আন্দোলনের কারিগরকেই ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেয়া হোক

Pub: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৯ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৯ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আঃ রব মোঃ রায়হান হোসেন রিবুঃ সরকারের নিপিড়ন এখন কতটা তা বুঝার জন্য এখন আর কাউকে ব্যাখা দিতে হয় না। ১০০ দিনে ৩৯৬ টা ধর্ষনের ঘটনা, নিত্য দিন খুন, বিচারহীনতা, বিরুধী মতের লোকদের জেল এবং মিথ্যা মামলা নিয়ে বাড়ী ছাড়ার ঘটনা এখন বাংলাদেশে স্বাভাবিক ঘটনা। এ অবস্থায় মানুষের বিশ্বাস ছিল প্রধান বিরুধী মতের দল বিএনপি আন্দোলন করে দেশকে গণতন্ত্রময় করে তুলবে। কিন্তু বিএনপি বারবার ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে। আর এতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে বিএনপির নেতা কর্মি ও সমর্থকদের। বিএনপির নেতা কর্মি ও সমর্থকরা হয় আজ ফেরারী, না তো কারাবন্দি, না হয় প্রতিদিন কোর্টের বারান্দায়, কেউ আবার ক্রসফায়ারে মরছে। আমি ও আমার পরিবারও আজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। শুধু আমারা কর্মিরা না বরং সবচেয়ে বেশী হিংসার শিকার হয়েছেন দেশর সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়া।
আর এ জন্য দায়ী করতে পারি দলের ভিতরে প্রবল গ্রুপীং। এর ফলে আন্দোলনের কোন ফল পাওয়া যাই নি। র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব সময়ই বিরুধী মত দমন করে এবং করবে কিন্তু আন্দোলন সফল করতে হলে দরকার আন্দোলন করার মত ক্ষমতা সম্পন্ন নেতাদের দিয়ে টিম ওয়ার্ক যা বিএনপিতে নেই। গ্রুপীং-এর কারনে যোগ্য নেতারা যথাযথ ভাবে পদ না পাওয়ায় নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব হয় না। যখন কোন কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী পদে আন্দোলন বিমুখ নেতারা থাকে তখন আন্দোলন সফল করার ক্ষমতা সম্পন্নরাও আন্দোলনে তেমন ভূমিকা রাখতে পারে না। এটা আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা। ২০০৭ সাল থেকে অওয়ামী বিরুধী সবগুলো আন্দোলনই ব্যার্থ হয়েছে এ কারণে। বিএনপির বর্তমান সময়ে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কিছু নাই, আর তাই দরকার গ্রুপীং বিহীন আন্দোলন সক্ষম ছাত্রদল। কারণ ছাত্রদলের ইতিহাস হলো আন্দোলন সফল করার ইতিহাস। সেটা সৈরাচার এরশাদ বিরুধী আন্দোলন, ’৯৬ এর আওয়ামী বিরুধী আন্দোলনে প্রমানিত। আর এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গ্রুপীং বিহীন আন্দোলনে সক্ষম নেতারা। ঐ সময় আমান, ইলিয়াস, সোহেল, পিন্টু, মামুন, নিউটন ভাইদের কথা স্মরণ করলেই কোন ধরনের নেতৃত্ব কেমন হওয়া দরকার তা খুব সহজে অনুমান করা যায়।

