fbpx
 

মধ্য প্রাচ্যের মুসলিম দেশ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের খেলা (১ম পর্ব)

Pub: বুধবার, মে ২৯, ২০১৯ ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, মে ২৯, ২০১৯ ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ড. এম এ আজীজ
আফগানিস্তান:
গত কয়েক বছরে আমেরিকা বেশ কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশকে ধ্বংশ করে দিয়েছে এবং অন্যান্য মুসলিম দেশগুলিকে হয়তো অনুগত করে রাখছে নতুবা ধ্বংশ করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে এগুচ্ছে। তাই ধারাবাহিক ভাবে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কয়েক পর্বে তুলে ধরার চেষ্ঠা করছি। আফগানিস্তান দিয়ে শুরু করছি।
প্রথমত: রাশিয়া ২৫ ডিসেম্বর ১৯৭৯ তার সা¤্রাজ্যবাদী মনোভাব নিয়ে আফগানিস্তানে এক সামরিক ক্যুর মাধ্যমে রাশিয়া পন্থী নুর মোহাম্মদ তারাকীকে ক্ষমতায় বসায়। একেতো তখনকার সময় পর্যন্ত রাশিয়া দেশে দেশে তার সমাজতন্ত্রবাদ প্রতিষ্ঠার জন্যে বিপ্লব ঘটিয়ে ক্লায়েন্ট রাস্ট্র বানানোর জন্যে উঠে পড়ে লেগেছিল। তার এই পথে বাধা ছিল আর এক সা¤্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও তার দোষর সা¤্রাজ্যবাদী পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো। এই নিয়ে সমগ্র বিশ্বে এক ধরনের চরম ঠান্ডা যুদ্ধ চলছিল যাকে বলা হতো ইংরেজীতে কোল্ড ওয়ার। একদিকে আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিম ইউরোপের নেটো দেশগুলো আর রাশিয়ার নেতৃত্বে পূর্ব ইউরোপের ওয়ারশ ফ্যাক্ট দেশ গুলো। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই ঠান্ডা যুদ্ধ সারা বিশ্বে চরম আকার ধারন করেছে। আমেরিকা যেমন তার ধনতন্ত্র বা পুঁজিবাদী সিস্টেম টিকিয়ে রাখার জন্যে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল তেমনি একদিকে রাশিয়া ও চায়না ধনতন্ত্রের শোষন ও ধনী-দরিদ্রের আকাশ-পাতাল পার্থক্যকে পুঁজি করে গরীবি হটাও, ধ্বনী শোসকদেরকে খতম কর, ধর্মকে আফীম বলে নির্বাসনে পাঠিয়ে সবাইকে নাস্তিক বানাও এবং সাম্যবাদের শ্লোগান দিয়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যে আদা জল খেয়ে লেগেছিল। সব দেশেই ধনীদের বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছিল। ধনীদেরকে শেষ করে রাম রাজত্ব কায়েম করবে। যেখানে সবাই সমান হয়ে যাবে। কোন ভেদাভেদ থাকবেনা। সস্তা শ্লোগান দিয়ে মানুষকে মরিচিকার পিছনে দৌঁড়াবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।
