সংসদ নির্বাচন ও আমাদের প্রত্যাশা

Pub: বুধবার, অক্টোবর ১০, ২০১৮ ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, অক্টোবর ১০, ২০১৮ ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তাহরিন জাহান নৌশি :
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হল- বাকস্বাধীনতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, নিয়মতান্ত্রিক শক্তিশালী বিরোধী দল, পরমত ও পরের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সুষ্ঠু নির্বাচন পদ্ধতি, ব্যক্তি অধিকার ও কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠা প্রভৃতি।

স্বাধীনতার পর বিগত ৪৭ বছরে বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত যত ধরনের নির্বাচন হয়েছে; সবগুলোতেই সহিংসতায় কমবেশি প্রাণহানি ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চায় যেসব সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানের জন্য সুস্থ গণতন্ত্রের চর্চা প্রয়োজন।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নবীন প্রজন্মের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চাই, ডিজিটাল বাংলাদেশে সুস্থ ধারার পরিচ্ছন্ন গণতান্ত্রিক চর্চার পথ বিকশিত হোক। এছাড়াও আমরা চাই- অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বন্ধ করা, জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা, নির্বাচন কমিশনকে বিশ্বাসযোগ্য, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী করা, তথ্য অধিকার আইনের সংস্কার ইত্যাদি।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চায় যেমন সমস্যা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। রাজনীতিতে বহুসংখ্যক শিক্ষিত নেতা প্রয়োজন, প্রয়োজন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা। এদেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে অসীম একাগ্রতা, যার প্রমাণ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ। যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশের গণতন্ত্র যদি দুর্বল হয়, তবে তা বাঙালি জাতির জন্য চরম লজ্জার। গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারলে এদেশে আসবে কাক্সিক্ষত শান্তি ও স্থিতিশীলতা। জনগণ পাবে পূর্ণ স্বাধীনতা ও মুক্ত গণতন্ত্রের স্বাদ।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর এদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের হাত ধরেই গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হয়। গত বছরের প্রথমদিকে প্রকাশিত এক জরিপ রিপোর্টে দেখা গেছে- দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনীতি সম্পর্কে অনীহা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। তারা রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ বা বিমুখ হয়ে পড়ছে। তাদের এই রাজনীতিবিমুখতার পেছনে কাজ করছে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় এবং সহিংস রূপ।

যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়া বা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ের সরকারগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যেভাবে ব্যবহার করেছে, তা মূলত আইন ও মানবাধিকারকে চরমভাবে লংঘিত করেছে। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এ দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গৌরবজনক ভূমিকা রয়েছে। তখন ছাত্র সংগঠনগুলোকে এখনকার মতো রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুড়বৃত্তি বা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হতে দেখা যায়নি।

বড় রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র ও শিক্ষক সংগঠনগুলোকে হীন দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করলে নিঃসন্দেহে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও সুযোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার সূতিকাগারে পরিণত হতো। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা, গবেষণা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ ও পরিবেশ ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

যেহেতু গণতন্ত্র জনগণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তাই, গণতান্ত্রিক দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান ক্ষমতা ও সমান অধিকার থাকে। দেশের নির্বাচিত শাসকগোষ্ঠী জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে থাকে বলে জনগণের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান তাদের কাছে প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের দেশে এমনটি ঘটবে কবে?

শিক্ষার্থী, সিলেট


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1071 বার