আজকে

  • ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৩শে জুন, ২০১৮ ইং
  • ৮ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

সম্ভাবনার সুনামগঞ্জ এবং জরুরী দাবী

Pub: মঙ্গলবার, জুন ৫, ২০১৮ ৩:২০ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, জুন ৫, ২০১৮ ৩:২০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

নজির হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য
এখনও সুনামগনজ একটি পশ্চাৎপদ এলাকা। মুলতঃ হাওর জনপদ বলতে যা বুঝায় তারই বাস্তব প্রতিফলন হলো সুনামগনজ। সুনামগঞ্জের জন্য টেকসই উন্নয়ন কৌশল দরকার। বরেন্দ্র এলাকার জন্য, মংগা এলাকার জন্য, পার্বত্য এলাকার জন্য আলাদা উন্নয়ন কৌশল আছে, আছে প্রকল্প পরিকল্পনা, সুনামগনজের জন্য নাই কেন?
সুনামগঞ্জের আছে বিরল হাওর প্রকৃৃিত। জীবন যাপন, অর্থনীতি, সব কিছুরই একটা ভিন্নতা আছে দেশের অপরাপর অংশের সাথে। সুনামগঞ্জ থেকে বহুমুখী সড়ক যোগাযোগ জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার সাথে এখনও গড়ে ওঠে নাই। সহজ দৃষ্টান্ত হলো সুনামগঞ্জ থেকে মোহনগনজ পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কটি এখনও গড়ে ওঠে নাই । ক্ষমতার পালা বদল হয় কিন্তু এই ছোট কাজটি হয় না কেন ? আসলে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কৌশলের সাথে হাওর উন্নয়ন কৌশল এখনও সম্পৃক্ত হতে পারেনি । নগর সভ্যতা তো দুর ভবিষ্যতের ব্যাপার ।
২০১১ সালে বর্তমান সরকার হাওর অঞ্চলের জন্য একটা মাষ্টার প্ল্যান করেছেন । এতে ১৭ টি সমস্যা মোটা দাগে চিন্হিত করা হয়েছে । পানি সম্পদ, কৃষি, মৎস্য, পশু সম্পদ, বন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি সরবরাহ, যোগাযোগ, গৃহ নির্মান ও সেটেলমেন্ট, শিল্প, বিদ্যুৎ ও শক্তি, খনিজ সম্পদ, জলাশয় ব্যবস্থাপনাও বাওডাইভারসিটি, পর্যটন, সামাজিক সেবা ও সুযোগ সমূহ। ১৪৮টি চিত্তাকর্ষ প্রকল্প আছে। ৫৯ টি সর্বোচছ প্রাওরিটি হিসেবে বিবেচিত। টাকা লাগবে ১২হাজার ৬শ ৩৫কোটি ৭৭ লক্ষ। হাই প্রাওরিটি প্রকল্পের সংখ্যা হলো ৫০টি। টাকা লাগবে ১১ হাজার ২শ ৪০কোটি ২৭ লক্ষ। মধ্যম প্রওরিটি প্রকল্প সংখ্যা হলো ৩৯টি। টাকা লাগবে ৭হাজার ২শ ৭ কোটি ১১ লক্ষ। প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগবে সর্বনিম্ন ৪ বছর থেকে ১৯ বছর। কবে প্রকল্প শুরু হবে কেউ জানেনা । হাওর এলাকার উন্নয়নের জন্য “হাওর ও জলাশায় উন্নয়ন বোর্ড ” গঠন করা হয়েছে । প্রধানমন্ত্রী এই বোর্ড এর চেয়ারপারসন । নয় মন্ত্রণালয়ের ৯ মন্ত্রী এই বোর্ডের সদস্য । পানি সম্পমন্ত্রণালয়ের সচিব এই কমিটির সদস্য সচিব । এই হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হয় ৯৮ সালে । খুব একটা মিটিং সিটিং হয় বলে আমার মনে হয় না । অষ্টম সংসদ কালিন সময়ে এই বোর্ডের আমিও একজন সদস্য ছিলাম । গুরুত্ব , প্রয়োজনীয়তা সব কিছুই বড়, কিন্তু আয়োজন অনেক কম।
মুলতঃ ৭ টি জেলা কে নিয়ৈ এই হাওর অঞ্চল বিস্তৃত। এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ৩০ বছরে ৩১হাজার ০৮৩.১৫ কোটি টাকা খুব একটা বেশী না । গড় ভাগ করলে সুনামগঞ্জজ জেলার জন্য পরবে ৪হাজার ৪ শ ৪০.৪৫ কোটি । দুই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সময়েই বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এই অর্থায়ন সম্ভব ।
