সবুজরা কিছু পাক না পাক, আওয়ামী লীগ ভাল থাক

Pub: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ ১১:০৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ ১১:০৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কৈশোরেই, কিছু বুঝে উঠার সময় থেকেই রাজনীতি করি, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ কে ধারন করেই ছাত্র রাজনীতিতে আসা, পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, এটি আমার ভালবাসার আর অনুভুতির শুদ্ধতম জায়গা।

একমাত্র মেয়ে হওয়ায় আম্মা কখনো চাইতেন না আমি রাজনীতি করি। বলতেন, বাবা রাজনীতি তোমার জন্য নয়। বলাবাহুল্য, সেসময়ে মেয়েরা সেরকম ভাবে রাজনীতি তে আসতেন না। ভাল চখে দেখা হতনা। সে সব কষ্ট আর বাক্তিগত কষ্টের কথা নাই বা বলি আজকে। রাজপথে ১৯৯৩- ৯৪ থেকে হাসু আপার সংগে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রগ্রামে, উত্তাল আন্দলন সংগ্রাম এ অংশ গ্রহন, কলেজের ভিতর সাংগঠনিক কার্যক্রম খুব একটা সহজ ছিল, এটা কোন ভাবেই বলা যাবেনা। রাজনৈতিক কাজের দরুন বাড়ি যাওয়া হতনা আম্মা বলতেন আরেক আম্মা (শেখ হাসিনা) কে পেয়ে আমাকে ভুলে গেছ। এভাবে চলতে চলতে ১৯৯৮ সালে ইডেন মহিলা কলেজ এর সম্মেলন, আমি সভাপতি আর শাহনাজ পারভিন আভা সাধারণ সম্পাদক কমিটির কাউন্সিল্রর ভোটের মাধ্যমে, না এ কমিটি তো হতে পারবেনা, কমিটিতে, ভাইদের সরাসরি লোক থাকতে হবে, পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছিলো সেই কমিটই আমাকে বাদ দিয়ে, এতদিনের পরিশ্রম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, আশাঃ deprived হলাম আমি। শুরু হয়ে গেল অবধারিত নাবিজয়ের সংগে দেখা।

অনেকেই হয়ত এ পরিস্থিতিতে রাজনীতি থেকে সরে যেতেন, আমি ছেড়ে যাইনি বঙ্গবন্ধু কন্যাকে, ভালবাসি তাঁকে।

কিন্তু কথা হল, এরকম মানুষ থাকবেই তবুও নিজেকে প্রমান করতে হবে। তখন থেকেই দেখে আসছি সংগঠনের সভাপতি-সাধারন সম্পাদকই সব। কিন্তু আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি, একজন রাজনৈতিক কর্মীর পদ-মর্যাদা ও অবস্থান নির্ভর করে তার মেধা, পরিশ্রম, ত্যাগ আর অবদান এর উপর। তেলবাজি, চামচামি এগুলো নষ্ট মানুষের বৈশিষ্ট্য- এখান থেকে আমাদের সরে আসতে হবে রাজনীতির স্বার্থে।

অনেকে বলে থাকেন, রাজনীতি তে কিছু চাইনা। কিন্তু আমি চাই, আমি চাই, হ্যা আমি চাই।

রাজনীতি তে এসেছি প্রত্য্যয় নিয়ে, জনগনের সেবা করার জন্য, কল্যাণ করার ব্রত নিয়ে। নিজেকে ভাল রাখতে, নিজের লাভের জন্য নয়। দল থেকে কোন সুবিধা নেইনি বরং দিয়েছি অনেক। হারিয়েছি অনেক, সেই কাংখিত লক্ষে পৌছাব বলে।

এত কষ্টের এই রাজনীতি টা রাজনীতিবিদদেরকেই করতে দিন, ব্যবসায়ীদের হাতে নয়, রাজনীতিবিদদের হাতেই রাজনীতি বেশি সুরক্ষিত। এটি শুধু নীতির স্খলন মাত্র। আমার কাছে রাজনীতিটা অনেক বড়, তাদের কাছে নয়।

