fbpx
 

মধ্য প্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আবার আমেরিকার যুদ্ধের দামামা?

Pub: বুধবার, মে ২২, ২০১৯ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, মে ২২, ২০১৯ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ড. এম এ আজীজ :
সম্প্রতি মধ্য প্রাচ্যে আবার ধ্বংসাত্বক যুদ্ধের দামামা বেজে উঠছে। আর তা হচ্ছে, মুসলিম দেশ ইরানের প্রতি আমিরিকার যুদ্ধাংদেহী আক্রমানত্বক মনোভাব নিয়ে পারস্য উপসাগরে নিজেদের যুদ্ধ বিমান বাহী রনতরী সহ অন্যান্য মারাত্বক বি-৫২ বোমারু বিমান গুলো পাঠানো। যদিও দুই রাজপুত যথা সৌদা প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও আরব আমীরাতের পিন্স মোহাম্মদ বিন যায়িদ এবং ই¯্রাইল ছাড়া অন্য যে কোন দেশ এই যুদ্ধের পক্ষে নয়। বরং এখন পর্যন্ত যুদ্ধের বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশ করছে।
ইতি মধ্যে কয়েকটি মুসলিম দেশ ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। লাখ লাখ মুসলিম অকাল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। লাখ লাখ মুসলিম পংগু হয়েছে। লাখ লাখ মুসলিম সর্বহারা হয়ে আজ দেশে দেশে রিফিউজী হয়ে নানা ক্যাম্পে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই পৃথিবীর তৈল সমৃদ্ধ উন্নত দেশ ইরাক, লিবিয়া আজ পাথর যুগের অবস্থায় পৌঁচেছে। শেষ পর্যন্ত ইরাকের অবস্থা একটু উন্নত হলেও বোমাবাজী এখনও বন্ধ হয় নাই। যে দেশে অন্যান্য দেশের লাখ লাখ লোক কাজ করে নিজেদের পরিবার পরিজন লালন পালন ও ভরন পোষন করতো আজ সেই দেশের মুসলমানেরা জীবন-জীবিকার তাগীদে কাজ না পেয়ে নানা ভাবে অসহায় জীবন যাপন করছে।
ইতিমধ্যেই আফগান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়ামেন ও সোমালিয়ার অবস্থা করুন। এই সব দেশগুলোকে আমেরিকা ও তার অনুসারী পশ্চিমা শক্তিগুলো প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে নানা অজুহাত দেখিয়ে আক্রমন করে নানা বোমা ব্যবহারের পরীক্ষা চালিয়ে সর্বহারা করে দিয়েছে। তারপর নানা ভাবে গৃহ যুদ্ধ লাগিয়ে শান্তিপূর্ণ মুসলমানদের জীবনকে নরকে পরিনত করে রেখেছে। মানুষ জীবিকার ও শান্তিতে বসবাসের অন্বেষনে পশ্চিমা দেশে পৌঁচার জন্যে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বৌ-বাচ্চা নিয়ে সাগরের অথৈ পানি আর ঢেউতে মরে লাশ হয়ে বার বার খবর হচ্ছে। কিন্তু ঘটনার কোন শেষ হচ্ছেনা।
হটাৎ করে এই যুদ্ধের দামামা কেন ? এটা জানতে হলে আমাদেরকে একটু পিছনে যেতে হবে। বিশেষ করে ১৯৭৯ সালে ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনীর নেতৃতে¦ শাহ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে যে রেভ্যুলেশন সংঘঠিত হয় তখন থেকে আমেরিকার সাথে ইরানের সম্পর্ক সিংহ আর মহিষের মতই অথবা সাপে নিউলে সম্পর্ক চলে আসছে। কারন ইরানে যে শাহ এর বিরুদ্ধে জনগন রেভি্যুলিউশান করেছে সেই শাহকে আমেরিকার সিআইএ ও বৃটিশ মিলে গনতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ১৯৫৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অপসারন করে রেজা পাহলভীকে তাদের গোলাম হিসাবে ক্ষমতার মসনদে বসিয়েছিল। এবং ইরানকে একটি ক্লায়েন্ট রাস্ট্র হিসাবে ব্যবহার করে তৈল সম্পদ ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ লুট করছিল। ইরানের শাহ পাহলভী নিজের দেশের জনগনের স্বার্থের চাইতেও বেশী দেখেছিল আমেরিকা ও পশ্চিমাদের স্বার্থ। কারন ক্ষমতায় বসা ও থাকার জন্যে তাদের উপরই নির্ভর ছিল। সেই ৬০ ও ৭০ দশকে তৈলের বদৌলতে শহরের কিছু লোক ধনী হলেও গ্রামের অধিকাংশ গরীব কৃষকেরা কোন ভাবে গরীবি জীবন যাপন করছিল। এছাড়া একটি কট্টর মুসলিম দেশকে পশ্চিমা সভ্যতার ধাঁচে গড়ে তোলার জন্যে যা যা করা দরকার শাহ তার প্রভুদের পরামর্শে ও সাহায্যে সবই করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। দেশে মদ জুয়া ও অন্যান্য অপকর্মে সয়লাব করে দিচ্ছিল। অথচ ইরান একটি ঐতিহ্যবাহী ইসলামের অনুসারীদের দেশ। অসংখ্য আলেম ওলামার দেশ। একটি মুসলিম সভ্যতার দেশ। আলেম ওলামাদের অনুসারীদের দেশ। আলেম ওলামারা ও জনগন কোন ভাবেই তা মেনে নিতে পারছিলনা।
দেশের আলেম ওলামারা ও জনগন অন্যায়ের বিরুদ্ধে যখনি কোন প্রতিবাদ করার চেষ্টা করছিল, তখনি তাদের উপর অত্যাচারের খড়গ নেমে এসেছিল। তাদেরকে জেলে অবর্ননীয় জুলুম, গুম, খুন ও হত্যার মাধ্যমে ধমন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। শাহার বিভিন্ন বাহীনির অত্যাচারে বহু নিরাপরাধ মানুষ আলেম ওলামা গুম ও শহীদ হয়ে গিয়েছিল। ইরানের সেই বীর পুরুষ, সকল ওলামার গুরুজন ইমাম খোমেনীও জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্বে কথা বলতে গিয়ে, অনৈসলামিক কার্য্যকলাপের বিরুদ্বে প্রতিবাদ করতে গিয়ে, নিজের বাবা ও এক ছেলেকে হারিয়েছে। তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত হিজরত করতে বাধ্য হয়ে ইরাকে নির্বাসনে যেতে হয়েছে। আর সেই ইরাকের নাজাফ থেকে নিজের প্রতিবাদ অডিও ক্যাসেটের মাধ্যমে ইরানের আলেম ওলামা ও জনগনকে পাঠিয়ে আন্দোলনের জন্যে প্রস্তুত করছিল। এই ভাবে প্রায় ১৫ বছর ইরাকের ধর্মীয় রাজধানী নাজাফ থেকেই শাহার বিরুদ্ধে কাজ চালিয়ে গেছেন।
যাই হোক ১৯৭৯ সালে শেষ পর্যন্ত আলেম ওলামারা ও তাঁর অসংখ্য ছাত্র, ভক্ত, দেশ দরদীরা যখন জান বাজী রেখে মাঠে নেমে পড়ল শাহার অত্যাচার অবিচারের বিরুদ্ধে তখন শাহার বাহীনি অসংখ্য প্রতিবাদীদেরকে গুলি করে শহীদ করলো। তবুও আন্দোলনকে দমাতে পারলোনা আরও বাড়লো। এদিকে ইমাম খোমেনীকে ইরাকের আর এক অত্যাচারী শাসক সাদ্দাম হোসাইন দেশ থেকে বহিস্কার করলো। ইমাম খোমেনী বাধ্য হয়ে ফ্রান্সে চলে গেলেন। তখনি ইরানের আন্দোলন বিশ্বব্যাপী প্রচার পেলো। পৃথিবীর জনগন জানতে পারলো ইরানের সঠিক অবস্থা।
শেষ পর্যন্ত গনঅভ্যুত্থানে টিকতে না পেরে শাহকে আমিরাকার নির্দেশে প্রথমে মিশরে পরে আমেরিকার হাওয়ায়ে আশ্রয় নিল। ইমাম খোমেনী কোটি কোটি ইরানের সংগ্রামী আন্দোলন কারীদের আহ্বানে ফ্রান্স থেকে ইরানে এসে ১৯৭৯ এ জনগনের মাধ্যমে ক্ষমতা হাতে নিলেন। স্বাভাবিক ভাবে জনগনের ও সরকারের সমস্ত প্রতিষোদের আগুন আমেরিকার প্রতি পড়ল। তারপরও আমেরিকার এম্বেসী ইরানেই ছিল। বন্ধ করা হয় নাই। কিন্তু তার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী সরকার ও জনগনের বিরদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র এম্বেসির মাধ্যমে আবার শুরু করলো। দেশের মধ্যে শাহার কিছু অনুসারীদের দিয়ে নানা স্থানে বোমা বিষ্ফোরন ঘটিয়ে জালমালের ভীষন ক্ষতি করা শুরু করলো। ইতিমধ্যে বহু কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ হলেন। দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে আবারও অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টায় লিপ্ত ছিল এম্বেসীর কর্মচারীরা।