এই অবস্থায় যখন আমেরিকা ও সমগ্র পশ্চিমা দেশগুলো খৃস্টান ধর্মের বড় দিন ২৫ ডিসেম্বর ৭৯ সাল উদযাপনে ব্যস্ত ঠিক ঐদিনকে সামনে রেখেই রাশিয়া আফগানিস্তান দখল করে নেয়। রাশিয়ার নাকি আরও উদ্দেশ্য ছিল পরবর্তিতে হয় পাকিস্তান অথবা ইরান দখল করে নিয়ে হয় আরব সাগর অথবা পারস্য উপসাগরের সাথে নিজের পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ সমুদ্র পথে সহজ হয়ে যাবে। তখনও পূর্বাঞ্চলের সকল মুসলিম দেশগুলো তার দখলে ছিল। যথা কিরগিজিস্থান, তুর্কমেনিস্থান, উজবেকিস্থান ও আযরবাইজান ইত্যাদি যা বর্তমানের রাশিয়া ২৫ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালে ভেঙ্গে যাওয়ার পর পুন: স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্ম প্রকাশ করে।
আর তখনকার দিনে পাকিস্তান ও ইরান সা¤্রাজ্যবাদী আমেরিকার পরম বন্ধু রাষ্ট্র। অন্যদিকে ভারত রাশিয়ার একান্ত বন্ধু রাষ্ট্র। আমেরিকার পক্ষে কোন ভাবেই এভাবে আফগানিস্তান রাশিয়া দখল করে নিয়ে যাবে এটা মানা একে বারে অসম্ভব। এছাড়া রাশিয়া সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্মলগ্ন থেকেই সব ধর্মের বিরুদ্ধে শ্লোগান ও কার্যত: নাস্তিকতাও প্রতিষ্ঠা করার কাজ করছিল। উপরে উল্লেখিত সব মুসলিম দেশ সহ বহু মুসলিম মেজরিটি এলাকা জবর দখল করে নিয়ে মুসলিমদেরকে নাস্তিক বানানোর জন্য চরম অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছিল। মসজিদ মাদ্রাসা গির্জা সবই বন্ধ করার পদক্ষেপ নিয়ে সবাইকে নাস্তিক বানানোর জন্যে কঠিন পদক্ষেপ নিতে গিয়ে অগনিত লাখ লাখ মুসলিমদের হত্যা করেছিল। নিজের শত বছরের বাপ দাদার ভিটা বাড়ী ও জন্মগত এলাকা থেকে জোর করে অন্য এলাকাতে স্থানান্তর করতে গিয়ে পথিমধ্যেই ক্ষুধা, ক্লান্ত আর ঠান্ডাতে লাখ লাখ মুসলিম মারা গিয়েছিল। এশিয়ায় ইসলামের প্রান কেন্দ্র সমরখন্দ বোখারাকে (বোখারী শরীফ হাদিস সংগ্রহ কারী ইমাম বোখারীর (র:) জন্মস্থান) ধ্বংশ করে দিয়েছিল। স্বাভাবিক কারনে বিশ্ব মুসলিমেরা রাশিয়াকে নাস্তীক মতবাদী জুলুমবাজ, ইসলাম ও মুসলমানের দুষমন মনে করতো।
আফগানিস্তান অসংখ্য ্পাহাড়ে ঘেরা একটি স্বাধীনচেতা বীর যোদ্ধা জাতির শত বছরের শান্তিপূর্ণ সুন্দর মুসলিম দেশ। ধনী দেশ না হলেও মোটামুটি চলার মত ছিল। মুসলমানদের অনেক ঐতিহ্য এই আফগানিস্তানে বিদ্যমান ছিল। যাদেরকে সা¤্রাজ্যবাদী বৃটিশেরাও যুদ্ধে পরাজিত করতে পারেনাই। বরং নিজের অসংখ্য সৈন্য হারিয়ে নিজেরাই পরাজয় বরন পালিয়েছিল।
আর সেই দেশটিকে রাশিয়া তার কিছু অনুসারীদেরকে উস্কানি দিয়ে ক্যুর মাধ্যমে দখল করে নিয়ে নিয়েছিল ৭০ এর দশকে। আমেরিকা দেশটিকে উদ্বারের নামে আফগান ও অন্যান্য মুসলিম দেশ থেকে ইসলামী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আসা বীর যুবকদের দ্বারা গেরিলা বাহিনী গঠন করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করিয়ে দিয়েছিল। আর সেই গেরিলা যুদ্ধে পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তানী ভূখন্ডকে ব্যবহার করছিল। ঐ সময় আমেরিকা ও তার পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার সাথে ঠান্ডা যুদ্বে মশগুল। সমাজতন্ত্রের প্রসারে প্রতিরোধ ও ও রাশিয়া ও রাশিয়ার সম্প্রসারনকে শেষ করার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছিল। তাই