গ্যাস খাতে লোকসান নেই : তবু কেন মূল্যবৃদ্ধির পায়তারা ?

Pub: বুধবার, জুন ১২, ২০১৯ ৪:২৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, জুন ১২, ২০১৯ ৪:২৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া :

নতুন করে পুনরায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারায় দেশবাসী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা মনে করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ‘পাঁয়তারা’ জনস্বার্থ বিরোধী। প্রশ্নজাগে জ্বালানি খাতের সঙ্কটের জন্য সরকারের দুর্নীতি, ভুল নীতিই দায়ী, এর খেসারত কেন জনগণকে দিতে হবে ?

বর্তমানে জ্বালানী গ্যাস নিয়ে লুট পাট ও দুর্নীতি চলছে। এই সমস্ত লুটপাটকারি, দুনীতিবাজদের সহতা করার জন্য গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পায়তারা করা হচ্ছে। কোন ভাবেই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা যাবে না। মূল্য বৃদ্ধির পায়তারা করা হলে তার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোল গড়ে তুলতে হবে সকল রাজনৈতিক দলকে সম্মিলিতভাবে।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির খড়্গ পড়বে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। এর প্রভাব পড়বে সকল সেক্টরে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও আকাশছোঁয়া। মানুষের বাড়ি ভাড়া বেড়েছে। এর ওপর গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পায়তারা মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাড়াবে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পায়তারা দেখে জনমনে প্রশ্ন জাগে সরকার কি শুধু দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই ? এই সরকারের কি মানুষের ওপর দরদ নেই ?

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পায়তারা সরকারের সম্পূর্ণ গণ বিরোধী পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপ জনগণের পকেট কেটে রাষ্ট্রের কিছু লুটেরা ব্যক্তিদের লাভবান করার,দুর্নীতিকে আরো উৎসাহিত করার জন্য। সরকার জনগণের বিরুদ্ধে লেগেছে। তারা ১০ বছরে ৬ বার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে।

গত পাঁচ বছরে গ্যাসের দাম বেড়েছে দুবার। ২০১৫ সালের পর ২০১৭ সালেও বাড়ানো হয় গ্যাসের দাম। উচ্চমূল্যে গ্যাস বিক্রির ফলে দুই বছরেই এ খাত থেকে সরকারের আয় বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণের বেশি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পেট্রোবাংলা ও এর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কোষাগারে ৬ হাজার ২০৪ কোটি টাকা জমা দিলেও সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছর এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে আয় দ্বিগুণ হওয়ার পরও নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। উচ্চমূল্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির কারণ দেখিয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির এ প্রস্তুতি চলছে।

পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানায়, এক দশক ধরেই গ্যাস খাত থেকে সরকারের আয় বাড়ছে ধারাবাহিকভাবেই। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের আয় ছিল ২ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এ আয় ছিল ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ও ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে গ্যাস খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে রাজস্ব আসে ৪ হাজার ৫৩৮ কোটি ৩৩ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫ হাজার ৫৮৬ কোটি ৫৮ লাখ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩৭৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এছাড়া ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আয় হয় ৬ হাজার ২০৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

২০১৫ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে আয়ও বেড়ে হয় ৭ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। পরের বছর গ্যাস খাত থেকে সরকারের আয় আরো বেড়ে ১৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আয় বৃদ্ধির এ ধারা গত অর্থবছরেও অব্যাহত ছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গ্যাস খাত থেকে সরকারের আয় বেড়ে হয় ১৪ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা।

গ্যাস খাত থেকে সরকারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পেট্রোবাংলা ও এর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফাও বেড়েছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পেট্রোবাংলা মুনাফা করে ৯২০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংস্থাটি মুনাফা করেছে ৯৬৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

গ্যাস সংকট মোকাবেলায় এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। দেশে বিদ্যমান দামের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ দামে এই এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। আর এতে সরকারের বিপুল অংকের অর্থ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে আমদানি করা এলএনজিতে বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি দাঁড়াবে বলে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। উচ্চমূল্যের এলএনজির কারণে আবারো গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। গ্যাসের দাম বাড়াতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের মার্চে গণশুনানিও করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে সরকার এলএনজির দামের সঙ্গে গ্রাহকদের সহনীয় করে তোলার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের উন্নয়নমূলক কাজের ব্যয় সংকুলানের কথাও বলছে। এক্ষেত্রে যুক্তি হলো ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হলে সার্বিকভাবে গ্যাসের দাম বেড়ে যাবে। তাই এ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া সহনীয় করতে ধাপে ধাপে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

গ্যাস খাতের এ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতির অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, গ্যাস খাতের উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে গত এক দশকে এ খাতের উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এ সময়ের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে কোনো গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান হয়নি। স্থলভাগে সর্বশেষ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ১৯৯৯ সালে। আর অফশোরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়েছে সর্বশেষ ২০০৪ সালে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই উদাসীনতা দেখিয়েছে। তা না হলে আমরা হয়তো এক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় থাকতে পারতাম। গ্যাসের মজুদ কমে আসছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে ও ভবিষ্যতে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কাটাতে কয়লা উত্তোলনের দিকে যেতে হবে। তা না হলে জ্বালানির অন্য খাতগুলোর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি চললেও পেট্রোবাংলার অধীন অধিকাংশ কোম্পানিই মুনাফায় আছে। পেট্রোবাংলার অধীনে মোট কোম্পানি রয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি গ্যাস উৎপাদন, অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রমে একটি, গ্যাস সঞ্চালনে একটি, গ্যাস বিতরণে ছয়টি এবং যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে গ্যাস ব্যবহারে একটি কোম্পানি রয়েছে। এছাড়া খনিজ সম্পদ আহরণে রয়েছে আরো দুটি কোম্পানি। গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ কোম্পানির সবগুলোই লাভে রয়েছে।

