মধ্য প্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলাফল কি হতে পারে ?

Pub: রবিবার, জুন ২, ২০১৯ ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, জুন ২, ২০১৯ ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ড. এম এ আজীজ :
আমি আমার গত লেখাতে ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধের কারন সম্পর্কে কিছুটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আজকের লেখাতে যুদ্ধের ফলাফল কি হতে পারে তার উপর আলোচনা করার চেষ্টা করবো। ইতি মধ্যে আমার আর একটি লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। তা হচ্ছে সা¤্রাজ্যবাদীরা কিভাবে একে একে মধ্য প্রাচ্যের মুসলিম দেশ নিয়ে খেলছে। নিজেরা ও পরবর্তিতে গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে প্রতিটি দেশকে ধ্বংশ করে দিচ্ছে। এটি কোন হঠাৎ করে হচ্ছেনা। এটি একটি সুদূর প্রসারী পরিকল্পনারই অংশ। যা ক্ষমতার মোহে অন্ধ তথা কথিত মুসলিম শাসকেরা বুঝিয়েও না বুজার ভান করে একে অপরকে শেষ করতে গিয়ে উভয়ই শেষ হয়ে যাচ্ছে। মুসলিক দেশ ও জাতিকেও শেষ করা হচ্ছে। ষোশক সা¤্রাজ্যবাদীরা একট্টা হয়ে মুসলিম মিল্লাতকে একদিকে নিশ্চিন্ন করে দিচ্ছে অপর দিকে তাদেরকে আল্লাহ পাকের নেয়ামত হিসাবে দেয়া বিভিন্ন সম্পদকে বিশেষ করে তৈল সম্পদকে পানির চাইতেও সস্তায় সুযোগে বিনা পয়সায় লুট করে নিয়ে নিজের দেশকে উন্নত করছে এবং যা টাকা দিচ্ছে তাও যুদ্ধ, ভয় ও আতংকিত করে তাদের অস্ত্রের মার্কেট ঠিক রাখে এবং পুরানো অস্ত্র বিক্রি করে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। আর ঐ টাকা দিয়ে নতুন নতুন অস্ত্র বানাচ্ছে। এবং নিজের দেশের অস্ত্র ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটদেরকে বিলিয়নার আর বিলিয়নার বানিয়ে নিজেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিলিয়নার হচ্ছে এবং ক্ষমতাকে আঁকড়িয়ে ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই হচ্ছে সা¤্রাজ্যবাদীদে শাসন, শোষন আরা টাকা আর টাকার পাহাড় তৈরী করা।
যুদ্ধ কোন ভাল মানুষের কাম্য নয় তা সত্বেও কিন্তু অতিতেও হয়েছে এখনও চালু আছে এবেং ভবিষ্যতেও হবে। কারন এই যুদ্ধের কারনে মৃত্যু ও ধ্বংশের মাঝেও মানুষ নামের অমানুষগুলোর আয় রোজগার জড়িত। বহু দালাল ও কমিশনার ভূগী, সিন্ডিকেট সা¤্রাজ্যবাদী সরকারের প্রধানদের আশে পাশে থেকে উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে যুদ্ধ লাগিয়ে শত শত কোটি টাকা আয় রোজগার করে। কোন দেশ আর তার জনগন ধ্বংশ হয়ে যাক তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। বরং ধ্বংশের মধ্যেই তাদের লাভ। যেমন একদিকে “হরিন ও তার বাচ্ছা আক্রান্ত হয়ে নিষ্ঠুর ভাবে মারা যায় অন্যদিকে বাঘ আর সিংহ নিজেরাও খেয়ে বাঁচে এবং তাদের বাচ্চারা বাঁচে ও বড় হয়।” একই খেলা মানুষ রূপী পশুদেরও যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। অস্ত্র ব্যবসায়ীদের ও সা¤্রাজ্যবাদীদের বাধা দেয়া কি স¤ভব ? তবে আমরা বিচার বিশ্লেষন করে বিশ্ব মানবকে সজাগতো করতে পারি। আর সবাই যদি সজাগ হয় তবে হয়তো কোন দিন বন্ধ হতেওতো পারে। কবি তাই বলেছেন “ যদি দেখো সন্মুখেতে অন্ধ আর কূপ, হবে তুমি মহাপাপী যদি থাক চুপ”।
