জীবন গড়ার সোপান

Pub: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮ ১:৫৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮ ১:৫৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

মাহমুদ আবদুল মুনিম চৌধুরী: প্রত্যেক মানুষই স্ব স্ব অবস্থান থেকে জীবন গড়ার জন্য চেষ্টা করে থাকেন কিন্তু সবাই সঠিকভাবে জীবন গড়তে পারেন না । জীবন গঠন করা বলতে কি বুঝি? জীবন গঠন করা বলতে বুঝি যিনি জীবন গড়েছেন তিনি মানুষের কোনো ক্ষতি করেন না। মানুষও তার থেকে কোন ক্ষতির আশংকা করেন না । পরনির্ভরশীলতা তিনি খুবই অপছন্দ করেন, ব্যক্তি সমাজ দেশ তথা মানবজাতির কল্যাণের জন্য পরিকল্পনা করেন, চিন্তা করেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী মানবতার সেবা করতে থাকেন ।

কবি বলেছেন এমন জীবন তুমি করো হে গঠন মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবনI তাই ছোট বড় নারী পুরুষ সকলকে সুন্দর ভাবে জীবন গড়তে হবে , গড়ার পরিকল্পনা নিতে হবে । পৃথিবীতে কোন সফলতা এমনি এমনি আসেনা।
সফলতা পেতে প্ল্যান পরিকল্পনার সাথে সাথে লক্ষ্য উদ্দেশ্য ঠিক থাকতে হবে । উন্নত জীবন গড়ার সুন্দর সময় হলো ছাত্র জীবন। এসময় সঠিক প্ল্যান নিলে সেটা বাস্তবায়ন করা সহজ হয়।

যাই হোক, জীবন গড়ার জন্য সর্বপ্রথম বিশ্বাসের ভিত্তি মজবুত করতে হবে I বিশ্বাসের ভিত্তি মজবুত করার মাধ্যমে জীবন গড়ার কাজ শুরু করতে হবেI তাহলে একটি নীতি নৈতিকতা সম্পন্ন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়বে এতে করে দেশ ও জাতির উন্নতি হবে, মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ হবে,I এখন আমরা দেখে নেই বিশ্বাসের ভিত্তি কি কি

বিশ্বাসের ভিত্তি হচ্ছে- তাওহীদ, রেসালাত, আখেরাত

তাওহীদ:তাওহীদ সম্পর্কে একজন মুসলমানের পরিষ্কার ধারণা থাকা অবশ্যই কর্তব্য। আল্লাহ পাক হচ্ছেন খালিক মালিক তিনি বিশ্ব জাহানের রব পালনকর্তা। তিনি চন্দ্র সূর্য গ্রহ নক্ষত্র মানব দানব সবকিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর সবকিছু তারই হুকুম মানে, তাঁরই নির্ধারিত গাইডলাইন অনুযায়ী চলে। মানুষকে আল্লাহ পাক সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদা দিয়েছেন বিবেক বুদ্ধি চিন্তা ও ইচ্ছাশক্তি স্বাধীনতায় মানুষ শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন, তাই বলে সে বল্গাহীন নয় ।

মানুষকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক জীবন, অর্থনৈতিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন, সকল ক্ষেত্রে হুকুম বা আইন নির্ধারণ করে দিয়েছেন, আর এই আইন মানার নামটাই হচ্ছে ইবাদাত।
মোটকথা সমস্ত বিশ্ব জাহানের সৃষ্টির ব্যাপারে, আল্লাহ পাকের গুন, শক্তি, ও সামর্থ আইন ও কানুন তথা হুকুম-আহকামের ব্যাপারে এবংএক আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করার অর্থই হচ্ছে তাওহীদে বিশ্বাস করা ।

রেসালাত:

