fbpx
 

মধ্য প্রাচ্যের মুসলিম দেশ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের খেলা

Pub: মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০১৯ ১০:২৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

(ইরাক শেষ অংশ – ২য় পর্ব)
ড. এম এ আজীজ
ইরাক: (শেষ অংশ )
ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত আক্রমন ও দখল:
ইরানের সাথে যুদ্ধের বিরতির পর সাদ্দাম হোসেন যুদ্ধের সময় আরব রাষ্ট্রগুলো থেকে কর্জ নেয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ( ৪০ বছর পূর্বে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার যা বর্তমানে কয়েকশত বিলিয়ন ডলারের সমান হবে) ডলার মাফ করে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। বিশেষ করে কুয়েতের উপর বেশী চাপ ও হুমকি দিচ্ছিল। এবং নতুন করে আরও বহু বিলিয়ন ডলার দিতে আরব ধনী দেশ গুলোর উপর চাপ দিয়ে যাচ্ছিল। কারন গত আট বছরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নিজের শত বিলিয়ন রিজার্ভ শেষ হয়ে আরও বহু বিলিয়ন ডলার সাম্রাজ্য বাদী প্রভুদের কাছে দেনা হয়ে গিয়েছিল। তদুপরি দেশ চালাতে ও যুদ্ধে ধ্বংশ হয়ে যাওয়া দেশের অবকাঠামো পুনর্ঘঠনে আরও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। তখনকার দিনে ইরানকে শেষ করার জন্য সব আরব তৈল সমৃদ্ব দেশ গুলো ৮ বছরে শত বিলিয়ন সাদ্দাম হোসেনকে দিয়েছিল। বর্তমানে আর দিতে রাজী হচ্ছিলনা। এদিকে জ্বালানী তৈলের দাম অনেক পড়ে গিয়েছিল। এই জন্য সাদ্দাম হোসেন আরব দেশ গুলোকে দোষ দিচ্ছিল কারন তারা চাহিদার তুলনায় বেশী তৈল সরবরাহ করছিল। বিশেষ করে কুয়েতকে।
এই সুযোগে সা¤্রাজ্যবাদীদের মোড়ল আর এক ষড়যন্ত্র ও ফন্দি করলো। এবার সাদ্দাম হোসেন ও ইরাককে সরাসরি আক্রমন করে শেষ করে দেবে। কারন তারা ইরান ইরাক যুদ্ধে যা আশা করছিল তা হয় নাই। অতএব ইরাকে কোন একটি প্রভাবশালী দেশের প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনকে পরামর্শ দিলো, “টাকা না দিলে কুয়েতকে দখল করে নিতে। তার দেশ কিছু বলবেনা। এছাড়া এই কুয়েত কোন এক সময় ইরাকেরই অংশ ছিল। সুতরাং দখল করে নেয়াটা মোটেই অন্যায় হবেনা। এটা ইরাকের যুক্তিসংগত ন্যায্য অধিকার”। তার দেশ কিছু না বললে অন্য কোন দেশ এইটা নিয়ে তেমন কোন উচ্ছ বাচ্ছ করবেনা। আর যদি করেও তা ম্যানেজ করা যাবে। তাতে কুয়েতের সকল তৈলের খনি সাদ্দাম হোসেনের হয়ে যাবে। অতএব তাদের থেকে আর কোন ডলার চাইতে হবেনা। কুয়েত একটি তৈল সমৃদ্ব ছোট দেশ। মাত্র ১৫ লাখ জনগনের দেশ। মোটামোটি একটি শান্তি প্রিয় দেশ। অন্য কোন দেশের সাথে ঝগড়া বিবাদে নাই। গরীব মুসলিম দেশগুলোকে প্রয়োজন মত সাহায্যও করে যাচ্ছিল। সীমিত গনতন্ত্রেরও চর্চা চলছিল।