রাশিয়ার এই জবর দখল কি আর মানা যায়। অতএব মুসলমানের দরদী সেজে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সৌদী বিন লাদেনের মত ধনী পরিবারের যুবককে ও আরও হাজার হাজার মুসলিম যুবককে অথর্, অস্ত্র ও সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানীদের মাধ্যমে রাশিয়াকে এক দশক পরে অর্থাৎ ফেব্রুরুয়ারী ৮৯ আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য করলো। বিন লাদেনকে যুদ্ধজয়ী-হিরো বানিয়ে জগৎ বিখ্যাত করলো। আমেরিকা মনে করেছিল সৌদী ধনাঢ্য পরিবারের যুবক ও অন্যান্য মুজাহিদেরা তাদের গোলামী ও জিহুজুরী করবে। তাদের অনুগত আরেকটি অনুগত দেশ হবে। মানুষ ভাবে কিছু আর হয় অন্য কিছ।ু রাশিয়া বাধ্য হয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে ক্ষমতা দখল করে ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা শুরু করে।
আমেরিকা দেখলো এটাতো তাদের আদর্শের বিপরীত। রাশিয়া চলে যাওয়ার পর আমেরিকা দেশটিকে নিজের দখল না করার জন্য যেন অনুতপ্ত হচ্ছিল। কারন আফগানিস্তান ভৌগলিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। সেখানে থেকে পাকিস্তান, ইরান, চায়না, ভারত, ও রাশিয়ার পূর্বাঞ্চল মনিটর ও খবরদারী করতে খুবই উপযোগী দেশ। তাই অতীতের ভুল শোধরাতে সুযোগের অপেক্ষা করছিল।
বিন লাদেন যুদ্ধ জয়ের পর তার অনুসারীদেরকে নিয়ে মোল্লা ওমরের মেহমান হিসাবে আফগানিস্তানে থেকে গেলো। বিন লাদেনের জন্ম ভূমি মুসলিমদের পবিত্র স্থান সৌদি আরবে রাজ পরিবার আমেরিকার গোলামী করা এবং রাজ পরিবারের নানা অপকর্মের প্রতিবাদ শুরু করলো। যুদ্ধের পর একবার দেশে গিয়ে আমেরিকার সৈন্য পবিত্র ভুমিতে অবস্থান করার প্রতিবাদের কারনে গ্রেপতার হয়েছিল। ছাড়া পাওয়ার পর আবার আফগানিস্তানে এসে বসবাস শুরু করলো। এবং আল কায়েদা নামে একটি ইসলামী সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছিল। যারা বিশ্বব্যাপী আমেরিকার আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে দিল। আরব দেশে আমেরিকার মুসলমানদের তৈল সম্পদ লুটের বিরুদ্বে বিশেষ করে সৌদি আরবে পবিত্র স্থানে আমিরাকার সৈন্যদের অবস্থানের বিরুদ্বে সংগ্রাম শুরু করে দিল।
ইতি মধ্যে তালেবান শাসিত মোল্লা ওমরের সরকারের ইসলামী আইন কানুর দ্বারা শাসন, আমেরিকা ও তার দোষরদের মোটেও পছন্দ ও সহ্য হচ্ছিলনা। কারন তাদের সবাইর ভয় হলো আফগানিস্তানকে অনুসরন করে যদি এই ইসলামী হুকুমাত অন্যান্য দেশেও প্রতিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়ে যেতে পারে। তাতে তাদের সা¤্রাজ্যবাদী শোষন শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই তালেবানী হুকুমাতকে শেষ করে তাদের দালাল হিসাবে (পশ্চিমা অনুসরন কারী) কেহুকে ক্ষমতায় বসাতে হবে এই চিন্তায় ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এছাড়াও আফগানিস্তানে মাটির নিছে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদ রয়েছে যা এ পর্যন্ত আফগানীরা অর্থ ও কারীগরি অভিজ্ঞতার অভাবে এখন পর্যন্ত উঠাতে সক্ষম হয় নাই। তাই সময় সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। শেষ পর্যন্ত আমেরিকাতে নিউইয়র্ক সহ ৪টি স্থাপনায় বিমান হামলার দুর্ঘটনা ঘটলো যেটা সারা বিশ্বে ২০০১ সালের ৯/১১ নামে খ্যাত। আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটিতে ট্যুইন টাওয়ারকে ধ্বংশ করা সহ আরও ৩টি স্থানে বিমানের সাহায্যে আক্রমন করা হলো। যদিও পাইলটগন অধিকাংশ আরব ও সৌদি ছিল কিন্তু এর পিছনে কারা ছিল তা আজও নিরেপক্ষ তদন্ত কবে প্রকৃত দোষীকে নির্ধারন করা হয়নি।
আমেরিকা নিরেপক্ষ তদন্ত ছাড়াই বিন লাদেনকে দোষী সাব্যস্ত করে আফগান সরকারকে বলা হলো, বিন লাদেনকে আমেরিকার হাতে হস্তান্তর করার জন্য। মোল্লা ওমরের তালেবান সরকার সাফ জানিয়ে দিল, আফগান জাতি কোন মেহমানকে বিনা প্রমানে হস্তান্তর করার ইতিহাস নাই। আর যায় কোথায় কয়েকদিনের মধ্যেই সেপ্টেম্বর ২০০১ পাকিস্তানকে ভয় ও লোভ দেখিয়ে নেটো জোট ভুক্ত দেশগুলোকে প্রভাবিত করে সংগে নিয়ে আফগানিস্তানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। আগেই রাশিয়া কর্তৃক যুদ্ধ বিদ্ধস্থ একটি গরীব দেশকে কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় কোন প্রকার প্রতিরোধ ছাড়াই বোমা আর মিজাইল মেরে তছনছ করে দিল। তালেবানেরা খালি হতে মহা পরাক্রমশালী শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে আবার গেরিলা যুদ্ধে চলে গেল। এই যুদ্ধে অসংখ্য আলেম ওলামা ও তালেবান যোদ্ধাদেরকে নানা অকথ্য অত্যাচার করে মেরে ফেললো। অনেক তালেবানকে জেল খানায় বন্দী করে রাখা হলো।
এবার আমেরিকা ও তার পশ্চিমা দোষররা গত বারের মত ভুল করে নাই। হামিদ কারজাঈর মত মেরুদন্ডহীন দালালকে ক্ষমতায় বসিয়ে সবাই দেশে ঘাঁটি করে থেকে গেলো। তার পর অনেক তালেবানকে ধরে নিয়ে গুয়াতোনামা বে‘তে বন্দী খানায় আটকে রাখলো। এছাড়া পাকিস্তান থেকে ভাল ভাল মুসলিম তালেবানকে জঙ্গী বানিয়ে জেনারেল মোর্শারাফকে কিছু ডলার দেয়ার বিনিময়ে ধরে নিয়ে গুয়াতোনামা বন্দী শিবিরে আটক করে রেখে দিল। আর সেখানে সকল বন্দীর উপর নানা অকথ্য ও অবর্ননীয় অত্যাচারের ঘটনা বেশ কম সবাইর জানা আছে। অনেক তালেবানকে বন্দী করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অঘোষিত গোপন বন্দী শিবিরে আটকে রেখে হয় অত্যাচার করে মেরে ফেলা হয়েছে অথবা অনেক দিন পর ঘোষনা দিয়ে গুয়াতোনামাবে বন্দী শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে।