বিশ্ব মানবতা কে তৌহিদের পথ দেখানোর জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামিন যুগে যুগে নবী- রসূলদের পাঠিয়েছেন I তিনি তার নিজস্ব বিধি-বিধান নবী-রাসূলদের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেনI তারা আজীবন আল্লাহ পাকের দেয়া এ দায়িত্ব আদায় করে গেছেন এবং ত্যাগ ও কুরবানীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন I নবী রাসুলদের স্ব স্ব দায়িত্ব আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ এ সময়কালই হচ্ছে নবুয়াত বা রিসালাত Iপ্রত্যেক যুগেই পরবর্তী নবী বা রাসূল আসার আগ পর্যন্ত পূর্ববর্তী নবী রাসুলদের সময়কালের বিধি-বিধান মানা বাধ্যতামূলক ছিল Iনবী রাসূলদের দাওয়াত যারা কবুল করেছেন তারা ঈমানদার এবং যারা প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা কাফির হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেনI

নবুয়তের এ ধারাবাহিকতায় আল্লাহ রব্বুল আলামিন সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক যুগের জন্য যুগ উপযোগী বিধি-বিধান দিয়ে পাঠিয়েছেন I কেয়ামত পর্যন্ত সমস্ত মানুষের জন্য বিধি-বিধানআসা শুরু হয় হেরা পাহাড় থেকে এবংএ বিধি-বিধান পরিপূর্ণতা লাভ করে বিদায় হজের দিন আরাফার ময়দানে। আল্লাহপাক বলেন “আজ তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং আমার নেয়ামতকে আজকের এই দিনে সমাপ্ত করলাম আর তোমাদের জন্য ইসলামকেই দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম” । অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম নবুয়তের প্রথম দিন থেকে নিয়ে মক্কার তের বৎসর এবং মদিনার ১০ বৎসর ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালনা সহ দীর্ঘ ২৩ বছর আল্লাহ পাকের বিধান মোতাবেক ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্টে রিসালাতের দায়িত্ব আদায় করতে থাকেন । দীর্ঘ এই ২৩ বছরের খোদাই দায়িত্ব আদায় করাকে রেসালাত বলে।এ রেসালতের বিধি-বিধান মানা ও আমল করা যেমন বাধ্যতামূলক তেমনি আনন্দদায়ক কারণ এ বিধি বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলে দুনিয়ার জীবনে যেমন শান্তি রয়েছে তেমনি আখেরাতের জীবনে মুক্তি রয়েছেI

আখেরাত:
দুনিয়া খুবই ক্ষণস্থায়ী আমাদের সবাইকে এ দুনিয়া থেকে চলে যেতে হবে যেভাবে চলে গেছেন আমাদের পূর্বপুরুষরা । মৃত্যুর মাধ্যমে আখেরাতের জীবন শুরু হয়ে যায় । আখেরাতের জীবনই আসল জীবন । অতএব আখেরাতের সফলতাই আসল সফলতা। দুনিয়াতে কারো ধন সম্পদ টাকা পয়সা ক্ষমতা স্বাস্থ্য সামর্থ্য থাকলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে কেউ কেউ বলতে পারেন যে তিনি সফলতা লাভ করেছেন ।কিন্তু আখেরাতে যদি তিনি বিফল হন তাহলে দুনিয়ার এর সফলতার কোনো মূল্য নেই । আবার কেউ যদি শারীরিক, সামাজিক, পারিবারিক ও আর্থিক ভাবে কষ্টের মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করেন আর আল্লাহর দেওয়া আইন অনুযায়ী নিজের জীবনকে গড়ে তুলেন, আল্লাহর দেয়া অর্পিত দায়িত্ব কর্তব্য আদায় করেন, আর যদি তার জীবনের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি তাহলে দুনিয়ার জীবনে বিফল মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি সফলI

অতএব যদি প্রশ্ন করা হয় প্রকৃতপক্ষে সফল ব্যক্তি কে- উত্তর হচ্ছে যিনি আখিরাতে সফলতা অর্জন করেছেন তিনিই সফল । সংক্ষেপে বলা যায় দুনিয়ার জীবনের সফলতার মানদন্ড হচ্ছে আখিরাতের সফলতা অতএব আমাদের বিশ্বাসের ভিত্তি হচ্ছে আখেরাতের সফলতাই প্রকৃত সফলতা ।

