fbpx
 

বিএনপি-পলিটিক্স,পলিসি, মিডিয়া

Pub: মঙ্গলবার, মে ১৪, ২০১৯ ১০:১২ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, মে ১৪, ২০১৯ ১০:২৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

০১.
বিএনপির নীতি আদর্শ ও জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত জীবনের সোনালী অর্জনগুলো ব্যাপারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের শুধু কট্টরপন্থীই নয়, চরম কট্টরপন্থী হওয়া দরকার।বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির যে প্রতিপক্ষ শক্তি তাকে মোকাবেলায় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার প্রধান হওয়া চাই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে একটি কট্টরপন্থা।না হয় ক্ষমতায় গেলেও পরিনতি নেগেটিভ হতে পারে।এক বিংশ শতাব্দীর চেলেঞ্জ মোকাবেলায় তরুন প্রজন্মের মধ্য বিএনপিকে জনতা ও ক্ষমতার রাজনীতিতে ঠিকে থাকতে হলে জ্ঞান ভিত্তিক মেধাবী প্রজন্মের রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই।

০২.
পলিটিক্স এখন অনেকটাই পলিসি নির্ভর।পাঁচ পার্সেন্ট ভোট পেয়েও আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কিভাবে বুঝাতে পারলো যে তারাই সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় অাছে?বিষয়টা বুঝতে হবে গভীরভাবে। অথচ জনগণ তাদের সাথে একেবারেই নেই!

বিশ্বের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর রিসার্চ উইং অত্যন্ত শক্তিশালী। দলের ডেডিকেটেড মেধাবী প্রজন্মকে তারা দলেই ইনভেস্ট করে।চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টি,উত্তর কোরিয়ার ওয়াকার্স পার্টি,মুসলিম ব্রাদারহুড, আমেরিকার ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান পার্টি,ব্রিটেনের লেবার ও কনজারভেটিভ পার্টি কিংবা ভারতের কংগ্রেস ও বিজেপির দলীয় গবেষণা ফার্ম অত্যন্ত শক্তিশালী,বিস্ময়করই বটে।

০৩.
৪০ বছরের একটা দল বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে একজন মহান নেতা ও তাঁর আদর্শের যোগ্য উত্তরাধিকারের হাতে বার বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে।অতীতে যে কাজটা আমরা কখনোই করতে পারিনাই সেটা হলো আগামী ৪০,৫০,কিংবা ১০০ বছর পরে দলকে কোথায় কিভাবে দেখতে চাই সেই পরিকল্পনার একেবারেই শূন্যতা!এগুলো অবশ্যই সামষ্টিক চিন্তা চেতনার ফসল,যেটা হয়নি। এজন্যই দল তার রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় অতীতে কয়েক বার বাজে পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।

বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন ভালবাসা আবেগ বরাবরই বিস্ময়কর।মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই অন্ধের মত ভালবাসে বিএনপিকে।জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মকে।অামার দৃঢ় বিশ্বাস বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দল হিসাবে বিএনপি ভারতের কংগ্রেসের মতই দীর্ঘ মেয়াদী রাজনীতিতে ঠিকে যাবে,যে যাই বলুক না কেন।শর্ত একটাই শুধুই জিয়াউর রহমানের আদর্শের চর্চাটা অব্যাহত রাখতে হবে।শুধুই হোন্ডা আর গুন্ডা মার্কা রাজনীতির সময় এখন শেষ!তবে রাজপথে একটা দলের যে উপস্থিতি ও ম্যানপাওয়ার দরকার তার পুরোটাই আছে।

০৪.
বিগত সময়ে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন দলীয় কিছু বিষয়ে আরো বেশি সিরিয়াস হওয়ার প্রয়োজন ছিল।সামষ্টিক চিন্তায় দলের এমপি মন্ত্রীরা সত্যিকারের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রচার ও প্রসারের চেয়ে নিজের ঠিকে থাকার চিন্তাটাই বেশি করেছেন।

বিগত চল্লিশ বছরে দলের শক্তিশালী কোনো মিডিয়া উইং তৈরি হয়নি,চেষ্টাও হয়নি!দলীয় রিসার্চ ইউং নেই বললেই চলে।যাআছে তা কতিপয় ব্যক্তির ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পত্তির মত!

অাওয়ামী লীগের বর্তমান সকল কার্যক্রম পলিসি মেকিংও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সিআরআই নামক দলীয় গবেষণা সেল,যা ওদের দলের অত্যন্ত শক্তিশালী একটি উইং,তাকে মোকাবেলায় আমার দলের প্রস্তুতি কী? আধো আছে কী?না থেকে থাকলে ভাবনার সময় এখনই।অনেকেই বলতে পারেন রাজনৈতিক দলত কোনো করপোরেট হাউজ নয় এসবের কী দরকার?

দলের প্রতিটি অংগসংগঠন গুলোর নিয়মিত কমিটি করার একটা স্হায়ী ও গ্রহণ যোগ্য ব্যবস্হা করা খুব জরুরী হয়ে পড়েছে।যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রাণ তার ছাত্র সংগঠন।বিএনপিকে ছাত্রদল সম্পর্কে খুব সিরিয়াস না হলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে। পরিবর্তন যখনই হোক মূল কাজটা ছাত্র ও তরুণদেরকেই করতে হবে।

০৫.
কোনো রাজনৈতিক দলে টেকনোক্রেট লিডার অধিক হারে বেরে যাওয়া,দলের নিয়ন্ত্রণ কোনো বিশেষ পেশাজীবি গোষ্ঠীর হাতে চলে যাওয়াটা সেই দলের জন্য একটা ভয়ংকর ব্যাপারই বটে।দলীয় রাজনীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একেবারেই রাজপথের পিউর পলিটিশিয়ানদের আধিপত্য থাকা চাই।রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অরাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমে হলে ভুলের সম্ভাবনাই বেশি!

দলের সকল পর্যায়ের নেতাদের এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় যুক্ত হওয়াটাও একটা ভাল লক্ষণ নয়!সবাইকে এমপিই হতে হবে কেন?মনে রাখতে হবে সকল এমপিরাই রাজনীতিবীদ নয়।শুধু এমপি তৈরি করাই একটা রাজনৈতিক দলের একমাত্র কাজ হতে পারে না।যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী দলের নির্দিষ্ট সেক্টরে দক্ষ লোকদের যোগ্য জায়গায় কাজ দেয়াটা জরুরী।

দার করা বুদ্ধিজীবী দিয়ে দলে ভেজাল ডুকার সম্ভাবনাই বেশি,যে ও যারা দলকে ধারণ করেনা এসব মহানায়কদের সাইডে রেখে দলের একটা পিউর জেনারেশন তৈরি করতে হবে যারা নীতি অাদর্শের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবেনা,চরমকট্টরপন্থী।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সাংস্কৃতিক জগতের সরকারি নেতৃত্বের লোকের অভাব হবেনা জানি তবে দেশনেত্রী গ্রেপ্তারের পর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর মুক্তির দাবীতে একটা ক্রিয়েটিভ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ দেখলাম না,যা হচ্ছে সব রাজপথে।খুব জানতে ইচ্ছে করে হবু সংস্কৃতি মন্ত্রীটা কে?বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা, শিশু একাডেমি কিংবা নজরুল ইনস্টিটিউটে যারা নেতৃত্ব দিবে ওরা কারা?

০৬.
দলকে একেবারেই রাজনৈতিক নেতাদের হাতে তুলে দিতে হবে।স্বপ্নের জগত তৈরি করে দিতে হবে,স্বপ্ন দেখাতে হবে তরুন প্রজন্মকে।অামি অাবারও বলছি দলীয় অাদর্শের ব্যাপারে অবশ্যই কট্টরপন্থী, চরম কট্টরপন্থী হতে হবে।

টেকনোক্রেটদের কাজের জায়গা লিমিটেড করে দিতে হবে।ছাত্রদলের ইয়াং ডাইনামিক জেনারেশনটাকে রাজপথ ও পড়াশোনার ভেতরে রাখতে হবে,দলের ভবিষ্যৎ মঙ্গলের জন্যই এখন থেকেই ভাবতে হবে কিভাবে দলীয় শক্তিশালী রিসার্চ উইং তৈরি করা যায়,এটা অবশ্যই করতে হবে।প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা মোকাবেলায় নিজেদের নিজস্ব মিডিয়া জগত ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলেরই বর্তমান সময় ও বাস্তবতায় ঠিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হবে।

অামার দৃঢ় বিশ্বাস আগামী দিনে বিএনপি এব্যাপারে নিশ্চয়ই খুব সিরিয়াসলি ভাববে।

মোঃনিজাম উদ্দিন
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সহসম্পাদক,ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ
এমফিল গবেষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাবি


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