এই পরামর্শই যে সাদ্দাম হোসেনের মরনের ফাঁদ ও ইরাকের ধ্বংশ ছিল সেটি বুঝতে পারে নাই । তার মত স্বৈর শ্বাসক গরম মাথায় বুঝার কথা নয়। তাই দেরী না করে ২ আগষ্ট ১৯৯০ সালে রাতের বেলা ভোর ২টায় ইরাক কুয়েত আক্রমন করে দুদিনের মধ্যে প্রায় বিনা বাধায় দখল করে নেয়। কুয়েতের আমীর কোন ভাবে নিরাপদে সৌদি আরব পৌঁচে। তার পর যারা কুয়েত দখল করার পরামর্শ দিয়েছিল তাদেরই নেতৃত্বে জাতি সংঘের (পাঁচ মোড়লের সংঘ) মাধ্যমে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্বে সমগ্র বিশ্বকে এক করে কুয়েত উদ্বারের নামে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এবং সাদ্দাম হোসেনের ভয় দেখিয়ে সমগ্র মধ্য প্রাচ্যের সব আরব মুসলিম দেশগুলোতে লাখ লাখ সৈন্য সমবেত করা হচ্ছিল। এবার সাদ্দাম যায় কোথায়। সারা পৃথিবী এক দিকে আর সাদ্দাম হোসেন একা এক দিকে। কথায় বলে “পাপ বাপকেও ছাড়েনা”। এই কিছু দিন আগে মাত্র সাদ্দামের কারনে ইরান ইরাক যুদ্ধে উভয় দেশের লাখ লাখ নিরীহ মুসলিম শহীদ হয়েছিল। এবং লাখ লাখ জনগন পঙ্গত্ব বরন করতে হয়েছে এবং দুটি সমৃদ্বশালী মুসলিম দেশ প্রায় অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে পড়লে পরিনতি এমনি হয়। এটিই ইতিহাসের আমোঘ নিয়ম। আজ সমগ্র বিশ্ব তার বিরুদ্বে একাট্টা। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট বুশ সিনিয়র এর নেতৃত্বে ১৬ জানুয়ারী ১৯৯১ সালে ন্যাটো ও অন্যান্য আরব নন আরব ৪০টি দেশ ইরাক আক্রমন করলো। যে আরবেরা সাদ্দাম হোসেনকে দিয়ে ইরানকে শেষ করার জন্যে সর্বৌত ভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করেছিল এখন সে আরবদেরকেই দখল করে নেয়ার চেষ্টা করছে। কুয়েত দখল করে নেয়ার পর ভয়ে অন্যান্য আরব দেশগুলো আর এক সাম্রাজ্য বাদী আমেরিকাকে ডেকে আনলো। আমেরিকা ও তার বন্ধুরা এই সুযোগের অপেক্ষায় অনেক আগে থেকেই প্লান করে বসে ছিল। সাদ্দামের পক্ষে কোন একটি দেশ তেমন সমর্থন দিলনা। কুয়েত উদ্ধারের নামে আমেরিকা ও সৌদি সেনাপতির নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী নিয়ে ইরাক আক্রমন করলো। ইরাকের বিশাল বাহিনী কুয়েতে তৈল কূপগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পিছটান করে কুয়েত ছেড়ে নিজ সীমান্তে চলে গেল। যৌথ বাহিনী হাজার হাজার ইরাকী আর্মীকে বোমা মেরে হত্যা করলো এবং বাগদাদ সহ বিভিন্ন শহরে বোমা ফেলে যথেষ্ট ক্ষতি সাধন করে সাদ্দামকে বাধ্য করে ৪৩ দিন পর যুদ্ধ বিরতি দিয়ে এক অসম চুক্তি করে। তারপর সব সৈন্য নিজ দেশে ফেরত গেলেও কিন্তু আমেরিকা ও তার কিছু ঘনিস্ট বন্ধু দেশের অধিকাংশ সৈন্য সৌদি আরব সহ আরব দেশ গুলোতে সাদ্দামের ভয় দেখিয়ে রেখে দিল। এই সুযোগে মধ্য প্রাচ্যের সব আরব দেশে হাজার হাজার সৈন্য রেখে বিভিন্ন স্থায়ী ঘাঁটি বানালো। তার মানে এতদিন গোপনে আরব দেশে কিছু সৈন্য রাখলেও বর্তমানে এই সুযোগে প্রচুর সৈন্য রেখে একপ্রকার অঘোষিতভাবে তাদের দখলে নিয়ে নিল। কারন একটিই আল্লার দেয়া বিশাল নেয়ামত তরল সোনা জ্বালানী তেল ভান্ডারের উপর এক চেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখা। যে তেল না হলে তাদের উন্নতির চাকা সামনে এগুবেনা। দৈনন্দিন নাগরিক জীবন অচল হয়ে যাবে।