এবার আমরা দেখি জীবন গড়ার উপাদান কি কি–
কোরআন:
কোরআন মহান আল্লাহ পাকের আখেরি কালাম মানুষের জন্য পথনির্দেশনা guide book আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষকে সৃষ্টি করে অন্ধকারে ছেড়ে দেননি জীবন ধারণ ও বেঁচে থাকার জন্য তাকে বিবেক-বুদ্ধি চিন্তা শক্তি দিয়েছেন, তেমনি বিধি বিধান ও নিয়ম নীতি দিয়েছেন, মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে নিয়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রতিটি ক্ষেত্রে তার জীবনের নিয়ম নীতি কি হবে সেটার জন্য আল্লাহ্ পাক মানুষকে কোন সৃষ্টির কাছে মুখাপেক্ষী করেননি । তিনি নিজে এর দায়িত্ব নিয়েছেন এবং নবীদের মাধ্যমে Guide book তথা কিতাব পাঠিয়েছেন ।আমাদের নবী মুহাম্মাদ সা: এর কাছে গাইড বুক হিসাবে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন পাঠিয়েছেনI মানুষ এই গাইডবুক অনুসারে জীবন গঠন করবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার দেয়া হুকুম আকাম আইন ও কানুন অনুসরণ করবেI আল্লাহ পাকের দেয়া এই আইন ও কানুন মানা অনুসরণ করার নামই হচ্ছে সর্বাত্তক ইবাদাত তথা পরিপূর্ণ গোলামী যারা আল্লাহ পাকের এই আইন অনুযায়ী দুনিয়ায় জীবন পরিচালনা করেন তারা দুনিয়াতে শান্তি এবং আখেরাতে মুক্তি পাবেন তথা আল্লাহ পাকের জান্নাতের মেহমান হবেন I অতএব দুনিয়ায় শান্তি আখিরাতে মুক্তির পরিপূর্ণ বিধি বিধান সম্বলিত পবিত্র মহাগ্রন্থের নাম আল কোরআন

হাদিস: হাদিস হচ্ছে সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ার জন্য ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় অপরিহার্য উপাদান । জীবন গড়ার যাবতীয় মৌলনীতি কোরআন দ্বারা নির্ধারিত। আর হাদিস হচ্ছে এই মৌলিক নীতিমালাকে ভিত্তি করে প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক দিকের নির্দেশনা দেয়। আল্লাহর হুকুম মোতাবেক কোরআনের মূলনীতির আলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম যা আমল করেছেন , সাহাবায়ে কেরামদের কে যেভাবে আমল করতে বলেছেন,কোন কিছু হতে দেখলে নীরব থেকেছেন অথবা সম্মতি দিয়েছেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেসব ক্রিয়াকর্ম কে হাদিস বলে I অতএব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দেয়া হুকুম-আহকাম নিজে আমল করেছেন, সাহাবায়ে কেরামদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন , আর যখন যেটা দরকার আলোচনার মাধ্যমে বিশদ বিবরণ প্রদান করেছেন I যার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের উপর আমল করার পথ সুগম করে দিয়েছেন I তাই সহি হাদিসের উপর আমল করা মানে হচ্ছে কুরআনের উপর আমল করা I মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেনঃ অর্থাৎ আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহর মোহাব্বাত পেতে চাও তাহলে আমার অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন। এবং তোমাদের গোনাহ মাফ করে দিবেন। আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। ( আল ইমরান -৩১)
অতএব মানুষের কল্যাণে জান্নাতের পথে জীবন গড়তে হলে সব সময় হাদীস অধ্যয়ন করতে হবে হাদিসের জ্ঞান অর্জন করতে হবে ।