এছাড়া বর্তমানে রাশিয়া ¯œায়ু যুদ্ধ হতে প্রতিদ্বন্দিতায় সিটকে পড়ার পর, বিশ্বে মুসলিমের দুষমনেরা মুসলমানদেরকে তাদের প্রতিপক্ষ মনে করে এক ডিলে অনেক পাখি শিকার করছে। একদিকে পুরাতন ও নতুন মারনাস্ত্র বিক্রি করে কাড়ি কাড়ি টাকা কামাচ্ছে অন্যদিকে মুসলিম শক্তিকে শেষ করে দিচ্ছে যাতে কোন দিন যেন তাদের বিরুদ্ধে মাথা উচুঁ করে দাড়াঁতে না পারে। কোথাও মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে সরাসরি আক্রমন করছে যেমন আফগানিস্তান ও ইরাক আর কোথাও ভাইয়ে ভাইয়ে লাগিয়ে অথবা গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে শেষ করতেছে। যেমন লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া ও ইয়ামেন ইত্যাদি।
অনেক কিছুর ভবিষ্যত বানী করা খুবই দূরূহ ও অনিশ্চিত। তবে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ লোকেরা কিছুটা অনুমান করতে পারে যা আমরা সাধারন লোকদের পক্ষে করা খুবই কঠিন। তবে ঐ সব বিজ্ঞ ব্যাক্তিদের সাথে কথা বলে ও তাদের লেখালেখি পড়ে গত কয়েকদিনে যা কিছু অনুমান করতে পেরেছি তা আমার মত আম-জনতাকে জানিয়ে সতর্ক করতে অসুবিধা কোথায় ? যেমন অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভীষন প্রচন্ড ধ্বংসাত্বক সাইক্লোন, টর্নাডো সম্পর্কে আমাদেরকে অহরহ সতর্ক করার পরও তা মাঝে মাঝে সঠিক হয়না তাতে কারো কোন অভিযোগ অন্তত: থাকেনা। কারন সাবধানতো হওয়া গেল। মনের মধ্যে যে একটা আতংক তা কিছুটা হলেও দূর হয়। প্রয়োজনে অনেক সতর্কী পদক্ষেপ নেয়া যায়।
বর্তমান আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে যুদ্ধের ফলাফল বলা একটি অত্যন্ত জটিল ব্যাপার। বর্তমান আমেরিকা ও ইরানের ব্যাপারে অধিকাংশ বিজ্ঞজনদের অভিমত হচ্ছে যুদ্ধ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। কিন্তু এই হুমকি ধমকি ও আতংক সৃষ্টি করে অথবা যুদ্ধের আগে পরে অথবা যদি যুদ্ধ বেঁধেই যায় তা অত্র এলাকায় কার কি লাভ ক্ষতি হতে পারে এই নিয়ে বিজ্ঞজনদের ভাবনা কি তা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আমেরিকা জন্মের পর থেকেই সা¤্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারন বাদী মনোভাব নিয়ে চলে আসছে। যেখানে সেখানে গিয়ে সর্দারী মনোভাব দেখায়। কারন আমেরিকা শুধু একটি দেশ নয়। সা¤্রাজ্যবাদী ব্যবসায়ীও বটে। যন্ত্রপাতি ও অস্ত্রপাতি তার সব চাইতে বড় ব্যবসা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন অভিজ্ঞ সফল ব্যবসায়ী। হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। জীবনের শেষ দিকে এসে কোথায় কখন নিজ দেশের জন্যে ও নিজের ও পরিবার পরিজনের জন্য ভাল