খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কি মরার পরে হবে?

Pub: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ ৩:০৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ ৩:০৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

হারুনুর রশিদ আরজু
ছাত্র জীবনে শিক্ষকের নিকট ছুটির দরখাস্ত লিখতে গিয়ে দরখাস্তের শেষে লিখতে হতো আপনার একান্ত ‘বাধ্যগত ছাত্র’…..। এমন বাধ্যগত ছাত্রের মতো বর্তমানে দেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি আচরণ করছে। তারা সরকারের নিকট একান্ত বাধ্যগত ছাত্রের মতো দিন কাটাচ্ছে। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও গত ৫ বছর দলকে সরকারের ‘একান্ত বাধ্যগত ছাত্র’ হিসেবে চালিয়ে গেছেন। তিনি নিজেও চলেছেন বাধ্যগত ছাত্রের মতো। বাধ্যগত ছাত্রের মতো আচরণ তা যদি বিরোধী দলের মধ্যে দেখা যায় সে দেশের সরকারের চাইতে সুখী সরকার আর কোথায় পাওয়া যেতে পারে! বাংলাদেশ জন্মের ৪০ বছরেও এমন বাধ্যগত বিরোধী দল কেউ দেখেনি। যারা একদিনের জন্যও ‘হরতাল’ দিতে দেখা যায়নি। এমন অবিশ্বাস্য ঘটনার রেকর্ড় সৃষ্টি করলেন বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি যার চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, যিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। যেদেশে একটা জেলা পর্যায়ের নেতা গ্রেফতার হলে হরতাল-ভাংচুর হয়, স্থানীয় নির্বাচনে হেরে গেলে, বাজেট গণবিরোধী বলে হরতাল হয়, দলের শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হলে কেয়ামত হয়, সেই বাংলাদেশে গত ৫ বছরে কত অগণিত ঘটনা ঘটে গেছে কিন্তু একদিনের জন্যও হরতাল হয়নি। এটা কি কেউ ভেবে দেখেছেন? কেনো রাজনীতিতে এমন পরিবর্তন? গত ৫ বছরে বেগম খালেদা জিয়া দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি উপহার দিয়েছেন। আর এই সংস্কৃতির নাম ‘একান্ত বাধ্যগত ছাত্র’। ফলে দেশে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো হরতাল-অবরোধ-ভাংচুর-জ্বালাও-পোড়াও-সন্ত্রাস-দখল ইত্যাদি গত ৫বছরে একদিনের জন্যও হয়নি। যা দেশ থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যদি এই সংস্কৃতি ধ্বংসের জন্য কাউকে দায়ী করা যায় বা হয় তিনি বেগম খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মতো একটি দেশের জনগণের দীর্ঘ ৪০ বছরের অভ্যাস কী করে বদলাতে সক্ষম হয়েছেন তা রীতিমত চিন্তা গবেষণার বিষয়। আসলে আদৌ কি বাংলাদেশের মানুষের বদঅভ্যাস পরিবর্তন হয়েছে? যেটাতে মানুষ স্বাভাবিকভাবে আসক্ত সেটা হঠাৎ কী করে ছেড়ে দিতে পারে? এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। খালেদা জিয়া ভেবেছেন তিনি এদেশ থেকে প্রতিবাদের পুরাতন সংস্কৃতি দূর করে