নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য

Pub: রবিবার, অক্টোবর ৭, ২০১৮ ২:১৬ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, অক্টোবর ৭, ২০১৮ ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হোসেন মাহমুদ :
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন খানিকটা সরগরম। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের পর এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া চলছে। সংবিধান মোতাবেক জানুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচন উপলক্ষে শুরু হয়েছে নানামুখী রাজনৈতিক তৎপরতা। চলছে জোট গঠনের প্রচেষ্টা। যা বোঝা যায় তা হচ্ছে দেশের সর্বস্তরের মানুষই অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় যাতে সবাই নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ভোট দিতে পারে। উল্লেখ্য, সাধারণ মানুষের এক বিরাট অংশই ন্যূনতম শিক্ষিত অথবা একেবারেই শিক্ষিত নয়। তারা গণতন্ত্রের সংজ্ঞা মুখস্থ করে রাখে না। তারা গণতন্ত্র বলতে বোঝে ভোট হবে, আর তারা তাদের ইচ্ছামত যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। আর যিনি জয়ী হবেন তিনি তার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবেন।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সমর্থকরাও নির্বাচন চায়, তবে তারা চায় তা যেন হয় তাদের দলীয় সরকারের ইচ্ছানুযায়ী। সরকার বরাবরই বলে আসছে, একাদশ সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে হবে। কোনো একটি দল যদি নাও আসে, তবুও হবে। তাদের এ কথার লক্ষ্য যে বিএনপি তা বুঝতে কারো অসুবিধে হয় না। আর তাদের বাইরে দেশে ও বিদেশের সবাই চায় বাংলাদেশে সকলের অংশগ্রহণমূলক একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন কেউ চান না। তবে অন্যরা কি চায় সেটা জরুরি নয়, জরুরি হচ্ছে আওয়ামী লীগ দলীয় সরকার কি চায়। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন নাকি খুলনা-রাজশাহী-গাজীপুর-বরিশাল সিটি মডেলের নির্বাচন? এটা ঠিক যে, আওয়ামী লীগের চাওয়া নির্ভর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের উপর। এ নিয়ে অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই, কারণ তিনি দলীয় প্রধান, সরকারেরও প্রধান। সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। আর সে সিদ্ধান্ত হবে সর্বৈব রকমে তার দল ও দলের ক্ষমতায় অধিষ্ঠানের অনুক‚লে। এদিকে বিএনপি বহুদিন থেকে বহু কথা বলে আসছে, সেও নির্বাচনে অংশ নিতে চায় বলে বোঝা যায়। কিন্তু চেয়ারপার্সনকে কারাগারে রেখে দলটি নির্বাচনে যাবে কিনা তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। তাছাড়া নিত্যনতুন মামলা, সর্বসাম্প্রতিক কালে করা যেগুলোর সবই গায়েবি ঘটনার মামলা, গ্রেফতারপর্ব সামাল দিয়ে নির্বাচন করার অবস্থায় দলটি থাকবে কিনা তা নিয়ে বিলক্ষণ সন্দেহ আছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সদ্যসম্প্রতি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। তা হচ্ছে জাতীয় ঐক্য জোটের বহুকাক্সিক্ষত প্রচেষ্টায় জাতীয় ঐক্যজোট গঠনের উদ্যোগ। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্ট সম্মিলিতভাবে অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর একটি সম্ভাব্য জোটের রূপ পেয়েছে। এখনো তা চ‚ড়ান্ত রূপ নেয়নি। উল্লেখ্য, বিএনপি ছাড়া জোটের বাকীদের জনগণের সাথে কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, থাকলে কতটা আছে, তা জোটকে ইতিবাচক মর্যাদায় উন্নীত করতে পারবে নাকি তাদের সকল কার্যক্রম ঢাকায় প্রেস ক্লাব এলাকায় কিছু তৎপরতা দেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে, সে নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি।
২০১৪ সালের নির্বাচনের অব্যবহিত পূর্ব ও পরের প্রেক্ষাপট সচেতন মানুষদের জানা। এবারের প্রেক্ষাপটে ভিন্নতা এসেছে। সেবার বামদলগুলো তাদের নিজস্ব যুক্তি ও কারণে নির্বাচন বর্জন করেছিল। এবার এখনো সে রকম ঘোষণা দেয়নি তারা, পরে হয়তো দিতে পারে, নাও পারে। তবে তারা নির্বাচনে থাকা না থাকায় দেশের রাজনীতি বা জনগণের কিছু আসে যায় না। কারণ, কোনো নির্বাচনে নিজেদের প্রতীক নিয়ে বাম নেতাদের কেউ নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করবেন এমন আশা কেউ করে না। তারাও এ বাস্তবতা জানেন বলেই বোধ হয় এ সব ঝামেলায় আর বেশি যেতে চান না। কম্যুনিস্ট পার্টিসহ বামদলগুলো বহুদিন ধরে মাঠে নেই, রাজপথেও নেই। মাঝেমধ্যে দু’একটি প্রেস রিলিজভিত্তিক তৎপরতায় তারা অস্তিত্বশীল রয়েছেন। তারপর এক সময় মরুপথে ধারা হারানো নদীর মতো হয়তো তারাও বিলীন হয়ে যাবে। তাই মনে হয়, আসছে দিনের রাজনীতিতে তাদের শুধু সিল-ছাপ্পড় ছাড়া কণ্ঠস্বর নাও থাকতে পারে।