আজকে

  • ৬ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৯শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং
  • ৩রা শাবান, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

খালেদা জিয়ার সুস্থতা-অসুস্থতা

Pub: রবিবার, এপ্রিল ৮, ২০১৮ ১১:০১ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, এপ্রিল ৮, ২০১৮ ১১:০১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

ঢাকা : কারাবন্দী খালেদা জিয়া সুস্থ নাকি অসুস্থ? এ নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সরকার, কারা কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, বিএনপি ও দুদকের আইনজীবীদের বেশ ক’দিন ধরে এ নিয়ে নানামুখী বক্তব্যে সাধারণ মানুষের কৌতূহল আরও বেড়েছে। এর মধ্যে গতকাল শনিবার হঠাৎ বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএম) আনা হলো। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের কারাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট আজ রোববার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায় বিএসএমএম কর্তৃপক্ষ।
পরে কারা কর্তৃপক্ষের গঠিত মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, বেগম খালেদা জিয়াকে এখনই চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি। তবে তার কিছু শারীরিক সমস্যার কথা জানান মেডিকেল বোর্ডের প্রধান। যদিও গতকালের পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখেই বোর্ডের প্রধান ডা. মো. শামছুজ্জামান এ তথ্য দিয়েছেন।
এর আগে শনিবার বিএনপির এক নীতি-নির্ধারক সাফ জানিয়ে দেন, ‘সরকারের লোক দিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিশ্বাস নেই’ তাদের। আর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ওইদিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জোর করে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেয়া হয়েছে।’ এমনকি সংবাদ সম্মেলন থেকে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপাসনকে কারাগার ও হাসপাতালে আনা-নেয়ার পথে তার সঙ্গে ‘অপমানজনক’ আচরণের অভিযোগও তোলা হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে। একই দিন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন কোথায় চিকিৎসা করাবেন সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার তার আছে।
খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানিয়ে আসছে বিএনপি। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ…’ -এমন বক্তব্যের পর থেকেই বিষয়টি রহস্যজনক হিসেবেও দেখছে দলটি। বিএনপি বলে আসছে, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেয়ার সুযোগ দিতে, তাছাড়া তিনি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিদেশেও চিকিৎসা নেন। তিনি সত্যিই অসুস্থ হলে তাকে মুক্তি দেয়া হোক। যাতে তিনি স্বাধীনভাবে চিকিৎসা নিতে পারেন।
কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কখনো বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে চাইলে ‘পেরোলে মুক্তি’ দেয়া হবে। মন্ত্রীদের কেউ বলছেন, প্রয়োজন হলে ‘সরকার খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাবে’। আবার বলা হচ্ছে, ‘জেল কোড অনুযায়ী’ খালেদা জিয়া চিকিৎসা পাবেন। তিনি ‘সুস্থ আছেন’, -সরকারের পক্ষ থেকে এমন নানামুখী বক্তব্য দেয়ায় বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, ‘খালেদা জিয়াকে অসুস্থতার কথা বলে সরকার মূলত তাকে বিদেশে পাঠিয়ে ফের এক তরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে।’ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হচ্ছে।
কিন্তু সাধারণ মানুষের এ নিয়ে কৌতূহলের অবসান হচ্ছে না। নানা নাটকীয়তায় বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীর মধ্যেও সন্দেহ, সংশয় ও কিছুটা উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
গতকাল যখন বেগম জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আনা হয়, তখন তিনি গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে মেডিকেলের লিফটের কাছে যান। লিফট থেকে নেমে হেঁটেই যান নির্ধারিত ভিভিআইপি কেবিনে। পরে এ-ক্সে’র জন্য তাকে নেয়া হয় রেডিওলোজি বিভাগে। সেখানেও হেঁটেই গেলেন বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় অসংখ্য গণমাধ্যম তার ছবি নেয়। যা জাতীয় দৈনিক ও অনলাইনে প্রকাশ পায়। একই সাথে দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনা-নেয়া, গাড়ি থেকে নামা-উঠা, লিফটে উঠা-নামা, রেডিওলোজি বিভাগে হেঁটে যাওয়াসহ পুরো বিষয়টি লাইভ সম্প্রচার করে।
গণমাধ্যমের ছবি ও ভিডিও দেখে অনেকে বলেছেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হলেও দেখে মনে হয়েছে তিনি ভালো আছেন। তিনি মানসিকভাবে বেশ দৃঢ় আছেন। নৈতিক শক্তির কারণেই ৭৩ বছর বয়সে নির্জন কারাগারে থাকার পরও মানসিকভাবে দৃঢ় আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তার এ মনোবল দলের নেতা-কর্মীদেরকেও বেশ সাহস যুগিয়েছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

