fbpx
 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লন্ডন সফর ও তাঁর ফোনালাপ এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র

Pub: রবিবার, মে ১৯, ২০১৯ ৮:০০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাহফুজর রহমান : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ০১ মে চোখের চিকিৎসার জন্য দশদিনের লন্ডন সফরে আসেন। এবারের শেখ হাসিনার লন্ডন সফর বেশ ঘটনা বহুল, আলোচিত ও সমালোচিত। বিশেষত যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে টেলিফোনালাপ। এই টেলিফোনালাপটি শ্যোসাল মিডিয়া সহ বেশ কয়েকটি প্রিন্ট মিডিয়াতে এসেছে। বিশেষত শ্যোসাল মিডিয়াতে শেখ হাসিনার এই টেলিফোনালাপটি ছিলো ২০১৯ সালের ০২ মে ও তার পরের কয়েকদিন বাংলাদেশে টক অব দ্যা টাউন। তবে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো অন্যন্য অনেক মামুলী বিষয় নিয়ে দেশের মিডিয়াগুলো মাতা মাতি করলেও শেখ হাসিনার এই টেলিফোনালাপটি নিয়ে বাংলাদেশের কোন সংবাদপত্র বা টিভি খবর প্রচার বা বিষয়টি নিয়ে টকশো করার সাহস করেনি। এতে বোঝা যায় বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো স্বাধীন নয় বা এক ধরনের ভয়ের সংষ্কৃতি মিডিয়াগুলোতে বিরাজ করছে। সরকারের বিরুদ্ধে যায় এমন সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে মিডিয়াগুলো চাপে রয়েছে তা সহযেই অনুমান করা যায়।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ০১ মে বিকেলে লন্ডন পৌঁছান। তাকে রিসিভ করতে পূর্ব থেকেই বুক কারা সেন্ট্রাল লন্ডনে অবস্থিত পাাঁচ তারকা হোটেল কারিজিয়াস এর সামনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হলে আকস্মিক ভাবেই শেখ হাসিনার জন্য বুক করা পাাঁচ তারকা হোটেল, বুকিং বাতিল করে দেয়। শেখ হাসিনাকে না পেয়ে তাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষমান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পক্ষ হতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে ফোন দিয়ে লাউড স্পিকারে রাখেন যাতে অন্যান্য নেতাকর্মীরা তা শুনতে পারে। অপেক্ষমান নেতাকর্মীদের এক বা একাধিক ব্যাক্তি শেখ হাসিনার এই টেলিফোনালাপটি ফেসবুকে লাইভ করে। সেখানে উপস্থিত থাকা এক বা একাধিক সাংবাদিকও হাসিনার এই কথোপকথনটি রেকর্ড করেন। শেখ হাসিনার এই টেলিফেনালাপটি কয়েকঘন্টার মধ্যেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির নামে বুক করা সেন্ট্রাল লন্ডনের সেন্ট জেমস কোর্ট স্ট্রিটে অবস্থিত ভারতীয় মালিকানাধীন তাজ হোটেলে উঠেন বলে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়।
টেলিফেনালাপটিতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়াও যে অংশগুলি বাংলাদেশের মানুষের কাছে কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে তা হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হোটেল বুকিং বাতিল। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর হোটেল বুকিং বাতিলের ইতিহাস পাাঁচ তারকা হোটেল গুলোর ইতিহাসে খুব একটা নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাই কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন ওঠা অমূলক নয়। প্রধানমন্ত্রীর হোটেল বুকিংই যদি হাইকমিশন ঠিক না রাখতে পারে তাহলে তাদের আর কাজটা কি? অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরটিও ছিলো অকস্মাৎ। মাত্র একদিনের নোটিশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার লন্ডন সফরে এসেছেন। এমন একটা সময়ে শেখ হাসিনা লন্ডন সফরে এসছেন যার মাত্র এক দিন পরই প্রলয়ংকারী ঘূর্নীঝড় ফনী বাংলাদেশে আঘাত করবে। মাত্র একদিনের নোটিশে কোন প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের নজির বাংলাদেশে এই প্রথম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেলিফোনালাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ন অংশ হলো বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি সংক্রান্ত। তিনি বলেছেন “বিএনপিকে জানায় দিয়েন তারেকের ওরা যদি বেশী বাড়া বাড়ি করে আমার সাথে, তার মা জীবনেও জেল থেকে বের হবে না। কারণ শেখ হাসিনাকে চাপদিয়ে কিছু আদায় করা যায় না”। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই কথা থেকে দুই টি বিষয় স্পষ্ট একটি হলো শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার ব্যপারে চাপে রয়েছেন। আরেকটি বিষয় হলো বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি শেখ হাসিনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।