উত্তম চরিত্র:
উত্তম চরিত্র মানুষের মহামূল্যবান সম্পদ Iজীবনকে পরিপূর্ণতায় বিকশিত করতে হলে এ সম্পদের বিকল্প আর কিছু নাই এটা মানুষের সর্বোত্তম সম্পদ বাকি সব সম্পদ থাকলেও যদি এ সম্পদ না থাকে তাহলে বাকি সম্পদের কোন মূল্য নাই ।
মানুষের জীবন গড়ার জন্য চরিত্র নামক উপাদান যেমন গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনি ভাবে চরিত্র গড়ার জন্য কিছু নিজস্ব উপাদানের প্রয়োজন -যেমন সুবিচার, সহানুভূতি, ওয়াদা পূর্ণ, দানশীলতা, দয়া , বিশ্বাস পরায়ণতা, এবং উদারতা । এ সমস্ত উপাদানকে চিরদিন যেমন সম্মান করা হয়েছে তেমনি চিরদিন মানব চরিত্রের প্রশংসনীয় গুণ হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে।

পক্ষান্তরে মিথ্যা, জুলুম , স্বার্থপরতা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা, নিষ্ঠুরতা, বিশ্বাসঘাতকতা ,কৃপণতা, এবং সংকীর্ণ দৃষ্টিকে কোনদিন যেমন মর্যাদা দেয়া হয় নাই তেমনি চিরদিন মানব ইতিহাসের কোন যুগেই পছন্দ করা হয় নাই ।
অতএব উপরোক্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হাসিলের সাথে সাথে জীবন গড়ার জন্য আরো প্রয়োজন ,ধৈর্য ,সহিষ্ণুতা, আত্মসংযম, আত্মসম্মান, কর্তব্যপরায়ণতা ,নিয়মানুবর্তিতা, বীরত্ব ও উচ্চ আশা ।
চরিত্রকে পরিপূর্ণতায় বিকশিত করতে হলে আমাদেরকে আরো কিছু মন্দ দোষIবলি বর্জন করতে হবে-
যেমন নফসের গোলামী, বেয়াদবি, অশ্লীল আচরণ, সংকীর্ণতা,প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা, কর্মবিমুখতা, ইত্যাদি I
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন “যাদের চরিত্র ভালো তারা কিয়ামতের দিন আমার নিকটে অবস্থান
করবে” । আত্মা ও দেহ এ দুইয়ের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ। দেহের উন্নয়নের পাশাপাশি আত্মার উন্নতি ঘটলে মানুষের সত্যিকার পূর্ণতা আসে। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হাসিলের মাধ্যমে মানুষের মানুষত্বের পূর্ণতা আসে। যে বৈশিষ্ট্যগুলো আমরা পূর্বেও বলেছি যেমন নীতি নৈতিকতা সততা ন্যায় পরায়নতা কর্তব্যবোধ ইত্যাদিI মহানবী (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘নৈতিক চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি’ (মিশকাত শরীফ)।

জ্ঞান লালসা:
জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু অনেক নসিহত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বুদ্ধিমত্তার (জ্ঞানের) চেয়ে মূল্যবান সম্পদ আর নেই এবং মুর্খতার চেয়ে বড় দারিদ্রতা আর নেই। ভদ্রতার চেয়ে বড় উত্তরাধিকার আর নেই এবং পরামর্শের চেয়ে বড় সাহায্যকারী আর নেই।’

একটি কথা আছে লোভে পাপ পাপে মৃত্যু অতিরিক্ত লোভ ভালো নয়I কিন্তু জ্ঞান অর্জনের লোভ এমন একটি লোভ কেউ যদি এই লোভে লোভাতুর হয় তাহলে তার জীবন গড়ার জন্য বেশি কিছুর প্রয়োজন হয় না। যাদের জ্ঞান অর্জনের লোভ আছে তারাই জ্ঞানী হন,তারাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হন । মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধির জন্য অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য,সামাজিক ও রাজনৈতিক নীতি নৈতিকতার মান উন্নতির জন্য জ্ঞানের প্রয়োজন । নীতি নৈতিকতার জ্ঞানের সাথে আমাদেরকে বৈষয়িক জ্ঞান অর্জন করতে হবে।বৈষয়িক জ্ঞান অর্জন না করলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে পারব না আর অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে না পারলে অন্য জাতির কাছে আমাদেরকে মাথা নত করে থাকতে হবে I