তারপর আবার অন্য খেলা। খেলাড়ীদের খেলা কিন্তু শেষ হয়না। ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র একটার পর একটা লেগেই থাকে কারন এটা তাদের পেশা ও ব্যবসা বহু রকমের দৃশ্য ও অদৃশ্য আয়ের উৎস যা সাধারন জনগনের বুঝার বা জানার বাহিরে। এই সব বড় দেশের বড় নেতারা সাধারন দেশের জনগনের বোধগম্যের এবং চিন্তার নাগালের অনেক বাহিরে। যে সব এগ্রিমেন্ট প্রেসিডেন্ট বুশ সিনিয়রের সময় হয়েছিল তন্মধ্যে একটি ছিল যে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম কোন প্রকার কেমিক্যাল ও বায়লজিকেল অস্ত্র রাখতে পারবেনা। অথচ তারা জানতো ঐ ধরনের কোন অস্ত্র সাদ্দাম হোসেনের কাছে ছিলনা। যদিও ইরানের জনগনকে মারার জন্য সা¤্রাজ্যবাদীরাই সরবরাহ করছিল। এবং সে সব অস্ত্র ইরানের সৈন্য ও সেচ্ছাসেবকদের উপর এবং কুর্দি এলাকাতে নিরীহ জনগনের উপর ব্যবহার করে হাজার হাজার লোকদেরকে হত্যা করেছে। তার পরও একটি তদন্ত কমিটি করেছিল যারা পর্যবেক্ষন করবে ও কোন মারনাস্ত্র আছে কিনা তা খোঁজ করে বের করবে। কিন্তু এটিকে অজুহাত ধরে আবার প্রেসিডেন্ট বুশ জুনিয়র ২০ মার্চ ২০০৩ সালে আরবদের সাহায্য নিয়ে আক্রমন করে তার বাবা যে কাজ করেনি তিনি সে কাজই করলো অর্থাৎ পুরো ইরাকই দখল করে নিল। অনেকেই বলে থাকেন বুশ সিনিয়র কেন সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে বাগদাদ তথা পুরো ইরাক দখল করেন নাই। অথচ চাইলেতো পারতো। বুশ সিনিয়রের ৪৩ দিন যুদ্ধে আমেরিকা সহ যৌথ বাহিনীর মাত্র প্রায় ৩০০ সৈন্য মারা গেছে অথচ পুরো ইরাককে বিদ্বস্ত করে এক প্রকার ধ্বংশ স্তুপে পরিনত করেছে। কিন্তু যদি বাগদাদ দখল করার চেষ্টা করতো তবে আমেরিকার বহু হাজার সৈন্য হতাহত হতো। যা আমেরিকার জনগন ও কোয়ালিশান দেশের নেতারা হয়তো মেনে নিতোনা। কারন জাতিসংঘের মেন্ডেট ছিল শুধু কুয়েত মুক্ত করা ইরাক দখল নয়।
এবার বুশ জুনিয়র বাবার রেখে যাওয়া অসুম্পূর্ণ কাজ সমাধা করার জন্য নানা অজুহাত খুঁজে দখল করে নিয়ে নিল। এবারে বুশ জুনিয়রের প্রধান সমর্থক ও সাহায্যকারী ছিল বৃটিশ প্রধান মন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। সাদ্দাম হোসেন কোন ভাবে জানে বেঁচে গ্রামের দিকে পালিযে গেল। আমেরিকা গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নাম করে এবার ইরাকে থেকে গেল। এবং বিনা মিটারে দীর্ঘ দিন সহযোগী রাষ্ট্রগুলো নিয়ে ইচ্ছামত তৈল উত্তোলন করে নিজ দেশের জনগনের উন্নতির জন্য ডাকাতি করে ভাগাভাগি করে নিয়ে গেল। যা তখনকার যুদ্ধ বিরোধী বৃটিশ জর্জ গ্যালোওয়ে এমপি বার বার বলেছিল যা আজও ইউটিউবে রক্ষিত আছে। ভাগ্যিস যদি মোক্তাদা আসসাদার এর গেরিলা বাহিনী দ্বারা নাজেহাল না হতো এবং হাজার হাজার সৈন্য প্রতিদিন হতাহত না হতো তা হলে আজও ইরাকের দখল রেখে দিত। হাজার হাজার সৈন্য হতাহতের পর সৈন্যদেরকে নিয়ে এক প্রকার ভেগে গেল। ২০১১ সালে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষনা করলো। সমাপ্তির পরও হাজার হাজার সৈন্য ইরাকে রয়ে গেল। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ঘোষনা দিয়ে সব সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়ার পরও ৫ হাজার সৈন্য বিনা পারমিশানে বিনা এগ্রিমেন্টে ইরাকে রেখে দিল। বার বার ইরাকের সরকার ও বিরোধী দলের পক্ষ হতে সব বিদেশী সৈন্যদেরকে ফেরত নেয়ার জন্য বলা হলেও গায়ের জোরে রেখে দিয়েছে। কুর্দি এলাকায় এত বড় সৈন্যদের ঘাঁটি বানাচ্ছে যেটি পৃথিবীর কোন দেশে নাই। যেখানে তাদের নিজের যে কোন বিমান উঠতে নামতে পারে। অথচ সবই একটি স্বাধীন দেশে বিনা অনুমতিতেই করতেছে। এতে বুজা যায় কেন সাদ্দাম হোসেন ও ইরাককে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দখল করেছিল। বাগদাদে গ্রীন জোন নামে বিশাল এলাকাকে দূর্গ বানিয়ে নিজ এম্বেসীর সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। অবশ্য তাতে তাদের সুরক্ষা হয়েছে বলে মনে হয়না। মাত্র কয়েকদিন আগে তাদের সুরক্ষার মধ্যে কে বা কারা রকেট ছুঁড়েছে যা আজও কেহুকে পাকাড় করতে পারে নাই। পরিস্থিতি এমন হয়েছে আজকাল আর কোন কম্পাউন্ডে ওয়াল ভেঙ্গে ডুকতে হয়না। বহু দূর হতে রকেট মিজাইল ও গ্রেনেড মেরে ধ্বংশ করে দেয়া যায়। কারন এসব যেন খেলনা হয়ে গেছে। অতএব অন্যায় অবিচার করে সুরক্ষা বলতে মনে হয়না কিছু আছে। একমাত্র ন্যায় বিচার, আম জনতাকে বিপদে আপদে সাহায্য করা, জুলুম অত্যাচার অবিচার না করে মানবতার জন্যে নি:শর্ত কাজ করার মধেই মনে হয় সন্মান ও সুরক্ষা রয়েছে। এই সব ব্যক্তিরা মরিয়াও অমর। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। সাদ্দাম হোসেন গ্রামের এক কৃষি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। ঐখানে একটি সাধারন ঘরের বাহিরে শিয়ালের বস বাস যোগ্য একটি গর্ত বানিয়ে উপরে ডাকনা দিয়ে রাখতো যাতে আমেরিকর সৈন্যরা সন্দেহ না করে ও খুঁজে না পায়। কিন্তু ৭ মাস পর আজরাইল ঠিকই ঐ গর্তের অনুসন্দান দিয়ে ধরিয়ে দিল। তার পর কিছু দিন বন্দি রেখে ফাঁসির আদেশ হয়ে গেল। যার চোখের ইশারায় কত হাজার হাজার লোক নির্দয় ভাবে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। আজ যার পরিনতিতে তার এক করুন মৃত্যুর নাটক সবাইর সামনে হয়ে গেল অথচ তার জন্যে একটি লোকও টু শব্দ করলোনা। দু:খজনক হলেও বলতে হয়, যেদিন বিশ্বের বিলিয়নেরও বেশী মুসলিম ঈদুল আজহার আনন্দ করবে, নামাজের পর পশু কোরবানী করবে ঠিক সেদিনই ভোর বেলা সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্য্যকরী করা হয়। এটাও সারা বিশ্বের মুসলিমদের প্রতি একটি উপহাস ছাড়া কি হতে পারে। পত্রিকাতে এ খবরও এসেছে সাদ্দাম হোসেনের মাথা থেকে শরীর আলাদা হয়ে নিছে পড়ে গিয়েছিল। যা সম্ভবত: ইতিহাসে ঘটেছিল কিনা সন্দেহ। “অতি চালাকের গলায় দঁড়ি” এটাই বাস্তবে প্রমানিত হলো। সাদ্দাম হোসেনের চরম নির্যাতন ও অত্যাচারে নিজ দেশের কত হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষ ও বহু বুজুর্গ আলেম ওলামা অকালে গুম ও হত্যার শিকার হলো তার কোন হিসাব এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে জানা নাই। এক রাত্রিতে নিজ নাগরিক কার্দিস মুসলিম এলাকাতে ক্যামিকেল বোমা মেরে কয়েক হাজার নাগরিককে হত্যা করলো সেই করুন ছবি এখনও দেখলে ইরাকেরই কারবালার নির্দয় সীমারের কথা মনে উঠে। দুধের বাচ্ছা মায়ের দুধ খাওয়া অবস্থায় মায়ের বুকের উপর উভয়ের মৃত্যুর ছবি দেখলে..।
