আজকে

  • ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৩শে জুন, ২০১৮ ইং
  • ৮ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

শিল্পী কারাগারে, কলংকের ঢোল বাজছে

Pub: শুক্রবার, জুন ৮, ২০১৮ ৫:২১ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, জুন ৮, ২০১৮ ৫:২১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

আনোয়ার বারী পিন্টু

সংগীত মানুষের প্রাণকে প্রাঞ্জল করে তোলে। শিল্পী সত্তা বা সৃজনশীলতা মানুষকে ক্রমশ শুদ্ধ বানায়। দুই একজন অপরিপক্ক মানুষের কারনে শিল্প প্রণালীটা সুকুমার বৃত্তি থেকে ছিটকে পড়েছে এটা আমি বিশ্বাস করতে চাই না। প্রচলিত আছে, সংস্কৃতির সান্নিধ্যে আসতে মরিয়া থাকে অপরাধ জগতের সম্রাটরা । তারা কাড়ি কাড়ি অর্থ ব্যয় করে শিল্পীর ছোঁয়ায় নিজের বিপন্ন মনকে ভুলে থাকতে। কিন্তু শিল্পীরাই যখন কারাগার আর মামলা খেলায় নিমজ্জিত হয়। তখন আমরা বিস্মিত হয়। আসিফ আকবর কারাগারে যাওয়ার ঘটনাটি আমাদের অবাক করেছে। সেই ২০০১ সালে বাংলা গানে ধ্রুবতারার মতো জ¦লে উঠেছিলো আসিফ আকবর। প্রথম এ্যালবামেই ৬০ লাখ বিক্রি দেশের অডিও ইন্ড্রাষ্ট্রির ইতিহাসে ছিলো মাইলফলক। তারপর একের পর এক গান উপহার দিয়ে তিনি বাংলা গানকে করেছেন সমৃদ্ধ। জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত শিল্পী আসিফ আকবর আজ ৫৭ ধারার মামলায় কারাগারে। নিজের সতীর্থদের করা মামলায় বাংলাগানের যুবরাজ আজ বন্দি। কিন্তু কথা হলো, কেন তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা?

আসিফ আকবর কতটা অপরাধী আইনী বিধিতে তার বিশ্লেষন করবে মাননীয় আদালত। কিন্তু একজন শিল্পীর প্রতি ভালোলাগা আর ভালোবাসার প্রশ্নে আমার জিজ্ঞাসা, সত্যিই যদি আসিফ আকবর অন্যের স্বাক্ষর জালিয়াতি করেন কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের গান বেঁচে দেন, তবে অনেক আগেই তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা হওয়ার কথা। মূলত অর্থ আদায়ে মামলা হওয়ার কথা! কিন্তু তা না করে মামলা হলো ফেইসবুকে কথা বলার অপরাধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বহুল আলোচিত ৫৭ ধারায়? এর জবাব কি?

শফিক তুহিনকে বলছি, আপনার গান লেখার উচ্চতা ধারনা করে নিয়েই বলছি, আসিফ তার ভরাট কন্ঠে তুলে নেওয়ার সূত্র ধরে আপনার নাম গতি পায়, প্রদীপের আলোয় উঠে আসে, তাতে আপনারও খ্যাতি বাড়ে। কি এমন হলো আপনার গানের প্রাণ একদম আসিফকেই বড় আয়োজন করে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ করতে হবে? আপনার দায়ের করা এই মামলায় আমরা বিব্রত হই, শিল্পী সমাজ কলংকিত হয়।

দুর্ভাগ্য এই প্রজন্মের। রাষ্ট্র ও নাগরিক যখন বিপন্নবোধ করে তখন আগেকার মতো কবি সাহিত্যিকের প্রতিবাদরূপ এখন আর দেখা যায় না। অতিতের মতো, কবি, সাহিত্যিকরা তাদের ছন্দে,কবিতায়, গানের নৃত্যে, উচ্চকিত শব্দে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে মনের জ্বালা মিটাতে এখন আর মরিয়া নয়। সেই সময়কার প্রকৃতি আর মা সমতুল্য দেশের এমনই বিকৃতি রূপ দেখে কবি গুরু রবি›ন্দ্র হুংকার দিয়ে লিখেছেন, ‘সময় যেন ইতর হয়ে উঠেছে’। প্রকৃতির এমন ইতর রূপ সেই সময়কার কবিরা সহ্য করতে পারেনি। কিন্তু এখনকার সর্বাধিক রবি, নজরুল, সুকান্তরা সম্ভবত ঘুম কাতর চোখে অভিজাত এলাকার বাড়ির ছাদে বসে অচিন এক নেশায় জোনাকহীন জ্যোৎন্সার ছবি আঁকছে।

মনে রাখা প্রয়োজন, আমাদের শিল্পবোধের জায়গাটি এখনো সম্প্রসারতি নয়। এই ক্ষানিক জায়গাটি হিংসা আর ঈর্ষায় ভরে যাবে আমরা তো কল্পনাও করি না। তবুও অস্বস্থিবোধ করছি, সংগীত জগতে আজ ৫৭ ধারাকে বীরদর্পে প্রবেশ করানো দেখে। মনে রাখা প্রয়োজন, হাতের কাঁকন ভাঙ্গা শুধু সৌন্দর্যহানীই নয়, এটি কালো ছায়াও বটে। বিপর্যয়ের কালো রেখায় ভবিষ্যত এগিয়ে যেতে পারে আঁধারের আরো কিছু পথ। সময়ের ব্যবধানে আক্রান্ত হতে পারে আরো বহু মানুষ। অতএব এখনই সাবধান। শিল্পীর এই জেল আমাদের, পীড়া দেয়, কলংক দেয়। সংগীতে কলংকের ঢোল বাজছে। প্রত্যাশা আসিফ আকবর মুক্তি পাক। লেখক- সাংবাদিক ও সাধারণ সস্পাদক বাংলা সাংস্কৃতির জোট।anwarbaripintu@gmail.com

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1116 বার

 
 
 
 
জুন ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« মে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com