যেদিন খালেদা জিয়া থাকবে না

Pub: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮ ১:৪১ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮ ১:৪১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

হারুনুর রশিদ আরজু :

গত ২৫শে এপ্রিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “আমার নেত্রী কারারুদ্ধ হলে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতাম, আঘাতে জর্জরিত হলেও তাকে ফিরিয়ে আনতাম। আর বিএনপি শুধু প্রেস ব্রিফিং করে। এভাবে মুক্তি সম্ভব নয়।” এটা কোনো চাপাবাজি নয় ববং এটাই প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মী বা নেতার কথা। কারণ দেখতে হবে কথাটা আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন। একথা সত্য যে আন্দোলনে আওয়ামী লীগ এর চাইতে শক্তিশালী দল বাংলাদেশে আর নেই। আওয়ামী লীগের নেতারা সব পরীক্ষীত। আন্দোলন সংগ্রামে আওয়ামী লীগ সেই পাকিস্তান আমল থেকে আজ পর্যন্ত কখনো অলসতার পরিচয় দেয়নি কিংবা কাপুরুষতা প্রদর্শন করেনি। এমনকি ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন আওয়ামী লীগ গঠিত হওয়ার পর গত ৬৯ বছরের পুরোনো এই দলের ইতিহাসে কোনো আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার রেকর্ড নেই। ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব ইস্যুতে যখনই আন্দোলনের ডাক এসেছে সফল না হয়ে ঘরে যায়নি। প্রশ্ন বা বিতর্ক থাকতে পারে আন্দোলনের পদ্ধতি বা যুক্তি নিয়ে কিংবা কৌশল নিয়ে। কিন্তু সফল না হয়ে কখনো পিছে আসেনি।

বিরোধী দলে যখন আওয়ামী লীগ থাকে তখন যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেনো তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। পাকিস্তান সরকারের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’। তিনি ইস্পাত কঠিন শক্তিশালী নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম দেন। এমন মহাবীরের হাতে যে দল এবং যে নেতা কর্মী তৈরী হয়েছে, তারা কোনো আন্দোলন সংগ্রামে লেজ গুটিয়ে থাকা শিখেনি। নিকট অতীতের কথাই উদাহরণ দেয়া যায়। পূর্ব ইতিহাস দেখলে জানা যাবে মাত্র দুই বছরের আন্দোলনে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মানতে খালেদা জিয়ার সরকারকে শেখ হাসিনা বাধ্য করেন। আওয়ামী লীগের আন্দোলনের এসব সাফল্যের খবর বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভালোভাবে জানে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের ইতিহাস চোখের সামনেই ভাসছে।

