ঘরের বউ ছাড়া সব ভারতীয়

Pub: শনিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ ১:২৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ ১:২৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হারুনুর রশিদ আরজু
ভারত বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ভারতের মত গণতন্ত্র বাংলাদেশে দেখা যায় না। আমরা ভারতের এতো কিছু অনুসরণ করি এতো সব জিনিসপত্র আমদানী করি কেবল ভারতের মত গণতন্ত্রকে মানি না আমদানী করি না অনুসরণ করি না। ভারত আমাদের নিকট প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ভারতীয় জিনিস ছাড়া আমাদের একদিনও কি চলে ? আমাদের বাঁচার জন্য দৈনন্দিন জীবনে যা কিছু প্রয়োজন তার সবই হচ্ছে ভারতীয়। আমাদের ঘরের মহিলাদের পরনের শাড়ি বা থ্রি-পিস তাও ভারতীয়। আমাদের দাঁত ব্রাশ করার টুথ পেস্টটি ভারতীয় কোলগেট বাজার দখল করে আছে। আমাদের স্ত্রীদের জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়িটা এবং পুরুষদের ব্যবহারের কনডমটাও ভারতীয়। পুরুষদের দাড়ি সেভ করার ব্লেড যা আমাদের দেশের বাজার দখর করে আছে তা ভারতীয়। আমাদের খাবার জিনিসের সিংহ ভাগই ভারতীয়। যেমন – চাল, ডাল, ডিম, পেয়াজ, চিনি, মধু, আম ইত্যাদি। আমাদের ঘরের আসবাবপত্রসমূহ ভারতের সেগুন কাঠের তেরী। ভারতীয় বাংলা বা হিন্দি ছবির সব দর্শক বাংলাদেশে। ভারতীয় হিন্দি ছবির গান ছাড়া বাংলাদেশের কোনো বাড়ির বিয়ে বা জন্মদিন অনুষ্ঠান কল্পনাও করা যায় না। আমাদের বিদ্যুতের সংকট দূর করার জন্য বিদ্যুৎ আমাদানী করা প্রয়োজন। আর এই বিদ্যুৎ আমদানী করা হবে ভারত থেকে। বর্তমানে সরকারি প্রাইমারী স্কুলের পাঠ্য বই আমদামী হয়েছে ভারত থেকে। এমনকি কোরবানীর গরুটিও ভারতীয়। হিন্দুর ঘরে লালন পালন করা গরু মুসলমানরা কোরবানী দিলে জায়েজ বা বৈধ হবে কিনা এই প্রশ্নটি কখনো কাউকে করতে শুনিনি। কেননা বাংলাদেশী আলেমদের কিছু অংশকে দেখা যায় হিন্দু দোকানের তৈরী করা মিষ্টি খাওয়া অপছন্দ করেন। হিন্দু হোটেলে ভাত খাওয়া অপছন্দ করেন। যাক এটা নিয়ে বেশী কথা বললে আলেমরা আমার উপর অসন্তুষ্ট হবেন।
ভারতীয় টিভি চ্যানেলের বদৌলতে আমাদের দেশের জাতীয় সংস্কৃতিতে বিরাট পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে বা গেছে। একটু খেয়াল করলেই সেটা সবার নজরে পড়বে। বাংলাদেশের বেশীর ভাগ টিভি চ্যানেল এখন টিভিতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান প্রচার করে না। দু’একটা টিভি কেবল মাগরিবের নামাজের আজান প্রচার করে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা যায় কেবল রমজান মাসে। তখন রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে প্রায় সব চ্যানেলই মাগরিবের আজান প্রচার করে। এরপর ইদানিং দেখা যায় বাংলাদেশে চ্যানেলগুলিতে অনুষ্ঠানের শুরুতে দর্শকদের উদ্দেশ্যে ‘আস্সালামুআলাইকুম’এবং অনুষ্ঠান শেষে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলা হয় না। অথচ এ দু‘টি শব্দ বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতি বলা যায়। আস্তে আস্তে এই শব্দের ব্যবহার তুলে দিয়ে সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতির শব্দ ব্যবহার হচ্ছে বা দখল হচ্ছে। এখন বেশীর ভাগ চ্যানেল ‘শুভ সকাল’ ‘শুভ রাত্রি’ ‘ভালো থাকুন’ ‘সবাইকে