অনেক সূক্ষ্ম শব্দ শনাক্ত করতে পারে। পেঁচার চোখের চারপাশে বৃত্তাকার কিছু পালক সাজানো থাকে। একে ইংরেজিতে ‘ফেসিয়াল ডিস্ক’ বলা হয়, যার কারণে এদের দুই কানে সামান্য আগে ও পরে শব্দ পৌঁছায়।

সাধারণত ছোট ছোট প্রাণী, যেমন- ইঁদুর, টিকটিকি, উড়ন্ত পাখি এবং বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ এদের প্রধান খাবার। কিছু প্রজাতির পেঁচা আবার উড়ে গিয়ে পানিতে ভাসমান মাছও শিকার করে খায়। এদের বাঁকানো ঠোঁট এবং নখের সাহায্যে এরা শিকার করে থাকে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1118 বার