fbpx
 

ছাত্রদলে ‘বয়স্ক’ সৃষ্টির কারিগর কারা?

Pub: মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০১৯ ৬:২১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আনোয়ার বারী পিন্টু :
কালো ডোরাকাটা জামা গায়ে রক্তপায়ে হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে প্রাণপনে নয়াপল্টন ছাড়ছেন ছাত্রদলের হাতে রক্তাক্ত ছাত্রদলের এক নেতা। এই দৃশ্যে বিএনপির হ্নদয় কেঁপে উঠেছে কি না আমি জানি না! একটি দলের কতটা নৈতিক স্থলন ঘটলে এমনটি সম্ভব। যাদের বিদ্রোহী বলা হচ্ছে, আসলেই কি তারা বিদ্রোহী? দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো কিংবা অগণতান্ত্রিক ভাবে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রক্ত আলতা পায়ে সেøাগানধারিকে আমি অবশ্য বিদ্রোহী বলতে নারাজ। আমি বলি, এরাই ছাত্রদলের প্রাণশক্তি। দীর্ঘদিনের অনাচার থেকে মুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে তারা প্রতিরোধের ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়েছে। অভিনন্দন তাদের।
খুব বেশী অনুসন্ধান করার প্রয়োজন নেই, ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র দেখলেই স্পষ্টভাবেই বুঝা যায়, সংগ্রামীদের ভাষা কতটা সত্য এবং বর্তমান সাংগঠনিক পথচক্র কতটা অবৈধ। দীর্ঘদিন গঠনতন্ত্রের এক তৃতীয়াংশ ধারাই লঙ্ঘন করে চলছে ছাত্রদল। দুই বছরের কমিটি পাঁচ বছর অতিক্রম করে কিন্তু কারো কোন শব্দ নেই। তৈলাক্ত বাঁশের মতো আগে পিছলে করতে করতে অবশেষে কমিটি ভাঙ্গা হলো ঈদের আগের দিন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিমালা লংগন করে গত ৩ জুন ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এটিও ছিলো ত্রুটিযুক্ত প্রক্রিয়া!
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের নিবন্ধন বিধিমালায় রাজনৈতিক দলে কোনও ছাত্র, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের নিয়ে অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন রাখা যাবে না এবং কমিটি বিলুপ্ত বা কাউকে বহিষ্কারে অংশ নিতে পারবেন না। বাস্তবে তাই ঘটেছে। নিবন্ধনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে ৯০ (এইচ) বিধান অনুযায়ী যে কোনো দলের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা ইসির রয়েছে। কেন এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে অগ্রসর হলো বিএনপি তা বোধগম্য নয়। এখন ইসিতে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে পরিস্থিতি কি হতে পারে?
দলের যুগ্নমহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকেই যদি ছাত্রদলের কমিটি ভেঙ্গে দিতে হবে তাহলে তিনি চব্বিশ ঘন্টা দপ্তরে থাকার পরও কি করে ২০১৪ সালের কমিটি ২০১৯ সালের ২ জুন পর্যন্ত পাঁচ বছরের অধিক সময় পার করে? ভেঙ্গে দিতে তার কেন এতো দেরী হলো? এর দায় নেবে কে? ছাত্রদলে ‘বয়স্ক’ সৃষ্টির কারিগর কারা?
এর নেপথ্যেই যাই থাকুক, এখন প্রশ্ন আসে, কেবল ছাত্রদলই বয়সের বলি হবে কেন? যদি ছাত্রদলের নেতাদের বয়স নির্ধারণ করা হয় তবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দলকেও একটা বয়সসীমার মধ্যে আনতে হবে। যুবদলের নেতৃত্ব যদি ৬০ বা ৫৫ বছরের হয় তাহলে ছাত্রদলের ৪০ বা ৪৫ হলে সমস্যা কেন?
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরাই কেবল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্য হতে পারবেন’, সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬ নম্ব^র অনুচ্ছেদে এমন কথা বলা থাকলেও এমন বিধি কখনোই মানা হয়নি। এবার নতুন বিধি আরোপ করা হলো, কেবল ২০০০ সালে যারা এসএসসি পাস করেছেন তারা প্রার্থী হতে পারবেন, তাহলে দেখা যায় তাদের বয়স এখন ৩৫-৩৬ বছর হবে। ৩৭ বছর বয়সী একজন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘৩৬ বছর প্রার্থী হতে পারলে ৩৭ বয়সীরা কেন পারবে না?
আশি ও নব্বইয়ের দশকে ছাত্রদলের বেশিরভাগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন অনূর্ধ্ব ৩২ বছর বয়সে। ছাত্রদলের বিগত বেশ কয়েকটি কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বয়স চল্লিশের ঊর্ধ্বে ছিল। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিবাহিত। ডাকসু নির্বাচনে যখন বয়সসীমা ৩০ করে দেয়া হয় তখন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এবং ঢাবি শাখার কোন নেতা। এরপরও বিএনপি নেতৃত্ব প্রতিবারই দাবী করছেন, ‘কমবয়সীদের দিয়েই কমিটি করা হয়েছে।’ তাদের সবিনয়ে প্রশ্ন করি, তাহলে ছাত্রদলে কত হলে বয়স বেশী?
সকলেই জানেন, বিএনপি হচ্ছে বিশাল সমুদ্র আর তার ভিতর মহামূল্যবান যে মণিমুক্তা তাই ছাত্রদল। বিএনপি নামক বিশাল বটগাছের বিস্তৃত শিকড়ই হচ্ছে ছাত্রদল। যে বিএনপি ছাত্রদলের কর্মীদের দলীয় গঠনতন্ত্র চর্চার প্রেরণা যোগাবে তারাই আজ গঠনতন্ত্র দলিত করে ইতিহাস সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।
জাতীয়দাবাদী ছাত্রদলকে পঙ্গু করার নায়ক কে? কাদের কারনে দলের অখন্ডতা, শৃঙ্খলা বিনষ্ট হলো। এই নিশাচররা ভয়ংকর। এরা নির্যাতিত নেতাদের অবমূল্যয়ন করে রাজনীতিতে তৃণমূল কর্মীদের আগ্রহ দমিয়ে দিচ্ছে। বিএনপি কুক্ষিগত করার ষড়যন্ত্রেরই অংশ ছাত্রদলের কমিটিতে জট পাকানো। সম্ভবত এবার আদালতেই যেতে হবে। দুঃখ হয়, দেশব্যাপী কোথাও আজ ছাত্রদল নেই। এমন অবস্থায় আমার ভয় হয়, না জানি ছাত্রদল জাদুঘরে চলে যায়।
লেখক- সাংবাদিক


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