দেশের মানুষকে পশ্চিমাদের মতো সভ্য সংস্কৃতির রাজনীতি শিখাবেন। খালেদার জিয়ার এই চিন্তা যে ভুল সেটা তিনি বুঝবেন যখন তিনি ক্ষমতায় যাবেন। তখন তিনি দেখবেন দেশের বিরোধীদলগুলি হরতাল-অবরোধ-ভাংচুর-জ্বালাও-পোড়াও-সন্ত্রাস-দখলের রাজনীতি থেকে একচুলও সরে যায়নি। এদেশের বিরোধীদলগুলি কোনো কালেও হরতাল-অবরোধ-ভাংচুর-জ্বালাও-পোড়াও-সন্ত্রাস-দখল ছাড়বে না। তাই খালেদা জিয়ার রাজনীতির এই ‘বাধ্যগত ছাত্র তত্ত্ব’ দেখে অনেকে হাসে বিশেষত সরকারী দল। এভাবে চুপচাপ শ্বশুরবাড়ির জামাইয়ের মতো লাজুক প্রকৃতির রাজনীতি খালেদা জিয়াকে শেষ পর্যন্ত জেলখানায় নিয়ে যায়। দেশের বৃহৎ দলের চেয়ারপার্সন জেলখানায় যাওয়ার পরও কোথাও আধাবেলা হরতাল হয়নি। বাংলাদেশের রাজনীতির সংস্কৃতিতে যে কী পরিমান সংস্কার বা উন্নতি বা অবনতি হয়েছে এটা অতীতে যারা এদেশের রাজনীতি দেখেছেন তারাই বলতে পারবেন। এমন একটি পরিবর্তন আনার জন্য খালেদা জিয়া হয়তো নোবেল পুরষ্কার আশা করে বসে আছেন। কিন্তু নোবেল কমিটি কি বাংলাদেশে বিরোধীদলের রাজনীতিতে ‘বাধ্যগত ছাত্র তত্ত্ব -এর প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে খালেদা জিয়াকে নোবেল পুরষ্কার দিতে মনোনীত করবে?
খালেদা জিয়া এই ‘বাধ্যগত ছাত্র তত্ত্ব’ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজের অনেক কিছু বিসর্জন দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার এই আত্মত্যাগ জনগণ কোনোদিন মূল্যায়ন করবে না। যার নগদ উদাহরণ হচ্ছে বিএনপি খালেদা জিয়াকে জীবিত অবস্থায়ই ভুলে গেছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ই ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে আদালত পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেন। গত ৫ মাস তিনি কারাগারে অথচ তার দলের মধ্যে তেমন কোনো শোক-দুঃখের ছাপ নেই। এমনকি তিনি ভয়াবহ রকম অসুস্থ্য এটা জানার পরও দলের মধ্যে কোনো উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা যাচ্ছে না। দলের নেতারা স্বাভাবিক নিয়মে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আনন্দের সাথে অংশ গ্রহণ করছেন। প্রতিবার হেরে যাচ্ছেন। খুলনা সিটিতে হেরেও শিক্ষা হয়নি, গাজীপুরও নির্বাচনে অংশ নেয়। সেখানেও ভরাডুবি হয়। তারপরও বরিশাল রাজশাহী সিলেট সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়। বড়ই আফসোস! এটা কেমন একটা নির্লজ্জ রাজনৈতিক দল? তারা কিভাবে জেনে বুঝে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে তথাকথিত নির্বাচনে প্রতিবার অংশ গ্রহণ করছেন? এটা যে মেধাশূণ্য নেতাদের দখলে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দলের প্রধান কারাগারে অসুস্থ্য অবস্থায় দিন যাপন করছেন, আর কেমন করে তারা আনন্দে মেতে থাকেন তা বিবেকবান কেউ ভাবতেও পারেন না। এখন পর্যন্ত বিএনপি জাতীয় নির্বাচন নিয়েই সংলাপ আশা করে বসে আছে।