যার নির্দয় পাষান হ্রদয়ে নিজ মেয়েদের দু‘জামাতাকে (যারা আপন সহদর ছিল, আর্মীতে অফিসার ছিল) সাদ্দামের বড় ছেলের সাথে মতবিরোধে প্রানের ভয়ে জর্দানে পালিয়ে গিয়েছিল। মেয়েদের মা নিজ শাশুড়িকে পাঠিয়ে জর্দানে পালিয়ে যাওয়া থেকে মিথ্যা ওয়াদা করে এনে পরের দিন গুলি করে হত্যা করে আপন মেয়েদেরকে বিধবা করতে একটু খানি দয়া হয় নাই ও বিবেকে বাধে নাই। এই ছিল সাদ্দাম হোসেনের চরিত্র। যার কারনে হাজার হাজার ও লাখ লাখ মুসলিম অকালে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। । যার কারনে আরব ভূমি আজ পশ্চিমাদের দখলে। যার কারনে অসংখ্য আলেম ওলামা নানা ভাবে অত্যাচারিত হয়ে অসময়ে এই পৃথিবী থেকে চলে গিয়েছিল। যাঁরা থাকলে মুসলিম মিল্লাতের হয়তো আরও অনেক খেদমত আঞ্জাম দিতে পারতেন। সাদ্দাম হোসেন মনে করেছিল, নিজ দেশে বিরোধীতা করার মত কেহুকে রাখা যাবেনা বা রাখেনাই কিন্তু সাত সমুদ্র তের নদী প্রায় ১০,০০০ হাজার কিলো মাইল পার হয়ে বুশ জুনিয়র আজরাঈলের রূপ নিয়ে সাদ্দাম হোসেনকেও এই অস্থায়ী জগত থেকে চরম অপমানজনক ভাবে বিদায় করবে এটা কি তার জানা ছিল? নিশ্চয়না। তার চাইতেও আরও করুন ও অপমান জনক বুশ জুনিয়রের ভাগ্যে জুটলো। তা হচ্ছে অত্যন্ত বাহাদূরীর সাথে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পূর্বক্ষনে ইরাকে ধন্যবাদ নেয়ার জন্যে এসে এক সাংবাদিক যিনি নিজ পায়ের জুতা ছুড়ে মেরে তাকে বিদায় করেছে। পরবর্তিতে ঐ সাংবাদিক ইরাকের সাংসদ বা এমপি হয়েছিল। এবং পৃথিবীর একক সুপার পাওয়ার এর চরম শক্তিশালী শাসক বুশ জুনিয়রের জুতা খাওয়া আক্রমন আজও ইউটিউভ এ পাওয়া যায়। কোন অত্যাচারিই সন্মান নিয়ে বিদায় হতে পারেনাই এটাই ইতিহাসে বড় শিক্ষা যদিও কোন আত্যাচারী এই ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহন করার চেষ্টা করে নাই। এটাই ইতিহারে বড় শিক্ষা। এক সাদ্দামের কারনে একটি ধনি আরব দেশ, যে দেশে বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ বাংলাদেশী সহ বিদেশী লোকেরা কাজ করে পরিবার পরিজন দেখা শুনা করতো আজ সে দেশের জনগনের চাকরি নাই বাড়ী ঘর নাই। সরকার নিজে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে থেকে কর্জ করে অন্য দেশ থেকে ইলেক্ট্রেসিটি এনে দেশ চালাচ্ছে। যে দেশে প্রতিদিন যেখানে সেখানে বোমা বিষ্ফোরনে অসংখ্য জনগন হতাহত হচ্ছে। এজন্যে কারা দায়ী ? পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীরা কিছু অর্বাচিন নামে মুসলিম নেতাদেরকে ব্যবহার করে মুসলিম জাতি ও দেশগুলোকে একে একে শেষ করে দিচ্ছে। তাই আমাদেরকে এখনি সচেতন হতে হবে। এবং আমাদের দেশ ও জাতিকে সময় থাকতে রক্ষা করতে হবে। ইতি ১৮-০৬-২০১৯ ইং
(ইরাক অংশ সমাপ্ত)।। পরবর্তি লেখা প্যালেস্টাইন, লিবিয়া, সিরিয়া, ইরান, পাকিস্তান ও ইয়ামেন ইত্যাদি
ইতি: লেখক সমাজ কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক Email: [email protected]


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