গনতন্ত্রের ফিনিক্স পাখি:দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

Pub: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ ২:৫৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ ২:৫৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

০১.
সাবেক দুইবারের সেনাপ্রধানের স্ত্রী হিসাবে চাইলেই একটা নিরাপদ জীবন বেচে নিতে পারতেন।একজন সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সার্কের স্বপ্ন দ্রষ্টা ও রাষ্ট্রপতির স্ত্রী হিসাবে সম্মান, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা সবই তার ছিল।তিনিতো এই নির্যাতনের নিপীড়নের পথ বেচে না নিলেও পারতেন।দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কেন রাজনীতিতে অাসলেন?তা কি শুধুই ক্ষমতার জন্য?প্রধানমন্ত্রীত্বের জন্য? অর্থবিত্তের জন্য? দেশ শাসনের জন্য?

রক্ত অার জীবনের দামে কেনা স্বাধীনতা যখন লুটেরাদের হাতে লুন্ঠিত হয়, ডাকাতি হয়,ছিনতাই হয়, তখন অাপোষহীন মানুষের রক্তে অাগুন জ্বলে,বিদ্রোহী হয়,জ্বলে উঠে, রাজপথে নামে, মুক্তির মিছিলে অাসে,নেতৃত্ব দেয়।পৃথিবীর মুক্তিকামী নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস এমনি।

০২.
দেশ ও জাতির বড়ই দুঃসময়ে একগৃহ বধুকে
গৃহকোণ থেকে রাস্তায় নামতে হয়েছিল,বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য, এখনও লড়েই যাচ্ছেন।দেশের মানুষ গভীর ভালবাসায় যাকে অাপোষহীন দেশনেত্রী নামে ডাকে।নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী অান্দোলনে তিনি যেভাবে দেশবাসীকে সাতদলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এক কাতারে এনে এরশাদের পতন ঘটিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে তা এক নজির বিহীন ঘটনা অাজও।ঢাকার রাস্তার পাশে ওয়ালে ওয়ালে তখন এমন লেখাই শোভা পেত-
BNP: the choice of new generation.

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী তরুনদের ছাত্রদল করা একটি ফেশন বা ট্রেন্ডে পরিনত করেছিলেন তখন তিনি।

০৩.
ওয়ান ইলেভেনের অাওয়ামী দালাল মইন-ফখরুদ্দিনের সামরিক সরকারও দেশনেত্রীকে তার নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্হান থেকে বিন্দু পরিমান নড়াতে পারেনি।

সে সময় তাকে দেশ ছাড়ার প্রচন্ড চাপ দিলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন-
“এই দেশই অামার প্রথম ও শেষ ঠিকানা,এদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও অামার কোন ঠিকানা নেই,বাচতে হয় এখানেই বাচবো,মরতে হয় এখানেই মরবো,এই দেশ ছেড়ে অামি কোথাও যাবোনা”এদেশের মানুষের জন্য তিনি যেন রবীন্দ্রনাথের “কঠিনেরে ভালবাসলেন”।

স্বামী, সন্তান, বাড়ি- সব হারালেন। অাগামীদিনে বাংলাদেশ যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে,সেই তারেক রহমানও নির্বাসনে!অার নিজে বাংলাদেশের মানুষকে উজার করে ভালবাসার মাশুল দিচ্ছেন পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত নির্জন ভুতুরে এক কারাগারে রাজবন্দী হিসাবে!পৃথিবীতে এমন ঘটনা হয়ত অার একটাও নেই যে একটা কারাগারে মাত্র একজন অাসামীই!

০৪.
জিয়া পরিবারের রাজনীতির অতীত ইতিহাস শুধুই দেশ ও মানুষের জন্য।এদেশের তিনটি ঐতিহাসিক সংকটে জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্ম এক সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছে ও দিচ্ছেন।মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান,স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী অান্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং চলমান গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার অান্দোলনে দেশনেত্রীর নির্দেশনায় দেশনায়ক তারেক রহমান।ভাবা যায়?বাংলাদেশের একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট এর স্ত্রীর, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর, কয়েকবারের বিরোধীদলের নেত্রীর ঢাকা শহরে একটি নিজস্ব বাড়ি পর্যন্ত নেই!! ভাড়া বাড়িতে থাকতে হয়!! এদেশের মানুষকে যেমন তিনি ও তাঁর পরিবার শর্তহীনভাবে ভালবেসেছেন তার প্রতিদানও মানুষ বার বার উজার করেই দিয়েছে।দিচ্ছে। এখনো বাংলাদেশের জনগন তাঁর সাথেই,বিএনপির সাথেই,জিয়া পরিবারের সাথেই।যদিও জনবিচ্ছিন্ন স্বৈরচারের চোখে তিনি ভয়ংকর অাসামী!!

কোটা সংস্কারের জন্য প্রায় ত্রিশ লাখ শিক্ষিত তরুণ তরুণী রাস্তায় নামলো,নিরাপদ সড়কের জন্য এদেশের কিশোর কিশোরীরা সারা বাংলাদেশ অচল করে দিয়ে পৃথিবীতে নজির স্হাপন করেছে!যাদের অন্যতম প্রধান দাবী ছিল -Justice বা ন্যায়বিচার।

যে দেশের প্রধান বিচারপতিকে সত্য রায় লেখার অপরাধে ফেরারী অাসামীর মত বিদেশে পালিয়ে বেড়াতে হয় ন্যায় বিচার সেখানে শুধু স্বপ্নই নয়,অকল্পনীয়ও বটে।জনগণের বাংলাদেশের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দিতে রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে ন্যায় বিচার কায়েমের জন্যই
কোন স্বৈরাচারের সাথে অাপোষ করেননি তিনি।

০৫.
যে দেশের জন্য তিনি এত জুলুম নির্যাতন গৃহবন্দিত্ব,কারাগার,মামলা,হামলা ভোগ করছেন সেই দেশের নিষ্ঠুর শাসকরাই হত্যা করেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট তার স্বামীকে,৯৩ দিন গৃহবন্দী থাকা অবস্হায় মৃত সন্তানরে কফিন জড়িয়ে কান্না দেখেছে পুরো বিশ্ব,সেই দেশের শাসকরাই নির্বাসনে পাঠিয়েছে তার বেচে থাকা একমাত্র সন্তান বাংলাদেশের অাগামীদিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে, দেশনেত্রীকে করেছে ঘরছাড়া,বাড়ি থেকে বেড় করে দিয়ে দীর্ঘ তিন যুগের স্মৃতির মিনার ভোল্ডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে!অার অাজ তিনি কারাগারে!!তবুও তিনি অামাদের জন্যই লড়ছেন, গনতন্ত্রের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন,মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দিচ্ছেন,যে সংগ্রাম পরাজিত হওয়ার ইতিহাস পৃথিবীতে নেই,হাড়তে জানেনা।

যে বাংলাদেশের জন্য, গনতন্ত্রের জন্য, ভোটের অধিকারের জন্য, মুক্তির জন্য, স্বাধীনভাবে বেচে জন্য, মহানমুক্তিযুদ্ধে এদেশের অগনিত মানুষ রক্ত ও জীবন দিয়েছে সে বাংলাদেশে গনতন্ত্রের লেশ মাত্র অাজ নেই!অামরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যেখানে ভোটহীন নির্বাচনে ক্ষমতার দ্বার উন্মুক্ত থাকবে?

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নের কথা তার ভিশন-২০৩০ তে ঘোষনা করেছেন।দেশনেত্রীর চলমান সংগ্রাম রাষ্ট্রের মালিকানা জনগনের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।

অাওয়ামীলীগের কাছে সব চেয়ে বড় অাতঙ্কের নাম বেগম খালেদা জিয়া,তারেক রহমান অার বিএনপি।
সেজন্যই তারেক রহমান নির্বাসনে,বিএনপিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলে দিনরাত অার বেগম খালেদা জিয়া অাজ কারাগারে বন্দী!

০৬.
সরকার খুব ভাল করেই বুঝতে পেরেছিল বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত রেখে সেই নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়া এবার অসম্ভব। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্রোহের দাবানল জ্বলে উঠবে,সেজন্যই নির্বাচনের এক বছর অাগে থেকেই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার রাজনৈতিক কৌশলের প্র্যাকটিক্যাল খেলা শুরু করে স্বৈরাচার।৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ বন্দী করা হয় বেগম খালেদা জিয়াকে,কারাগারে
নেয়া হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা মুক্তি ও গনতন্ত্রকে।
যার চূড়ান্ত রুপ দেখেছে বাংলাদেশের জনগণ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে।

৮ফেব্রুয়ারী,২০১৮ বাংলাদেশের জনগণ বলতে গেলে অারেকটি নতুন বিপ্লবেরও জন্ম দিয়েছে।মানুষ ত সেদিন ঘরে বসে থাকেনি,বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছে বুক খালি করে!

বেগম খালেদা জিয়া যখন গুলশানের বাসা থেকে অাত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বকশীবাজারের দিকে রওনা হন,তখন ঢাকা মানুষের দখলে।এক বিংশ শতাব্দীর জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীদের দখল।তাঁর গাড়ির চারপাশের অজস্র সন্তানের বেরিকেড!জ্বলে উঠা বিদ্রোহী তারুণ্যের মিছিল।

অার হ্যা,অামি খুব সচেতন ভাবেই বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের দিন ঢাকার রাজপথে রাষ্ট্রের অঘোষিত কারফিউ ভেঙ্গে জনগণের জাগরণকে বিপ্লব হিসাবেই অাখ্যায়িত করছি।যদিও সে দিনের সেই লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যায়নি,যে লড়াই এখনো চলছে।
একটা কথা মনে হয় অামাদের মনে রাখতেই হবে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অাজকের যে সংগ্রাম চলছে তা কেবলই একটা নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়,এ লড়াই বাংলাদেশের অস্তিত্বের।

নিশ্চিত থাকুন এ লড়াই মুক্তির,গনতন্ত্রের, বিজয়ের।

০৭.
রাজনীতি তাঁকে যা দিয়েছে নিয়ে গেছে তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি।ব্যক্তি জীবন বলতে অাজ তাঁর কিছু নেই,সব নির্বাসনে অার কারাগারে!নিজের ঠিকানা তার একটাই বাংলাদেশ!অাপনজন বলতে এদেশের জনগনই!বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভুমিকা গ্রীক পুরানের মিথ অনুযায়ী
ফিনিক্স পাখির মত।যে পাখি অাগুনের ধ্বংস স্তুপ থেকে বার বার নতুন রুপে নব শক্তিতে জেগে উঠে।
বাংলাদেশে গনতন্ত্র মুক্তির এক ফিনিক্স পাখির নাম অাজ বেগম খালেদা জিয়া।চাইলেই যাকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়না। মানুষের ভোটের অধিকার ও রাষ্ট্রের মালিকানা জনগনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে সংগ্রাম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চলছে সেখানেও বিজয় সুনিশ্চিত।
রাজপথ কখনই পরাজিত হয়না,হতে পারেনা।কো…..নো……দি…..ন….. না।

।।
মো:নিজাম উদ্দিন
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সহসম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ
এমফিল গবেষক,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,ঢাবি


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1238 বার