সমগ্রতাবাদী : সমাজ ও সংস্কৃতি

Pub: শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০১৯ ২:১১ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০১৯ ২:১১ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তৈমূর আলম খন্দকার:
‘মানুষ সামাজিক জীব’ এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই বরং বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত। মানুষের প্রকৃতিগত আচরণ ব্যাখ্যা করলে তিনটি আচরণ পরিলক্ষিত হয়। ১. স্বভাবগতভাবেই মানুষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক যা নিজ স্বার্থভিত্তিক, ২. মানুষ সমাজ সম্পৃক্ত অর্থাৎ সমাজের স্বার্থের প্রতি গুরুত্ব প্রদর্শন করে ৩. অন্য একটি শ্রেণী রয়েছে যারা পরিবেশের মাধ্যমে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে। মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যাই হোক, বাহ্যিকভাবে মানুষ সমাজকে ডিঙিয়ে চলতে পারে না। এর ব্যতিক্রম যারা তারা অসামাজিক বা সমাজবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত, তবে এতে তাদের কিছুই আসে যায় না। বিশ্লেষণ করলে মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন থেকে ভিন্নতর, যা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ পরিমাপ করা কঠিন।

‘সমাজ’ তার নিজস্ব সংস্কৃতির ওপর নির্ভরশীল। সংস্কৃতি বলতে সাধারণত আমরা মানুষের বিনোদনকে বুঝে থাকি। প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘ দিন অর্থাৎ বছরের পর বছর স্বতঃস্ফূর্ত অনুশীলনে একটি ‘গোষ্ঠী’ বা এলাকা বা জাতির নিজস্ব আঙ্গিকে গড়ে ওঠাই সে গোষ্ঠী, এলাকা, সমাজ বা জাতির নিজস্ব ‘সংস্কৃতি’ হিসেবে স্বীকৃত। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব হলেও নিজ স্বার্থকে অধিক প্রাধান্য দেয় বলেই বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একই পরিবারে বসবাস করেও কেউ জীবন নির্বাহ করে Individual (নিজ স্বার্থ) Capacity নিয়ে এবং কেউ চলছে Collective (সমষ্টিগত) Capacity তে। এর সঙ্ঘাতে গোটা সমাজব্যবস্থা বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, যার Check and Balance রক্ষা পাচ্ছে শুধু ‘সামাজিক সংস্কৃতি’র মাধ্যমে। যেখানে ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ; অন্যদিকে যেখানে সমষ্টিগত দিক প্রাধান্য পাচ্ছে, সেখানে ব্যক্তির পাশাপাশি গোটা সমাজ উপকৃত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা বা নীতিমালা সমষ্টিগত চিন্তার পক্ষে, কিন্তু যাদের হাতে রাষ্ট্র বা সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব তারা ‘ব্যক্তি’ স্বার্থ সংরক্ষণে বিভোর থাকে। ব্যক্তিচিন্তার প্রতিফলন যখন সমাজের কাছে প্রকাশ পায় বা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করায় জনস্বার্থ বাধাগ্রস্ত হয় তখনই সূত্রপাত হয় লড়াই বা সংগ্রামের। শ্রেণী সংগ্রামের উৎপত্তি সেখান থেকেই। কোনো মানুষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক নীতিতে বিশ্বাসী হলেও তাকে কারো না কারো ওপর নির্ভর করতে হয়। ইংরেজিতে Dependency (নির্ভরশীলতা) এর পাশাপাশি Co-dependency (সহ-নির্ভরশীলতা) নামে একটি শব্দ আছে যার যোগসূত্র সমাজের প্রতিস্তরে দেখা যায়। কিন্তু মানুষের মধ্যে এর উপলব্ধি অনেক সময়ই দেখা যায় না কিংবা অনেক সময় ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানুষগুলো Co-dependency এর সূত্র স্বীকার করে না। তারা মনে করে, সে নিজের গুণাবলিতেই গুণান্বিত বা তার নিজস্ব যোগ্যতার কারণেই সমাজে তার মাথা অনেক উঁচু পর্যায়ে। মানসিকতার মাধ্যমেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রকারভেদ প্রকাশিত হয়। তবে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রকাশভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে।

