আজকে

  • ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২০শে জুলাই, ২০১৮ ইং
  • ৭ই জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

আজ ২৩ শে জুন, বাংলার পরাধীনতার এক কালো অধ্যায়

Pub: শনিবার, জুন ২৩, ২০১৮ ৮:০২ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, জুন ২৩, ২০১৮ ৮:০২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

আজ ২৩ জুন। ১৭৫৭ সালের এই দিনের কথা কি আমরা মনে রাখি! সেদিন হারিয়েছিলাম স্বাধীনতা। কেন সাধীনতা হারাতে হয়েছিল একটি জাতিকে? স্বাধীনতা হারানোর জন্য দায়ী ছিলেন কারা! দায়ী, গুটি কয়েক লোভী, মুনাফেক, বিশ্বাসঘাতক। তারা ছিলেন তৎকালীন নবাবী আমলের সরকারি চাকুরে। গুরুত্বপূর্ণ পদের কয়েকজন ব্যক্তির লোভ লালসা, মুনাফেকি ও বিশ্বাসঘাতকতা একটি জাতিকে ঠেলে দিয়েছিল বৃটিশদের পরাধীনতায়। স্বাধীনতার সূর্য ডুবেছিল পলাশিতে। পতন হয়েছিল বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলার। পরবর্তিতে ইংরেজদের লেখা ইতিহাসে সিরাজুদ্দৌলার চরিত্র হননেরও অপচেষ্টা কম হয়নি। তারপরও মানুষের মনে সিরাজুদ্দৌলাকে জায়গা দিয়েছে স্বাধীনতা রক্ষায় সংগ্রামী একজন মহানায়ক হিসাবে।

রবার্ট ক্লাইভ যিনি ১৭৫৭ সালের এই দিনে পলাশীতে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাঁর নিজের ভাষায় বলা হয়, সেদিন নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে আটক করে নিয়ে আসার সময় রাস্তার দুইধারে দাড়িয়ে হাজার হাজার জনতা দেখছিলেন তাদের নবাবকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাদের কেউ আফসোস করেছেন শুধু। কিন্তু প্রতিবাদ করে প্রতিরোধে এগিয়ে আসেনি কেউ। প্রতিরোধ স্পৃহা নিয়ে তারা সবাই যদি একটি করে ঢিল ছুড়তেন, তাইলে অল্প কয়েকজন ইংরেজ সৈন্য প্রাণ নিয়ে ফিরে আসা দায় ছিল। অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চাইছেন জনপ্রতিরোধ বলতে যা বোঝায় সেটা কিছুই ছিল না! মানুষের চেতনায় ছিল না তাদের স্বাধীনতা হারিয়ে যাচ্ছে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য।

কথায় গল্পে আরো শোনা যায়, কৃষকরা তাদের স্বাভাব সুলব মনের আনন্দে গান গাইছিল ক্ষেতে খামারে। তাদেরকে পলাশির যুদ্ধের কথা জিজ্ঞাসা করা হলে, তখন বলা হত রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়েছে আমাদের কি?! যুদ্ধটা রাজায় রাজায়ই হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতা গেছিল পুরো জাতির। সেটা বুঝতেও সময় লেগেছে অনেক। স্বাধীনতা সম্পর্কে অচেতন জাতিকে জাগিয়ে তুলতে অনেক খাটখড় পুড়াতে হয়েছিল তখনো। জাতিকে জাগিয়ে স্বাধীনতা ফিরে পেতে সময় লেগেছিল প্রায় ২০০ বছর। ১৭৫৭ সালের ২৩ থেকে ১৯৪৫ সালের ১৪ আগষ্ট। ২৫ বছর পর আমরা আবার স্বাধীন হয়েছি ১৯৭১ সালে।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারীর কথা নিশ্চয়ই ষ্মরনে আছে সবার। এদিনে আবারো ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদের পরাধীনতায় জাতিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। গুটি কয়েকজন বিশ্বাসঘাতক, মুনাফেক লোভী সরকারি চাকুরেই মীর জাফর আর ঘষেটি বেগমের ভুমিকায় নেমেছিলেন। তাদের সহযোগিতায় ছিলেন বিশ্বাসঘাতক রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ইংরেজ বেনিয়াদের অফিসিয়াল এজেন্টরা। তবে ইংরেজদের মত ইন্ডিয়ানরা নিজে এসে ঝেকে বসেনি। এদেশেরই বেনিয়া, মুনাফেক, বিশ্বাসঘাতকদের জাতির মাথায় বসিয়েছে ভাড়াটে দালাল হিসাবে। ইন্ডিয়ানদের পদতলে হারানো সার্বভৌমত্ব ফিরে পেতে কত সময় লাগবে তা ভবিষ্যতে বোঝা যাবে। সাধারণ কৃষক মজুরেরা যারা দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি তারা কিন্তু এখনো বলেন দুই দলের রাজনীতির লড়াই। আমাদের করার কি আছে! যেমনটা সিরাজের পতনের পর তারা বলতেন রাজায় রাজয় যুদ্ধ হচ্ছে। আমাদের কি!

সচেতন মানুষ যাদেরকে মনে করেছিলেন স্বাধীনতা রক্ষায় নেতৃত্ব দেবেন, তারাও যখন ইন্ডিয়ার পদতলে নিজেকে সমর্পন করে সাহাজ্যের আবেদন জানাচ্ছেন তখন বুঝতে আর বাকী থাকার কথা নয়, এই পরোক্ষ ভাবে পরাধীনতাকে তারাও কবুল করেছেন।

ইংরেজদের ২০০ বছর রাজত্ব এবং শাসন শোষন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছিল এদেশেরই দালাল ফড়িয়ারা। ইন্ডিয়ানদের আধিপত্যবাদকে ঝেকে বসিয়ে শোষণ ও পরোক্ষ শাসন চালাতে এদেশের ফরিয়া দালল রাজনীতিক, ব্যবসায়ী এবং ভাড়াটিয়া বুদ্ধিজীবীরা সর্বাত্মক সহযোগিতায় নেমেছে। কবে প্রতিরোধ শুরু হবে সেটাই এখন অপেক্ষার পালা।
সিনিয়র সাংবাদিক ওলীউল্লাহ নোমানের ফেইসবুক থেকে

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1097 বার

 
 
 
 
জুন ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« মে   জুলাই »
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com