fbpx
 

যে বয়সে তরুণী-যুবতীদের সৌন্দর্য সবাইকে মোহিত করে, সে বয়সে সৌন্দর্যের

Pub: শুক্রবার, মে ২৪, ২০১৯ ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, মে ২৪, ২০১৯ ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ড.তুহিন মালিক : আচ্ছা, আমরা যখন কোন ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেই তখন মানিব্যাগ থেকে বেছে বেছে পুরোনো, ময়লা, ছেঁড়া, কিংবা ছোট নোটটি কেন দেই? একবারও কি ভেবে দেখেছি, এই টাকাটা প্রকারান্তরে আমরা কাকে দিচ্ছি? আল্লাহর জন্য কি ধরনের চিন্তা পোষন করছি?

শুধু কি পঁচা ছেঁড়া নোট! সমাজের দুস্থ, এতিম-অনাথদের জন্যই শুধু ধর্মীয় শিক্ষা বরাদ্দকৃত, এই ধারনাও করছি? না হলে, আমরা কেন নিজেদের মেধাবী সন্তানটিকে ধর্মীয় শিক্ষার উপযুক্ত মনে না করে তাকে সেরা স্কুলে পাঠাচ্ছি?

আবার ধরুন, যে বয়সে তরুণী-যুবতীদের সৌন্দর্য সবাইকে মোহিত করে। সে বয়সে সৌন্দর্যের অযাচিত প্রকাশকে আল্লাহর জন্য সেক্রিফাইস করি না। বরং যে বয়সের সৌন্দর্য দেখার কারো কোন আগ্রহই থাকে না, সেই পড়ন্ত বয়সে আমরা পর্দা ধরি।

আবার শেষ বয়সে যখন দুনিয়ার সকল মোহ বর্ণহীন বলে মনে হয়, ঠিক তখনই আমরা হজ্জ্ব করে খাঁটি মুমিন হবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।

আলহামদুলিল্লাহ। নিঃসন্দেহে এই সবই আল্লাহর অসীম রহমত ও অপার নেয়ামত আমাদের জন্য। কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু …

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের কাছে কিন্তু সেরাটাই চাচ্ছেন। যেমনটা ইব্রাহীম (আঃ) এর কাছ থেকে সবচেয়ে প্রীয় জিনিসটাই চেয়েছিলেন। অথচ আমরা বিনিময়ে আল্লাহকে কি দিচ্ছি?

ধরুন, যে বাঘটি অতিশয় বৃদ্ধ, দূর্বল, ক্ষীন। সে শিকারের সব শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। তার সামনে আপনি যতই ঘোরাঘুরি করুন। সে আপনাকে আক্রমণের জন্য ছুঁটে আসবে না। তার মানে, সেই বাঘটি যে নম্র ভদ্র বা বাধ্যগত। তা কিন্তু নয়। কারন তার আর আক্রমণ করার কোন শক্তি, সামর্থ্য বা ইচ্ছা নাই। ঠিক তেমনি, আমাদের শক্তি, সামর্থ্য, ইচ্ছা ও সুযোগ থাকা স্বত্বেও শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেগুলোকে সেক্রিফাইস করার নামই হচ্ছে ঈমান।

তাই বৃদ্ধের ইবাদতের চেয়ে আল্লাহ অনেক অনেক বেশি খুশি হন তরুণ যৌবন বয়সের ইবাদতে। এ বিষয়ে রাসূল (সাঃ) বলেন, “যেদিন (কিয়ামত দিবসে) আল্লাহর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন তিনি সাত শ্রেণির লোককে তাঁর ছায়ায় স্থান দিবেন, তাদের মাঝে একশ্রেণির হলেন এমন যুবক যারা যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছেন।” (বুখারি, ৫০৪)

এ সাত শ্রেণির মধ্যে আরো ১ শ্রেণির লোককে আল্লাহ তাঁর ছায়ায় স্থান দিবেন। তারা হচ্ছে— “যে যুবককে কোনো সুন্দরী নারী ব্যভিচারের আহবান করলে সে বলে আমি আল্লাহকে ভয় করি।”

রাসূল (সাঃ) আরো বলেন, “হাশরের ময়দানে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে- তন্মধ্যে একটি প্রশ্ন করা হবে যৌবনকাল কিভাবে কাটিয়েছো।” (বুখারি)

আমরা অনেকেই বলি, এত বাচ্চা বয়সে এসব করার কি দরকার আছে! অথচ স্বয়ং রাসূল (সাঃ) সমাজ সংস্কারে হিলফুল-ফুযুল গড়ে তুলেছিলেন মাত্র ১৬ বছর বয়সে। হযরত আলী (রাঃ) রাসূল (সাঃ)এর সঙ্গী হয়েছিলেন মাত্র ১১ বছর বয়সে।

যুবক যুবতী ভাই বোনেরা।
আসুন, আল্লাহর জন্য সেরাটা ভাবি।
আল্লাহকে সেরা সময়টা দেই।
নগদে পাওয়া সহজলভ্য ক্ষনিকের অযাচিত সুখকে চিরস্থায়ী সুখের বিনিময়ে ছেড়ে দেই। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আর রাসূল বলেছেন, এই সেক্রিফাইসের বিনিময় হচ্ছে একটাই। আর তা হলো- জান্নাত। শুধুমাত্র জান্নাত। খুব বেশী কি দুরে? তারুণ্যের পর যৌবন। এরপর বার্ধক্য। এরপর …. ? এরপর সবই চিরস্থায়ী! হয় চিরস্থায়ী জান্নাত; না হয় চিরস্থায়ী জাহান্নাম!

যুবক যুবতী ভাই বোনেরা। আসুন, যৌবনের ক্ষনিকের অযাচিত সুখের বিনিময়ে চিরস্থায়ী সুখকে কিনে নেই।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