অন্য গুণাবলির সাথে একচ্ছত্রবাদ মানুষের এটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য, তবে সবার ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। যারা ‘সমগ্রতাবাদ’ বা ‘একচ্ছত্রবাদে’ বিশ্বাসী তারা পৃথিবীর সব সম্পদকে নিজের সম্পদ মনে করে তা আয়ত্তে আনার জন্য ব্যাকুল ও ব্যতিব্যস্ত থাকে; সব ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত রাখতে চায়; এর বাস্তবায়নের জন্য ‘হত্যা’ ‘গণহত্যা’ থেকে শুরু করে পৈশাচিক কোনো কাজ করতেও তাদের বাধে না। পৃথিবীতে যুগে যুগে রাজা, বাদশাসহ, সম্রাট, রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন উপাধিধারী ব্যক্তিদের ‘একচ্ছত্রবাদী’ বা ‘সমগ্রতাবাদী’ মানসিকতার কারণে অনেক যুদ্ধবিগ্রহ হয়েছে, হত্যাযজ্ঞ হয়েছে লাখো কোটি মানুষের, ভিটাবাড়ি ছাড়া হয়েছে লাখো কোটি মানুষ। এটাকে এক ধরনের ‘মানসিক রোগ’ও বলা যেতে পারে। পৃথিবীর সব সম্পদ নিজের করার মানসিকতা বা অন্যের সম্পদ নিজের দখলে রাখা কিংবা সব ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, প্রভাব প্রভৃতিএককভাবে থাকার প্রতি লোভ মানসিক রোগ ছাড়া আর কী হতে পারে?

ইতিহাসে দেখা যায়, ০১. ১৯১৪-১৯১৮ সাল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, ০২. ১৯৩৯-১৯৪৫ সাল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ০৩. ১৮৫১-১৮৬৪ সাল তাই পিং বিদ্রোহ, ০৪. ১২০৭-১৪৭২ সাল মোগল শাসন আমল, ০৫. ১৭৫৫-১৭৬৩ সাল লুসান রেবেলিয়ন, ০৬. ১৬১৬-১৬৬২ সাল কুইঙ্গ সম্রাজ্যের পতন, ০৭. ১৩৬৯-১৪০৫ সাল তৈমুর লং-এর যুদ্ধবিগ্রহ, ০৮. ১৮৬২-১৮৭৭ সাল দুনগান অভ্যুত্থান, ০৯. ১৯১৭-১৯২১ সাল রাশিয়ার গৃহযুদ্ধ, ১০. ১৮০৩-১৮১৫ সাল পর্যন্ত নেপোলিওনের যুদ্ধ- এ ধরনের বহুযুদ্ধে লাখো কোটি মানুষের সম্পদ ও প্রাণ হরণ করা হয়েছে ‘একচ্ছত্রবাদ’ বা ‘সমগ্রতাবাদ’ প্রতিষ্ঠার জন্য (সূত্র : জাতীয় পত্রিকা, তাং-১৬/৩/২০১৯ ইং)। আদর্শিক যুদ্ধের পরিবর্তে ‘একচ্ছত্রবাদ’ বা ‘সমগ্রতাবাদ’ প্রতিষ্ঠার যুদ্ধের সংখ্যা অনেকগুণ বেশি।

আধুনিক বিশ্বসভ্যতার দাবিদার। কিন্তু আধুনিকতার পাশাপাশি মানবাধিকারের কথা যত উঁচু গলায় বলা হয়, এর চেয়ে বেশি গতিতে মানবাধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যবস্থাপনায় হয়ে চলেছে। মিয়ানমারের ঘটনায় পরিলক্ষিত হয় যে, রাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ এবং বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্র দয়া-দক্ষিণার মতো করে রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য পাঠায়। কিন্তু সঙ্কটের প্রতিকারের বা রোহিঙ্গাদের স্থায়ী নিরাপত্তার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত গণআদালত মিয়ানমারের গণহত্যা বন্ধ করার জন্য ১৭টি সুপারিশ করেছে; যার মধ্যে চতুর্থ সুপারিশে ২০০৮ সালে সংবিধানের সংশোধনী এবং ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবি ছিল।

ওই আইনগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাখাইনে মুসলমান জনগোষ্ঠীকে তিলে তিলে নিশ্চিহ্ন করার জন্য মিয়ানমার সরকার ১৯৮২ সালে বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইন পাস করে এবং তাদের অধিকারবঞ্চিত করার জন্যই সংবিধানে ২০০৮ সালে সংশোধনী আনয়ন করেছে। রুয়ান্ডাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হুতু (ঐটঞট) জনগোষ্ঠী তুত্ছি (ঞটঞঝও) জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা শুরু করার আগে নিজেদের জন্য ১০টি নির্দেশনা জারি করেছিল। তুত্ছিদের দুর্বল করার পর ৬-৪-১৯৯৪ তারিখে রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট Habyarimana এর বিমান ধ্বংস হওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐটঞটরা ঞটঞঝও-দের হত্যা শুরু করে।

JEW-দের ওপর গণহত্যা শুরু করার আগে হিটলারের নেতৃত্বাধীন জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি (NAZI) ২৪-২-১৯২০ সালে ২৫ ধারা সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। এর মাধ্যমে প্রথমে ঔঊড-দের বিভিন্নভাবে দুর্বল করার পর গণহত্যা শুরু করে দেয়। ১৯৫০ সালে সাতটি নীতিমালা গ্রহণ করে নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে ঘঅতও-দের বিচার শুরু হয় (সূত্র : আন্তর্জাতিক আইন কমিশন, ১৯৫০)।
পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের জনগণের ওপর ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে যে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে, তা ছিল অবশ্যই Genocide. কিন্তু ওই হত্যাযজ্ঞকে Genocide. বলে বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের স্বীকৃতি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তা বাংলাদেশের ব্যর্থতা। বিশ্ব দরবারে বিষয়টি উপস্থাপন করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদের ‘জ্ঞান’ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছি না, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বিষয়টি দৃষ্টিকটু হয়ে রইল এই মর্মে যে, একটি ন্যায্য অধিকার অর্জনেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা ব্যর্থ। এ জন্য অজ্ঞতা বা অক্ষমতা দায়ী কি না তা পর্যালোচনার বিষয়।