আয় রোজগার করতে হবে সে ব্যাপারে অত্যন্ত ভাল খেলাড়ীও বটে। তাই অত্যন্ত মুসলিম বিদ্বেষী হওয়া সত্বেও, ক্ষমতায় এসেই নিজ দেশে মুসলমানদের বিরুদ্বে নানা কালা আইন জারী করছে এবং খোদ আমেরিকাতেই তার নানা উস্কানিমূলক বক্তব্যে মুসলিমেরা নানা স্থানে বেশী বেশী আক্রান্ত হচ্ছে এবং চরম আতংকের মধ্যে আছে যা অতীতে আর কোন প্রেসিডেন্টের সময় হয় নাই। অথচ প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সর্ব প্রথম সমস্ত পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে মুসলমানদের প্রান কেন্দ্র মক্কা মদীনার দেশ সৌদি আরব আমাদের খাদেমুল হারামাইন রাজ পরিবার পিতা-পুত্রের দাওয়াত ও চেষ্টায় সফর করে। পত্রিকা ও বিবিন্ন মিডিয়ার খবরে প্রকাশ নিজ গলায় স্বর্নের বিশাল চেইন সহ প্রায় এক বিলিয়ন তথা ১০ হাজার কোটি টাকার গিফট নিয়ে রাজ পরিবারে সাথে তলোয়ার নাচ দেখিয়ে বিদায় নেন। কেন? এই নাচ ও খেলা তা জ্ঞানী লোকেরা তখনি বুজেছেন আর আমরা আম জনতা ধীরে ধীরে দেখছি। কয়েক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন বাসা-বাড়ী ভাড়া দিয়ে রেন্ট পাইতে যে কষ্ট হয় তার চাইতে সৌদী রাজা থেকে টাকা নেয়া অনেক সহজ। কারন তার ও তার বাবার মূল ব্যবসা প্রপার্টি ব্যবসা ভাড়া দেয়া ও বেচা কেনা করা। অতএব নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এই কথা বলছেন। যারা বাসা বাড়ি ভাড়া দেন তারা নিশ্চয় জানেন ভাড় আদায় করা কত কঠিন।
এবার আমরা মূল আলোচনা করে আমেরিকার ও ইরানের যুদ্ধের পরিনতি কি হতে পারে তা দেখা যাক। যুদ্ধের আগেই আমরা কিছুটা ফলাফল দেখতে ফেলাম গত সপ্তাহে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের সংসদ তথা কংগ্রেসকে এড়িয়ে ইমার্জেন্সী আইনের বলে ৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন। যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। আগেই বলেছি এই টাকার সাথে অনেকেরই নানা স্বার্থ জড়িত। তাই সবাই চুপচাপ। কথায় বলে “সব শেয়ালের এক রা”এটা কি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার জন্যে একটি বিশাল অর্জন নয়? তাছাড়া তলে তলে গোপনে আরও কে কত পাচ্ছে তা তো বহু পরে জানা যাবে।
যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের যে ধ্বংশ হবে তা আগামী ১০০ বছরেও পুনর্ঘঠন করতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। এমনকি আমেরিকা ও ই¯্রাইল বাধ্য হলে হয়তো জাপানের মত আনবিক বোমাও ব্যবহার করে পুরো তেহরানকে মরুভূমি বানিয়ে দিতে পারে। তাদের জন্যে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। যার হুমকি প্রেসিডেন্ট প্রথম দিকেই দিয়ে রেখেছে।