সেজন্যে দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য মুসলিম উম্মাহ এবং মানবতার উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য ইসলাম শিক্ষাদিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব দিয়েছে Iসাথে সাথে নীতি নৈতিকতার জ্ঞান অর্জন করাকে ইসলাম ফরজ করেছেI কারণ নীতি-নৈতিকতার জ্ঞান না থাকলে একজন একাডেমিক ভাবে শিক্ষিত ব্যক্তিকেও আমরা পরিপূর্ণ শিক্ষিত বলতে পারি না কারণ নীতি-নৈতিকতাহীন শিক্ষিত অনেক লোক এমন আছে যারা দেশ ও জাতির অনেক ক্ষতি করে চলেছে I দুনিয়ার সব জ্ঞানের উৎস যেহেতু কোরআন সুন্নাহ, যে কুরআন-সুন্নাহ আমাদেরকে নীতি নৈতিকতার শিক্ষা দেয়-সেহেতু নিজেদের জীবন গড়ার জন্য দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য উন্নত নাগরিক উপহার দেয়ার জন্য আমাদেরকে কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন করতে হবেI
দ্বীন ইসলামের জ্ঞান অর্জন আল্লাহর বিশেষ দান। এই সৌভাগ্য হাসিল করার জন্য সর্বদা আল্লাহর নিকট তৌফিক কামনা করতে হবে। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা ও
সাধনা করে যেতে হবে।
তাই জীবনকে সুখময় শান্তিময় ও কল্যাণকর করার জন্য জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আর এ জন্যই দ্বীন ইসলামের সর্বপ্রথম আদেশ ছিল পড়াশোনা করার ব্যাপারে। পবিত্র কোরআন কারীমের সর্বপ্রথম নাযিলকৃত আয়াতে আল্লাহ তায়ালার আদেশ
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ﴿١﴾ خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ ﴿٢﴾ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ ﴿٣﴾ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ﴿٤﴾ عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ ﴿٥﴾
“পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃ্ষ্টি করেছেন মানুষকে। মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত পিন্ড থেকে। পড়, তোমার প্রতিপালক বড়ই দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষকে এমন জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।” (সূরা আলাক্ব: আয়াত ১-৫)
রাসূলুল্লাহ (স:) বলেছেন, আল্লাহ যার জন্য মঙ্গল চান তাকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান ও বুঝ দিয়ে দেন। (বুখারী) আরেকটি হাদীসে উল্লেখ আছে, হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। (ইবনে মাজাহ)

এ জন্য সর্বপ্রথম ফরজ কাজ হচ্ছে জ্ঞান অর্জন করা বা পড়াশোনা করা। পড়াশোনা না করলে জ্ঞান অর্জন করা যায় না। আর জ্ঞান না থাকলে কোন কিছুই সঠিক ভাবে করা সম্ভব হয় না। ইসলাম হচ্ছে জ্ঞানের ধর্ম আর জ্ঞানের উৎস হচ্ছে কোরআন ও সহীহ হাদীস।

কুরআন হাদিস ও উন্নত মানের বই না পড়ার ফলে অভদ্র, অমার্জিত লোকের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আর কমে যাচ্ছে রুচিশীল, সংবেদনশীল,হৃদয়বান মানুষ। তরুণরা ঝুঁকে পড়ছে সন্ত্রাস মাদকতা অশ্লীলতা বেহায়াপনা অবৈধ প্রেম ও পরকীয়া প্রেমসহ বিভিন্ন খারাপ কাজের প্রতি, যা উন্নত জাতি ও রাষ্ট্র গঠনে বিরাট হুমকি। অতএব ও ব্যক্তিগঠন ও সমাজ গঠনের জন্য জ্ঞান অর্জন খুবই প্রয়োজন