কত লোনা-চাপা কান্না, কত খানি আচর, কত খানি হৃদয়ের রক্তক্ষরণ আজকের এখানে আমি, আপনি তথাকথিত, দানবীর ব্যবসায়ীর মেয়ে কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, ডিসেম্বরের ৩০, ২০১৮তে চিন্তা করেছেন এমপি হবেন? অথচ, আমি গতবার ২০১৪ তে এমপি না হতে পেরে কাজ করেছি দিগুন পরিসরে, প্রতিটি মুহুর্তে চিন্তা করেছি কবে আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষন, কখন শেষ হবে এই অপেক্ষার প্রহর। এমন কোন দলের গৃহিত প্রোগ্রাম ছিলনা যেখানে আমার বিচরণ অনস্বীকার্য।

আর খুব সহজেই পেরেছেন সেই আশা ভঙ্গ করে দিতে। তাহলে কি ভাবে দানবীর আপনারা? নাকি আমাদের শ্রমকে কিনে নিতে, আমাদের সপ্ন কে কেরে নিতে, আমাদের লালিত সপ্নকে ভঙ্গ করতেই আপনাদের এই দান কাজ। ২০১২ তে কান্সার নামক ব্যাধির মুখ থেকে বেচে এসেছি, জনগনের সেবা করব এলাকা বাসিকে কথা দিয়েছি। এখন কি করব, বলতে পারেন?

আমার ছোট মিনতি হয়ত কোনদিন এমপি হওয়াটা হবে নাহ, কিন্তু আপনারা আর কোন সবুজের সপ্ন কেরে নিবেন নাহ দয়া করে। আপনাদের তো বাসায় ছেলে- মেয়ে আছে, তাদের দিকে তাকাতে পারেন, মন তা জুড়াতে পারেন। কিন্তু আমার যার সঙ্গে বিয়ে করার কথা ছিল, তিনি ছাত্র রাজনীতি করতেন, ২০০৪ সালের ১৬ জুন তাকে মেরে ফেলে। আমার বিয়ে করা হইনি, হইনি সপ্ন পুরন, ছেলে-মেয়ে নেই বুক জুড়াবার জন্য। সেটি কি বুঝতে পারছেন? আমি জানি পারছেন নাহ, তাহলে কেড়ে নিতে পারতেন নাহ। বিস্ময় এই যে, বিষয়টি আমি কখনোই সামনে আনতে চাইনি, চাইনি আমার অহংকার নস্ট করতে, কি আর করা!

আর একটি কথা বলি, নেত্রির জন্য জীবনবাজি রেখে আমরা ছাত্রলীগের দুঃসময়ের রাজপথের অকুতোভয় সৈনিক, যার জীবনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারন লালন করে অনেক ভালোবাসা, ভালোলাগাকে বিসর্জন দিয়ে নিজেকে সমর্পন করেছে জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগানে। ঝড়ঝাপটা, নির্যাতন কখনও দমাতে পারেনি আমাকে কিঞ্চিত বিচ্যুতি ঘটাতে, ছিলাম এবং আছি সেই নেত্রির সংগে দেখা করতে আমাদের কে কেন পাস দেয়া হয় নাহ, কেন এই পৈশাচিক বলয়? জানতে চাই। দল করি নেত্রির, কথা বলব নেত্রির সঙ্গে সেটাই আমার অধিকার।

২০১৫ ডিসেম্বরের ২য় দিনে বাবাকে হারিয়েছি, আমার বাবা দেখে যেতে পারেন নি মেয়ের কোন রাজনৈতিক সাফল্য, তাহলে আমার বাবার কাছে, আমার পরিবারের কাছে, জনগনের কাছে আমার না পাওয়ার কোন দায়বদ্ধতা নেই? তবে ফিরিয়ে দেন আমার স্বপ্নে ভরা জীবন টাকে। কি পুরুস্কার এই ২৮ বছর রাজনীতির? কে থামাবে আমার আর্তনাদ, আমার জনগন যারা আমাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন অবিরত, বলে, “তোমারে দেখি কত বছর রাজনীতি কর, শেখ হাছিনা তোমারে চিনে নাহ? কত জনে কত কিছু পায় আর তুমি?” আর যারা এখন কাঁদছে ভেবেছিল, দেরিতে হলেও এইবার বুঝি মূল্যায়ন পাব ।

তাহলে কি বিনয়ী, ভাল মানসিকতা আর যোগ্য হওয়াই আমার অযোগ্যতা? দায়বদ্ধতা দল এড়াতে পারবে না।

ভাল থেক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ভাল থাকবেন প্রিয় আপা। আবেগ আর অনুভুতি নিয়েই আমরা থাকবো পাশে দেহে থাকে যতক্ষন প্রাণ।

লেখক: নুরজাহান সবুজ, সদস্য উপ কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