এই তত্ত্ববধায়ক পদ্ধতির সরকারের প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধী দল ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ১লা মার্চ সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন। এরপর আর সংসদে ফিরে যাননি। ৬ই ডিসেম্বর’৯৪ আওয়ামী লীগ, জামায়াত আলাদা সমাবশে থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারকে ২৭শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়। সরকার তার অবস্থানে অনড় থাকায় টানা ১০মাস সংসদ বর্জন করে শেষ পর্যন্ত ২৮শে ডিসেম্বর’৯৪ সদস্যপদ থেকে সকল বিরোধীদলের ১৪৭জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেন। নির্বাচন কমিশন ১৪২টি শূন্য আসনে ১৭ই সেপ্টেম্বের উপ-নির্বাচনের ঘোষণা দেয়৷ কিন্তু বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। তারা সরকাররে পদত্যাগ, সংসদ বাতিল ও তত্বাবধায়ক সরকাররে অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২রা সেপ্টেম্বর থেকে একটানা ৩২ঘণ্টা হরতাল পালন করে। ৬ই সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা আবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব অসাংবিধানিক ও অযৌক্তিক বলে বাতিল করে দেন। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোকে আলোচনার জন্য ডাকেন। কিন্তু বিরোধী দলগুলো আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর ১৬ই নভেম্বর’৯৫ থেকে একাধারে ৭ দিন হরতাল পালিত হয়। সরকার তৃতীয়বারের মতো ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। সব বিরোধী দল এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। এভাবে ১৯৯৪,১৯৯৫ এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত টানা তিন বছর আওয়ামী লীগ ,জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা সবাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে ৯৬ দিন হরতাল-অবরোধ-অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। জনগণের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গিয়ে ছিলো। আর তৎকালীন সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন,“পাগল আর শিশু ছাড়া নিরপেক্ষ পাওয়া যাবে না।’’ আওয়ামী লীগ হরতাল ভাংচুর জ্বালাও পোড়াও করে শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার খুব ভালোভাবে বুঝাতে পেরেছিলেন। ফলে ১৯৯৬ সলে ১৫ই ফেব্রুয়ারী ভোটারহীন অবৈধ নির্বাচন দিয়ে জাতীয় সংসদ গঠন করে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংবিধান সংশোধন করেন। স্থায়ীভাবে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভূক্ত করেন ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। ২৬শে মার্চ’৯৬ সরকার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। প্রধানমন্ত্রীর পরার্মশক্রমে ৩০শে মার্চ রাষ্ট্রপতি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয় এবং খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন। একেই বলে আন্দোলন। টানা তিন বছর আন্দোলন করে ফসল ঘরে তুলে নেয় আওয়ামী লীগ। এই প্রসঙ্গটি পুনরায় ব্যক্ত করার উদ্দেশ্য এইজন্য যে, আন্দোলন করা ছাড়া কেবল মানববন্ধন আর প্রেস ব্রিফিং করে তখন তত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা কায়েম হয়নি। অনেক রক্ত ঝরাতে হয়েছে। এজন্য কথিত আছে- “আওয়ামী লীগ যখন জেতে তখন সে একাই জেতে, কিন্তু যখন সে হারে, তখন সে একা হারে না; তার সঙ্গে বা বাইরের অনেককেও হারতে হয়!”