তাই ইরানের বিপ্লবী ছাত্ররা এম্বেসী দখল করে সমস্ত স্টাফদেরকে বন্ধী করে নিল। কোন সন্দেহ নাই ছাত্ররা আমেরিকান স্টাফদের সাথে ভাল ব্যবহার করেনাই। বরং স্পাই হিসাবে ব্যবহার করছে যা আমেরিকানদের জন্য চরম অপমান জনক ছিল। অনেক চেষ্টার পরও প্রেসিডেন্ট কার্টার সরকার তাদেরকে ছাড়িয়ে নিতে পারেনাই। যাই হোক পরবর্তী পর্যায়ে এক সমযোতার মাধ্যমে সব স্টাফ ছাড়া পেলেও আজ পর্যন্ত ইরানের সাথে আর স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে উঠে নাই।
আমেরিকা যেমন তার পরাজয় ও এম্বেসীর অপমান আজও ভুলতে পারেনাই তেমনি ইরান সরকার ও ইরান বাসীরা তাদের উপর নানা অবিচার ও অত্যাচারের কথা ভুলতে পারে নাই। এদিকে ইরান সম্পুর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় আমেরিকার উস্কানিতে ইরাকের স্বৈরশাসক সাদ্দাম কর্তৃক আক্রান্ত হলো এবং ইরানের অনেক ভুখন্ড দখল করে নিল। সবেমাত্র ইরানের নেতারা দেশকে গুচানোর চেষ্টা করছিল অন্যদিকে আমেরিকার সরবরাহকৃত অস্ত্রসমূহ কোথায় আছে তাদের জানা ছিলনা। কারন শাহার আমলের অনেক সামরিক কর্তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল এবং অনেককে তাদের অপরাধজনিত কাজের জন্যে হয় জেলে রেখেছিল অথবা অনেক সেনা কর্তা রেভুলেশনের ফলে সামারি বিচার করে মারা হয়েছিল। তার পর যা অস্ত্র ছিল তার লিস্ট পলাতক সৈন্যরা কম্প্যুটারে নষ্ট করে দিয়েছিল।
ইরান সম্পুর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় এক প্রকার খালি হাতে সামন্য ২/৪ টি প্লেইন নিয়ে দেশ রক্ষার্থে কিছু সাধারন অস্ত্র নিয়ে মোকবিলা শুরু করলো প্রথম দিকে অসংখ্য যুবক-বুড়া জীবন দিয়ে সাদ্দামের আধুনিক অস্ত্রের মোকাবিলায় জীবন বাজী রেখে লড়াই করে দেশের জন্য শহীদ হয়ে গেল। এক দিকে ইরানকে কেহুই কোন অস্ত্র দেয়া বন্ধ করে দিল অন্যদিকে আমেরিকা সহ সব দেশ সাদ্দাম হোসেনকে সর্ব প্রকার আধুনিক অস্ত্র কেমিকেল অস্ত্র সহ সরবরাহ করছিল।
৮ বছরের যুদ্ধে ইরানের অন্তত: ১০লাখ মানুষ শহীদ হলো এবং বহু লাখ জখম হলো, পঙ্গু হলো। আর এসবের জন্যে ইরানীরা আমেরিকাকে দায়ী করে। এসব তিক্ততা তারা এখনও ভুলতে পারছেনা। অপরদিকে আমেরিকার আশির্বাদ পুষ্ট ইস্্রাইল প্ল্যাইস্টাইনীদের ভুখন্ড জবর দখল করে ইসরাইলী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় ভাবে অন্ধ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিল।
ইরানীরা যে ভাবে মজলুম জাতি তেমনি আমেরিকার কারনে প্যালেস্টাইনীরাও একই ভাবে চরম মজলুম হয়ে নিজেদের জায়গা বাড়ীঘর হারিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পে ও বিভিন্ন দেশে চরম অসহনীয় জীবন যাপন করছিল। এত কিছুর পরও তাদেরকে পাখির মত প্রতিদিন মারছিল। যা আজও চলছে এবং সবাই এসব দেখেও না দেখান ভান করছে। একজন প্রতিবাদী ও মুসলিম হিসাবে সহ্য করার কথা নয়। তাই বিপ্লবের প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত প্যালেস্টাইনীদেরকে সাহায্য ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিল। এটাও ইরানের এক বিরাট অপরাধ ?