টেলিফেনালাপকে উদ্ধৃত করে ২০১৯ সালের ০৪ মে জাতীয় প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহনের সময় বলতে হয় “আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন-অনুযায়ী যথাবিহীত আচরণ করিব।” খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টতই তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। শপথ ভঙ্গের কারণে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।
রাজনৈতীক বিশ্লেষকগন মনে করেন শেখ হাসিনার এই কথা আদালত অবমাননার শামিল। আদালত কাকে মুক্তি দেবে না দেবে এটা আইন অনুযায়ী বিবেচিত হবে। তবে আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে বেগম খালেদা ঝিয়ার মামলা রাজনৈতীক উদ্দেশ্য প্রনোদিত নয় এবং এত তাদেও কোন হাত নেই। বিএনপির নেতারা দাবি করেন আদালত অবমাননার দায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বিএনপির দাবি বেগম খালেদা জিয়াকে শেখ হাসিনা তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আদালতের মাধ্যমে বন্দী করে রেখেছেন। বিএনপি আরো দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেলিফোনালাপের মাধ্যমে স্পষ্ট, বাংলাদেশের আদালত শেখ হাসিনা এবং ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আদালতের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের অনেক উদাহরণ রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফাঁসাতে আদালতের রায় পাল্টানোর জন্য বন্দুকের নলের মুখে প্রাণনাশ আর লাশগুমের হুমকি দেওয়া হয়েছিলো ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর সাবেক বিচারক মোতাহার হোসেনকে। প্রধানমন্ত্রী নিয়োজিত বিশেষ গোয়েন্দাসংস্থা, তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী মাকরুল ইসলাম এবং আইন সচিব দুলাল বিচারপতি মোতাহার হোসেনকে চাপ দিয়েছিলেন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রায় দেয়ার জন্য। তারেক রহমানের মামলার রায় কি হবে তাও লিখে দিয়েছিলেন আইন সচিব জহিরুল হক দুলাল। আমেরিকার একটি গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিচারপতি মোতাহার হোসেন নিন্ম আদালতে বিচারের রায় দেওয়া নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা অর্থপাচার সংক্রান্ত রায় ঘোষণা করেন তিনি। কোন অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে তিনি তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রায় না দেয়ায় প্রাণনাশের ভয়ে বিচারপতি মোতাহার হোসেন ০৪ দিনের ছুটি নিয়ে আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হন।
সাবেক প্রধান বিচারপিত সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দেশ ছাড়ার ঘটনাও অনেকেরই জানা। প্রধানবিচারপতি এস কে সিনহার একটি রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ক্ষমতাসীনদের মনোপুত না হওয়ায় প্রধানবিচারপতির পদ এমনকি দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিলো তাকে। শেখ হাসিনার টেলিফোনালাপ বা এই ঘটানাগুলোতে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশের আদালত বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রের ০৩টি অঙ্গ আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বা শাসন বিভাগ এই তিনটি বিভাগই এখন প্রায় অকার্যকর।
বিচার বিভাগের দৈন্যদশার চিত্র শেখ হাসিনার টেলিফেনালাপ বা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বা বিচারপতি মোতাহার হোসেনের ঘটনায় সহজেই অনুমান করা যায়। তাছাড়া বর্তমানে নিন্ম আদালতের বিচারপতিরা এখন আইন মন্ত্রনালয়ের অধীনে কর্মরত কর্মকর্তা মাত্রা। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রী, আইন প্রতিমন্ত্রী এমনকি সচিবদের ইচ্ছা অনুযায়ী তাদের চাকুরী করতে হয়। প্রধান বিচারপতির এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপীল বিভাগ যে বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছিলো সেখানে নি¤œ আদালতের বিচারপতিদের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের অধীনে রাখা হয়েছিলো। তার এই বিধিমালা ক্ষমতাসীন দলের মনোপুত না হওয়ায় সরাকার তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিলো। ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার এস কে সিনহার বিধিমালা বাদ দিয়ে নিন্ম আদালতের বিচারপতিদের আইন মন্ত্রনালয়ের অধীনে নিয়ে আসে। ফলে নিন্ম আদালতের বিচারপতিদের স্বাধীনভাবে রায় দেয়ার ক্ষমতা খর্ব হয়। রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ন অঙ্গ বিচার বিভাগ দেশের জনগণের স্বার্থে নয় ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে।
