মজনুর কথা আপনারা মাইক বাজায়ে বললেও আমি বিশ্বাস করিনা

Pub: Sunday, January 12, 2020 3:17 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাদিয়া নাসরিন : বাংলাদেশের আনাচে কানাচে থেকে শুরু করে চায়ের দোকানের ঝড় কিংবা বন্ধুদের আড্ডা সব খানেই এখন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঘটনা।যে ঘটনাটি সারা দেশের মানুষকে ব্যপক ভাবে নাড়া দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে কুর্মিটোলায় ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতি মধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে মজনু নামের একজন ব্যক্তিকে। তবে তাকে গ্রেফতারের পর থেকে সারা দেশে আবার শুরু হয়েছে নানা ধরনের সমালচনা মানুষের মনে উঠে এসেছে অনেক প্রশ্ন। তেমনই কিছু প্রশ্ন নিয়ে ফেবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাদিয়া নাসরিন নামের একজন লেখিকা। পাঠকদের উদ্দশ্যে তা তুলে ধরা হলো:-

শোনেন, কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলতেসে। সন্দেহ করতেসে। প্রশ্ন তোলার মতো খুব ভ্যালিড কিছু পয়েন্ট আছে বইলাই তুলতেসে। আয়োজন দেইখাই তুলতেসে। এবং আয়োজনের অসামঞ্জস্যতা দেইখাই তুলতেসে।

প্রথমেই মেয়েটার বয়ান দিয়ে বলা হইলো অভিযুক্ত একজন “দাম্ভিক ব্যক্তি”, এবং সে বারবার মেয়েটার পরিচয় জানতে চাইতেসিলো। মেয়েটার বয়ানে এও বলা হইসে যে, তাকে অজ্ঞান করে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হইসে, “উপর্যুপরি” করা হইসে, পোষাক পাল্টাইতে বাধ্য করা হইসে।

এখন আপনারাই বলেন,এই তথ্য একজন ভিক্টিম জানার কথা? এই লোকরে দেখে কি মনে হইতেসে সে “দাম্ভিক” ব্যাক্তি? যে কিনা ইন্টেরিম সময়ে পোষাক পাল্টাইতে বাধ্য করতে পারে? অজ্ঞান করার মতো জিনিস পত্র কি মজনু সাথে নিয়েই ঘুরতো ? বারাবার মেয়েটার পরিচয় জানতে চাইসিলো নাকি মজনু। একজন নেশাসক্ত ব্যক্তি কি এতো কথা বলার মতো অবস্থায় থাকে ?

নেশার কারণে যে ব্যক্তির দাঁত পড়ে যায়, তার পক্ষে কাউকে টেনে নিয়ে তোলা তো দূরে থাক, নিজেকে টেনে তোলার ক্ষমতাই থাকে না।

কুর্মিটোলার যে জায়গায় বাস থামে সেটা নির্ধারিত এলাকার বাস স্ট্যান্ড। তার খুব নিকটে কোন জঙ্গল নাই। যেখানে গাছ পালা বা জঙ্গল আছে তা ক্যান্টনমেন্ট এর ভেতরে। এবং অবশ্যই সেখানে কোন ব্যাক্তির প্রবেশ সম্ভব নয়। জঙ্গলে নিতে হইলে তারে হয় শ্যাওড়া নিয়ে গেছে, নয় বনানী রেইল স্টেশন। দুইটার কোনটা পর্যন্তই একটা সুস্থ মানুষরে টাইনা নিয়ে যাওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব।

সবচাইতে জরুরী বিষয় হলো, যে মেয়ে “উপর্যুপরি” এবং মাত্রাতিরিক্ত শারিরীক আঘাত সহ্য করেও জ্ঞান ফেরামাত্র পালিয়ে এসে অটোরিকশা ডাকতে পারে, থানায় যেতে পারে, হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে, তার মানসিক এবং শারীরিক সামর্থ্য সম্পর্কে সামান্যতম সম্মান থাকলেও আপনি মানতে বাধ্য হবেন, এরকম “মাইটি-ফাইটি” একজন তরূণীকে অজ্ঞান করে টেনে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার মতো শারিরীক সামর্থ্য কোনভাবেই একজন ব্যক্তির থাকেনা।

হ্যাঁ, তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে ভিক্ষুক বা শারিরীক ভাবে অসক্ষম নারীদের করতেই পারে। কারণ, তারা বাধা দিতে অক্ষম। কিন্তু সুস্থ, স্বাভাবিক একজনকে দুই তিনঘন্টা আটকে রাখার ক্ষমতা সে রাখেনা। আপনারা মাইক বাজায়ে বললেও আমি এইটা বিশ্বাস করিনা। সে যে এইটা সত্য হইতেই পারে। কিন্তু এই মেয়েটারে সে করসে, পোষাক পাল্টাইতে বাধ্য করসে, এইভাবে করসে এইটা হিসাবে মিলেনা।

মেয়েটার আগের বর্ণনায় কোথাও ছিলোনা যে,অভিযুক্ত ব্যাক্তির সামনের দুইটা দাঁত নাই। এইটা অনেক জরূরী তথ্য। মেয়েটা যতোটুকু সম্ভব ডিটেইল বলসে তাতে এই বর্ণনা ছিলোনা। অথচ মজনু নামের ব্যক্তির সামনের দুইটা দাঁত নাই। দীর্ঘদিন নেশা নিলে দাঁত পড়ে যায়।

আমি জানি আজকে সবাই এই জিনিস গিলে ফেললে সবচাইতে বড় জুলুমটা হবে সেই মেয়েটার উপর। যে মেয়েটা শারিরীক আঘাত সহ্য করেও থেমে যায়নি, বরং জ্ঞান ফেরামাত্র নিজেই থানায় গেছে এবং বলসে,”আই ওয়ান্ট জাস্টিস”!

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা। তবে এমন অনেক ঘটনা ঘটলেও অনেকেই এখনো পানননি বিচার। সুরাহা ঘটেনি অনেক মামলার। অনেকটা অন্তরালেই রয়েছে সেই সব ঘটনা গুলো। তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটির তাড়াতাড়ি সুরাহা হবে বলে সকলের ধারনা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়া হয়েছে 1004 বার

Print

শীর্ষ খবর/আ আ