সরকার এবং তাদের হাতিয়ার দুদককে লইয়া জাতি কি করিবে?

Pub: বুধবার, এপ্রিল ৪, ২০১৮ ১:১৫ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, এপ্রিল ৪, ২০১৮ ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সামছুল আলম : “বিএনপির ৮ নেতা বিভিন্ন ব্যাংকের কয়েকটি একাউন্ট থেকে ১২৫ কোটি টাকা তুলেছেন” – এমন গুজব ক’দিন যাবৎ লিখে যাচ্ছে শেখ হাসিনার প্রোপাগান্ডার দায়িত্বপ্রাপ্ত টোকাই সাংবাদিক বোরহান কবির। আর এই উড়ো খবরের পিছে ছুটছে মহাক্ষমতাধর দুদক। বিএনপির নেতারা আজকে প্রেস কনেফারেন্স করে এর জবাব দিয়েছেন, এগুলা সব মিথ্যা এবং রাজনৈতিক হয়রানির জন্য গুজব রটনা। এরূপ কোনো লেনদেনের ঘটনা ঘটে নাই, এমনকি অনেকের ঐসব ব্যাংকে কোনো একাউন্টও নাই। অথচ এই নোংরা রসিকতার পিছে ছুটে বেড়াচ্ছে দুদক।

বোরহান যেসব গাঞ্জাখোরি লেখা তার বাংলা ইনসাইডারে ছাপে, সেগুলোকে প্রমোট করার করার জন্য প্রায় ২৫াট নিউজ পোর্টাল আছে। ফলে মানুষের কাছে কোনো না কোনোভাবে পৌছে কাউকে কাউকে বিভ্রান্ত করে। অবশ্য পরে সতাসত্য যাচাই করে পরে গালি দেয় বোরহানগংকে। মুশকিল হলো, এই গুজব প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খোদ নিজে। জানা গেছে, তিনি নাকি প্রতিদিন বোরহান ১৫ মিনিট সময় দেন, এবং ব্রিফ করেন কি কি বিষয় নিয়ে লিখতে হবে। সবার নিশ্চয় মনে আছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বোরহান কবির তাহার ‘বাংলা ইনসাইডারে’ একটি হাত বানোনো রিপোর্ট করে দুবাইতে জিয়া পরিবারের হাজার কোটি টাকার সম্পদ আছে। কয়দিন পরে দুবাই বাদ দিয়ে সৌদি বানায়, পরে লিখে মধ্যপ্রাচ্য! ১৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা নিজেই বিনাভোটের অবৈধ সংসদে বোরহানের এই গার্বেজ ফলাও করে প্রকাশ করে। হাসিনার মুখনিসৃত এই মিথ্যাচারগুলি বিভিন্ন মিডিয়ায় ছাপা হয়। এর তিন মাস পরে গত ডিসেম্বরের ৬ তারিখে হাসিনা আবার নিজেই সেটা প্রেস কনফারেন্সে উঠায় এবং সাংবাদিকদেরকে ধমক দেয় – এটা নিয়ে লেখেন না কেনো? এতে নিজদলীয় সাংবাদিকটা মিটিমিটি হাসে! কারন তারা জানে এটা ভুয়া রচনা। বিডিনিউজ২৪ লিখে দেয় যে এই নিউজের কোনো অস্তিত্ব নেই। অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের ও আ’লীগ নেতারা একেক সময় একেক রকম বানোয়াট ফিগার বলতে থাকে- কখনও ১২’শ কোটি টাকা, আবার ১২ হাজার কোটি টাকা, একজন তো বলে ফেলে ১২ বিলিয়ন ডলার! ‍ঠিক যেনো গাঁজার নৌকা যেনো পাহাড় দিযা যায়! এই বানোয়াট প্রোপগান্ডার বিরুদ্ধে আমিই একটা লিখা দিয়ে প্রথম প্রতিবাদ করি। অতঃপর বিএনপি মহাসচিব প্রেস কনফারেন্স করেন, শেষে যখন উকিল নোটিশ পাঠানো হয়, তারপরে অবৈধ সরকার চুপসে যায়। মোটকথা, শেখ হাসিনা নিজেই বোরহানের গার্বেজের একজন অন্যতম প্রচারক!!! জাতির কত বড় দুর্ভাগ্য হলে এমন হয়?

