বাংলাদেশের নির্বাচন: উদাহরণ অপ্রয়োজনীয়

Pub: সোমবার, জানুয়ারি ৭, ২০১৯ ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, জানুয়ারি ৭, ২০১৯ ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শাখাওয়াত লিটন:

রোববারের (৩০ জানুয়ারি) নির্বাচনে নির্বাচিত আইনপ্রণেতারা বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তাদের শপথ গ্রহণের সময়ও দশম সংসদ বহাল ছিল।

একই ঘটনা ঘটেছিল ৫ বছর আগে। ওই সময়ও দশম জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ীরা নবম জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়ার দুই সপ্তাহ আগে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

সংবিধান কিন্তু রোববারের নির্বাচনে জয়ী এমপিদেরকে বিদ্যমান সংসদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে শপথ গ্রহণ ও দায়িত্বভার গ্রহণের বিষয়টি অনুমোদন করে না।

ধারা ১২৩(৩) (খ) অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ পূরণের আগে পর্যন্ত অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

ধারা ৭২(৩)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংসদ ভেঙে না দেয়া পর্যন্ত সংসদ তার প্রথম অধিবেশন থেকে ৫ বছরের মেয়াদ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। এর অর্থ হলো, এর ৫ বছরের মেয়াদ বহাল থাকবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

কেউ কেউ যুক্তি দিতে পারেন, বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণ করা এমপিরা ২৮ জানুয়ারির আগে পর্যন্ত দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না। এ ধরনের বক্তব্যে যুক্তি নেই।

কারণ ধারা ১৪৮(৩) অনুযায়ী শপথ গ্রহণের সাথে সাথেই এমপিরা দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আইনপ্রণেতা হিসেবে শপথ গ্রহণের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমপিরা তাদের সংসদীয় দলের সভা করেছে, শেখ হাসিনাকে তাদের নেতা নির্বাচিত করেছে, এ নিয়ে একটি প্রস্তাবও পাস করেছে।

প্রস্তাবটি প্রমাণ করে যে শেখ হাসিনা নবগঠিত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন লাভ করেছেন। তার দল নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৫৭টি লাভ করেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সাক্ষাতের জন্য গেলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নতুন সরকার গঠনের জন্য শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করবেন, শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে অন্যান্য মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি।

সংসদীয় গণতন্ত্রে পার্লামেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সরকার গঠন করা।

রোববারের নির্বাচনে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশকারী জাতীয় পার্টি বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণের পরপরই দলের এমপিদের নিয়ে বৈঠক করেছে।

তারা নতুন সরকারের অংশ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

একটি অস্বাভাবিক দৃষ্টান্ত

আমাদের আইনপ্রণেতারা বৃহস্পতিবার যে উদাহরণ সৃষ্টি করলেন তা বিদ্যমান অন্যান্য সংসদীয় গণতন্ত্রে পাওয়া যায় না।

সংসদীয় গণতন্ত্রের ওয়েস্ট মিনিস্টার স্টাইলের জন্মস্থান যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো যেমন নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওইসব দেশে বিদ্যমান পার্লামেন্ট বহাল রেখে পার্লামেন্ট গঠনের প্রশ্নই ওঠে না।

একমাত্র ব্যতিক্রম ভারত। গত ৬৫ বছরে সেদেশে ১৬টি সাধারণ নির্বাচন হয়েছে।

লোকসভা নামে পরিচিত এই দেশের পার্লামেন্ট কয়েকবারই সাধারণ নির্বাচনের সময় বহাল থেকেছে। তবে ওইসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান পার্লামেন্ট বহাল রেখে নতুন পার্লামেন্ট গঠিত হয়নি।

উদাহরণ হিসেবে বর্তমান ১৬তম লোকসভা গঠনের কথা বলা যেতে পারে।

নির্বাচন ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত ৯টি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের সময় ১৫তম লোকসভা বহাল ছিল।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ১৮ মে ১৫তম লোকসভা ভেঙে দেন। নতুন পরিষদ গঠনের আগেই তিনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করেন বলে ২০১৪ সালের ১৮ মে এনডিটিভির খবরে বলা হয়।

এরপর ১৬তম লোকসভার জন্য নির্বাচিত এমপিরা ২০১৪ সালের ৫ জুন শপথ গ্রহণ করেন।

কিন্তু বাংলাদেশে ঘটে ভিন্ন ঘটনা।

জিজ্ঞাসা করা হলে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বর্তমান পার্লামেন্ট বহাল থাকা অবস্থায় নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, ২৮ জানুয়ারি বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1103 বার