মধ্য প্রাচ্যের মুসলিম দেশ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের খেলা(২য় পর্ব)

Pub: বুধবার, জুন ১২, ২০১৯ ৪:১২ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, জুন ১২, ২০১৯ ৪:১২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ড. এম এ আজীজ
ইরাক: (প্রথম অংশ)
গত কয়েক বছরে সাম্রাজ্যবাদীরা পরিকল্পনা করে একে একে বেশ কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশকে ধ্বংশ করে দিয়েছে এবং বাকী অন্যান্য মুসলিম দেশগুলি হয়তো তাদের অনুগত হয়ে আছে নতুবা ধ্বংশ করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে এগুচ্ছে। স্বার্থ এবং সময় যখন পুরিয়ে যাবে তখন তাদেরকে শেষ করে অন্যদেরকে ক্ষমতায় বসাবে। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জন সমাজে বলেছে, আমেরিকা যদি সমর্থন না করে সৌদি রাজ পরিবার ২ সপ্তাহ টিকে থাকতে পারবেনা। এত বড় অপমানজনক কথা বলার পরও সামান্যতম প্রতিবাদও আমরা শুনতে পাই নাই। এটাই সাম্রাজ্যবাদীদেরআচরন। তাই ধারাবাহিক ভাবে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কয়েক পর্বে তুলে ধরার চেষ্ঠা করছি। এবার ইরাক নিয়ে লেখছি। সময় মত প্রতিটি মুসলিম দেশের সরকার গুলো হয় ভৃত্যের মত থাকতে হবে নতুবা প্রয়োজন শেষ হলে, যে কোন সময় কলা খেয়ে চামড়ার মত যে কোন ডাস্টবিনে অথবা নর্দমার মধ্যে ছুঁড়ে ফেলবে তখন আর কিছুই করার থাকবেনা। পৃথিবীর ইতিহাসে সকল যুকে সকল সাম্রাজ্যবাদীরা একই ব্যবহার করে আসছে।
ইরাকের পুরানো ইতিহাস এখানে সংখিপ্ত পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব নয়। আমার উদ্দেশ্য শুধু সাদ্দাম হোসেনের উত্থান থেকে আমাদের সময়ে একটি মুসলিম দেশ নিয়ে কিভাবে খেলছে ও প্রায় ধ্বংশ করে দিয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করা ও নুতন প্রজন্মকে গত ৩০/৪০ বছরের ইতিহাস তুলে ধরে সাবধান করা ও শিক্ষা নেয়ার জন্য এই ইতিহাস তুলে ধরা। তবে ইরাকের বাগদাদের ইতিহাস অনেক পুরাতন। ইসলামেরও আগমনের কয়েক হাজার পুরাতন সভ্যতা।
ইসলামের প্রথম যুগেই ইরাকের আরবেরা ইসলামর ধর্ম গ্রহন করে। খোলাফায়ে রাশেদীন এর সময় ৬৩৪ খ্রীষ্টাব্দে প্রথম মুসলিম সৈন্যরা আবু ওবাইদাথ থাকাফীর নেতৃত্বে ইরাক অঞ্চলে ইরানের তথা পার্সিয়ান সা¤্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্দ করে পরাজিত হয়। তখনকার দিনে ইরাক অঞ্চল ইরান সা¤্রাজ্যের অধীনে ছিল। তারপর মুসলিম বীর হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে। বলতে গেলে তখন থেকেই ইরাকের অধিবাসীরা দলে দলে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহন করে মুসলিম হতে থাকে। এবং এক বছরের মধ্যে সমগ্র ইরাক মুসলিম খিলাফাতের অধীনে চলে আসে। এটাও আমাদের সকলের জানা, কারবালাতে আমাদের প্রিয় নবী মোহাম¥াদ (স:) এর দৌহিত্র, হযরত আলাী রা: ও হয়রত ফাতিমা (রা:) এর পুত্র হজরত হুসাইনকে (রা:) বাবার বদৌলতে বাগদাদের মসনদে বসে ও খলিফার দাবীদার ইয়াজিদের নির্দেশেই মর্মান্তিকভাবে শহীদ করা হয়েছে। যা আজও হাজার বছর পর সকল মুসলিমকে কাঁদায়। এবং সবাই প্রতিবছর মর্হরমের ১০ তারিখকে আশুরা হিসাবে পালন করে।