আমাদের উন্নয়ন ধারণা অত্যান্ত-গতানুগতিক। সেই মান্দাতার আমলের সরকারের লাইন মিনিষ্ট্রির মাধ্যমে বরাদ্দপ্রাপ্তি আর “টাকার অনুপাতে কোট তৈরির” অনুশীলনের মাধ্যমে চলছে উন্নয়ন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া । সেই কবে পাকিস্তান আমলে সুনামগঞ্জ-মোহন গঞ্জ সড়ক, সুনামগঞ্জ ছাতক সড়ক এর কাজ শুরু হয়েছিল তো আজও তা চলছে তো চলছেই, শেষ আর হয় না ।
সাধারনতঃ উন্নয়নের বাহন হলো লাইন মিনিষ্টির বরাদ্দ, উপজেলা ভিত্তিক এডিবি বরাদ্ধ, এমপি সাহেবদের মাধ্যমে টিআর, কাবিকা, বিশেষ বরাদ্ধ, এনজিওদের উন্নয়ন কর্মকান্ড । এই চারটি স্তবে উন্নয়নের অগ্রগতি নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। ট্রেডিং বানিজ্যের মাধ্যমে পুজি ও রিমিটেন্স এর টাকা আমাদের সামাজিক সঞ্চয় বৃদ্ধি করে চলেছে । বিশেষতঃ বর্ডার বানিজ্য, বালু পাথর, মাছ, ধান,কয়লা, চুনা পাথর, কাঠের ব্যবসা আমাদের সামাজিক অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে । কিন্তু ব্যবসায়ীদের সমস্যার প্রতি নজর কম।
হাওর এরিয়ার মাষ্টার প্ল্যানে পানি সম্পদের জন্য ৫ টি, কৃষির জন্য ২০ টি, মৎস্য উন্নয়নের জন্য ২২টি, পার্ল কালচারের জন্য ১ টি, পশু পালনের জন্য ১০টি, বনায়নের জন্য ৬টি, বাওডাইভারসিটি ও জলাশয় ব্যবস্থাপনার জন্য ১০টি, যাতায়াত খাতে ১২ টি, পানি সরবরাহ ও সেনিটেশনের জন্য ২ টি, বাসস্থান ও বন্দোবস্ত এর জন্য ১ টি, শিক্ষা প্রকল্প ৭ টি, স্বাস্থ্য প্রকল্প ১৬ টি, পর্যটন ১৩ টি, সামজিক সুযোগ সুবিধা সংক্রান্ত ৬ টি, শিল্প ৯টি, শক্তি ও বিদ্যুৎ ৪ টি, খনিজ সম্পদের জন্য ৩টি, প্রতিষ্টান জোরদারকরন ১টি। এই তালিকায় অনেক গুলিই এখনই বাস্তবায়ন যোগ্য নয় । আর কিছু প্রকল্প আগামী কালই শুরু হওয়া দরকার। কিছু প্রকল্প হওয়া উচিত কি উচিত না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে । এই মাষ্টার প্লানে জল বায়ুপরিবর্তন ও বিশ্ব তাপ বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে কোন কিছুই বলা হয় নাই ।
আমাদের দেশে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পক্রিয়া সম্পর্কে সবারই জানা আছে। প্রকল্প প্রণীত হলেই চলেনা তা একনেকে পাশ হতে হয় একনেক নিয়ে যেতে হয় ,তারপর তদবির করতে হয়।অর্থ বরাদ্দের জন্য কর্তাব্যক্তিদের পেছন পেছন ঘুরতে হয়। দেশপ্রেমিক সদিচছা স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। তারপর সাগরের মাঝে বিন্দু বিন্দু জলের মত টাকা আসে তখন সাগরের জল অনেক গড়িয়ে যায় । বিষেশতঃ হাওর অঞ্চল এটা একটা স্পর্শকাতর এরিয়া যা কিনা বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব উষ্নায়ন,গ্রীন হাউস এফেক্ট এর মত মহাজাগতিক ঘটনার প্রভাব বলয়ের মাঝে আছে, প্রতিনিয়ত অতিকায় পলি ভরাটের চাপে হাওর এলাকার চেহারা দ্রুত বদলে যাচেছ সেখানে কিছু করতে হলে তা দ্রুততার সাথে, দক্ষতার সাথে এবং মাথা খাটিয়ে করতে হবে। টিপাই মুখ বাধ দিলে তো বিপদের শেষ নাই তারপরও প্রতি নিয়ত পলি ভরাট, অকাল বন্যা আমাদের হাওর প্রকৃতি প্রতিনিয়ত বদলে দিচেছ। সুরমা কুশিয়ারার সংগম স্থল ভরাট হয়ে হাওর এলাকার জলরাশি বংগোপসাগরে নিসৃত না হতে পেরে হাওর এলাকায় জলাবদ্দতা দিন দিন বাড়ছে ।