ইরানের সমগ্র আনবিক তৈরীর স্থাপনা, মিজাইল কারখানা ও অন্যান্য অস্ত্র তৈরীর কারখানা এবং ইতি মধ্যে যে সব সিভিলিয়ান শিল্প কারখানা তৈরা করা হয়েছে তা সবই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন কি ইরানের বর্তমানের শিয়া ইসলামী আদর্শ ভিত্তিক রাষ্ট্র ( যা সুন্নীদেরও হওয়া উচিত) মদ জুয়া বেপর্দা ও অন্যান কুকর্ম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যেখানে বিভিন্ন ফৌজদারী আইন কোরান ও সুন্না মোতাবেক চলে যেমন হত্যা ব্যবিচারী চুরি ডাকাতি ও ড্রাগ ইত্যাদি। যে কারনে ইরানে সামাজিক ক্রাইম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক কম। (অথচ মুসলিম রাজতন্ত্রের দেশে মদ ও অন্যান্য খারাপ কাজগুলি গোপনে উচুঁস্তরের লোকদের মধ্যে ওপেন সিক্রেটের মত চলছে যা গত সপ্তাহে সদ্য তালাক প্রাপ্তা এক রাজ বধুর বিবৃতিতেও আসছে) পরিবর্তন হয়ে আবার পুরানো ধাঁচের পশ্চিমা সংস্কৃতির ধারক ও বাহক রাষ্ট্র নামে সাবেক শাহের স্টাইলের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হতে পারে।
সমস্ত তৈল গ্যাসের মওজুদ পশ্চিমা শক্তির অধীনে চলে যেতে পারে। এবং এমনও হতে পারে পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘ দিন আফগানিস্তান ও ইরাকের মত দখল করে পুতুল সরকার বসিয়ে দেশ পরিচালনা করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে।
ইরানের ধ্বংশের সাথে সাথে ই¯্রাইলের আশে পাশে ই¯্রাইল রাষ্ট্রের বিরোধী শক্তিগুলো আপাতত শেষ হয়ে যেতে পারে। ইরানের ও তার সমর্থকেরা যদি শেষ হয়ে যায় তবে আমেরিকা ও তার দোষরদের জুলুম, অত্যাচার ও শোষনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আপাতত তেমন কেহু থাকলোনা। কিন্তু বিধি বাম আবার কোন শক্তি কোন দিক থেকে অদৃশ্য শক্তির দ¦ারা দেখা দেবে তা আমাদের স্বাভাবিক দৃষ্টিতে ধরা পড়েনা। যা আফগানিস্তান ও ইরাকই তার প্রমান।
ইরানের উপর বোমার যে পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে তা থেকে প্রতিবেশীরাও বেশ আর কম ক্ষতিগ্রস্থ থেকে বাঁচতে পারবেনা। বিশেষ করে পাকিস্তান, তার্কি ও ইরাক।
এবার আলোচনায় আশা যাক, যুদ্ধের কারনে আমেরিকা ও তার দোষর ই¯্রাইল, আরব আমিরাত, সৌদি আরব কি পরিমান ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। প্রথমনত: রাশিয়া কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের একেবারে মাঝখানে সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক অস্ত্র নিয়ে বসে তামাশা দেখছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার দুরন্দর রাজনৈতিক খেলাড়ী। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা যে ভাবে রাশিয়াকে ধ্বংশ করেছে সেও তার প্রতিষোধ নেয়ার সুযোগের নিশ্চয় অপেক্ষায় আছে। তাই আফগানিস্তানে আমেরিকাকে তালেবানদের দিয়ে নাজেহাল করে ছাড়ছে যেভাবে তার দেশকে করছিল। অতএব রাশিয়া কি চাবে ইরানকে হারিয়ে সে আমেরিকা ও তার দোষরদের এক চেটিয়া প্রভাব প্রতিষ্ঠা হোক? যদি ইরানের পক্ষ নেয় তখন কিন্তু যুদ্ধের পরিনতি খুবই ভয়াবহ তথা তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের দিকে যেতে পারে। যদিও চায়না ব্যবসায়ী বেনিয়া জাতি। সেও হয়তো ইরান ও রাশিয়ার পক্ষ নিতে পারে। এছাড়া ইরানের পক্ষে তার্কি ও এরদোগানও এগিয়ে আসতে পারে। কারন তার্কি ভাল করে জানে, ইরানের পর তার্কি ও পাকিস্তান আমেরিকা ও ই¯্রাইলের পরবর্তি টার্গেট। সুতরাং ফলাফল অনুমান করতে পারেন পাঠক সমাজ। এই তিনটি দেশ শেষ হয়ে গেলে আপাতত দৃষ্টিতে মুসলমানের পক্ষে কথা বলার কোন শক্তিসালী দেশ থাকলোনা।