তাই দলের সব নীতিনির্ধারকদের কাছে হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে দাবী আন্দোলনের কারিগরকেই ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেয়া হোক। আর এ ক্ষেত্রে আমাদেরে একমাত্র পছন্দ হচ্ছে মামলা সম্ভ্রট হিসাবে পরিচিত আন্দোলনের কারিগর শহীদ পিন্টুর হতে গড়া কর্মি ইসহাক সরকারের হতে ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেয়া হোক। আমার ধারণা দলের সব নীতিনির্ধারকরা অবশ্যই তাকে জানেন। রাজপথের দু:সাহসী এই নেতা, তিন শতাধিক অর্থাৎ ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে সর্বাধিক মিথ্যা মামলার আসামী। যার জীবনের অনেকটা সময়ই কেটেছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে পিতৃবিয়োগের শোক সংবরণ করতে হয়েছে। ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি শহিদউদ্দিন চৌধুরী এনি ও ইসহাক সরকার সহ ছাত্রদলের ৩৪ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। যার মধ্যে ২২ জনই ছিলেন কোতয়ালি থানা ছাত্রদলের নেতাকর্মী। আটককৃতদের পুলিশ কন্ট্রোল রুমের খোলা মাঠে সারাদিন খালি গায়ে রাখা হয়। পরদিন বাংলাদেশের গণমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়ঃ “Torture on Dhaka University students under police custody; Sheikh Hasina style”. ১৯৯৯ সালে হরতাল চলাকালে বংশাল বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পিকেটিং করার সময় দ্বিতীয়বারের মতো আটক হন ইসহাক সরকার । ১৭টি মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয় ইসহাক কে ।৪ মাস পর জেল থেকে মুক্তি পান ইসহাক সরকার । সেই একই বছরের শেষ দিকে বংশাল বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর থেকে ইসহাক সরকার কে পুনরায় আটক করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে প্রথম বারের মতো ১০৭ মামলায় গ্রেফতার হয়ে দেড় বছর কারাবরণ করেন তিনি। কারাগারে থাকাকালীন সময়ে তাঁর বাবার মৃত্যু হলে ৪ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়ে আবার কারাগারে গমন করেন তিনি। বাবার জানাজায় ডাণ্ডা-বেরি পরে পুলিশের সাথে অংশ নিতে আসলে, তাঁকে এক নজর দেখার জন্য হাজার হাজার জনতার ঢল নামে। যা পুরাতন ঢাকায় ব্যাপক আলোচিত হয়।
সব মামলায় জামিনের পর এক এক করে ৫ টি নতুন মামলায় কারাগেট থেকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ১০৭ মামলায় কারাগারে থাকার সময় বিএনপির “ঢাকা টু পঞ্চগড়” লংমার্চের ২২ টি জন ও পথসভায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেনঃ”আমার ২৫ বছর বয়সের ছাত্রনেতা ইসহাক সরকারকে ১০৭ টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এটা ইতিহাসে নজিরবিহীন।”-এরই প্রেক্ষিতে “আর কাউকে জেলগেট থেকে গ্রেফতার করা যাবেনা”-হাইকোর্টের এমন আদেশের পর মুক্তি পান ইসহাক সরকার ।কারাগারে থাকার সময় আন্দোলন করতে গিয়ে নিহত হন ইসহাক সরকারের ঘনিষ্ট বন্ধু ও সহচর মামুন,নিরব ও সামসু । এছাড়াও ছাত্রদল কর্মী রুবেল,ওমর, ফারুক ও সালাম আন্দোলনে নিহত হন।
২০০৯ সালে হাসিনা সরকার যখন আবার ক্ষমতায় আসে তখন এই সরকার পরিবারের উপর নির্যাতনের “নীল নকশা” তৈরি করা হয়। আবার শুরু করে অত্যাচার-নির্যাতন। শুরু হয় আবার একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার নগ্ন পরিকল্পনা। ইসহাক সরকার এর উপর দায়ের করা হয় একের পর এক মিথ্যা মামলা। এ ব্যাপারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সংসদে দাড়িয়ে বলেনঃ “ইসহাকের উচিত কোর্টের পাশেই ঘর বানিয়ে থাকার। যেন সকাল হলেই কোর্টে গিয়ে হাজিরা দিতে কষ্ট না হয়।”
জীবনের ব্যাপক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন ও লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন এই বীর যোদ্ধা। পরিবার ও আত্মীয় স্বজন থেকে অনেক দূরে থাকতে হয়েছে তাঁকে।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ৯০ পরবর্তী সর্বোচ্চ জনপ্রিয় , শক্তিশালী ও ঈমানদার ছাত্রনেতা… যিনি নিজ ক্যারিশমায় সাংগঠনিক সম্পাদক পদটিকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায় …! ৩০০+ মামলা আর শতাধিক মামলায় ওয়ারেন্ট ১২ বছর ছিলেন ঘরছাড়া। অবশেষে সরকারের রোষানলে দীর্ঘ সময় যাবৎ কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী! প্রচন্ড অসুস্থতা সত্ত্বেও যাকে টেনে হিচড়ে প্রতিদিন হাজিরা দিতে আনা হচ্ছে আদালতে।তবুও দমানো যায়নি যাকে, নিজ বন্দীত্বের পরোয়া না করে প্রতিদিন কারাগার থেকে হাজিরা দিতে যাতায়াতের সময় প্রিজন ভ্যান থেকেই শোনা যায় যার গগনবিদারী আর্তনাদ -“মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই – দেশনেত্রীর মুক্তি চাই”… ছাত্রদলের আহংকার ও তৃণমূলের প্রাণপুরুষ সেই ইসহাক সরকার যিনি কোর্ট প্রাংগনেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে সহযোদ্ধা সহ দাড়িয়ে করেছিলেন প্রতিবাদ ! আন্দোলন যদি করতে হয় তবে ইসহাকের মতন করুন ! বিপ্লব ঘটাতে চান ? ইসহাকদের পাশে রাখুন। অদম্য ছাত্রদলচান ? ইসহাক সরকার কে দায়িত্ব দিন। তবেই ঘুরে দাঁড়াবে ছাত্রদল, ঘুরে দাঁড়াবে বি.এন.পি।
লেখকঃ সদস্য সচিব,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল,
সিলেট ইজ্ঞিনিয়ারিং কলেজ শাখা


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1270 বার