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য হুড়াহুড়ি তাড়াতাড়ি চলছে, ভুলত্রুটির মধ্য দিয়ে হয়তো একদিন বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কারণ এই সমস্যার জাতীয় প্রয়োজনীয়তা প্রকট। কিন্তু অমাদের হাওর এলাকার ১কোটি ৯৩ লক্ষ মানুষের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে আগামী ২০ বছরের মধ্যেই। ৫০ বছরে অতিথের সেই কালিদহ সাগর টেকেরঘাটের সীমানায় মেগালয় পাহড় ছুবে কি না কে জানে। অথবা অন্যরখম জনপদ গড়ে উঠবে? এই সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে আমাদের সুধীজন, জনগন ও কর্তা ব্যক্তিদের কাছে হাওর এলাকা রক্ষার “জাতীয় প্রয়োজনীয়তা প্রকট” হচেছ না কেন?
হাওর এলাকার জন্য প্রণীত জাতীয় মাষ্টারপ্ল্যান নিয়ে অনেক আলোচনা হওয়া উচিত। হাওর এলাকা বিশেষতঃ সুনামগঞ্জের জন্য মাষ্টার প্যাøনের কৌশল গত অংশটুকু সুনির্দিষ্ট করা উচিত । এজন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা পর্য্যায়ে আরো অনুশীলন দরকার। ২০টি প্রকল্প ধারণা হাওর এলাকার জন্য এখনই প্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। একনেকে পাশ করানো প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ এর জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। সবাই কেই এৗক্যবদ্ধভাবে এজন্য লড়তে হবে ।
এখন হাওর অঞ্চলের জন্য জরুরী প্রয়োজন হাওর অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ রক্ষা করা। মাছ প্রায় নিঃশ্বষেতি হওয়ার পথে। মাছরে সারভাইবলেরে তনিটি সমস্যা হলো ১) মাছরে মাইগ্রটেরী রোড ২) স্পাউনংি গ্রাউনহড ৩) মাদার ফশিরে নরিাপদ আশ্রম । এই তনিটি বিষয়ই মাছের জন্য দুষ্প্রাপ্য। বভিন্নি কারনে হাওর অঞ্চলে ফসি ইকোলজি বনিষ্ট হয়েেছ । এটার আংশকি উদ্ধার হলে এখনো টেিক থাকা ১৪০ প্রজাতরি মাছ ঠিকে যাবে। আসলে এই দৃষ্টেিকান থেেক মাষ্টার প্ল্যানে কোন প্রকল্প আছে বলে মনে হয়নি ।
উপরোন্তু মৎস্য সম্পদ ও ইকোলজী রক্ষায় বাড়তি সমস্যা তৈরি করেেছ টাংগুয়ার হাওর রমসার প্রকল্প। অন্ধজনরে পথ হাতরানোর মত আইইউসিএন এর পরীক্ষামূলক অংশীদারী প্রকল্পরে গাদা গাদা বই পড়ে বদিগ্ধজনরো হতবহিবল। পরবিশেরে দোহাই দেিয় উন্নত বিশ্বির অজানা টারমনিলজরি আড়ালে কি হচ্ছে তা কউে জানেন । রামসার প্রকল্প এখন ফাইলেই মরেেেছ। সাসটনেবেল মনেজেমন্টে অব টাংগুয়ার হাওড়, সম্প্রদায় ভত্তিকি ব্যবস্থাপনা তারপর সমাজভত্তিকি ভত্তিকি ব্যবস্থাপনা। সব গুলইি ফাইলেই মরছে। এখন টাংগুয়ার হাওড় মাছ গাছ পাখী শূন্য। আমার হিসেবে এই শূন্য করার এক্সপিরিমিন্টে সরকার এনজওি এবং দাতা সংস্থার ২০০ কোটি টাকার উপর টাকা খরচ হয়েেছ ১৯ বছরে ৷টাংগুয়ার হাওড়ে এখন কি চলছে ? ফল হচ্ছে মাছরে উৎপাদন কমে যাচ্ছে আরো বিপন্ন হয়ে পড়েেছ মৎস্য ইকোলজী ।
আর এত কাব্য চাই না ,দুমুঠো খেেয় পড়ে বাচতে চাই পদ্মা সতেু হচ্ছে , মেট্রে রেল হচছে হাওড় বাচাতে নদী খনন চাই অকাল বন্যার র্দুদান্ত নির্দয় অত্যাচার থেেক বাচতে চাই। স্বল্প মেয়াদী ও র্দীঘ মেয়াদী দুটি সমাধানই জরুরী ভিত্তিতে করা প্রয়োজন ৷
জরুরী দাবী ঃ-
১) ডুবন্ত বাঁধ তত্ত্ব পরত্যিাগ চাই
২) অবিলম্বে নদী খনন চাই
৩) সুনামগঞ্জ জেলার নদী খননরে জন্য জুন বাজটেইে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চাই।

লেখক: সাবেক এমপি, সুনামগঞ্জ-১

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1089 বার

 
 
 
 
জুন ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« মে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com