শুভেচ্ছা’ ‘হাই-হ্যালো’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে। বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলিতে ইদানিং সময়ে সংবাদ পাঠিকা কিংবা অনুষ্ঠান উপস্থাপিকাদের গায়ে ওড়না থাকে না। ওড়না দিলেও এক স্তনের ওপর সামান্য মশারীর কাপড়ের মানে একটা ওড়না দেয় আর এক স্তন উন্মুক্ত থাকে। এটা একটা বিশেষ স্টাইল। এভাবে শরীর দেখিয়ে দর্শকদের যৌন উত্তেজনা দেয়ার মধ্যে একটা আনন্দ পাওয়া যায় আবার নিজেকে বড় মাপের আধুনিকা হিসেবে প্রচার করা যায়। এদের মতলব এবং চরিত্র যে কোন মাপের তা সচেতন ভদ্র সমাজের দর্শকরা বুঝতে অসুবিধা হয় না। তবে টক শোতে অংশ গ্রহণকারী মেহমানরা এসব উপস্থাপিকাদের সামনে বসে থাকতে একটু বেশী অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়।
মুসলমানদের বিয়েতে গায়ে হলুদ দেয়ার বর্তমান আচার অনুষ্ঠান ভারতীয় টিভি সিরিয়াল দেখে শেখা। ভারত থেকে দেখে কোনো কিছু নকল করতেও আমরা পারদর্শী। যেমন- ভারতীয় যে কোনো বাংলা বা হিন্দি হিট ছবির নকল বানানোর কাজটা আমরা তাড়াতাড়ি করে থাকি। ভারত থেকে দেখে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে চালু হয়েছে সংগীত প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান। প্রথমে শুরু করেছিল একটা চ্যানেল এরপর শুরু করে দশটা চ্যানেল। কেউ তরুনদের কেউ শিশুদের কেউ রিকসা ওয়ালাদের গার্মেন্টস কর্মীদের কেউ নির্মান শ্রমিকদের নিয়ে সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। শুধু সংগীত প্রতিযোগিতা নয় বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুর্লি ইতোমধ্যে নৃত্য প্রতিযোগিতা, সুন্দরী প্রতিযোগিতা, সিনেমার নায়িকা বাচাই প্রতিযোগিতা ইত্যাদির চালু করেছে । ভারতের দেখা রিয়েলিটি শো ‘কোন্ বনেগা কোর পতি’- এর নকল করে একটা টিভি চ্যানেল চালু করে ‘কে হতে চায় কোটি পতি’ অনুষ্ঠান। আমাদের দেশীয় যদিও ১৫-২০টা টিভি চ্যানেল আছে কিন্তু নেহায়েত অবুঝ ছাড়া কেহই এসব চ্যানেলের অনুষ্ঠান দেখে না। মূলতঃ আমাদের দেশে বিনোদনের সব টিভি চ্যানেলই ভারতীয়। আমাদের দেশে বেশীর ভাগ দর্শকই বাংলা চ্যানেল বলতে ‘জি বাংলা’ ‘ইটিভি বাংলা’ ‘স্টার জলসা’ ‘আকাশ’ চ্যানেলের অনুষ্ঠানই দেখে। বাংলাদেশের প্রত্যেক ঘরে ঘরে দর্শকরা ভারতের টিভি সিরিয়ালের ভক্ত। হিন্দি চ্যানেল এর তালিকা বলে তো শেষ করাই যাবে না। এক কথায় আকাশ সংস্কৃতির শতকরা ৯০ভাগ চ্যানেলই হিন্দি তথা ভারতীয়। দুঃখজনক বা চরম সত্য হচ্ছে বাংলাদেশে ভারতের পুরো টিভি চ্যানেল চর দখলের মত বিস্তার করে থাকলেও বাংলাদেশের একটা টিভি চ্যানেলও ভারতে বা কলকাতায় দেখানো হয় না। এক কথায় বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল ভারতে নিষিদ্ধ। কত সরকার এলো গেলো দুই দেশের মধ্যে কত প্রকারের সাংস্কৃতিক চুক্তি হলো, কত বার যে ভারত সরকারের কাছে ভারতে বাংলাদেশী টিভি চ্যানেল চালু করার জন্য এ দেশের বুদ্ধিজীবি মন্ত্রীরা অনুরোধ করেছেন দাবী করেছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত ভারতের কোনো মন্ত্রী বা নেতা অন্তত ভদ্রতা করে হলেও বলেননি যে বিষয়টা চিন্তা করবো। যদিও ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র।
