অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে এগিয়ে যান

Pub: Saturday, February 1, 2020 10:08 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মহিউদ্দিন চৌধুরী
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পূর্বে জনগণের আন্দোলনের যে পর্যায়ক্রমিক ও ধারাবাহিকতা, এই ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে:

ধারাবাহিকতা:
১) শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা মামলায় আটক ছিল। এজন্য আওয়ামী লীগের আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা থাকার পরও তারা আন্দোলন করতে পারেনি ,এমন প্রেক্ষাপটে তোফায়েল আহমেদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন।
২) ১৯৬৯ এর ৪ জানুয়ারি ডাকসু সহ চারটি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে ঐতিহাসিক ১১ দফার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
২) ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বটতলায় প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং মোনায়েম খানের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হয়, পুলিশ বাহিনীর বেপরোয়া লাঠিচার্জ কাঁদুনে গ্যাস এবং ফায়ারিং এর প্রতিবাদে পরের দিন ১৮ জানুয়ারি পুলিশী নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা শহরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ধর্মঘটের কর্মসূচি হয়।
৩) ১৮ জানুয়ারি প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে “শেখ মুজিবের মুক্তি চাই আইয়ুব খান এর পতন চাই”স্লোগান সার্বজনীন করা হয়।
৪) ১৯ জানুয়ারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবাদ সভা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের কৌশল গ্রহণ করা হলো।
৫) ১৯ জানুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুল হক গুলিবিদ্ধ হন এর প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি সোমবার ঢাকাসহ বাংলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্ণ ধর্মঘট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সমাবেশ কর্মসূচি হয়।
৬) ২০ জানুয়ারি ব্যাপক ছাত্র উপস্থিতি এবং সমাবেশ থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে “যতদিন শেখ মুজিব সহ সকল রাজবন্দীকে মুক্ত করতে না পারব ততদিন আন্দোলন চলবে স্বৈরশাসক আইয়ুব মোনায়েম শাহের পতন না ঘটিয়ে বাংলা ছাত্রসমাজ ঘরে ফিরবে না”স্লোগানে মুখরিত হয় এবং একটি মিছিল ঢাকা শহরের রাজপথ প্রদক্ষিণ করে যে মিছিল গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসাদুজ্জামান।
আসাদের মৃত্যুতে তার রক্ত ছুঁয়ে ছাত্রদের শপথ গ্রহণ , শোক মিছিল নিয়ে ঢাকার রাজপথ প্রদক্ষিণ ও জনতার অংশগ্রহণ অতঃপর রক্তমাখা শার্ট নিয়ে সমাবেশ”আমাদের এই রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেবো না”বলে ঘোষণা।
৮) ২১ জানুয়ারি অর্ধদিবস হরতাল এবং হরতালের পর পল্টনে সমাবেশের কর্মসূচি
৯)২১ জানুয়ারি সমাবেশ থেকে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ২২ শে জানুয়ারি শোক মিছিল, জনতার স্বতঃস্ফূর্ত কালো ব্যাচ ধারন ,কালো পতাকা উত্তোলন।
১০)২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মশাল মিছিল পরে কালো পতাকা সহ শোক মিছিল।
১১)২৪ জানুয়ারি দুপুর ২ টা পর্যন্ত সর্বাত্মক হরতাল পালিত এই হরতালে মন্ত্রীদের বাড়ি, বিচারপতির বাড়ি ,পাকিস্তানি পত্রিকা অফিসে আগুন জ্বলে এবং পুলিশি একশনে নবকুমার ইনস্টিটিউটের দশম শ্রেণীর ছাত্র নিহত হয়, জননেতা মাওলানা ভাসানী সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে গায়েবানা জানাজা” আইয়ুব মোনায়েম পতন না হলে শেখ মুজিব মুক্তি পাবে না “আওয়াজ জনতার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
১২) আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৯ ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানে শোক দিবসে স্লোগান হয় “শপথ নিলাম শপথ নিলাম মুজিব তোমায় মুক্ত করব”
১৩) একুশে ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবসে পল্টন মহাসমুদ্রে শেখ মুজিব সহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা আটক সকলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয় ,সমগ্র দেশ গণবিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয়।
জনরোষের ভয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান সব রাজবন্দিকে বিনা শর্তে মুক্তি দিলেন।

একটা ঘটনা প্রবাহ দেখলে স্পষ্ট জনগণকে প্রত্যেকটা কর্মসূচীদিয়ে ধীরে ধীরে জাগিয়ে তুলেছেন ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, বুয়েট এর ছাত্র , সাধারণ জনগণকে অংশগ্রহণের জন্য ছোট-ছোট কর্মসূচি, নবকুমার ইনস্টিটিউটের দশম শ্রেণীর ছাত্রের রক্তের উপর দিয়ে গতিশীল হয়েছে গণঅভ্যুত্থান, মুক্তি পেয়েছে শেখ মুজিব।

প্রেক্ষাপট:
বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে বন্দি, ঢাকা সিটি নির্বাচনে জনগণ অতীষ্ঠ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে, বুয়েট স্তব্ধ, সমগ্র দেশের মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে, এমন প্রেক্ষাপটে সর্বাত্মক বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কৌশলের সাথে দৃঢ় নেতৃত্বই পারে একটি শান্তিপূর্ণ গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