শুধু এই একটা ঘটনা নয়, খোদ হাসিনাকে নোবেল প্রাইজ পাইয়ে দিবে বলে ২০১১ সাল থেকে চিল্লাফাল্লা শুরু করে বোরহান গং। তখন কাদের সিদ্দিকী লিখেছিলেন, “নোবেল প্রাইজ কি ছেলের হাতে মোয়া?… পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার জন্য যে মাপের ও দামের লোকজনরা সারা দুনিয়ায় তদবির করছে- কিয়ামত পর্যন্ত তাদের চেষ্টাতেও কোনো কাজ হবে না।” তবে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর/অক্টোবরে এসে বোরহানের প্রোপাগান্ডায় হাসিনার মাথা নষ্ট হয়ে যায়, সে লন্ডনে গিয়ে বসে থকে- নোবেল না নিয়ে সে ফিরবে না! সে নিজেও বিশ্বাস করতে থাকে – পামু বোধ হয়! এর জন্য নাকি তিন মিলিয়ন ডলার খরচ করে তারা। টাকা পেয়ে প্রতিদিন বানোয়াট খবর লিখতে থাকে বেরহান>> “নোবেল শান্তির সংক্ষিপ্ত তালিকায় শেখ হাসিনা” > “শেখ হাসিনাই পপুলার চয়েস” > “শেখ হাসিনাকে নোবেলের জন্য বিশ্বের রেকর্ড সংখ্যক ৪.৩০ লাখ পিটিশন” > “১০ কারণে নোবেল পেতে পারেন শেখ হাসিনা” > “কে পাবে পুরস্কার – হাসিনা নাকি মার্কেল” > “নোবেল জয় করেই দেশে ফিরবেন” > “শেখ হাসিনাকে ফোনের কাছে থাকতে বলেছে নোবেল কমিটি”!! শেষ পর্যন্ত এই মহিলার নিজের মাথা এতটাই নষ্ট হয়ে যায় যে- নোবেল না পাওয়ার দুঃখে মাস খানেক শয্যশায়ী হয়ে পড়েন! বোরহানের মত বাটপারের পাল্লায় পড়ে শেখ হাসিনা ক্রমশ মিথ্যাকে সত্য ভাবতে থাকেন, আর সত্য থেকে ক্রমাগতভাবে দূরে সরে যেতে থাকেন।

আজকের প্রেস কনফারেন্সে বিএনপি নেতারা প্রশ্ন করেছেন, বাংলা ইনসাইডার কারা চালায়? কে এর মালিক? এসব উত্তর সবাই জানে। বাংলা ইনসাইডার মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে দুদক ও প্রধানমন্ত্রীকে মিসগাইড করেছে, এটা একটা অপরাধ। বিএনপি নেতারা বলছেন, এসব মিথ্য বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে জনগনকে বিভ্রান্ত করতে এবং তাদের দৃষ্টিকে ব্যাংক লুট, শেয়ার বাজার লুট ও স্বৈরাচারী নামে বিশ্বে যে ভূষিত হচ্ছে তা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে এগুলো করছে সরকার।

আমার পরিস্কার বক্তব্য- বাংলা ইনসাইডারকে আমরা পাত্তা দেই না বটে, তারপরও মাঝে মাঝেই আমি সতর্ক করে দিই, অনেকে তাতে বিরক্ত হতে পারেন। তবে এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, এই গুজব কারখানা বন্ধ করা দরকার। আইনী এবং টোটকা উভয় পদ্ধতিতে চেষ্টা করলে এটা বন্ধ হয়ে যাবে। দুদকের চেয়ারম্যানকে নিয়ে লম্বা লেখা দিতে পারি (আমরা একই বিল্ডিংয়ে থাকতাম, আরও কিছু বিষয় আছে), লিখব না- শুধু বলব, এটা স্বাধীন প্রতিষ্ঠান করা হয়েছিল দেশে দুর্নীতি কমাতে। আপনারা যেভাবে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছেন, তাতে লজ্জা হয়- আপনারা আমাদের সিনিয়র ছিলেন! যদি মানুষ হয়ে থাকেন, তবে খুঁজে দেখুন বিদ্যুত খাত লুট করে হাজার হাজার কোটি টাকা কারা খাচ্ছে, প্রাইভেট ও পাবলিক ব্যাংকগুলি কারা লুট করছে, ভিওআইপি এবং আইটি সেক্টর থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা চলে যায় কার একাউন্টে, আমেরিকার এয়ারপোর্টে মিলিয়ন ডলার ক্যাশ নিয়ে ধরা পড়ে কার পুত্র, প্রতি কিলোমিটার রাস্তার কাজে ১০/১৫ কোটি টাকার স্থলে ১৭৯ কোটি টাকা হারে খরচ করে হাজার হাজার কোটি টাকা কারা লুট করছে কারা, সুইস ব্যাংকে কারা রেখেছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার, হাজার কোটি টাকার রিজার্ভ লুট করলো কারা, শেয়ার মার্কেট থেকে লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিলো কারা, ৬ লাখ কোটি টাকা কারা বিদেশে লন্ডারিং করলো, কারা মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম বানায়, কারা লন্ডনে ৫৪টি বাড়ি কিনে? এরকম আরও বড় বড় সাগর ডাকাতির খবর আছে- হেডম থাকলে এগুলার পিছে লাগুন। রিটায়ার তো করেছেন, সংসারও আছে কি নাই, টাকা পয়সা দিয়ে আর কি করবেন? বয়স তো অনেক হইলো, টুক করে হঠাৎ মরে যাবেন, ওপারে গিয়ে কি জবাব দিবেন?
পারবেন কি মাননীয় স্যার?
সামছুল আলমের ফেইস বুক থেকে
এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, শীর্ষ খবর ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1243 বার