এর চাইতেও কষ্টের বিষয় হচ্ছে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার ২মাস পর থেকেই শুনছি তিনি অসুস্থ্য। তিনি এতোটাই অসুস্থ্য যে মামলায় হাজিরা দিতে পর্যন্ত যেতে পারেন না। খালেদা জিয়ার জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন জেনেও বিএনপি কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না। সরকার বলছে-খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) কিংবা সিএমএইচ-এ হতে পারে। কিন্তু বিএনপি বলছে- না বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ‘বেসরকারী ইউনাইটেড হাসপাতালে’ করতে হবে, যা নেত্রীর পছন্দ। তিনি বিএসএমএমইউ হাসপাতালকে নাকি অত্যন্ত ‘নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন’ মন্তব্য করেছেন। তাই তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
বেগম খালেদা জিয়াকে যারা চিনেন জানেন তারা কিছুতেই এই হিসাব মিলাতে পারছেন না যে, দীর্ঘ ৫ বছর যিসি এতো এতো নির্মমতার শিকার হয়েও ‘বাধ্যগত ছাত্র তত্ত্ব’ মানতে গিয়ে কখনো সরকারের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাননি, নির্জন কারাগারে গিয়ে কষ্ট সহ্য করছেন । সেই তিনি আজ নিজ পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য শক্ত অবস্থানে আছেন এটা কিভাবে বিশ্বাস করা যায়? বেগম খালেদা জিয়ার রুচি ও জীবনযাত্রায় আভিজাত্য আছে এটা সত্য, তবে তিনি রাষ্ট্রের আইন-শৃংখলা মানার ব্যাপারে কখনো ব্যক্তিগত পছন্দকে অগ্রাধিকার দেন না। এতোদিন জনগণ দেখেছেন খালেদা জিয়া সরকারের সব পছন্দকে নিজের পছন্দ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কখনো কোনো কিছুতে নাক ছিটকাননি। তিনি কখনো বলেননি আমি আদালতে হাজিরা দিতে যাবো না। তিনি কখনো বলেননি মামলায় শাস্তি হলে আমি জেলে যাবো না। তিনি কখনো বলেননি নির্জন বাড়িতে আমি মাত্র একজন কয়েদি থাকবো না। হাসপাতাল কোনটাতে চিকিৎসা হবে এটা ঠিক করতে কিংবা দাবী আদায় করতে যদি ৪মাস পার হয়ে যায় তাহলে প্রশ্ন জাগে আদৌ খালেদা জিয়া অসুস্থ্য হয়েছেন কিনা? কারণ একজন অসুস্থ্য ব্যক্তির নিকট জীবন বাঁচানো যেখানে ফরজ, সেখানে হাসপাতালের রূপ বিবেচনা করা তার চিন্তায় থাকার কথা নয়। তাহলে খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে এমন রসিকতা করছেন কে, বিএনপি না সরকার?
