প্রত্যাশার বাংলাদেশ কতদূর?

Pub: শনিবার, মে ৪, ২০১৯ ২:৩৩ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, মে ৪, ২০১৯ ২:৫৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

৪৮ বছরের ইতিহাসে একটা মানচিত্র ছাড়া সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্জন খুব গর্ব করার মত নয়।যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সেই
স্বপ্নকে ক্ষমতার যাঁতাকলে খুন করা হয়েছে বার বার।

রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে ক্ষমতাসীন দলের অংগ সংগঠনে পরিনত করা হচ্ছে। আইন,বিচার,নির্বাহী সকল বিভাগ চলে একজনের কথায়।দুদক, মানবাধিকার কমিশন রাষ্ট্রের চেয়েও ব্যক্তির চাওয়া পাওয়াকেই গুরুত্ব বেশি দেয়।
গড়ে উঠেনি মুক্ত স্বাধীন গণমাধ্যম।নির্বাচন কমিশন আজ অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার কমিশনে পরিনত হচ্ছে।বড় সমস্যা হলো জাতি হিসাবেই একটা হতাশায় আমরা আছি,সেটা স্হায়ী না হোক সেই প্রত্যাশা করি।

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পর প্রেসিডেন্টশিয়াল সিস্টেমকে বাদ দিয়ে হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদীয় ব্যবস্হা প্রথম প্রবর্তন করা হয়েছিল শুধু মাত্র একটা মানুষকে রাজনৈতিক ভাবে সাইজ করার জন্য। মাঝখানে প্রেসিডেন্টশিয়াল সিস্টেম ভাল ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘ মেয়াদী সামরিক স্বৈরশাসন সেটাকেও ধ্বংস করে দেয়।

নয় বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে মানুষ নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখেছিল।প্রেসিডেন্টশিয়াল সিস্টেম থেকে দেশে পার্লামেন্টারি সিস্টেম প্রবর্তন করা হলো।সামরিক স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো।বাহ্!

অবাক বিস্ময়কর ব্যাপার হলো গণতন্ত্রের এই যাত্রাটিকে মধ্যে পথেই থামিয়ে দেওয়া হলো।রাজনৈতিক দলের হাতেই গণতন্ত্রের কবর দেয়া হলো।
সামরিক স্বৈরাচারের জায়গা দখল করলো রাজনৈতিক স্বৈরাচার!অবৈধ ক্ষমতাকে হালাল করার জন্য সস্তা দামে বিক্রি করা হলো মুক্তিযুদ্ধকে,শহিদের অাত্মত্যাগ ও পবিত্র রক্তকে।

এখন মানুষকে ভোট দিতে দেয়া হয়না।এখন কে ক্ষমতায় থাকবে কে থাকবে না সে সিদ্ধান্ত নেয় যারা ক্ষমতায় অাছে তারাই!বাংলাদেশের জনগন এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাহীন,অসহায়।অথচ রাষ্ট্রের মালিক জনগণ।গণতন্ত্রের দিক থেকে বাংলাদেশ কী উত্তর কোরিয়ার চেয়ে খুব ভাল অাছে?

একটা দুঃখ জনক বিষয় হল এদেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট এখন এ রকম যেন গণতন্ত্র মনে হয় একটা বিশেষ দলের বিষয়,সবার না!উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে হত্যা,গুম,লুট,ভোট ডাকাতি সব জায়েজ করা হচ্ছে!

আরেকটা শ্রেণীও সক্রিয় আছে দেশে যারা ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে কথা বললেও সরকারটা যে অবৈধ এটা নিয়ে কথা বলতে চায় না,সেই সাহস নেই!
এই অবস্হানটাও কী একধরণের সুবিধা বাধিতা বা অবৈধ কিছুকে বৈধতা দেয়া নয়?

আমাদের সামাজিক অর্জন গুলো আজ রাজনৈতিক অর্জনগুলোকে ছাপিয়ে গেছে,অথচ হওয়ার কথা ছিল
উল্টোটা!ডক্টর ইউনুস নোবেল পেয়েছেন,ব্র্যাক দুনিয়ার সবচেয়ে বড় এনজিওর খেতাব পেয়েছে।কিন্তু রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ গণতন্ত্রকেই ধরে রাখতে পারেনি!

বাংলাদেশ আজ রাজনৈতিকভাবে যে সিস্টেমে পড়ে গেছে এটা এক ভয়াবহ প্রবনতা।আলাপ আলোচনা সংলাপ কিংবা আইনগত প্রক্রিয়া এগুলোর মধ্যে আমি আপাতত কোনো সমাধান দেখিনা, হতে পারে আমার দেখার চোখ ভুল।

আদর্শিক রাজনীতির চর্চা এবং সেই রাজনৈতিক শক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে বড় ধরনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তির আপাতত কোনো পথ নেই!চলমান লড়াইটা শুধু ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়,রাষ্ট্রের জঘন্য সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য।

স্বৈরাচারকে কখনোই আইন আদালত সংলাপে পরাজিত করা যায়না,দুনিয়ায় এমন ইতিহাস বিরল। রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে আমরা যদি মনে করি স্বৈরাচারের মোকাবেলা করার জায়গায় আমরা নেই তাহলে মুক্তিও অসম্ভব!

তবে কাজটা তরুণদেরই করতে হবে।মহান বিপ্লবী আর্নেস্তু চে গুয়েভারার একটা বিখ্যাত উক্তি আছে-
“নিষ্ঠুর নেতাদের পতন ও প্রতিস্থাপন চাইলে নতুন নেতৃত্বকেই নিষ্ঠুর হতে হয়”।

।।
মো:নিজাম উদ্দিন
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সহসম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1052 বার