আদর্শ বা রোল মডেল:
মানুষ তার জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাউকে না কাউকে আদর্শ মডেল হিসেবে গ্রহণ করে। আমাদের জীবনকে সুন্দর ভাবে গঠনের জন্য ‘রোল মডেল’ বা ‘আদর্শ’ হচ্ছেন পবিত্র কুরআন-এর পরিভাষায় ‘উসওয়াতুন হাসানা’ বা অনুসরণীয় উত্তম আদর্শ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উজ্জ্বল জীবনী। তিনি ছাড়া অন্য কাউকে জীবনের পূর্ণ আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করা বৈধ নয় I হাজার হাজার সাহাবায়ে কেরাম তাদের জীবনে মুহাম্মদ সা: এর পূর্ণ অনুসরণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন যেএকমাত্র রাসূল সা: কে জীবনের সকল ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে I আল্লাহ পাকের কাছ থেকে ঘোষণা আসার পর সাহাবায়ে কেরামরা তদানীন্তন কালের প্রতিষ্ঠিত ধ্যান ধারণা ,ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কৃতি , অন্ধভাবে নেতাদের অনুসরণ করা, ও নেতা পূজাকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ।

সাহাবায়ে কেরামরা ছিলেন মহাসত্য তথা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর পূর্ণ অনুসারীI অনুসারী হওয়ার ব্যাপারে তারা আমাদের জন্য পরিপূর্ণ উদাহরণ এবং কেয়ামত পর্যন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।
মহানবী সা:কিশোর বয়স থেকেই ছিলেন সমাজহিতৈষী, সত্যবাদী, চরিত্রবান, সংঘাত নিরসনে উত্তম ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানকারী ও বিশ্ব আমানতদার ‘আল-আমিন’।
পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন সদাচারী ব্যক্তিত্ব, আদর্শ স্বামী, মায়া ও মমতায় ভরা-দায়িত্ববান পিতা। সামাজিক জীবনে তিনি ছিলেন, পরোপকারী প্রতিবেশী, সৎ ও সফল ব্যবসায়ী, দানবীর, আধ্যাত্মিক সাধনায় সিদ্ধ পুরুষ ত্যাগ-ক্ষমা-মহত্ত্বে অতুলনীয় আদর্শ, দুর্বল, সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার শ্রেষ্ঠতম সংগ্রামী। এ সমস্ত গুন একসাথে করে আল্লাহ পাক তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিয়েছিলেন।তিনি ছিলেন গোটা বিশ্বের রহমত, দূরদর্শী শাসক, দক্ষ সমর নায়ক, অতুলনীয় সংগঠক, মুক্তির দিশারী, আদর্শ রাষ্ট্র নায়কের একক অবিসংবাদিত নেতা, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
স্বাভাবিকভাবে আমাদের বিবেক বলে যিনি সর্বগুণে গুণান্বিত তিনিই তো হবেন আমাদের রোল মডেল আমাদের অনুসরণীয় আদর্শ তাইতো আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের নবী কে আমাদের জন্য রোল মডেল তথা অনুসরণীয় আদর্শ করে পাঠিয়ে আমাদের প্রতি দয়া করেছেনI অতএব আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন ও সুন্নাহ হচ্ছে জীবন গঠনের ও জীবনের সফলতার একমাত্র পরীক্ষিত পাথেয়। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআন-এর নির্দেশনা হচ্ছে, ‘‘আনুগত্য কর আল্লাহর এবং অনুসরণ কর আল্লাহর রাসূলকে।’’ [সূরা আল ইমরান, আয়াত ৩২]

