fbpx
 

দেশের মঙ্গলের জন্য রাজনীতি, নাকি নেতার দাসত্ব?

Pub: মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০১৯ ২:২৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০১৯ ২:২৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

যুক্তরাজ্য থেকে তাজুল ইসলাম: দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের বর্তমান সময়ের রাজনীতিবিদেরা দলের আদর্শের চাইতে নেতার আদর্শকেই পুজি করে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং সেই দলের নেতা নেত্রীকে একটা আসনে বসিয়ে তাদেরকে সকল দোষত্রুটির উর্দ্ধে মনে করেন এবং তাদের দেয়া নির্দেশনাকে কে প্রসাদ মনে করেন, আর কর্মীরা নিজ দলের নেতার কাছ ঘেষাকে আশির্বাদ ভেবে নিজেকে ধন্য মনে করেন।রাজনৈতিক ভাবে আপনি একটা দলের সমর্থক হবেন তবে কেনো এই অন্ধ কৃতদাসের মতো কান্ডজ্ঞান শুন্য হয়ে নিজের বিবেক, রুচীর সাথে সাথে মনুষত্ব হারিয়ে ফেলবেন। সবার রাজনৈতিক মতাদর্শ এক সমান না তবে আপনি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হলে এই দেশের মাটি ও মানুষের জন্য দুইজন নেতার অবদানকে কখনো অস্বীকার করতে পারবেন না। গত ৪৮ বছরের ইতিহাসে আমাদের এই ছোট্ট গরীব দেশটি কোন রাষ্ট্র প্রধানের সত্যিকারের ভালোবাসা পেয়ে থাকলে তা পেয়েছে এই দুজনের কাছ থেকে। রাজনৈতিক দোষ হয়ত তাঁদের কিছু ছিলো তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মাটি ও মানুষের প্রতি তাঁদের ছিলো নিখোদ ভালোবাসা, গভীর মমতায় তাঁরা এই দেশটিকে বুকে ধারন করেছিলেন সেকথা এদেশের সাধারন মানুষেরা স্বীকার করবে। আমাদের ব্যক্তি স্বার্থের রাজনীতি এমন একটা পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে ঘাতকের বুলেট নির্মমভাবে এই পৃথিবী থেকে তাদের বিদায় করেই ক্ষ্যান্ত দেয়নি নতুন ঘাতকেরা সুযোগ পেলেই নির্মম ভাবে বিদায় নেয়া এই মৃত মানুষদের চরিত্র আঘাতে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে। আমরা ভুলে যাই মানুষ হচ্ছে (আশরাফুল মাখলুকাত ) সৃষ্টির সেরা জীব তবে ফেরেশতা না, মানুষের ভুল ত্রুটি থাকবেই।

রাজনীতি করতে যদি “দেশের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়” এই অসুস্থ মতবাদের অন্ধ চর্চা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে না পারেন, তাহলে বুঝবেন আপনার রাজনৈতিক জীবনটাই বৃথা। আপনাকে বুঝতে হবে সবার উপরে দেশ সুতরাং দেশের স্বার্থের উপরে আঘাত আনলে সেই ব্যক্তি বা দল শুধু নয়, প্রয়োজনে নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়াই হয় একজন দেশপ্রেমিকের কাজ। আমরা বিশ্বাস করি প্রতিটি রাজনৈতিক দলেই কিন্তু সৎ, নিষ্ঠাবান নেতা এবং কর্মী আছেন। তাঁরা অনেকে সত্য ন্যায়ের আত্মসমালোচনায় নিজের দল বা নেতার সমালোচনা করতে পিছপা হন না।

জনগনের ন্যায্য দাবি আদায়ের সংগ্রামে রাজপথে নামবেন আপনি, জেল জুলুম হামলা মামলায় নির্জাতিত হবেন আপনি, একটা দলকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে রাজপথে রক্তাক্ত হবেন আপনি, দল এবং নেতা তার স্বার্থ রক্ষায় আপনার বাবার কষ্টার্জিত পয়সায় কেনা কলম ছিনিয়ে আপনার হাতে তুলে দেবে অস্ত্র, একটা দলকে সমর্থনের অপরাধে আপনি সমাজের চোখে হয়ে উটবেন ভয়ংকর সন্ত্রাসী, অতপর সেই দল যখন ক্ষমতার মসনদে বসবে তখন ক্ষমতার শীর্ষে অধিষ্ঠিত হবে দুধে ভাতে বড় হওয়া নেতার সেই সন্তান নয়তোবা নেতার কোন নিকট আত্বীয়। তখন আপনি কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারবেন আপনি কি একটা গনতান্ত্রীক দলের রাজনীতি করেছেন না কি অঘোষিত কোন রাজতন্ত্রের পিছনে নিজের জীবন যৌবন ব্যায় করেছেন।

বর্তমান সময়ে দেশের সাধারণ মানুষেরা রাজনৈতিক বন্ধনার কাঁচের চশমাটি পড়তে অস্বীকার করে বলে অনেক সময় তাদেরকে রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছ থেকে শুনতে হয় অপবাদ। একটা দলের বিরুদ্ধে কথা বললে শুনতে হয় “দালাল” আবার আরেকটা দলের পক্ষে মত দিলে শুনতে হয় “রাজাকার”। দুটি শব্দের মাঝেই আমাদের নেতাদের রাজনীতি। আমরা ৪৮ বছর ধরে শুধু ক্ষমতা বদলের যাঁতা কলে পরে একটির পর একটি অপবাদ কাঁধে নিয়ে জিন্মি হয়েছি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাতে, আবার অনেক সময় অন্যায় ভাবে শোষিত হয়ে এসেছি।

রাজনীতি করতেই পারি, কোন দলকে সমর্থন জানাতেই পারি, তাই বলে আমরা অন্ধ হবো কেন! রাজনীতি করা মানে একটা দলের প্রতি অন্ধ সমর্থন বা নেতার অন্ধ ভালোবাসা নয়। রাজনীতি করতে একটা দলকে সমর্থন করতে গিয়ে যদি নিজের বিবেক বিসর্জন দিয়ে অন্ধ ভাবে দল এবং নেতার তোষামোদে পক্ষপাতিত্বে লিপ্ত হতে হয় তখন সেটাকে দেশের মঙ্গলের রাজনীতি বলা যাবে না, সেটা হয়ে যায় দল এবং নেতার দাসত্ব।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