fbpx
 

হাওর এলাকায় ধান ও মাছ বাঁচাতে আন্দোলনের বিকল্প নেই

Pub: বুধবার, মে ২২, ২০১৯ ৪:৩৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, মে ২২, ২০১৯ ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নজির হোসেন,সাবেক এমপি:
ভাটি অঞ্চলের কৃষি এখন মারাত্নক সংকটে নিপতিত হয়েছে। একদিকে অকাল বন্যা ও আবহাওয়ার পরিবর্তন অন্যদিকে কৃষি ও কৃষকের সমস্যা। অকাল বন্যার কারনে কৃষকের উৎপাদনের পেটার্নই বদল হয়ে যাচ্ছে। উচ্ছ ফলনশীল হাইব্রীড ধান দখল করেছে আমাদের কৃষকের শত প্রকারের সুস্বাদু ধানের আবাদ এলাকা। ভাটী অঞ্চল মূলতঃ বোর এলাকা। বোর অঞ্চলের প্রধান ধান ছিল বোরধান,টেপি ধান,রাতা ধান,বিরুইন ধান ইত্যাদি। এই সমস্ত সুস্বাদু ধান চাষ কৃষকরা আর করেন না। মানুষের খাদ্য চাহিদা তো আছেই এজন্য উন্নত হাইব্রিড ধানের চাষের দিকে এগিয়েছেন তারা। অকাল বন্যার বিপদ এখন কৃষককে ২৮ ও ২৯ জাতের ধান চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে। তাও এর মধ্যে কোনটা আগে পাকবে সেই ধান চাষের ঝোক আছে কৃষকের।

সমাজের ধনবাদী রুপান্তরে উৎপাদনের উপায়ের সংকটকালীন কাল চলছে কৃষিতে। চারা রোপন,পরিচর্চা,ধান কাটা,মাড়াই ,শুকানো, বাজারজাতকরণ সর্বত্র চলছে সংকট। চাষের আধুনিক পদ্ধতি ও যন্ত্রের ব্যবহার কৃষি ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। গরু আর কৃষি শ্রমিক নির্ভর কৃষি এখন দিন দিন মান্দাতার আমলের উৎপাদন শক্তিতে পরিনত হয়েছে। কৃষি শ্রমিকের আয়তন দিন দিন দুষ্প্রাপ্যতার দিকে যাচ্ছে। ফলে ফসল লাগানো এবং ফসল কাটার ব্যয় হয়েছে আকাশচুম্বী। আগে বাগালু (ধানকাটার শ্রমিক) আসতো অন্যজেলা থেকে। ভাটী এলাকার উজান অঞ্চলে বাগালু পাওয়া যেত এই ধরনের কৃষি শ্রমিক সরবরাহ কমে গেছে।

অন্য দিকে উৎপাদিত ফসলের দাম উৎপাদন খরচের ছেয়ে এতই কম যে কৃষক তার উৎপাদন প্রক্রিয়ার শেষে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে। কোথায়ও ক্ষেতে আগুন দেয় কোথাও কৃষক আত্ম হত্যা করে। বিকশিত পূজিবাদে শিল্পায়ন এবং নগরায়নের কারনে কৃষিজমি ও কৃষি শ্রমিক কমে যায়। এজন্য জাতীয় জিডিপিতে কৃষির অংশ ঠিক রাখতে সরকারকে ভুর্তুকী দিতে হয়। কিন্তু কৃষিতে ভুর্তুকী দেওয়াকে সার্বজনীন করতে পারেনি সরকার। 

প্রধানতম সমস্যার গুলির মধ্যে ৩টি মৌলিখ সমস্যা এখন হাওর অঞ্চলের কৃষিকে মারাত্মক ঝোকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

ক) জলমগ্ন জমির উপযোগী ট্রাক্টর,হাওর অঞ্চল উপযোগী ধানকাটার যন্ত্র। মাড়াইকল কৃষিতে একটি বিপ্লব আনতে সক্ষম হলেও কৃষির পন্যে বাজারজাত পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যা কৃষিকে আতুর করে রেখেছে। এজন্য হাওড়ের জন্য উপযুক্ত যন্ত্র সংগ্রহ করতে হবে।
খ)হাওর অঞ্চলের মরনব্যধী অকাল বন্যা ও নদী খনন। নদী খনন করলেই কেবল হাওড় অঞ্চলে কৃষি জলবায়ু দোষন এবং অকাল বন্যা থেকে বাচতে পারবে। এজন্য ১০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পই যতেষ্ট। এই ধরনের প্রকল্প হাওড় ইকোলজী পুনরুদ্ধার,হাওড় বাইডাইভারসিটি ফিরিয়ে আনা এবং হাওড়ের পাড়ে নদী খননের খুদিত মাঠি দিয়ে হাওড় গ্রাম গড়ে তুলতে পারবে। হাওড়ে ডুবন্ত বাধ প্রক্রিয়ায় “বালিশ” পরিকল্পনা প্রবনতা পরিহার করে পিআইসি ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতি মুক্ত করতে হবে।
গ)কৃষিকে সরকারী ভুর্তুকীর আওতায় নিয়ে আসা। বাজেটের আনুপাতি হারে সুনির্ষ্ট পরিমান বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে। প্রয়োজনে ১০০% ভুর্তুকী দিয়েও কৃষিকে বাঁচাতে হবে।

মাছ ছিল হাওড় অঞ্চলের দ্বিতীয় প্রধান ফসল। এখন মাছের হাহাকার। এককালে ২৫৪ পজাতির মিঠাপানির মাছ ছিল হাওড় এলাকায়। টাংগুয়ার হাওড়ে তুঘলুকি পরীক্ষা চালাতে গিয়ে আইইউসিএন রিপোর্ট দিয়েছে এখন নাকি ১৪০ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। আমার সন্দেহ আছে পরিসংখ্যানটি ঠিক হবে কিনা?১৯৮১ সালে বিল অঞ্চলে মাছের উৎপাদন প্রতি হেক্টর ১৯০০কেজি আর এখন প্রতি হেক্টরে ৮৫৯ কেজিতে। মিঠা পানির মাছকে বাঁচাতে হবে।

হাওড় অঞ্চলের কৃষক ও কৃষিকে বাচাতে মূল দাবীগুলি হবেঃ-
 ধানের সংগ্রহ মূল্য প্রতিমন উৎপাদন খরচের ২৫% বৃদ্ধি করতে হবে(প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছে ২৪ টাকা)
 বিক্রয়যোগ্য সকল ধান সরকারকে ক্রয় করতে হবে
 ষার,কীট নাশক,বিদ্যুৎ,মবিল,যন্ত্রপাতি ইত্যদিতে ৯৫% ভুর্তুকী দিতে হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি সরকারী উদ্যোগে সংগ্রহ করতে হবে।
 বন্যা নিয়ন্ত্রনে ১০ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা চাই।
 অবিলম্বে হাওড় এলাকার নদী খননের মাষ্টার প্ল্যান জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
 উন্নয়নকে প্রধান্য দিয়ে জলমহাল ইজারা নীতি প্রনয়ন করতে হবে।
 চাল আমদানী বন্ধ করতে হবে।
 পিআইসিকে নির্দলীয় ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।

নজির হোসেন
সাবেক এমপি (সুনামগঞ্জ-১)


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