বিয়ানীবাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অতিথি পাখি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিয়ানীবাজারে শীতের শুরু থেকেই একশ্রেণির পেশাদার পাখি বিক্রেতা পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবাধে বিক্রি করছে অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখি। এদের মধ্যে পেশাদার বিক্রেতার পাশাপাশি রয়েছে মৌসুমি পাখি বিক্রেতারাও। সব ধরনের পাখি শিকার ও বিক্রি দন্ডনীয় অপরাধ হলেও প্রশাসনের নির্বিকারের সুযোগে অসাধু পাখি বিক্রেতারা বেপরোয়াভাবে পাখি বিক্রি করছে। এতে পরিবেশ যেমন ভারসাম্য হারাচ্ছে তেমনী পাখি বিক্রেতার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে বিয়ানীবাজারে। গত কয়েক মাস থেকে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের মেইন রোড, কলেজ রোড, মোরগ গলিতে পাখি বিক্রি করছে জকিগঞ্জের শাহগলী এলাকার মুমিন মিয়া, মুড়িয়া ইউনিয়নের টেকইকোনা গ্রামের আফিয়া বেগম ও উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের শারপার এলাকার আব্দুল জলিলসহ বেশ কয়েকজন পাখি বিক্রেতাকে প্রতিদিন বিয়ানীবাজার পৌরশহরে পাখি বিক্রি করতে দেখা যায়। বিয়ানীবাজারে শীতে তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে মৌসুমী পাখি বিক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলাজুড়ে প্রকাশ্যে এসব পাখি বিক্রি করা হলেও প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।
জানা যায়, শীতের আমেজ শুরু হলেই উপজেলার মুড়িয়ার হাওরসহ ছোটবড় বিলে বিভিন্ন রঙবেরঙের অতিথি পাখির ঢল নামে। আশ্বিন মাসের শেষের দিকে হাওর ও বিলের পানি শুকাতে শুরু করেলে এ সময় পুঁটিসহ ছোট ছোট মাছ খাওয়ার লোভে হাওর কিংবা বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি নামে। ওই সময় একশ্রেণির শিকারি বিষটোপ কিংবা নানা ধরনের ফাঁদ পেতে শিকার করে অতিথি পাখি। পৌরশহর ছাড়াও শেওলা সেতুর টোল এলাকা, বৈরাগীবাজার, দাসউরা বাজার ও কোণাগ্রামের অফিসের বাজারে পাখি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। শেওলা সেতুর টোল এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে কবির ও জোবেল নামের দ্ইু যুবক পাখি বিক্রির সাথে জড়িত। তারা দেশীয় প্রজাতির শালিক, ঘুঘু, কানা বক ও সাদা বকের পাশাপাশি অতিথি পাখি বিক্রি করছে বলে জানা গেছে।
পাখি বিক্রেতা মোমিন মিয়া জানান, তিনি সপ্তাহে প্রতিদিন কানাইঘাট উপজেলা থেকে পাখি নিয়ে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের আশপাশের পাখি বিক্রি করেন। শীত বাড়ার সাথে সাথে তাদের পাতা ফাঁদে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি ও দেশি পাখি। পাখির ক্রেতা ও লাভ বেশি হওয়া গত কয়েক মাস থেকে পাখি বিক্রিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন তিনি। পাখি বিক্রি ও শিকার অপরাধ কি না জানতে চাইলে মোমিন বলেন, আমরা বিক্রি করছি, কিন্তু কেউতো বাধা দেয়নি। সবাই দাম জিজ্ঞস করে। স্যাররাও মাঝে মধ্যে কিনে নেয়।
অপর পাখি বিক্রেতা আফিয়া বেগম জানান, তার চেলে মুড়িয়া হাওরে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে। প্রতিদিন ভোর রাতে সে পাখি শিকারে যায়। পরদিন তিনি তা বিয়ানীবাজার পৌরশহরে ফেরি দিয়ে বিক্রি করেন। শীত বাড়ার সাথে ফাঁদে এখন অনেক বেশি পাখি পড়ে। তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন পাখি শিকার করে। পাখি শিকার আইনের বিষয়ে জানতে চাইলে আফিয়া বলেন, আইন আছে কিনা আমার জানা নেই। আগে যেমন আমার স্বামী পাখি শিকার করতেন, এখন আমার ছেলেও পাখি মিকার করে। নিজে খাই এবং বিক্রিও করি তা থেকেই আমার পরিবার চলে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) বিয়ানীবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ বলেন, প্রকৃতিতে শীতের আমেজ শুরু হলেই উপজেলার মুড়িয়া হাওরসহ ছোটবড় হাওর ও বিলে বিভিন্ন রঙ-বেরঙের অতিথি পাখির ঢল নামে। আশ্বিন মাসের শেষের দিকে হাওর ও বিলের পানি শুকাতে শুরু করে। এ সময় পুঁটিসহ ছোট ছোট মাছ খাওয়ার লোভে হাওর কিংবা বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে নামে অতিথি পাখি। ওই সময় একশ্রেণির শিকারি বিষটোপ কিংবা নানা ধরনের ফাঁদ পেতে শিকার করছে অতিথি পাখিসহ দেশীয় পাখি। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে পাখি শিকার ও বিক্রি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আরিফুর রহমান বলেন, বিয়ানীবাজারের কয়েকজনের বিরোদ্ধে পাখি শিকার ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। আমরা তাদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাখি বিক্রির সম্ভাব্য স্থান ও সময় জেনে অভিযান পরিচালনা করবো। স্থানীয় মানুষের সচেতনা বৃদ্ধির করতে পারলে পাখি শিকার ও বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফোনঃ +৪৪-৭৫৩৬-৫৭৪৪৪১
Email: [email protected]
স্বত্বাধিকারী কর্তৃক sheershakhobor.com এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত