fbpx
 

এই জবাব একটা না একটা সময় মানুষকে দিতে হবে’

Pub: Thursday, May 16, 2019 7:53 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আসিফ নজরুল :

আপনি যদি একটা দেশকে ধ্বংস করতে চান তাহলে প্রাথমিক পদক্ষেপ হচ্ছে একটা দেশের প্রজন্মকে নষ্ট করে দেয়া, আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়া। দিকভ্রান্ত করে দেয়া। পরস্পরকে পরস্পরের প্রতি ক্ষিপ্ত ও অশান্ত করে তোলা। এ সমস্ত কিছু বাংলাদেশে করা হচ্ছে এখন। যার একটা পদ্ধতি ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং জিপিএ ফাইভ দেয়ার প্রবণতা। এটা করে আমরা একটা মেকি, অন্তঃস্বারশূন্য তরুণ প্রজন্ম তৈরি করেছি। আমি শিক্ষক। আমি শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় দেখেছি জিপিএ ডাবল ফোর পাওয়া শিক্ষার্থী একটা লাইনও লিখতে পারে না খাতার মধ্যে। তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করেছি, ‘পাশ করলা কীভাবে?’। সে খুবই অবাক। সে কীভাবে পাশ করেছে সে নিজেও জানে না।

এমনও শিক্ষার্থী দেখেছি একটা প্রশ্নই ৫০ বার লিখেছে খাতার মধ্যে। ৩.৬ পাওয়া মেয়ে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘পাশ করলা কীভাবে?’ সে বলল, ‘আমি এভাবেই লিখি।’ তার মানে, প্রশ্নই সে উত্তরপত্রে লিখে পাশ করে এসেছে। কেউ নজর দেয় নাই। শিক্ষকদের প্রতি নির্দেশনা ছিল সবাইকে পাশ করাতে হবে, সবাইকে ভালো নাম্বার দিতে হবে। এটা অত্যন্ত জঘন্য একটা কাজ করা হয়েছে। বাংলাদেশের একটা প্রজন্মকে শেষ করে দেয়া হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস, জিপিএ ফাইভ দেয়া, মাদকের অবাধ প্রবাহ ঢুকিয়ে দেয়া, পর্নোগ্রাফির অবাধ প্রবাহ ঢুকিয়ে দেয়া, অতি আবেগীয় রাজনৈতিক বিষয়কে দেশের সবচেয়ে বড় বিষয় করে তোলা, হানাহানি হিংসা বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া, এবং আমাদের এখানে যারা প্রচণ্ড শ্রদ্ধেয় মানুষ ছিলেন- ড. কামাল হোসেন, ড. ইউনূস, এমনকি মাশরাফি- সবাই ভালোবাসতো তাকে… তাকেও বিতর্কিত করে দেয়া হয়েছে জাতীয় নির্বাচনে নামিয়ে দিয়ে। সবাই শ্রদ্ধা করবে, সবাই ভালোবাসবে এরকম কোনো জায়গা আর অবশিষ্ট রাখে নাই। আমি বিশ্বাস করি না এটা পরিকল্পনাহীনভাবে করা হয়েছে। একটা পুরো প্রজন্মকে দিকভ্রান্ত, অন্তঃস্বারশূন্যভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
কেউ যখন অন্য একটা দেশকে চরমভাবে শোষণ করতে চায় এবং সেই দেশের শাসনব্যবস্থার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে… তখন এ ধরনের প্রবণতা বিভিন্ন দেশেই হয়। আপনারা তরুণ প্রজন্ম আছেন, অনুসন্ধান করে দেখবেন, আমি জানি না, কী মহৎ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে সবাইকে জিপিএ ফাইভ দেয়া হতো এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসটাকে প্রায় অবারিত রাখা হতো? এই জবাব একটা না একটা সময় মানুষকে দিতে হবে।

(একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার থেকে সংগৃহীত)


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