কোন এক সময় এই ইরাক সহ সমগ্র আরব ভূমি যথা সৌদী আরব (মক্কা মদীনা সহ), জর্দান, সম্পুর্ণ প্যালেস্টাইন জেরুজালেম সহ, সিরিয়া, কুয়েত, ওমান, আরব আমীরাত, বাহরাইন, ইয়ামেন ও মিশর ইত্যাদি তার্কি মুসলিম খেলাফতের অধীনে ছিল। তখন তার্কির ইসলামী খেলাফত এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিশাল ভুখন্ডের প্রায় ৬০০ বছরের অধিক কাল একক সুপার পাওয়ার ছিল। এই সা¤্রাজ্যকে শেষ করার জন্য বৃটিশ সা¤্রাজবাদী তার স্পাই থমাস ইডওয়ার্ড লরেন্সকে, লরেন্স অফ এরাবিয়া নাম দিয়ে মধ্য প্রাচ্যে পাঠায়। লরেন্স অফ এরাবিয়া অত্যন্ত সফল ভাবে আরবদেরকে জাতিয়তাবাদের ধোকা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক গোত্র প্রধান ও শাসকদেরকে ঘুষ দিয়ে তার্কি খেলাফাতের বিরুদ্বে উস্কানি দিয়ে এক রক্তক্ষয়ী গৃহ যুদ্ধ লাগিয়ে অসংখ্য তার্কিশ মুসলিমদেরকে হত্যা করে আরব ভূমি ছাড়তে বাধ্য করে।
তার্কি খিলাফাত ধ্বংশ করার পর সমগ্র আরব ভূমি তখন বৃটিশ ও ফ্রান্স ভাগাভাগি করে শাসন করা শুরু করে। যেভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ষড় যন্ত্র করে বাংলার নবাব সিরাজ উদ্দৌলাকে মির্জাফর, জগতশেঠ, রায় বল্লব ও ঘষেটি বেগম ইত্যাদিকে ক্ষমতা ও ধন সম্পদের লোভ দেখিয়ে তাদের মাধ্যমে যুদ্ধে পরাজিত করে নবাব সিরাজ উদ্দৌলাকে হত্যা পর্যন্ত করছিল। তার পর সমগ্র ভারত উপমহাদেশ তাদের অধীনে নিয়ে দুই শত বছর গোলামীর জিন্জিরে আবদ্ধ করে শাসন ও শোষন করছিল একই ভাই সম্পূর্ন আরব ভূমি তাদের দখলে নিয়ে ইচ্ছামত শাষন ও শোষন করা শুরু করে। স্বাধীনতার নামে ধোকা দিয়ে নামে দু একজনকে ক্ষমতায় রেখে ঐ সা¤্রাজ্যবাদী ধোকাবাজেরা প্রকারন্তরে গোলামের মত শাসন ও করছিল। তার পর যখন দ্বিতীয় যুদ্ধের পর ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে, খন্ড খন্ড করে বহু দেশে বিভক্ত করে দুর্বল করে দিয়ে আসছিল। লোক দেখানো স্বাধীনতা দিলেও প্রত্যেকটি দেশেকে একে অন্যের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া লেগেই ছিল এবং সবাই তখন সা¤্রাজ্যবাদী প্রভুদের উপর সব কিছুর জন্যে নির্ভর ছিল। অতএব দেশ ছাড়লেও শোষন ছাড়ে নাই। যা আজও চলছে। অতীতে এই ইরাকের নাম ছিল মেসোপটামিয়া। ১৯২০ সালে বৃটিশ ইরাক নামে নতুন করে বাগদাদ কেন্দ্রিক রাষ্ট্রের সৃষ্টি করে । তারপর নুতন শাসক বসানো হয়। একাধিক শাষক পরিবর্তনের পর সর্বশেষ সাদ্দাম হোসেন নিজ কাজিন ব্রাদার প্রেসিডেন্ট আহমেদ হাসান আলবাকরীর বিরুদ্ধে ১৬ জুলাই ১৭৭৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেয়। এবং আমেরিকার নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর আক্রমনে ২০০৩ সালে পতন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত একটি তৈল সর্মদ্ধ আরব দেশের বিশ্বের একজন অন্যতম ভীষন অত্যাচারী, অসংখ্য আলেম ওলামা ও তার মত বিরোধী জনসাধারনকে হত্যাকারী স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট ছিল।
