বাংলাদেশের শ্রমিক রাজনীতি

Pub: বুধবার, মে ১, ২০১৯ ৫:৫৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, মে ১, ২০১৯ ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই ছাত্র ও শ্রমিক রাজনীতি সবচেয়ে বড় ভুমিকা রেখেছে।শ্রমিকরাই বুঝতে পারে একটি সরকারের প্রনীত নিষ্ঠুর রাজনৈতিক অর্থনীতি কিভাবে গরীব মানুষকে শোষণ করে?ধনীকে অারো ধনী করে।ষাট ও সত্তরের দশকে নারায়নগঞ্জও টঙ্গীকে কেন্দ্র যে বিশাল শ্রমিক রাজনীতি ছিল তা অাজ ভুলে যাওয়া এক ইতিহাস মাত্র! অাজ শ্রমিক রাজনীতি নেই!কারখানা গুলোতে নেই শ্রমিক ইউনিয়ন!এজন্যই তাজরীন রানাপ্লাজাও মনে রাখেনি বাংলাদেশ!শ্রমিক রাজনীতিকে দেশে এমনভাবে ব্রান্ডিং করা হচ্ছে যেন-ওরাই একমাত্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টকারী!উৎপাদনের পথে বাধা!যেন ওরা কিছুই বুঝেনা!ন্যায্য কোন দাবী নিয়ে শ্রমিকরা বার্গেনিং করতে গেলেই চাকুরী নাই হয়ে যায়!

শ্রমিক রাজনীতির জায়গা দখল করে নিয়েছে অাজ কোটিপতিদের স্বার্থের মালিক সংগঠন এফবিসিসিঅাই
নামক ধনিক সংগঠন!ওরাই শ্রমিকদের এখন প্রতিনিয়ত শ্রমিক রাজনীতি শেখায়, নসিয়ত করে!

দেশের সংসদেও সত্যিকারের শ্রমিক রাজনীতির প্রতিনিধি নেই!শ্রমিকদের কথা বলার কেউ নেই!
যারা অাছে তারাও শ্রমিক নন,এক ধরনের লুম্পেন্ট ব্যুর্জোয়া।রাজনৈতিক দলগুলোতেও অাগে শ্রমিক সংগঠন গুলোই অান্দোলন সংগ্রামে রাজপথে বিপ্লবী ভুমিকা রাখত!এখন কোন রাজনৈতিক দলেই শ্রমিক রাজনীতি খুব ভাল জায়গায় নেই!তার মানে এই নয় যে শ্রমিকদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমৃদ্ধি এসেগেছে!শ্রমিকদের রাজনৈতিক অধিকার অাজ মালিকদের হাতে ছিনতাই হয়ে গেছে।গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে রানাপ্লাজা দুর্ঘটনার পর দেশে বিদেশে অনেক হইচই হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি!

গাজীপুর,নারায়নগঞ্জ কিংবা ঢাকার গার্মেন্টসে একজন গ্রামের নারীর হাতে যে পন্য তৈরি হচ্ছে তা অাজ ইউরোপ অামেরিকার রাস্তায় হাটা কোন তরুন তরুনীর গায়ে শোভা পাচ্ছে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বিজার্ভ বাড়াচ্ছে।

বিনিময়ে শ্রমিকরা পাচ্ছে স্বল্প মজুরী,অধিক কর্মঘন্টা,কারখানায় পুড়া শ্রমিকের বিভৎস লাশ!
কেন হচ্ছে এমনটি?কারণ একটাই মালিকদের উদাসীনতা,শ্রমিক রাজনীতিকে দমিয়ে রাখতে পারলে পুজির খুব লাভ!হচ্ছেও তাই।

শ্রমিক দিবসে বাংলাদেশে অনেক কথা হলেও বাংলাদেশের যে রানাপ্লাজায় প্রায় ২৪শ শ্রমিক নিহত হলো তার জন্য কোনো বিশেষ দিবস নেই,এত করে কেউ পালনও করেনা,বরং এক ধরনের মৌনতা খেয়াল করা যায়!এটাই বাংলাদেশের শ্রমিক রাজনীতির দেওলিয়াপনার প্রকৃত চিত্র!

শ্রমিক রাজনীতির শূন্য জায়গাটা এক শ্রেণীর নব্য পুজি ও টাকাওয়ালা সম্প্রদায় এখন দখল করে ফেলেছে!
শ্রমিক নেতা এখন শ্রমিক না, মালিক!