বাংলাদেশে চালু হয়েছে ইংরেজী নববর্ষ উদযাপনের বিশেষ কালচার। যাকে বলা হয় ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’ উদযাপন। এটি পালন করতে গিয়ে প্রতি বছর কক্সবাজার বীচে রাতভর সংগীত এবং উন্মাদ নৃত্যের ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকা শহরে বিভিন্ন হোটেলে চলে রাতভর মদ আর নারী নিয়ে আনন্দ ফুর্তি । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে চলে ব্যান্ডের তালে তালে নাচানাচি-লাফালাফি। মনে পড়ে ২০০০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর রাতের কথা। সেটা ছিলো পবিত্র রমজান মাস। সেদিন মধ্যরাতে বাঁধন নামের একটি সুন্দরী মেয়ে প্রায় উন্মুক্ত বক্ষে তার বান্ধবীর স্বামীর হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এসেছিল তরুনদের নাচাতে। বাঁধন গাড়ী থেকে নেমেই ছেলেদের উদ্দেশ্য করে বলেছে-‘আমি নাচতে এসেছি নাচাতে এসেছি, কে আছো আমাকে কাছে নাও’। তার আহ্বানে সেদিন রাসেল নামের এক যুবক নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি, বাঁধনের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। সেদিন অবস্থা এমন হয়েছিল যে বাঁধনের শরীরে এক ইঞ্চি পরিমাণও বস্ত্রের অস্তিত্ব ছিলো না। বাঁধনকে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করা হয়। বাঁধনের সকল অঙ্গে জোর পূর্বক অশালীন ইঙ্গিতবহ কার্যক্রম চালানো হয়। সেই ঘটনা থেকে কোনো নারী শিক্ষা নেয়নি। বাংলাদেশে তথাকথিত ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’ উদযাপন আজ জাতীয় কালচারে পরিণত হয়েছে। এটি ইউরোপ থেকে প্রথমে এসেছে ভারতে আর ভারত থেকে টিভি চ্যানেলের বদৌলতে এসেছে বাংলাদেশে । আমাদের দেশে আরোও একটা কাজ সংস্কৃতি হিসেবে চালু হয়েছে তা হলো- যে কোনো অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াতের পরিবর্তে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে রবীন্দ্র সংগীত ‘‘আনন্দ লোকে মঙ্গলালোকে সত্য সুন্দর’’ গানটি গেয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। বড়দের প্রতি ভক্তি বা শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে দুই হাত নতজানু হয়ে মাথা নীচু করে তা প্রকাশ করা হয়। ইদানিং আবার দেখা দিয়েছে মরা মানুষ নিয়ে আর একটা কালচার। মৃত মানুষটি যদি সাংস্কৃতিক জগতের কেউ হয় তাহলে তার জানাজা না পড়িয়ে সোজা নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ নাগরিক। প্রত্যেকে মৃতের পাশ দিয়ে হেঁটে যান এবং একটা ফুলের তোড়া লাশের ওপর রেখে যান। হিন্দু-মুসলমান যে কোনো ধর্মে বিশ্বাসী বা নাস্তিক সবাইকে এভাবে একটা শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। লাশটি যতক্ষণ শহীদ মিনারে অবস্থান করে ততক্ষণ বিশেষ গান বাজানো হয়। যদি লাশটি কোনো সংগীত শিল্পীর হয় তাহলে সেই শিল্পীর গান বাজিয়ে সবার আবেগ সৃষ্টির পরিবেশ করা হয়। আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশে হিন্দু নারীরাই কপালে লাল টিপ দিতে দেখা গেছে। ফলে কপালে লাল টিপ ওয়ালা কোনো নারীকে দেখলে তিনি যে হিন্দু এটা বুঝতে দেরী হয় না। কিন্তু ইদানিং কালে দেখা যাচ্ছে মুসলমান মেয়ে বা নারীরাও কপালে লাল টিপ ব্যবহার করছেন। ফলে কোনটা হিন্দু আর কোনটা মুসলমান নারী তা পার্থক্য করা যায় না। লালনের ভাষায়-সুন্নত দিলে হয় মুসলমান/ মাইয়া লোকের কী হয় বিধান। এটা