এ অবস্থায় পুরোনো একটি নাটকের কথা মনে পড়ছে। প্রায় শত বছর আগে সুকুমার রায় রচিত নাটকটির নাম ‘অবাক জলপান’। যেখানে একজন ক্লান্ত পথিক একগ্রাস জল পান করার জন্য কতজনের কাছে গেলেন সবাই জল বিষয়ক বড় বড় লেকচার দিয়েছেন কিন্তু একগ্লাস জল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেন না। পাঠকদের স্মরণ করার জন্য পথিকের ‘জল’ পানের কেমন বিড়ম্বনা হয়েছিলো সংক্ষেপে সেটি তুলে ধরছি। গল্পটার সাথে আজকের খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যে তামাশা চলছে তার অনেক মিল পাওয়া যায়।
এক পথিক প্রচন্ড গরমে হাঁটছিলেন। হাঁটতে হাঁটতে তিনি ক্লান্ত পরিশ্রান্ত এবং প্রচন্ড তৃষ্ণার্ত। একটু জল না পেলে আর বাঁচা যায় না। তেষ্টায় মগজের ঘিলু শুকিয়ে উঠল। কিন্তু জল চাই কার কাছে? গেরস্তের বাড়ি দুপুর রোদে দরজা এঁটে সব ঘুম দিচ্ছে, ডাকলে সাড়া দেয় না। বেশি চেঁচাতে গেলে হয়তো লোকজন নিয়ে তেড়ে আসবে। দেখতে পেলেন এক ঝুড়িওয়ালা আসছে। ওকে দেখে জিজ্ঞেস করে- ‘মশাই, একটু ‘জল’ পাই কোথায় বলতে পারেন?’ এমন প্রশ্ন শুনে লোকটা বললো- ‘জলপাই’? ‘জলপাই’ এখন কোথায় পাবেন? এ তো জলপাইয়ের সময় নয়। কাঁচা আম নিতে চান দিতে পারি।’ পথিক-‘না না, আমি তা বলিনি।’ ঝুড়িওয়ালা- “না, কাঁচা আম আপনি বলেননি, কিন্তু জলপাই চাচ্ছিলেন কিনা!” পথিক- ‘না হে আমি ‘জলপাই’ চাচ্ছিনে, আপনি ভুল বুঝেছেন, আমি ‘জল’ চাচ্ছিলাম।’ ঝুড়িওয়ালা রেগে বলে-“জল চাচ্ছেন তো ‘জল’ বললেই হয়‒ ‘জলপাই’ বলবার দরকার কি? জল আর জলপাই কি এক হল? দেখছেন ঝুড়ি নিয়ে যাচ্ছি, তবে জলই বা চাচ্ছেন কেন? ঝুড়িতে করে কি কেউ জল নেয়? লোকের সঙ্গে কথা কইতে গেলে একটু বিবেচনা করে বলতে হয়।” পথিক- ‘ঘাট হয়েছে মশাই, আপনার সঙ্গে কথা বলাই আমার অন্যায় হয়েছে।’
পথিক এবার দেখছে এক বৃদ্ধ লোক আসছে, তার কাছে নিশ্চয়ই জলের সন্ধান পাওয়া যাবে! বৃদ্ধ বলে- ‘কে গো তুমি?’ পথিক- ‘আজ্ঞে আমি পূর্র্ব গাঁয়ের লোক, একটু জলের খোঁজ কচ্ছিলুম।’ বৃদ্ধ শুনে অবাক। “বল কিহে! পুর্ব গাঁ ছেড়ে এখেনে এয়েছ জলের খেঁাঁজ করতে? হা হা হা। তা যাই বল বাপু, অমন জল কিন্তু কোথাও পাবে না। খাসা জল, তোফা জল, চমৎকা-র-র জল।” পথিক -‘আজ্ঞে হা, সেই সকাল থেকে হাঁটতে হাঁটতে বেজায় তেষ্টা পেয়ে গেছে।’ বৃদ্ধ বলে-“তা তো পাবেই। ভালো জল যদি হয়, তা দেখলে তেষ্টা পায়, নাম করলে তেষ্টা পায়, ভাবতে গেলে তেষ্টা পায়। তেমন জল ত খাওনি কখনো! সে কি বলব তোমায়! কত জল খেলাম‒ কলের জল, নদীর জল, ঝরণার জল, পুকুরের জল। কিন্তু মামাবাড়ির কুয়োার যে জল, অমনটি আর কোথাও খেলাম না। ঠিক যেন চিনির পানা, ঠিক যেন কেওড়া-দেওয়া সরবৎ!” পথিক- ‘তা মশাই আপনার জল আপনি মাথায় করে রাখুন‒ আপাতত এখন এই তেষ্টার সময়, যা হয় একটু জল আমার গলায় পড়লেই চলবে।’ পথিকের এই ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হয়ে বৃদ্ধ বলে- “তাহলে বাপু তোমার গাঁয়ে বসে জল খেলেই তো পারতে? পাঁচ ক্রোশ পথ হেঁটে জল খেতে আসবার দরকার কি ছিল? আর অমন তাচ্ছিল্য করে বলবারই বা দরকার কি? আমাদের জল পছন্দ না হয়, খেও না- বাস্। গায়ে পড়ে নিন্দে করবার দরকার কি? আমি ওরকম ভালোবাসিনে।”