বহুমুখী দক্ষতা:
আমাদের দেশে উৎপাদনমুখী কারখানায় ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে দক্ষ ও যোগ্য লোকের প্রকট সঙ্কট রয়েছে। প্রতিবছর পাবলিক, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর ডিগ্রিধারী বের হচ্ছে কিন্তু তাদের মধ্যে দক্ষ লোকের সংখ্যা খুবই কম। দেশকে উন্নত করতে হলে দক্ষতা ও যোগ্যতা সম্পন্ন জনশক্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
ইউরোপ আমেরিকা উন্নত হওয়ার পিছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে তাদের দক্ষ জনশক্তি।
এসব দেশে অসংখ্য ক্লিনার ফার্মার plumber ইলেকট্রিশিয়ান মেকানিক বিল্ডার এমন আছেন যারা ইনভারসিটির ডিগ্রিধারীI এমনও শিক্ষক, ইমাম, আছেন যারা বাস চালাতে পারেন কার চালাতে পারেন মোটর বাইক চালাতে পারেন তাদের আছে কম্পিউটার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন গ্রাফিক ডিজাইনার আবার অনেকে আছেন মেকানিক, ফার্মার ইত্যাদি । অতএব নিজেকে স্বাবলম্বী এবং নিজের দেশকে আত্মনির্ভরশীল মর্যাদা সম্পন্ন দেশে পরিণত করতে হলে বিভিন্ন ব্যাপারে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে শুধুমাত্র ডিগ্রি মাস্টার ডিগ্রি অথবা কামিল পাশ করলেই হবে না।

শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য:
নিজেকে গঠনের জন্য দেশ ও জাতিকে গঠনের জন্য প্রত্যেক নাগরিকই সে দেশ এবং জাতির সৈনিকI বিশেষ করে তরুণরাই আমাদের দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের আসল সৈনিক।তাই সে তরুণের সামনে থাকতে হবে চর্চা করার মত ইতিহাস-ঐতিহ্য, শ্রদ্ধা করার মতো শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, অনুসরণ করার মতো নির্মল সংস্কৃতি ও আদর্শ।
তরুণ সমাজকে অনুসরণ করার মতো কোনো আদর্শের সাথে পরিচয় করিয়ে না দিলে ,চর্চা করার জন্য নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্যকে অবগত না করালে ,আর শ্রদ্ধা করার মতো তার সামনে কোন ব্যক্তিত্ব না থাকলে সে তরুণ সমাজের মন থেকে আস্তে আস্তে দেশপ্রেম’ কমতে থাকে এবং লোপ পাবে তার নিজের অস্তিত্ব। শুধু একজন তরুণ বা একজন নাগরিকের অস্তিত্ব নয়, বরং একটা দেশ বা জাতির অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে ।

অতএব ব্যক্তি, সমাজ ,ও জাতি গঠনের জন্য প্রয়োজন গুনী ব্যক্তিত্বকে সম্মান করা। আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যকে লালন করা এবং আল্লাহ পাকের দেয়া আদর্শকে অনুসরণ করা । যারা আমাদের দেশ গঠনের জন্য অবদান রেখেছেন দেশের স্বাধীনতার জন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং যারা আল্লাহ পাকের দ্বীন কায়েমের জন্য,দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। যারা দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য নিঃস্বার্থভাবে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন তাদেরকে আমাদের সম্মান করতে হবে, শ্রদ্ধা করতে হবে। তাই আসুন আমাদের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গের দোষ ত্রুটি খুঁড়ে খুঁড়ে বের করার ব্যর্থ চেষ্টা না করে তাদের গুণের মূল্যায়ন করি তাদেরকে সম্মান করি তাদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করি, তবেই ব্যক্তি ও জাতি গঠন সহজ হবে।সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্য মজবুত হবে ।

লেখক: ফ্যামিলি কনসালটেন্ট এবং ডাইরেক্টর

Al-Ihsan Marriage and family advice service London

E: abdulmunim75@yahoo.co.uk

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1076 বার

আজকে

  • ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১৪ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com