আজ আবার সেই একই আন্দোলন করতে হচ্ছে খালেদা জিয়াকে। কারণ সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত তত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা আদালত বাতিল করে দেয়। ১০ই মে’১১ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তত্ত্ববধায়ক সরকারের বিধান সম্বলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় ঘোষণা করে। এরপর থেকে বিএনপি আন্দোলন করে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু বিএনপি সরকারকে বাধ্য করাতে পারেনি তাই সরকার ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচন দিয়ে সরকার গঠন করে নেয়। খেলতামাশা করতে করতে আবার পাঁচটা বছর চলে যায়। দাবী আদায় হয়নি। পরবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র ৪মাস বাকী আছে। যদি ধরেও নিই ৪মাস বাকী তারপরও বিশ্বাস করা যায় না মাত্র কয়েক মাস আন্দোলন করে নির্বাচন কালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা আদায় করা যাবে। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতা বলে এতো কম সময়ে আন্দোলন সফল হয়েছে কোনো রেকর্ড নেই। এরমধ্যে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ মামলার রায়ে কারাগারে রয়েছেন। তার ছেলে তারেক রহমানও একই মামলায় দন্ড প্রাপ্ত আসামী। তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। তাই এটা ধরেই নেয়া যায় গত ৯বছর যাবত বিএনপি সময় পেয়েও যে আন্দোলন সফল করতে পারেনি, তা আগামী ৪মাসে পারবে তাও নেত্রী ছাড়া এটা কোনো পাগলেও বিশ্বাস করবে না।
আমাদের দেশে এখন যার যে দোষ সেটা বললে গালি শুনতে হয়। ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক প্রসংশা করতে হবে। বিএনপি একটা অলস রাজনৈতিক দল এটা যারা রাজনীতির সংজ্ঞা জানেন তারা বুঝেন। কিন্তু কেবল বিএনপি বুঝে না। বিএনপির নেতারা কর্মীদের কানে এই বাতাস দিয়ে রেখেছে যে- দেখ আমরা কোথাও দাঁড়াতে পারি না, মিছিল করতে পারি না, মানববন্ধন করতে পারি না পুলিশ আসে ধরে নিয়ে যায়। সময় আসবে, আমাদের সঠিক পরিবেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কর্মীরাও বিশ্বাস করে কথা তো ঠিক একটুও স্বস্তি দিচ্ছে না, আন্দোলনের সময় এখনও হয়নি। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার ৩ মাস পার হওয়ার পর থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাবেন বলে ঘোষণা দেন। অবশ্য এই বীরপুরুষ(?) গত ৫ বছর ধরে একই ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছেন। তার অবস্থা বুঝানোর জন্য একজন ঐতিহাসিক ভীরুর নাম মনে পড়লো, তিনি হলে ‘নিধিরাম সর্দার’। যার নামের আগে সবাই বিশেষণ যোগ করে বলেন “ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার।” অনেকেই ‘নিধিরাম সর্দার’ যথাযথ প্রয়োগ বুঝেন না। ‘ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার’ এর অর্থ কী তাও না বুঝে প্রয়োগ করেন। যদি কোনো মানুষ অকারণেই নিজের ক্ষমতার থেকে নিজের যোগ্যতা বেশি বলে মনে করে তবে তাকে ‘নিধিরাম সর্দার’ বলা হয়। ‘নিধিরাম’ বা অরিন্দম নামে বাস্তবেই একজন ব্যক্তি ছিলেন তিনি এক গ্রামে বাস করতেন। তিনি সব সময় গ্রামে হেঁটে হেঁটে নিজের শক্তি ও সাহসের প্রচার করে বেড়াতেন। গ্রামবাসী ভাবতে লাগলো হয়তো সত্যি সে সাহসী এবং শক্তিশালী। যাক, গ্রামে আর ডাকাতের ভয়ে থাকতে হবে না। যদি কখনো ডাকাত পড়ে তাহলে নিধিরাম তো আছেই। গ্রামবাসী নিধিরামের ভরসায় কিছুটা বেখেয়ালী হয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। একদিন সত্যিই সত্যিই গ্রামে ডাকাত পড়লো। একেবারে গ্রামের সব বাড়ি লুট করে নিয়ে গেলো। এমন কঠিন বিপদে কেউ নিধিরামের গলার শব্দও শুনতে পায়নি। সকালে গ্রামবাসী রেগে একত্রিত হয়ে নিধিরামকে ধরলো। কেনো তার মতো একজন বীর গ্রামে থাকতে এতোবড় ডাকাতি হয়ে গেলো? নিধিরামকে তারা প্রশ্ন করল, তোমার মতো একজন সর্দার থাকতে এ ঘটনা কীভাবে ঘটলো? নিধিরাম কিছুতেই লজ্জ্বিত হননি বরং গ্রামবাসীর উপর ক্ষেপে গিয়ে বললেন, “আমার কাছে কি কোনো ঢাল-তরোয়াল আছে নাকি যে আমি ডাকাত বধ করবো? যদি ঢাল-তরোয়াল থাকতো তবে দেখিয়ে দিতাম না এক হাত?” সেই থেকে আমরা পেলাম এমন একটি অসাধারণ উদাহরণ।