পথিক এবার একটা কম বয়সী ছোকরাকে দেখে জিজ্ঞেস করে- ‘মশাই, আমি অনেক দূর থেকে আসছি, এখানে একটু জল মিলবে না কোথাও?’ ছেলেটা বলে- “কি বলছেন? ‘জল’ মিলবে না? খুব মিলবে। একশোবার মিলবে! দাঁড়ান, এক্ষুনি মিলিয়ে দিচ্ছি‒ জল চল তল বল কল ফল ‒ মিলের অভাব কি? কাজল-সজল-উজ্জ্বল জ্বলজ্বল-চঞ্চল চল্ চল্ , আঁখিজল ছল্ছল্, নদীজল কল্কল্, হাসি শুনি খল্খল্ অ্যাঁকানল বাঁকানল, আগল ছাগল পাগল‒ কত চান?” এমন ছন্দের মিল করা শুনে তো পথিক বেহুশ! বলে, এ দেখি আরেক পাগল! ‘মশাই, আমি সে রকম মিলবার কথা বলিনি।’ ছেলে বলে, ‘তবে কি রকম মিল চাচ্ছেন বলুন? যেমনটি চাইবেন তেমনটি মিলিয়ে দেব।’ পথিক-‘মশাই! আর কিছু চাইনে, শুধু একটু জল খেতে চাই!’ ছেলে -“ও বুঝেছি। এ আর মিলবে না কেন?‒ শুধু একটু জল খেতে চাই ‒ভারি তেষ্টা প্রাণ আই-ঢাই। চাই কিন্তু কোথা গেলে পাই‒বল্ শীঘ্র বল্ নারে ভাই। কেমন? ঠিক মিলেছে তো?” পথিক প্রায় পাগল হওয়ার অবস্থা। এর হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য বলে- ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, খুব মিলেছে‒খাসা মিলেছে‒ নমস্কার।’
হতাশ হয়ে পথিক আর একটু এগিয়ে একটা বাড়ির ভিতরে যায় সেখানেও বিড়ম্বনা। পথিক যার কাছেই বলে এক গ্লাস জল খাওয়ার কথা কিছুতেই বোঝাতে পারে না। বাড়ির ভিতরে খোকা জোরে জোরে পড়ছে‒ ‘পৃথিবীর তিন ভাগ জল এক ভাগ স্থল। সমুদ্রের জল লবণাক্ত, অতি বিস্বাদ!’ পথিক খোকাকে কাছে ডাকলেন। খোকার বুড়া পন্ডিত মামা এসে বলে- ‘আপনার কি দরকার?’ পথিক বড় কাতর হয়ে বলে- ‘আজ্ঞে , জল তেষ্টায় বড় কষ্ট পাচ্ছি‒ তা একটু জলের খবর কেউ বলতে পারলে না। একটু খাবার জল যদি…” মামা উৎসাহী হয়ে বলে-“কেউ বলতে পারলে না? আসুন, বসুন। কী জানতে চান, বলুন দেখি? সব আমায় জিজ্ঞেস করুন, আমি বলে দিচ্ছি। প্রথমে জানা দরকার- জল কাকে বলে, জলের কী গুণ! জল হচ্ছে দুই ভাগ- হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন….” পথিক এই পন্ডিতের পাল্লায় পড়েও তৃষ্ণায় বুকের ছাতা ফেটে যায় কিন্তু জলের সন্ধান পায় না। খালেদা জিয়া আজ ভয়াবহ অসুস্থ্য- ব্রেন স্ট্রোক, হাত পা অবশ হওয়াসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। কিন্তু বিএনপির পন্ডিতরা হাসপাতাল বাচাই করতে গিয়ে ৪মাস শেষ করে দিয়েছেন। তাই জনমনে আজ প্রশ্ন, খালেদা জিয়ার ‘অবাক চিকিৎসা’ কবে কোথায় হবে? নাকি মরার পরে হবে?
লেখক ঃ কলামিস্ট, আবৃত্তিকার ও নজরুল গবেষক।
arzufeni86@gmail,

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1191 বার

আজকে

  • ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১৫ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com