সুতরাং শ্রমিকের শ্রমের মূল্য বাড়বে কী করে?পার্লামেন্ট এখন টাকাওয়ালাদের ক্যাসিনোতে পরিনত হয়েছে!প্রকৃত শ্রমিকদের কোন প্রতিনিধি এখন অার পার্লামেন্টে নেই!নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন বা সমাজতন্ত্রের পতনও শ্রমিক রাজনীতির পতনের একটা বড় কারণ।কারণ সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে মূল শক্তিই হলো শ্রমিক রাজনীতি।

এখন বাংলাদেশের প্রায় এককোটি লোক দেশের বাইরে প্রবাসী শ্রমিক।তাদেরও তেমন সংগঠিত সার্বজনীন কোনো শ্রমিক সংগঠন নেই।যার ফলে কাজের সন্ধানে বিদেশ যাওয়া শ্রমিকদের নানা হয়রানির শিকার হতে হয় বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের।বৈধ পথে সুযোগ কম থাকায় প্রায়ই সমুদ্রের ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যেতে সলিল সমাধী ঘটে অনেক স্বপ্নের!

সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ট্রাজেডি হলো- যে এককোটি লোক দেশের বাইরে কাজ করে তাদের ভোটাধিকার নেই অথচ তাদের পাঠানো মুদ্রায় দেশের বিজার্ভ নিয়ে অামরা গর্ব করি!

বাংলাদেশের অর্থনীতির যে দুটি সেক্টর(গার্মেন্টস ও প্রবাসী শ্রমিক) সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে তারা কমশিক্ষিত বা অক্ষরজ্ঞানহীন নারী পুুরুষ! অার শিক্ষিত মানুষের মাঝে বেকারের হার বেশি!
অথচ এই শ্রমিকরাই নিপীড়িত নির্যাতিত অধিকারহীন!

এখন সময় বদলে গেছে,বদলে গেছে রাজনৈতিক অর্থনীতি,শ্রমিকের চাওয়া পাওয়া,প্রত্যাশাও পাল্টেছে।ষোল কোটি মানুষের বাংলাদেশে শুধুমাত্র গার্মেন্টস অার প্রবাসী শ্রমিকই অাছে প্রায় দেড় কোটি!
অন্যান্য সেক্টরেতো রয়েছেই!অথচ সংসদে প্রকৃত শ্রমিকদের একজনও প্রতিনিধি নেই!!পুজি কিভাবে শ্রমকে শোষণ করে এই উদারণটাই মনে হয় যথেষ্ট!!

কার্লমার্ক্স বলছেন-
History of the existing society is the history of class struggle. এই ক্লাস বলতে তিনি শ্রমিকদেরকেই বুঝিয়েছিলেন।শ্রমিকদের ইতিহাসই মানব সভ্যতার ইতিহাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি শেষ করে বাংলাদেশে ষাট সত্তরের দশকে সাবেক ছাত্রনেতাদের শ্রমিক রাজনীতি করা একটা ফ্যাশনে পরিনত হয়েছিল। অার এখন এটাকে অার কেউ তেমন সম্মানের কিছু মনে করেনা!রাজনীতিতে টাকার খেলা যখন অনেক বড় হয়ে দাড়ায় শ্রমিক রাজনীতি তখন বড় অসহায়!
যেমনটা এখন!

এদেশে কৃষক রাজনীতি এখন নেই বললেই চলে, ষড়যন্ত্র হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই শ্রমিক ও ছাত্ররাজনীতি
বন্ধ করে দেওয়ার!রাষ্ট্র যথেষ্ট সফলও হচ্ছে!অথচ কৃষক শ্রমিক ছাত্ররাই যেকোনো লড়াইয়ের মূল রাজনৈতিক শক্তি।জাতীয় সংসদে শ্রমিকদের প্রকৃত
প্রতিনিধি,কলকারখানায় শ্রমিকদের রাজনীতি চর্চার মূল জায়গা শ্রমিক ইউনিয়ন গুলো চালু করার কোন বিকল্প নেই।

অাধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রেও শ্রমিকের ভুমিকা অস্বীকার করলে রাষ্ট্র অচল অসার।শ্রমিক রাজনীতি না থাকার এটাও একটা বড় কারণ যে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী শাসন।

মোঃনিজাম উদ্দিন
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সহ-সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