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি থাকছে বলেই মনে হচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণ হলো, বিএনপির সাথে তাদের সাবেক মিত্রদল জামায়াত নেই। অন্তত প্রকাশ্যে নেই। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে জামায়াত আছে। বলা দরকার যে, জামায়াত এখন আর নিবন্ধিত দল নয়। যে দল নিবন্ধিত নয়, তারা জোটে কীভাবে থাকে সে কথা উঠতেই পারে। যাহোক, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে ফারাক আগেই তৈরি হয়েছে, সে ফারাককে আরো দৃষ্টিগোচর ও চ‚ড়ান্ত করার সম্ভাব্য সব চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে বোঝা যায়, বিএনপি সরাসরি জামায়াতের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত নয়। অবশ্য এখন তারা যতটুকু সম্ভব নিজের শক্তিতেই কিছু করার চেষ্টা করছে, তার ফলাফল যাই হোক। বলা দরকার, এদেশে এক শ্রেণির লোক আছে যারা যে কোনো মূল্যে বিএনপিকে খড়কুটোর মতো রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখতে চায়। তারা বিএনপি-জামায়াতের এ রাজনৈতিক দুরবস্থা দেখে ভারি খুশি হয়েছে। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দী ও তার মুক্তি পাবার দূর সম্ভাবনা তাদেরকে প্রচন্ড রকমে উল্লসিত করেছে। সরকারি দলের নেতাদের হাবভাবে মনে হয়, পশুপাখির দল থাকলে সেগুলোকেও তারা সম্মান দিতে রাজি, কিন্তু বিএনপিকে নয়। তারপরও তাদের মনের ভয় যাচ্ছে না যে, বিএনপি যদি আবারও আগের মতো শক্তিশালী হয়ে দাঁড়ায়, যদি ’৯১ বা ২০০১-এর অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটে!
যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্য প্রক্রিয়ার যে সব নেতা রয়েছেন তারা তাদের নিজ দল বা রাজনৈতিক আদর্শ দিয়ে দেশপ্লাবী আবেদন সৃষ্টি করতে পারেননি, তারা এখনো প্রমাণ করতে পারেননি যে বিদ্যমান রাজনৈতিক শক্তির বিপরীতে তারা জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা লাভের উপযুক্ত। তারা এখন পর্যন্ত নেতৃত্বের শিকড়-সংহতিও প্রদর্শন করতে পারেননি। সবচেয়ে বড় কথা, তাদের কেউই এখন গণমানুষের নেতা নন। তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত তারা কোনোদিন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে তো দূরের কথা, এমনিতেও ঘোরেননি। আরেক কথায় তারা না বাংলাদেশকে চেনেন, না বাংলাদেশের জনগণকে জানেন। তারা মূলত সবাই ঢাকাকেন্দ্রিক মানুষ। তবে সেটা বড় কথা নয়। সূর্য যখন ওঠে তখন তার আলো ছড়িয়ে যায় সবখানে। তারা যদি সূর্যালোক ছড়ানোর মতো প্রতিভা হন, তাদের আলোর দীপ্তি জনগণকে ঠিকই আকৃষ্ট করবে। অন্যথায় ঢাকায় ছোটখাট দু’একটি সমাবেশ করেই তারা হয়তো দীপ্তিহারা হয়ে পড়বেন।
২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহবানে তাদের সমাবেশে যুক্তফ্রন্ট ও বিএনপির যোগদানের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্যজোট প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বহু মানুষই এতে আনন্দিত। একটু হলেও আশাবাদী হচ্ছেন অনেকে। সেই সাথে তারা অনিশ্চয়তারও শিকার। এখন পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যজোট জাতীয় আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে রাজপথে নামতে পারেনি। তারা যে নির্বাচনে বড় একটি শক্তি হতে চলেছে তারও এখনো জানান দেয়নি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হাতে রয়েছে তাবৎ অস্ত্র ও ব্যবস্থা। বিএনপিকে তারা গত দশ বছরে রাস্তায় নামতে দেয়নি। জাতীয় ঐক্যজোটের বিরুদ্ধেও সে ওষুধ প্রয়োগ করা হবে না, এমন কথা কেউ লিখে দেয়নি।
নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি সাত দফা এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্ট পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করা, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা, নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দেয়া প্রভৃতি। এসব দাবির মধ্যে অন্যায় বা অসঙ্গত কিছু আছে বলে অনেকেই মনে করেন না। কিন্তু সরকার যে সেগুলো মানবে তা কেউই মনে করে না। এ প্রসঙ্গে গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্যের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল যদি চায় তাহলে আমরা তাদের নিয়ে সরকার গঠন করতে পারি। তারা ক্ষমতাসীন অথবা বিরোধী কিনা সেটা কোনো বিষয় না।’ তার এ বক্তব্যের পর সরকারের বাইরের লোকদের জন্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন সহজ হতে পারে।
বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি এখন অনেকটাই কবরের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে। বিএনপি আন্দোলন করে তা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। আইনও এ ব্যাপারে কোনো সহায়তা করেনি। বাংলাদেশে আর কোনো রাজনৈতিক শক্তি এ ব্যাপারে এগিয়ে আসেনি। যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিল সময়ের প্রয়োজনে সৃষ্টি। তা যখন নেই, আইনি পথ ধরেই তা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং সে বিষয়ে কিছু করা যায়নি বা করতে দেয়া হয়নি- সেহেতু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংবিধানের নির্দেশনাই চ‚ড়ান্ত। ওয়াকিবহালরা বলছেন, সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। অন্যদিকে সংবিধানে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের একক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। তাই নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা, এর আকার ও সে মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন বা থাকবেন না, সে সবই প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।
জনগণ নানা দাবি সরকারের কাছে জানাতেই পারে। সরকার তা মানবে কি মানবে না, তা সরকারের বিষয়। গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণদাবি শব্দগুলোর সাথে সবাই পরিচিত। আন্দোলন করে, গণদাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশে^র বহু দেশে বহু সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করেছে জনগণ, এমন নজির প্রচুর আছে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করার অবস্থা এখন আছে কি নেই তা মোটামুটি সবারই জানা। বিএনপির দীর্ঘকালের অভিযোগ যে, তারা গণতান্ত্রিক অধিকারের আলোকে আন্দোলন করতে পারে না, মিছিল বের করলেই, সরকার বিরোধী স্লোগান দিলেই পুলিশ ও এক শ্রেণির সশস্ত্র লোক সমবেতভাবে অ্যাকশনে নামে। গুলি, লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, গ্রেফতার, রিমান্ড, জেলখানায় পাঠানো প্রভৃতি পন্থা প্রয়োগ করা হয় ফ্রিস্টাইলে, যার পরিণতিতে তাদের আন্দোলন রাজপথ ছেড়ে ঘরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সেখানেও নিস্তার নেই। পুলিশ গিয়ে রেইড দেয়, পাকড়াও করে।
নির্বাচনের তফসিল হয়তো শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। তাই আর আন্দোলনের সময়-সুযোগ খুব বেশি নেই। বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্ট তাদের দাবি উত্থাপনের পর তার ফলোআপ করেনি। তাদের কোনো দাবি সরকার মানবে এমন কোনো আভাসও নেই। তাই মোটামুটি নিশ্চিত যে বর্তমান সরকারের অধীনে এবং ইচ্ছানুযায়ীই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখন বাকি থাকে ভোটদান। অতি সম্প্রতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিদের ফিরে আসতে দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কোনো কোনো জায়গায় মৃত ব্যক্তিরাও ভোট দিয়েছেন। আর এখন বিভিন্ন থানায় বিএনপির মৃত ব্যক্তিরাও ভাংচুর, নাশকতার মামলার আসামী হতে শুরু করেছেন। আসছে নির্বাচনে জীবিত মানুষদের বিস্ময় তুঙ্গে তুলে মৃত ব্যক্তিদের তৎপরতা বাড়তে পারে। আর তা কাদের অনুক‚লে যেতে পারে তা অনুমানযোগ্য। এ সব নিয়ে জনমনে কৌতূহল, উদ্বেগ আছে। কথা হচ্ছে, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন যারা চান তারা তা চাইতেই পারেন। সেটা তাদের অধিকার। ধরা যাক, তাদের সংখ্যা অনেক। কিন্তু অধিকার আদায় করে নিতে হয়। অধিকার যাদের কাছে চাওয়া হয়, স্বেচ্ছায় তারা তা দেয় না। দিতে বাধ্য করতে হয়। দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায়নীতি, উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই। দেশের মানুষ ও বিদেশের বন্ধুরা দীর্ঘদিন ধরে এ রকম একটি নির্বাচনই চাইছে। অনেকেই বলছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু না হয় তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি অবধারিত। এতে অর্থনীতিও নাজুক হয়ে পড়বে। এসব দিক বিবেচনায় রেখে সরকারকে চিন্তাভাবনা করতে হবে, সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পারস্পারিক আলোচনার মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। আশংকিত পরিস্থিতি উত্তরনের এটাই একমাত্র পথ।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1106 বার