বিইআরসি সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি খাতে বর্তমানে কোনো গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানিকে ভর্তুকি দেয়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ গ্রাহকের কাছে বিক্রীত গ্যাসের টাকায় কোম্পানিগুলো মুনাফা করছে। আইওসির কাছ থেকে গ্যাস কিনতে যে বাড়তি টাকা ব্যয় হয়, তা সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা হয়।

পেট্রোবাংলার বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যাস বিক্রি থেকে প্রাপ্ত লাভের অংশ ছাড়াও ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে (জিডিএফ) জমা হয় ৯ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধান, খনন ও গ্যাস খাতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় বহনের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে এ তহবিল গঠন করা হয়, যেখানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রির বিপরীতে ১ থেকে দেড় টাকা জমা হয়।

তিতাসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা সাড়া দেশে অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সাড়া দেশে অন্তত ২০ থেকে ২৫ লাখ অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে প্রতিমাসে সরকারের কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে আসা হয় কিন্তু সেই টাকা সরকার পায় না। আর ওই টাকা পূরণ করার জন্যই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশবাসীকে বাঁচাতে হলে অবিলম্বে গ্যাসের অনুসন্ধান কাজ করতে হবে। দূর্নীতিগ্রস্থ তিতাসের কর্মকর্তাদের চাকুরীচ্যুত ও অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ না করে ৫০ গুণ মূল্য বৃদ্ধি করলেও লাভের মুখ দেখবে না।

যখন বলা হয় যে, আন্তর্জাতিক মূল্যের সাথে সমন্বয় না করলে বিশ্বায়নের অংশীদার হওয়া যাবে না। এই কথা যে কতোটা ভাঁওতাবাজি তা বোঝা যায় যখন পাল্টা প্রশ্ন করা হয় যে, জ্বালানির দাম সমন্বয় করা যদি বিশ্বায়নের কারণে অপরিহার্য হয় তাহলে শ্রমিকের মজুরির হার তথা তার শ্রমশক্তির দাম কেন বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে বৃদ্ধি হবে না? পশ্চিমা দেশে যে ন্যূনতম মজুরি বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে, এদেশে তা বাস্তবায়নে কি সরকার উদ্যোগী হবে? গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি কেবলমাত্র গ্যাস ব্যবহারকীদেরকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে বিষয়টি এমন নয়, তা ক্ষতিগ্রস্ত করবে সবশ্রেণী পেশার সব ধরনের মানুষকে। দেশে গ্যাসের মজুদ নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে তাতেও হিসাবের গরমিল রয়েছে। আমাদের সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়টি মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশের সাথে গ্যাস নিয়ে যেসব চুক্তি হচ্ছে তা থেকে আমাদের উপকৃত হবার সুযোগ কতটা রয়েছে তা পরিষ্কার নয়। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এক থেকে অন্য দেশে গ্যাস রফতানি করছে। অথচ আমাদের প্রতিবেশী ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এবং মিয়ানমারে অতিরিক্ত গ্যাসের মজুদ থাকার পরেও আমরা তা আমদানি করতে পারছি না। সেদিকে নজর না দিয়ে এলপিজি চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা কেন এই বিষয়টির বিশদ বিবরণ থাকা দরকার।

পেট্রোবাংলার বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যাস বিক্রি থেকে প্রাপ্ত লাভের অংশ ছাড়াও ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে (জিডিএফ) জমা হয় ৯ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধান, খনন ও গ্যাস খাতের উন্নয়ন কর্মকা-ে ব্যয় বহনের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে এ তহবিল গঠন করা হয়, যেখানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রির বিপরীতে ১ থেকে দেড় টাকা জমা হয়।

এদিকে আগামী দুই বছরের আগে গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, যে কেনো ধরণের জ্বালানীর দাম বাড়ানোর আগে জ্বালানী নীতিমালা তৈরি জরুরি। প্রস্তাবিত হারে গ্যাসের দাম বাড়লে বস্ত্রখাতে পাঁচ শতাংশ খরচ বাড়বে। অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়ালে ব্যবসায় ছেড়ে দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের মতে, প্রস্তাবিত হারে গ্যাসের দাম বাড়লে পোশাক ও বস্ত্র খাতের ওপর বড় প্রভাব পড়বে। কারণ এর ফলে শিল্পে উৎপাদন খরচ সার্বিকভাবে পাঁচ শতাংশ বাড়বে। এতে পোশাক খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বৈদেশিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পোশাকের দামের বিপরীতে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর পরে পোশাক খাত এমনিতেই অনেক চাপে আছে। তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাবে। এর ফলে ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের মতো অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক দেশ আমাদের বাজার দখল করে নিতে পারে।

বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকনের মতে, যদি গ্যাসের দাম বাড়লে প্রতি কেজি সুতার উৎপাদন খরচ ৭ টাকা ৭২ পয়সা বা ৯ সেন্ট হারে বাড়বে। যেখানে বর্তমানে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের প্রতি কেজি সুতায় ৩০ টাকা করে ভর্তুকি দিতে হয়। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে বস্ত্র খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতিতে একাধিক প্রভাব পড়বে।

এভাবে যদি দিনের পর দিন নাগরিকদের স্বার্থ বিবেচনা না করে বিশেষ শ্রেণীর প্ররোচনায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয় তাহলে নাগরিকদের মনে দ্রোহের সৃষ্টি হতে পারে এই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখা প্রয়োজন। আমরা আশা করব সরকার দেশের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে জনগণ ও শিল্প উদ্যোক্তাদের বাড়তি ভোগান্তি দূর করবেন।

(লেখক : রাজনীতিক ও কলামিস্ট, মহাসচিব, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ)


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