তার পরে সাদ্দাম হোসেন সমগ্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিজ পরিবারের মধ্যেই রাখে। যে কোন ধরনের বিরোধী মতের লোকদেরকে অকথ্য অত্যাচার করে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে হত্যা চালিয়ে যাচ্ছিল। দেশের ভিতরে কোন একটি লোক বিরোধিতা করার মত ছিলনা। এদিকে তৈলের প্রচুর রেভেনিউ (আয়) আসাতে সাদ্দাম হোসেন পূর্ব-পশ্বিম সকলের সাথে সমন্নয় করে প্রচুর উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে। ইরাক বড়ই ভাগ্যবান ছিল কারন তখনকার দিনে ইরাকই এমন একটি আরব দেশ যার কৃষিযোগ্য প্রচুর জমি ছিল অন্যদিকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন জনগন ছিল যাদের মধ্যে অসংখ্য লেবার ছিল। প্রাথমিক দিকে নিজস্ব লেবার দিয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ করতে সক্ষম হলো। পরবর্তি পর্যায়ে দেশকে আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে অনুন্নত দেশ গুলো থেকে লাখ লাখ লেবার এনে দেশকে সব দিক থেকে উন্নত করার সুযোগ পেয়েছিল। সাথে সাথে উন্নত মানের অস্ত্র সস্ত্র কিনে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজারের মত এক বিশাল সৈন্যবাহিনী গড়ে তুলেছিল। যে কোন আরব দেশকে এবং ইস্রাইলকে মোকাবিলা করার মত চ্যালেন্জ করার মত অবস্থায় প্রায় চলে আসছিল। এটোমিক প্লান্ট ও মিজাইলের কারখানা বসিয়েছিল। ব্যালিস্টিক মিজাইল তৈরীর চেষ্টা চালাচ্ছিল। জীবানু অস্ত্র ও কেমিকেল অস্ত্রও তৈরীর চেষ্টা চালিয়ে সম্ভবত: সফলও হয়েছিল। তার প্রমান মিলে নিজ দেশের বিদ্রোহী নাগরিক নিরাস্ত্র কুর্দীদের উপর হালাবজাতে কয়েক হাজার লোকদেরকে কেমিকেল অস্ত্র ব্যবহার করে এক সাথে মেরে ফেলছিল।
ইরান ইরাক যুদ্ধ:
অতএব সাদ্দাম ও ইরাককে শেষ করার সুদূর পরিকল্পনা চলছিল। কারন অর্থে সামর্থ্যে ইরাক শক্তিসালী হয়ে উঠছিল যে কোন সময় ইস্রাইল আক্রমন করতে পারে। ইতিমধ্যে ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে পার্শ্ববর্তী দেশ ইরানের সা¤্রাজ্যবাদীদের তল্পীবাহক ও পুতুল সরকারের আর এক জগন্যতম অত্যাচারী স্বৈরশাসক শাহ রেজা পাহলভীকে ইমাম আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনী জনগনের সাহায্যে উৎখাত করে ইরানে ক্ষমতা দখল করেন। ইরানও অত্যন্ত আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত এক বিশাল বাহীনির অধিকারী ছিল। শাহের পতনের পর তার গঠিত অনেক সেনাপতিরা হয় দেশ ত্যাগ করে ভেগে গেছে অথবা মারা গেছে অথবা কারাঘারে ছিল। আয়াতুল্লাহ খোমেনির সরকার মাত্র দেশকে গুচাচ্ছিল। ঠিক এই সময় সা¤্রাজ্যবাদীরা সাদ্দাম হোসেনকে উসকানি দিয়ে ইরান দখল করতে সাহস যোগাচ্ছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এক ঢিলে অনেক পাখি শিকার করা। ইতিমধ্যে ১৯৭৫ সালে শাহের সময়ে আলজিয়ার্সে ইরাক ও ইরানের সীমান্ত বিরোধের একটি মিমাংসা হয়ে চুক্তি হয়েছিল কিন্তু পরবর্তিতে সাদ্দাম হোসেন তাতে সন্তুষ্ট ছিলনা। অপর দিকে ইরানের বিপ্লবের ভয়ে আরবের রাজা বাদশাহরা ও অন্যান্য অনির্বাচিত স্বৈরশাসকেরা ভয়ে আরামের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। ইরাকের পার্শ্ববর্তী দেশ ইরান। ইরাকের প্রায় ৬০ ভাগ অধিবাসী শিয়া পন্থী। ইরানও সফলতায় অতি উৎসাহী হয়ে নিজেদের বিপ্লবের সফলতার আন্দোলনকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে রপ্তানী করে পূর্ব-পশ্চিমের সকল দালাল শাসকদেরকে বিতাড়িত করে জনগনের সরকার কায়েম করা। ইরান বিপ্লবের পর সকল সা¤্রাজ্যবাদী ও তার দালালদের বিরুদ্বে সকল মুসলিমকে আন্দোলনের ডাক দিয়ে যাচ্ছিল। তাই সকল সা¤্রাজ্যবাদী তার দালালেরা সাদ্দামকেই ইরানকে দমিয়ে দিতে নির্বাচিত করছিল কারন ইরাকই ইরানের একমাত্র প্রতিবেশী দেশ। সা¤্রাজ্যবাদীরা এই সুযোগে দুটো দেশকেই শেষ করে দেয়ার প্লান করছিল। সবাই তাকে প্রয়োজনীয় অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিল।