আমেরিকা ও তার দোষরদের নীতি হলো ইস্রাইলকে অন্ধ ভাবে সমর্থন করে যেতে হবে। তারও বিষেশ কারন আছে, বর্তমানে আমেরিকা ও তার দোষরদের অবস্থা হচেছ কোন সরকাই তার দেশে ইয়াহুদীর সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় আসতে পারবেনা। এবং ক্ষমতায় টিকেও থাকতে পারবেনা। তাদের বিশ্বব্যাপী অর্থ বুদ্ধি ও লবির কাছে সকল পশ্চিমা উন্নত দেশগুলো একপ্রকার জিম্মি হয়ে গেছে।
ইরাকের জালিম শাসক ও পশ্চিমাদের এজেন্ট সাদ্দাম হোসেনের আক্রমনের কারনে ও পশ্চিমাদের বয়কটের কারনে ইরান এক চরম অসহায়ের মধ্যে দিয়ে একমাত্র দেশ প্রেমিক ও শিয়া মুসলিমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে রক্ষা করতে পেরেছিল। তাই যুদ্ধাবসানের পর ইরান তার সামরিক দিকে মনোযোগ দিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে মিজাইলের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে আছে। এছাড়া অন্যান্য অস্ত্র সস্ত্রের দিক থেকেও অনেক অগ্রসর হতে পেরেছে। তারপর ই¯্রাইলের জবর দখল থেকে দক্ষিন লেবানন মুক্ত করার জন্যে সম গোত্রিয় শিয়া সম্প্রদায়কে হিজবুল্লাহ নাম দিয়ে অস্ত্র ও ট্রেনিয় দিয়ে অনেক শক্তিসালী করে গড়ে তুলেছে। তাদেরকে গেরিলা যুদ্ধে যোগ্য পারদর্শী করে তুলেছে। এই হিজবুল্লাহর গেরিলা যুদ্ধে পরাস্থ হয়ে ই¯্রাাইল লেবাননের সব ভুমি ছেড়ে তার নিজস্ব সীমানায় চলে গেছে। তার পরও মাঝে মাঝে বর্ডারে রীতি মত আক্রমন প্রতি আক্রমন চলে আসছিল। সর্বশেষ ২০০৬ সালে আবারও সর্বশক্তি দিয়ে লেবানন আক্রমন করে। হিজবুল্লাহ প্রতিরোধীদের কাছে চরম ভাবে পরাজিত হয়। যে কাজ সব আরবদেশ গুলো সম্মেলিত ভাবে যুদ্ধ করে লজ্জাজনক ভাবে পরাজয় বরন করে আরও নিজেদের ভুমি হারিয়েছে। তারা যা করতে পারে নাই তা হিজবুল্লাহ একাই করে দেখিয়ে দিয়েছে। ইস্রাইল ও তার মুরুব্বিরা কোন অপরাজেয় শক্তি নয়। এটাও ইরানের কারনেই হয়েছে।
আসল খেলা হচ্ছে ইস্্রাইল মুসলিম দেশগুলির মধ্যে ঝগড়া ও যুদ্ধ লাগিয়ে ধ্বংশ ও ব্যাস্ত রেখেছে আর নিজেরা মজা করছে। ইরান বা কোন মুসলিম দেশ মধ্য প্রাচ্যে কোন দিক থেকে শক্তিসালী হোক এটা ই¯্রাইল, আমেরিকা এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশ গুলো সহ্য করতে পারছেনা কারন তাতে তাদের শোষন বন্ধ হয়ে যাবে এবং ই¯্রাইলের ভবিষ্যতে কোন ক্ষতি হতে পারে। ইরান এটোম বোম বানানোর প্রায় কাছাকাছি অবস্থায় পৌঁচে গেছে এটাও তাদের সহ্য হচ্ছেনা। অথচ আমেরিকা সহ পশ্চিমা শক্তিগুলি বহু পূর্বেই নিজেরা ও ই¯্রাইলকে পারমানবিক বোমা বানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু একটি মুসলিম দেশ তা তৈরী করুক এটি তাদের সহ্য হওয়ার কথা নয়।
যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সর্দার সৌদি আরবের রাজতন্ত্র ও আমেরিকার সাথে বেশী দহরম মহরম ইরানের মোটেও সহ্য হওয়ার নয়। মাঝে মাঝে সৌদিতে শিয়াদের উপর নানা অত্যাচার ও হত্যা ইরান কোন ভাবেই সহ্য করতে পারছেনা। সৌদি আরব ইরানের শক্তি ও চতুর্দিকে তার সমর্থকদেরকে মহা বিপদ হিসাবে দেখছে। একদিকে হিযবুল্লাহ, অন্যদিকে ইয়ামেনে হুতি আবার ইরাকের শিয়ারা ও সিরিয়াও ইরানের শক্তি অনেক বৃদ্বি পেয়েছে। তাই নিজেদের রাজতন্ত্র ও গদি রক্ষার খাতিরে তলে তলে দীর্ঘ দিন থেকে ই¯্রাইলের কাছে আত্মসমর্পন করে বসে আছে। তার সাথে আরএকটি ধনি দেশ আরব আমিরাত ও বাহরাইনও যোগ দিয়েছে। মিশরতো আগে থেকেই ই¯্রাইলের কাছে আত্ম সমর্পন করে সম্পর্ক করেছে। তদুপোরি বর্তমান স্বৈরশাসক জেনারেল সিসি ই¯্রাইলের সাহায্যেই প্রথম গনতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করে। ই¯্রাইলের সাথে সৌদি আরবও আছে।
ইরানেরও ভুল আছে কারন ইরানের উচিৎ ছিল মধ্যপ্রাচ্যে সব রাজতন্ত্র ও সৈরতন্ত্র মেনে নিয়ে সকল দেশের সাথে বন্ধুত্ব পরিবেশ বজায় রেখে চলা। নিজ দেশের বিপ্লব অন্যদেশে রফতানি করতে গিয়ে সবাইর মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে শত্রু না বানানো। তারাও ইরানের ও তাদের সমর্থিত হিজবুল্লাহ, হামাস, ইসলামী জিহাদী ও হুতি ইত্যাদির ভয়ে নিেেজদের সিংহাসন বাঁচানোর জন্যে ই¯্রাইলের সাথে বন্ধুত্ব করতে বাধ্য হয়েছে। ইরান যদি দূরদর্শি হয়ে সবাইর সাথে বিশেষ করে সৌদি আরবের সাথে ধৈর্যের সাথে ভাল সম্পর্ক রেখে চলার চেষ্টা করতো হয়তো আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতোনা। নিজের অফুরন্ত সম্পদ থাকা সত্তেও জনগনের জীবন যাত্রার মান অনেক উন্নত করতে পারতো। এদিকে ই¯্রাইলের পৃষ্টপোষক আমেরিকা ও অন্যান্য দেশগুলি এই সুযোগ নিয়ে একাট্টা হয়ে এখন ইরানকে শেষ করার পাঁয়তারা করতে পারতোনা। অতি বাড়াবাড়ি কোন কিছুতেই ভাল নয়।
আমেরিকার সব সরকার বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরাপুরি ইয়াহুদি লবিষ্টদের কাছে জিম্মি। এবং এই পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প ই¯্রাইলের জন্যে যা করছে সম্ভবত: অতীতের সব প্রেসিডেন্টকে ছাড়িয়ে গেছে এবং মনে হয়ে যতদিন ক্ষমতায় আছে আরও ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোর করে নিজের ও ই¯্রাইলের ইচ্ছামত প্যালেস্টাইন সমস্যার সমাধান করার যে চেষ্টা করছে তাতেও একমাত্র ইরানকেই বাধা মনে করছে। কারন তারা মনে করে ইরান হামাস ও জিহাদী গ্রুফগুলিকে আর্থিক সাহায্য ও সমর্থন দিয়ে বাধার সৃষ্টি করছে তাই ইরানকে আর্থিক ও প্রয়োজনে যুদ্ধের মাধ্যমে পংগু করে দিতে পারলে এক ঢিলে অনেক পাখি শিকার হয়ে যাবে।