মির্জা সাহেব নিধিরামের মতো কেবল কথা বলেন। বিএনপি দলটি আজ নেতৃত্বশূণ্য। নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত নেতা তারেক রহমান লন্ডনে ফেরারী। শুধু তাই নয়, পাসপোর্র্ট সারেন্ডার করার কারণে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকই নয় বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিএনপি নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া ছাড়া আগামী নির্বাচন হবে না। মুখে তারা খালেদা জিয়ার জন্য চিৎকার দিলেও আন্দোলন করার মতো মনোবল তাদের নেই। এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো না। শরীরের বাম দিক অবশ হয়ে যাচ্ছে। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত মামলায় হাজিরা দিতে পারেন না। কারাগারের ভিতর তিনি কেমন আছেন তা আর বর্ণনা করার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ দিন দিন যে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে তা আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের-এর বক্তব্যেই প্রকাশ পায়। গত ১৯শে এপ্রিল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন,“ দেখুন বেগম জিয়ার বয়স হয়েছে, হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। হায়াত তো জন্মের সময় নির্ধারণ হয়ে যায়। এটা পবিত্র কোরআন শরিফেই লেখা আছে। আমি এই রুম থেকে ওই রুমে যাওয়ার আগেও মারা যেতে পারি। উনি (মির্জা ফখরুল) বামপন্থী রাজনীতি করেছেন, তাই আল্লাহ-খোদায় বিশ্বাস কম।” এ কথার জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব বলেছিলেন, “ওবায়দুল কাদের সাহেবের এই বক্তব্য ভয়ঙ্কর অশনি সংকেত।” এভাবেই চলছে খালেদা জিয়ার জন্য বিএনপি নেতার দায়িত্ব পালন।
বিএনপি একটি জনপ্রিয় দল। যখনই স্থানীয় কোনো নির্বাচন হয় বিএনপি জিতে যায় বিপুল ভোটে। জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপিই জিতবে। এই খুশীতে গদ গদ হয়ে বিএনপি নেতারা আজও ঘরে বসে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। কিন্তু ‘জনপ্রিয়তা’ কোনো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত না যে, দেশের মানুষ সারা জীবন কেবল বিএনপিকেই পছন্দ করবে। ইতিহাস পড়লে এমন বহু নজির পাওয়া যায়, জনপ্রিয়তার সর্বশীর্ষে অবস্থানকারীর জনপ্রিয়তা আবার সর্বনি¤েœ নেমে গেছে। মানুষ কাপুরুষকে পছন্দ করে না। দেশের মানুষ বিএনপি নেতাদের সাহসের প্রতি একটুও বিশ্বাস করতে পারছে না। বিএনপি নেতারা ভাবছেন প্রেসব্রিপিং করলে খালেদা জিয়াকে সরকার মুক্ত করে দিবেন। খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হয়ে এসে সরকারকে সংবিধান সংশোধনে বাধ্য করতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিবেন। এমন বালক সূলভ চিন্তা দেখে এখন দেশের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা হারাচ্ছে, যার ফলে জনপ্রিয়তা ধস নামতে পারে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার শেষ ভাষণে কিছু বক্তব্য দিয়েছিলেন এমন-“যেদিন আমি চলে যাব সেদিন হয়তোবা বড় বড় সভা হবে, কত প্রশংসা কত কবিতা বেরুবে হয়তো আমার নামে, দেশপ্রেমিক-ত্যাগী-বীর-বিদ্রোহী বিশেষণের পর বিশেষণ, টেবিল ভেঙ্গে ফেলবে থাপ্পড় মেরে, বক্তার পর বক্তা।” বিএনপি নেতাদের আচরণে মনে হচ্ছে তারা খালেদা জিয়ার কোনো দুঃসংবাদ শুনার অপেক্ষায় আছেন। তারা আন্দোলন করবেন তবে সেটা খালেদা জিয়া যেদিন থাকবে না সেদিন। যেদিন খালেদা জিয়া থাকবে না সেদিন বড় বড় সভা হবে মিছিল হবে। সেই মিছিলে সরকার কিছুতেই বাধা দিবে না। এটাও তাদের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা। ব্যাপারটা এমন-লোকাল বাসের তীব্র চাপাচাপির ভিতর এক ব্যক্তি ক্রমাগত বায়ু ত্যাগ করছিলেন। আর পাশের লোকটিও ক্রমাগত বলেই যাচ্ছেন-ভালো হচ্ছে না কিন্তু! এক পর্যায়ে বায়ু ত্যাগকারী লোকটি ক্ষেপে গিয়ে বললেন, ‘আমার দ্বারা এর থেকে ভালো দেয়া সম্ভব না’।

লেখক ঃ কলামিস্ট, আবৃত্তিকার ও নজরুল গবেষক।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1144 বার

আজকে

  • ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ৯ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com