যে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের প্রভাব তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশে ভারতীয় লেখক কবি সাহিত্যিকদের বই বাজারে সয়লাব। পাঠকদের নিকটও ভারতীয় লেখক খুব পছন্দের। বাংলাদেশের একমাত্র হুমায়ুন আহমেদ ছাড়া আর কোনো লেখককের বই তেমন কেউ পড়ে না। এদেশের পাঠকদের নিকট ভারতের বিভিন্ন চট্টপাধ্যায় গঙ্গোপাধ্যায় বন্ধোপাধ্যায় ইত্যাদি বাহারী নামের লেখকদের লেখা অধিক পছন্দের। এসব নাম দেখেই বইটা খুব মান সম্পন্ন বলে কিনে নেয়। ভারতীয় একজন লেখকের বই হাতে নিয়ে হাঁটলেও নিজেকে গর্বিত মনে করা হয়।
আমাদের বুদ্ধিজীবিরা বাংলাদেশে প্রচলিত সব ইসলামী সংস্কৃতি দূর করার জন্য আদাজল খেয়ে নেমেছেন। তাই ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ দোহাই দিয়ে ভারত থেকে ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতি নামে হিন্দু সংস্কৃতি আমদানী এবং চালু করেছেন। একবার মুর্শিদাবাদের নবাবের খেয়াল হলো, হিন্দুদের মত আমাকে নিয়ে মহাভারত রচিত হোক। যেমনি ভাবা তেমনি মহারাজ কৃঞ্চচন্দ্রের কাছে নির্দেশ পাঠালেন, আপনাদের অর্থাৎ হিন্দুদের অনুকরণে, তাকে নিয়ে একটি নতুন মহাভারত পন্ডিতদের দিয়ে লিখে দিতে হবে একমাসের মধ্যে। সেইরূপ পন্ডিত যেনো অতি শীঘ্র নবাব দরবারে পাঠায়। যিনি রচনা করবেন তাকে প্রচুর আসরাফি পুরস্কার দেওয়া হবে। নবাবের চিঠি পেয়ে মহারাজ এমন চিন্তায় পড়লেন, এমন কে পন্ডিত আছে যে হিন্দুদের মত করে মহাভারত লিখে দিতে সক্ষম হবে। গোপাল ছিলেন কয়েকদিন বাইরে। এসেই তিনি মহারাজ কৃঞ্চচন্দ্রের সাথে দেখা করেন। গোপালের কাছে অকপটে নবাবের সমস্ত খেয়ালের কথা খুলে বললেন । গোপাল বললো -এতো ভাবনা চিন্তা না করে আমার ওপর এ দায়িত্ব ছেড়ে দিন মহারাজ। মহারাজ গোপালের উপর বিশ্বাস করে নবাবের কাছে চিঠি ও গোপালকে পাঠিয়ে দিলেন। মহাপন্ডিত গোপালকে দেখে নবাব খুব খুশি হলেন। গোপাল একমাসের সময় নিয়ে মহাভারত লেখা আরম্ভ করে দিলো। নবাবের ঘন-ঘন তাগাদার পর আটাশ দিনের মাথায় নবাবের দরবারে হাজির হয়ে গোপাল বললেন- নবাব বাহাদুর মহাভারত লেখা প্রায় অন্তিম পর্যায়, খালি একটা বিষয়ে আটকে আছে, সেটা হচ্ছে আমাদের মহাভারতে দ্রৌপদীর পঞ্চস্বামী তথা যুধিষ্ঠীর,ভীম,অর্জুন,নকুল ও সহদেব নামে খ্যাত, তা উপস্থিত সকলেই জানেন। কিন্তু আপনার বেগম সাহেবার পঞ্চ-স্বামীর নাম কি কি এই টুকু ছাড়া আর সব লেখা শেষ হয়ে গেছে। এই নামগুলি বসিয়ে দিলেই আপনার মনের মত মহাভারত সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। নবাব বাহাদুর একথা শুনে তওবা তওবা করে কানে হাত দিয়ে বললেন, একি কথা বলছেন পন্ডিত মশায়! আমার বেগম সাহেবার কি কখনোও আমি ছাড়া আর কেনোও স্বামী থাকতে পারে ? দরবারে এতো লোকের সামনে এই কথা শুনে নবাব লজ্জায় একেবারে লাল হয়ে বললেন, আমার আর মহাভারতের দরকার নেই, আপনি এখন আসতে পারেন পন্ডিত মশায়।’’ কখনো বাংলাদেশের মানুষের জীনবযাত্রার পরিচয় লিখতে গেলে ভারতের মানুষের সাথে মৌলিক পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। কেননা আজ আমাদের অবস্থা বিবেচনায় মনে হচ্ছে ঘরের বউ ছাড়া সব কিছুই ভারতীয়।

লেখকঃ কলামিস্ট, আবৃত্তিকার ও নজরুল গবেষক।
arzufeni86@gmail


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1288 বার