ইরান কিন্তু আফগানিস্তান ও ইরাক নয়। তার বিশাল মিজাইল ভান্ডার সকলের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে আছে। তাছাড়া আছে জানবাজ শহীদি রক্ত নিয়ে বিশাল বিভিন্ন প্রকার সৈন্যবাহিনী। যারা কয়েক বছর পূর্বেই সাদ্দাম হোসেনকে খালি হাতে মোকাবিলা করে শিক্ষা দিয়েছিল। আর এখন বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত। তার পর সাথে আছে হিজবুল্লাহ, ইয়ামেনের হুতি, প্যালেইস্টাইনের হামাস ও ইসলামী জিহাদী গ্রুফ। বিভিন্ন দেশে তাদের লাখ লাখ জানবাজ সমর্থক। ইতি ইরাক ও সিরিয়াও তাদের সাথে পূর্ণভাবে আছে। তাাদের হাজারো লাখো মিজাইল যখন বৃষ্টির মত পড়তে থাকবে তখন মিজাইল ডিফেন্স যন্ত্রপাতি পাগল হয়ে যাবে। এক সাথে সব সামাল দেয়া বা ইন্টারসেপ্ট করা সম্ভব নয়। তাই ২/৩ সপ্তাহ পূর্বে ই¯্রাইল বাধ্য হয়ে কয়েক জন ই¯্রাইলীর প্রান হানির পর হামাসের সাথে তাড়াতাড়ি অস্ত্র বিরতি করতে বাধ্য হয়েছে। অতএব হিজবুল্লাহ ও হামাসের জানবাজ সৈন্যদের মিজাইলে বহু শহর ও জনগন ধ্বংশ হয়ে যেতে পারে। যা তারা ২/৩ সপ্তাহের আগের ঘটনায় বুজতে পেরে চিন্তিত আছে।
ইরানের মিজাইল কিন্তু শুধু ইরানের মধ্যেই রাখা হয়নি। তা বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়াতেও মওজুত করা হয়েছে। যা ই¯্রাইলের ও সৌদি আরবের একেবারে কাছে নিয়ে রেখেছে। যদিও তাদের অনেক মিজাইল ইরান থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের যে কোন টার্গেটে আঘাত করতে সক্ষম। মধ্যপ্রাচ্যের ডুবাই, আবুধাবী প্রধান শহর মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে ইরান সক্ষম। অন্যদিকে ইরান ও তার বন্ধুরা মিলে সৌদি আরবের মক্কা মদীনা ছাড়া প্রধান শহর জেদ্দা, রিয়াদ ও দাম্মাম সহ সকল তৈলের শোধনাঘার পাইপ স্থাপনা গুলিকে আগুনের কুন্ডলি দিয়ে ধ্বংশ করে দিতে সম্পূর্ন সক্ষম। ইতিমধ্যে তৃতীয় পক্ষ ফলস ফ্লাগের অধীনে সেবোটেজ করে মক্কা মদীনাতেও আক্রমন করে সেখানেও মিজাইল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে। উদ্দেশ্য ইরান ও শিয়াদেরকে দোষারোপ করে বিশ্ব মুসলিককে তাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে পারে। এক ডিলে অনেক উদ্দেশ্য সফল করার চেষ্টা করবে।
সর্বশেষ আমেরিকার মধ্য প্রাচ্যে প্রতিটি যুদ্ধ জাহাজ ও ঘাঁটি ইরানীদের যুদ্ধ জাহাজ, মিজাইলের আওতায় এবং জানবাজ গেরিলা সৈন্যদের অস্ত্রের নাগালে রয়েছে। হয়তো সবই শেষ করে দিতে পারে। তাই আমেরিকার বর্তমানের গলার সুর অনেক খানি নরম। এমনকি যুদ্ধের প্রধান ঘটক ও লবিষ্ট গ্রুফের সমন্বকারী জন বোল্টনও বর্তমানে অন্য ভাষায় কথা বলছে। এটাকি তার ও তার মনিবের মনের আসল কথা না লোক দেখানো কথা এবং ইরান ও তার বন্ধুদেরকে ধোকা দিয়ে আচমকা আক্রমনের জন্যে প্রস্তুতির সময় নেয়া তা বলা এখনি মুশকিল।