আর এই দেশ গুলোই বর্তমান বিশ্বে মানবতাবাদী সভ্যতার দাবী করে! এই সব বন্দীদের কোন মানবাধিকার বলতে নাই। কারন এরাতো সবাই মুসমলান। আর এদের নাম রাখা হয়েছে ঞবৎৎড়ৎরংঃ (টেরোরিস্ট) আর ইন্ডিয়া বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে বলা হয় জঙ্গী। পৃথিবীর বিজ্ঞজনেরা বলেন এই দেশ গুলোই নিজেদের ক্ষমতা ও সা¤্রাজ্যবাদী সার্থ ধরে রাখার জন্যে জঙ্গী গোষ্ঠীর জন্মদাতা, অর্থদাতা এবং পরিচালক তাই নিজেরাই বড় জঙ্গী। এছাড়া পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলি বিশেষ করে আমেরিকা মুসলিমদের উত্থানকে ও পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম ও মুসলিমদের দ্রুত প্রসারকে ঠেকাতে ও পশ্চিমাদেরকে ইসলামে যাতে মুগ্ধ হয়ে মুসলিম না হয় যায় তাই এই নব্য আবিস্কৃত ঞবৎৎড়ৎরংঃ (টেরোরিস্ট) দেরকে ব্যবহার প্রমান করতে চাচ্ছে যে মুসলিমেরাযে কত খারাপ। এদের থেকে সাবধানে থাকো। মুসলিমেরা একটি জগন্য জাতি। আর তথা কথিত মুসলিম শাসকেরা এই জন্য জঙ্গী জঙ্গী করে যাতে তাদের অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখল ও ধরে রাখা যায় সে জন্যে ভাল ভাল মুসলিমকে শেষ করে দেয়া যায়। আর কিছু নামের মুসলিম শাসক পশ্চিমাদেরকে খুশী রাখা ও দান অনুদান পাওয়ার জন্যে করে যাচ্ছে।
এদিকে আমেরিকা ও তার দোষররা মনে করেছিল আফগানিস্তানে থেকে সব উেেদ্দশ্য অর্জন করবে। কিন্তু বিধি বাম। যে জাতি বৃটিশকে নাস্তা নাবুদ করে পরাজিত করেছে। যে জাতি তখনকার দিনের রাশিয়ার মত একটি পরাশক্তিকে পরাজিত করে অর্থনৈতিক ভাবে নাস্তনাবুদ করেছে। যে কারনে আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার কিছু দিন পরেই অর্থ সামর্থ্য সব হারিয়ে নিজেদের বিশাল সা¤্রাজ্য হারিয়ে নিজেদের সাবেক রাশিয়া অংশটুকু নিয়ে কোন ভাবে কিছুদিন একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছিল। প্রেসিডেন্ট পুতিনের আমলে এই মাত্র মাথা ছাড়া দিয়ে উঠছে। এখনও সাবেক পরাশক্তি হিসাবে দাঁড়াতে পারে নাই। একমাত্র পারমানবিক অস্ত্রের বিশাল ভান্ডার থাকার কারনে আমেরিকা ও পশ্চিমারা আক্রমান করে নাই নতুবা বহু আগেই আক্রমন করে শেষ করে ফেলতো।
যাই হোক আফগান জাতি সেই ২০০১ সাল থেকে আমেরিকা ও তার দোষরদের আরাম হারাম করে ছাড়ছে। বর্তমানে “ছেড়ে দে মা কেঁদে বাছি অবস্থা।” তালেবানদের তীব্র আক্রমরে অর্থ সামর্থ হারিয়ে আজ ১৮ বছর কোন ভাবে মান ইজ্জত নিয়ে বেরিয়ে যাবার জন্য পাকিস্তান আর সেই পুরানো শত্রু রাশিয়ার কাছে ধর্না দিচ্ছে। বার বার কাতারে, তুরস্কে ও মস্কোতে তালেবানদের সাথে মিটিং করেই যাচ্ছে। হয়তো একটা মিমাংশা হয়ে যেতে পারে। কারন বহু সৈন্য হারিয়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থাও ভাল নয়। আমেরিক বর্তমানে চায়না ও অন্যান্য দেশের লোনের উপর টিকে আছে। আভ্যন্তরীর লোনের বোজা দিন দিন বাড়তেছে। হয়তো রাশিয়ার মত ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যেতে পারে যদি অন্য কোন কারন না ঘটে। (অসমাপ্ত, চলবে)।। পরবর্তি লেখা ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, ইরান ও ইয়ামেন ইত্যাদি
ইতি: লেখক সমাজ কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Email: [email protected]


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