সৌদি আরব ও আরব আমিরাত গত সপ্তাহে ফুজাইরাতে তৈলের ট্যাংকারে ও সৌদি আরবের তৈলের স্থাপনায় হুতি কর্তৃক বোম করার পর আমেরিকাকে আহ্বান করছে ইরানেকে অত্যন্ত শক্ত শিক্ষা দেয়ার জন্যে যার মানে যুদ্ধ করে ধ্বংশ করে দেয়ার জন্যে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারমানবিক বোমা মেরে ইরানকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে।
অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারন কেহুই চাচ্ছেনা যুদ্ধ হোক। ইরানতো চাওয়ার প্রশ্নই ্উঠেনা কারন ইরান তার শক্তি সম্পর্কে পুরো ওয়াকিফহাল আছে। আমেরিকাও তার সহযোগিরাও জানে যুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকা আফগানিস্তান ও ইরাকের মত এক তরফা যুদ্ধ হবেনা। ইরানী জাতি জান দিতে জানে পালিয়ে যাওয়া জাতি নয়। তাছাড়া ইরান ও তার সহযোগিদের কাছে যা আছে তা দিয়ে যে কোন অঘটন ঘটাতে সক্ষম। যে কোন অনাকাংখিত ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। তাতে কে হারবে ও কে জিতবে বড় কথা নয়। বরং পুরো মধ্য প্রাচ্য আগুনে জ্বলে উঠবে। যে আগুন হতে কেহুই রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা নাই। এমনকি যে ই¯্রাইল তার লবিষ্টদের মাধ্যমে পরাশক্তি আমেরিকাকে ডেকে এনে ভদ্রলোকের ভান ধরে চুপচাপ হয়ে সাধু সেজে বসে আছে সেও বৃষ্টির মত চতুর্দিক থেকে মিজাইলের আক্রমন থেকে কত টুকু নিরাপদ থাকতে পারবে সেই হিসাব কিতাব নিয়ে ব্যস্ত ও চিন্তিত আছে। সব চাইতে দু:খজনক হবে মুসলমি দেশ গুলো যে ধ্বংশ ডেকে আনতেছে তা হয়ত শত বছরেও আর বর্তমান অবস্থায় নিতে পারবে কিনা সন্দেহ। এমনকি নতুন মানচিত্রও দেখা দিতে পারে।
যদিও মুখে বলতেছে আমেরিকা কোন যুদ্ধ চায়না। যদি ইরান বা তার কোন সমর্থক গুষ্ঠি দিয়ে তার উপর অথবা তার কোন সমর্থক বা স্বার্থের উপর আক্রমন হয় তবে আমেরিকা ছেড়ে দেবেনা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যাদের প্ররোচনায় ১১হাজার মাইল দূর থেকে যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে হাজির হচ্ছে তা কি জন্যে? এছাড়া কোন তৃতিয় পক্ষ যদি কোন প্রকার সেবোটেজ করে বসে তখন আমেরিকা কি আক্রমন করবেনা? সে কি সেবোটেজ কারীকে শনাক্ত করা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। সে কি মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে আফগানিস্তান ও ইরাকের মত এক তরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্রমন করবেনা সে গ্যারান্টি কে দেবে? তাই সবাই চোখ কান খোলা রেখে পরিস্থিতি অবলোকন করতে হবে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে দেখার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমরা যুদ্ধ ও মানবতার ধ্বংশ না হোক সে কামনাই করি। ইরান ও তার সমর্থকেরা যেন চরম সংযম দেখায় আর সৌদি আরব ও আরব আমিরাতও যেন বেশী বাড়াবাড়ি না করে সংযত হয় এই আশা আমরা করতে পারি।
ইতি: লেখক সমাজ কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