তবে জন বোল্টন ও মি. পম্পেও ছাড়াও হয়তো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেশী বিদেশী আরও কিছু ভাল পরামর্শ দাতা থাকতে পারে তাই মনে হচ্ছে পরিস্থিতি শান্ত রেখে আন্তর্যাতিক বাজার দর বিশেষ করে তৈলের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্যে বাধ্য হয়ে সুর নরম করছে এবং আদৌ যুদ্ধে না জড়িত হওয়ার চেষ্টা করছে। ইরান ও তার সমর্থকেরা যাতে আগাম আক্রমন না করে সে জন্যেও সুর নরম করতে পারে।
এই পর্যন্ত দেখা গেছে ট্রাম্প প্রথমেই সবাইকে হুমকি দিয়ে বসে, হুমকিতে কাজ না হলে কি করবে ঠিক করতে পারেনা। তাই সুর নরম করা ছাড়া তখন আর উপায় থাকেনা। যেমন নর্থ কোরিয়া, ই ইউ, কানাডা, চায়না, রাশিয়া ও মেক্সিকো ইত্যাদি দেশের সাথে একই ব্যবহার করে যাচ্ছে।
আমার এই লেখার সময় ৩/৪টি নতুন খবর পত্রিকায় এসেছে। প্রথমত: আজকে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ ধমক দিয়ে বলেছেন, যদি ইরানে কোন প্রকার হামলা হয় তা হলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে আগুল জলবে যা নেবানো কারো ক্ষমতা থাকবেনা। হাসন নাসরুল্লাহ শুধু শুধু ধমক দেয়না এটা অমুসলিমেরা নিজেরা বার বার বলেছে। দ্বিতীয় আর একটি খবর, পত্রিকায় দেখলাম, আমেরিকার অবসর প্রাপ্ত নেভি অফিসার, জাতি সংঘের ইরাকে মানবতা বিধ্বংশী অস্ত্র পর্যবেক্ষন কারী টিমের একজন সদস্য ছিলেন। স্কট রিট্টার লেখেছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধে আমেরিকা অর্জনের চাইতেও ক্ষতিগ্রস্থ বেশী হবে। এবং তার দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। কিন্তু যারা যারা যুদ্ধে লাভবান ব্যক্তি বর্গের সুবিধা ভূগী হিসাবে কাজ করে তাদের তাতে কিছু যায় আসেনা। তাদের লাভের জন্যে সব কিছুই করে যেতে পারে। তাদের কাছে কোন দেশ ও মানুষের জন্যে দয়া মায়া নাই। তাদের চাহিদা হলো টাকা আর টাক চাই। যে ভাবে ডাকাতেরা ডাকাতি করে তাদের মধ্যে দয়া মায়ার লেশ মাত্র দেখা যায়না। এমনকি ধন সম্পদ ডাকাতি করতে অসংখ্য খুন করে। তারা বলে দয়া মায়া দেখালে নাকি ডাকাতি পেশায় যাওয়া যায়না। অতএব যারা বহু তদবীর করে পরামর্শ দাতা হতে পেরেছে তাদের কাজ হলো নগদ যা পাও হাত পেতে নাও…..।
অতএব মুসলিম শাসকেরা সময় থাকতে সাবধান হউন। পাপ বাপকেও ছাড়েনা। আপনাদের ভুলের ও লোভের কারনে মুসলিম দেশ ও জাতি ধ্বংশ হবে এটার পরিনতি আপনাদেরকে ভুগতে হবে তাতে কোন সন্দেহ নাই শুধু সময়ের ব্যাপার। শুধু শাসকদেরকে দোষ দিয়ে আম জনতার দায়ীত্ব ম্ক্তু হওয়া যাবেনা। আমাদেরকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে।
ইতি ১-৬-১৯ ইং
ইতি: লেখক সমাজ কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Email: [email protected]


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