অতএব এই সুযোগকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে ইরাক তার বিশাল সৈন্যবাহিনী ট্যাংক, বিমান বাহীনি ও অন্যান্য আধুনিক অস্ত্র দিয়ে ইরান আক্রমন করে সীমান্তের অনেক স্থান দখল করে নিল। বলতে গেলে ইরান একপ্রকার খালি হাতে সাদ্দামের সৈন্যদের রুখতে গিয়ে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক শহীদ হয়ে গিয়েছিল।
সা¤্রাবাদীদের প্লান ঠিকই ছিল। ইরাক যেমন দুর্বল হয়ে ধ্বংশ হয়ে যাবে তেমনি ইরানের মত একটি শক্তিসালী দেশ সদ্য বিপ্লব ঘটিয়ে রাত দিন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে শ্লোগন আর শ্লোগন এবং ঐ শ্লোগানে ও মেডিয়ার প্রচারে মধ্যপ্রাচ্যের জনগনের মধ্যে বিপ্লবের যে সাড়া পড়ে গিয়েছিল তখন সা¤্রাজ্যবাদীর মনে করলো সমগ্র মধ্য প্রাচ্য তাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে। তাই সাদ্দাম হোসেনকে দিয়ে এখনি ইরানকে একে বারে শেষ করে দিতে হবে। “রাখে খোদা মারে কে?”। প্রথম দিকে জানবাজ জনগন ইরাকের সৈন্যদের আগ্রাসনকে রুখে দিল তারপর পাল্টা আক্রমনে ইরাকী সৈন্যরা দখলকৃত এলাকা ছেড়ে দিয়ে নিজ সীমান্তে যেতে বাধ্য হলো। এবং কোন কোন এলাকায় ইরান ইরাকের মধ্যে ঢুকে পড়লো। এভাবে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ৮ বছর যুদ্ধ চলছিল। সা¤্রাজ্যবাদীরা অস্ত্রের রমরমা ব্যবসা করতে লাগল। ইরানের প্রায় ১ মিলিয়ন অর্থাৎ ১০ লাখ সৈন্য ও জনগন শাহাদাত বরন করলো। ইরাকেরও প্রায় ৫ লাখ থেকে ১০ সৈন্য ও স্বেচ্ছাসেবক শাহাদাত বরন করলো। মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাজা বাদশাহরা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার যোগান দিল আর সা¤্রাজ্যবাদীরা সব রকমের অস্ত্র সরবরাহ করলো। জাতিসংঘ সহ বহ দেশ ও সংস্থা যুদ্ধ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হলো। সাদ্দামের অবস্থা হলো “ছেড়ে দে মা কেঁদে বাচি। একদিকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেনা দার হয়ে গেল অন্যদিকে যুদ্ধে জয়ের কোন সম্ভাবনা নাই।
ইরান ও ইমাম আয়াতুল্লাহ খোমেনীও যুদ্ধ বন্ধ করার পক্ষে ছিলনা। কারন তারা তখন ইরাকের বিভিন্ন এলাকা একটু একটু করে দখল করে নিচ্ছিল। ইরাকের একমাত্র পারস্য উপসাগরীয় তৈল সমৃদ্ব বন্দর বসরার নিকটে পৌঁচে গিয়েছিল। ইতি মধ্যে ইরাক নতুন মিজাইল আমদানী বা তৈরী করে ইরানের তেহরানের উপর মারা আরম্ভ করে দিল। তখন ইরান নিরাপত্তাহীনতা মধ্যে পড়ে গেল এবং সবাই ইমাম খোমেনীকে বুজানোর চেষ্টা করে সফল হলো। তাই ইমাম খোমেনী “বললেন, জেনে শুনে বিষ খেলাম”। জাতিসংঘের মাধ্যমে অমিমাংশিত অবস্থায় যুদ্ধ বিরতি উভয় পক্ষ মেনে নিল।
(অসমাপ্ত, চলবে)।। পরবর্তি লেখা প্যালেইস্টাইন, লিবিয়া, সিরিয়া, ইরান, পাকিস্তান ও ইয়ামেন ইত্যাদি
ইতি: লেখক সমাজ কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Email: [email protected]


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