মেডিকেল বোর্ড যা বলছে
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এখনই বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি বলে মনে করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক মো. শামছুজ্জামান। তিনি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান।
রোববার দুপুরে মো. শামছুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো আসেনি। তিনি যত দূর দেখেছেন, তাতে খালেদা জিয়ার শারীরিক যে অবস্থা, তাতে এখনই তাঁকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। কারাগারে আসার আগে থেকেই তাঁর আরথ্রাইটিসের সমস্যা ছিল। এখন সেই সমস্যা কিছুটা বেড়েছে। তাঁর বাঁ পা ও বাঁ হাতে একটু ব্যথা হয় এখন। যেহেতু বাঁ পাশে ব্যথা, তাই ধরে নেয়া যায় তাঁর কোমরে কিছুটা সমস্যা আছে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট কারাগারে
এদিকে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট কারা অধিদফতরের কাছে পাঠানো হয়েছে আজ রোববার। দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গতকাল শনিবার রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে খালেদা জিয়ার হাড়ের এক্স-রে করানো হয়। এই পরীক্ষার ফল সিলগালা করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগ।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয় খালেদা জিয়াকে। প্রায় দুই ঘণ্টা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর দুপুর দেড়টার দিকে তাকে ফের কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ আদালত তাকে পাঁচ বছর সাজা দেয়ার পর থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। দুই মাসের মাথায় গতকাল শনিবার তাকে চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে আনা হয়। এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়। সামনে ও পেছনে ছিল র‌্যাবের পাহারা। পুলিশের কালো রঙের একটি গাড়িতে করে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়।
বিএসএমএমইউ সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার কোমর ও ঘাড়ের এক্স-রে করা হয়। পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে এসব পরীক্ষা করা হয়। পরে বেলা পৌনে ২টায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
এদিন বিএসএমএমইউয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের বলেন, আপাতদৃষ্টিতে তিনি ভালো আছেন। তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল কারা প্রশাসনকে জানাবে।
তবে বিএনপি বলেছে, এই চিকিৎসায় তাদের আস্থা নেই। সরকার চিকিৎসার নামে নাটক করেছে। এই চিকিৎসায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কোনো পরামর্শ নেয়া হয়নি।
এর আগে ১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ মেডিকেল বোর্ড কারাগারে গিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। পরদিন বোর্ডের সদস্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক মো. শামছুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, তবে গুরুতর নয়।
গত শুক্রবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। বের হয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের স্বাস্থ্য খুব ভালো নয়, সত্যিকার অর্থেই তিনি অসুস্থ’।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ইস্যু
গত ২৮ মার্চ একটি মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালতে উপস্থিত করার কথা ছিল। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তিনি অসুস্থ বলে তাকে আদালতে উপস্থিত করেনি। ওইদিন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আবদুল্লা আবু গণমাধ্যমকে জানান, খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে না পারায় কারা কর্তৃপক্ষ কাস্টডি ওয়ারেন্ট পাঠিয়েছে। শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হয়নি।
একইদিন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, অনিবার্য কারণে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করানো হয়নি। ৫ এপ্রিল মামলাটির ধার্য তারিখ রয়েছে। সেদিন তাকে আদালতে হাজির করানো হবে।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ২৮ মার্চ বুধবার মামলার তারিখ আগে থেকেই ধার্য ছিল। খালেদা জিয়াকে এদিন আদালতে আনা হয়নি। আদালতে কাস্টডি পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে। সানাউল্লাহ মিয়া আরও বলেন, আমরা লেখা দেখেছি খালেদা জিয়া অসুস্থ। যেহেতু তিনি অসুস্থ, আমরা খুবই চিন্তিত। কারণ, আমরা জানতে পারছি না। উনারাও পরিষ্কার করে কিছুই বলেননি।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আরও বলেছেন, বেগম জিয়া ৩০ বছর ধরে গেঁটেবাত, ২০ বছর ধরে ডায়াবেটিস, ১০ বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে আয়রন ঘাটতিতে ভুগছেন। তার হাঁটুতে সমস্যা। তিনি এজন্য বিদেশে অনেকবার চিকিৎসা নিয়েছেন। এদিকে বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দেশে এক ধরনের ধোঁয়াসা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, খালেদা জিয়া বয়সজনিত শারীরিক কিছুটা যে অসুস্থ- তা সরকার, চিকিৎসক ও বিএনপি তথা সব পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট। তাই দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এ মুহূর্তে জামিনে মুক্তি দেয়া উচিত। এতে সরকার বিতর্ক থেকে বেঁচে যাবে।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1041 বার

 
 
 
 
এপ্রিল ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« মার্চ    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
 
 
 
 
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com