ক্ষমতাবান বা সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার উদ্দেশ্যে অনেক গণহত্যা করেছে, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এর কোনো সংজ্ঞা ছিল না। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডরহংঃড়হ ঈযঁৎপযরষষ এ হত্যাযজ্ঞকে ‘Crime without name’ বলে বর্ণনা দিয়েছেন। একটি জাতির বা ক্ষুদ্রগোষ্ঠীর বা সংখ্যালঘিষ্ঠদের বা বিরোধীদের তিলে তিলে ধ্বংস করার অভিপ্রায় বা হত্যাযজ্ঞকে Robert Lemkin প্রথম Genocide নামে উল্লেখ করেছেন। তিনি গ্রিক শব্দ Geno অর্থাৎ মানুষ এবং Cide অর্থাৎ হত্যাকে সংযুক্ত করে এবহড়পরফব’ পরিভাষা আবিষ্কার করেছেন, যা বর্তমানে জাতিসঙ্ঘের দ্বারা স্বীকৃত। ‘এবহড়পরফব’ সম্পর্কে জড়নবৎঃ খবসশরহ যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা নি¤œরূপ ঃ-

‘By Genocide we mean the destruction of a nation or an ethnic group. Generally speaking, Genocide does not necessarily mean the immediate destruction of a nation, except when accomplished by mass killings of all members of a nation. It is intended rather to signify a coordinated plan of different actions aiming at the destruction of essential foundations of the life of national groups, with the aim of annihilating the groups themselves. The objectives of such a plan would be disintegration of the political and social institutions of culture, language, national feelings, religion and the economic existence of national groups and the destruction of the personal security, liberty, health, dignity and even the lives of the individuals belonging to such groups. Genocide is directed against the national group as an entity and the actions involved are directed against individuals, not in their individual capacity, but as member of the national groups.

১১ ডিসেম্বর ১৯৪৬ এবহড়পরফব সম্পর্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ ৯৬(২) অনুচ্ছেদে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নি¤œরূপ :- ‘Genocide is a denial of the right of existence of entire human groups, as homicide is the denial of the right to live of individual human being, such denial of the right of existence shocks the conscience of mankind, results in great losses to humanity in the form of cultural and other contributions represented by these human groups and is contrary to moral law and to the spirit and aims of the United Nations. Many instances of such crimes of genocide have occurred when racial, religious, political and other groups have been destroyed, entirely or in part.’

ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার জন্য ইচ্ছামাফিক আইন প্রয়োগ এবং একই আইনকে দুইভাবে প্রয়োগ করে দেশের অভ্যন্তরে ‘ক্ষমতাবান’ কর্তৃক ‘ক্ষমতাহীন’দের তিলে তিলে নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়া দিয়ে মূলত এবহড়পরফব-এর বীজ বপন করা হয়। এই ক্ষমতাসীনেরা কোনো কারণেই তাদের প্রতিপক্ষ রাখতে চায় না, যদি তারা ‘সমগ্রতাবাদী’ বা ‘একচ্ছত্রবাদী’ হয়। একই আইন দুইভাবে অর্থাৎ ক্ষমতাসীনদের জন্য যা মধু এবং ক্ষমতাহীনদের জন্য ‘বিষ’ হিসেবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সরকারি দল যে কাজ অনায়াসে করছে, বিরোধীদল একই আইন দ্বারা সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে রাষ্ট্র কর্তৃক বঞ্চিত হচ্ছে। বাংলাদেশে এ ধরনে বৈষম্যমূলক আচরণের অনেক উদাহরণ দেয়া যাবে।

ইংরেজিতে Totalitarian শব্দের অর্থ বলা হয়েছে যে, Totalitarian is a system of government in which there is only one political party, demanding that people submit totally to the requirement of the state (Oxford Dictionary, Page-1263) এবং বাংলা শব্দার্থ এই যে, ‘সমগ্রতাবাদী’; অর্থাৎ যে রাজনৈতিক দল কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে মানতে রাজি নয়’ (সূত্র : বাংলা একাডেমি প্রণীত ঊহমষরংয ঃড় ইবহমধষর উরপঃরড়হধৎু পৃষ্ঠা-৭৭৬)। বাংলাদেশেও কি এটা হচ্ছে? বিচার বিশ্লেষণ করবেন দেশের জনগণ।

লেখক : কলামিস্ট ও আইনজীবী (অ্যাপিলেট ডিভিশন)


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