আইন বিভাগ বা জাতীয় সংসদের কাজ হলো দেশের জনগণের স্বার্থে আইন প্রনয়ন, সংশোধন ও পরিবর্তন করা। বর্তমান সংসদে কি আইন পাশ হয় তাসম্বন্ধে দেশের সাধারণ জনগণতো বটেই এমনকি মিডিয়াগুলোও অবগত নয়। তাছাড়া কোন আইন পাশের আগে তা নিয়ে সংসদে কোন আলোচনাও করা হয় না। সংসদের কার্যকলাপ নিয়ে দেশের সাধারণ জনগণেরও কোন কৌতুহল নেই। কারণ বর্তমান সংসদ সদস্যরা কেউই সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন না। ২০১৪ সালের ০৫ জানুয়ারির এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ভোটার বিহীন নির্বাচনের ফলে বাংলাদেশকে জনপ্রতিনিধিত্ব শূন্য করা হয়েছে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই জনপ্রতিনিধিত্বহীন সরকার জনগণের স্বার্থে কাজ করে না। কারণ তারা জানে জনগণের ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় আসা যায় এবং থাকাও যায়। বর্তমান সংসদ সদস্যদের জবাবদিহীতার কোন জায়গা নেই। ফলে দেশে লুটপাট, দূর্নীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে আধিপত্ববাদী শক্তিগুলো সহজেই বাংলাদেশে তাদের আধিপত্ব বিস্তার করতে পারছে। যা ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশকে আধিপত্ববাধী শক্তিহগুলোর দাসে পরিনত করছে। একটি পক্ষকে ক্ষমতায় রেখে বাংলাদেশের রাজনীতি এবং অর্থনীতি এই আধিপত্ববাদী শক্তিগুলো নিয়ন্ত্রন করছে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
নির্বাহী বিভাগ বা শাসন বিভাগের কাজ হলো আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপরিচালনা করা। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীরাও এই বিভাগের অর্ন্তভূক্ত। নির্বাহী বিভাগের কি অবস্থা তা আইন সচিব দুলাল ও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দিনের নিয়োগ ও তাদের কর্মকান্ডে বোঝা যায়। চাকরির মেয়াদ শেষে অবসর গ্রহণ করার পরও আওয়ামী লীগ সরকার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে এস কে জহিরুল হক দুলালকে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব হিসাবে নিয়োগ দিয়ে রেখেছে। এই দুলালই সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী নিন্ম আদালতের বিচারকদের নিয়োগ ও বদলী এমনকি, কি রায় হবে তা নির্ধারন করে দেয়। আর নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দিনকে ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়। নির্বাচন কমিশনারদের উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত এমনকি নির্বাচন প্রক্রিয়া কিভাবে বা কখন অনুষ্ঠিত হবে তা এই হেলালুদ্দিন নির্ধারণ করে থাকেন বলে বিভিন্ন পত্রিকাতে বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে। খুলনায় ভোটার বিহীন নতুন মডেলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করায় আওয়ামী লীগ সরকার তাকে ঢাকায় ০৭ কাঠার একটি প্লটও উপহার হিসাবে দিয়েছিলো। বর্তামানে সচিবালয়ে সরকারি দলের বিরাগভাজন ৬৫০ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করে রাখা হয়েছে। এতে বোঝা যায় প্রশাসনে এখন কেবলমাত্র সরকারের আস্থাভাজনরাই কাজ করছে। ফলে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ন অঙ্গটি জনগণের স্বার্থে কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেলিফোনালাপে বোঝা যায় ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্রের এই প্রধান অঙ্গগুলো কাজ করছে। দেশে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ক্ষমতাসীন মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ দেশের সকল সুবিধা ভোগ করছে বাকীরা বঞ্চিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট হয়ে গেলে রাষ্ট্র জনগণের জন্য কাজ করতে ব্যর্থ হয় এবং কার্যকারিতা হারায়। দীর্ঘদিন এই পক্রিয়ায় রাষ্ট্র চলতে থাকলে সার্বভৌমত্ব নষ্ট হতে পারে।

এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, শীর্ষ খবর ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