গুজবের গজব বনাম গজবের গুজব!

Pub: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০১৯ ১০:৫০ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০১৯ ১০:৫০ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গোলাম মাওলা রনি :
জমিনে গজব নাকি গুজব- কোনটি আগে আসে সেই প্রশ্নের সমাধান মহাকালে বহুবার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে ঐতিহাসিকভাবে। আধুনিক ইতিহাসের বিখ্যাত উপকথা রোম যখন পুড়ছিল- ‘নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল’র কাহিনী যেমন আমরা অধ্যয়ন করি তেমনি আদ, সামুদ ও ইরাম জাতির পতনের কাহিনীও পড়ি। অত্যাচারী রাজা-বাদশাহ এবং তাদের হারামখোর দোসর তথা উজির-নাজির, কোতোয়াল, পাইক-পেয়াদা ও ধামাধরাদের সবংশনিপাতের বহু কেচ্ছা-কাহিনী এবং দালিলিক প্রমাণে পুঁথি-পুস্তক ভরে আছে। প্রতিটি কাহিনী চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে কি গজব আসে নাকি গজবের পরে গুজব শুরু হয়, তা নিয়ে বিস্তারিত বলার আগে গুজব ও গজব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা দরকার। গুজব ও গজব কোন জমিনে অনিবার্য হয়ে পড়ে এবং কী করে গুজব ও গজব থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তা নিয়েও সাধ্যমতো আলোচনার চেষ্টা করব।

গুজবের প্রধান কারণ হলো জুলমাত অর্থাৎ অন্ধকারসমূহ। জুলমাত শব্দটি একটি কুরআনিক শব্দ। জুলমাত থেকে বাঁচার জন্য স্বয়ং আল্লাহ তাঁর রাসূল সা:-কে উদ্দেশ করে বলেন- ‘হে নবী! আমি আপনার প্রতি এমন একখানা কিতাব অবতীর্ণ করলাম, যা দিয়ে আমি এবং আপনি মানবমণ্ডলীকে জুলমাত বা অন্ধকারসমূহ থেকে আলোর পথে অর্থাৎ নূরের পথে নিয়ে আসি। পবিত্র কুরআনের আলোচিত এই আয়াতের জুলমাত এবং নূর শব্দটির মধ্যেই গুজব ও গজবের কার্যকারণের তথ্যসমূহ লুকায়িত রয়েছে। জুলমাত একটি বহুবচন, যার অর্থ একাধিক অন্ধকার বা বহুমাত্রিক অন্ধকার। অন্য দিকে, জুলমাত দূর করার জন্য আল্লাহ আলোর বহুবচন আনোয়ার অর্থাৎ আলেয়া ব্যবহার না করে একবচনীয় শব্দ নূর ব্যবহার করেছেন। এখানে অন্ধকারের বহুবচনের অর্থ অন্যায় ও পাপের বহু সহস্র রকম-সকম রয়েছে। মানুষ বিভিন্ন ফন্দি-ফিকির, তদবির এবং কায়দা-কানুন-কৌশলের মাধ্যমে বাহারি পাপ কাজে লিপ্ত হয়। কিন্তু সব পাপের জন্যই পাপীকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। অন্য দিকে, পাপ থেকে বাঁচার যে রাস্তা তা একেবারে সহজ সরল এবং নূরের আলোয় আলোকিত। ফলে পাপীদের জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন, গোপনীয় ও লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও নির্দোষ লোকেরা থাকেন দিবালোকে। তাদের জীবনযাত্রায় কোনো গরল বা গোপনীয়তা থাকে না। সোজা পথ এবং স্বচ্ছতাই হলো ভালো মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

আলোচনার এই পর্যায়ে গুজব ও গজব সম্পর্কে কিছু বলা যাক। গুজব হলো মানুষের মনের মধ্যে সৃষ্ট ভয়-আতঙ্ক, অবিশ্বাস, ক্ষোভ, ব্যথা-বেদনাপ্রসূত কল্পিত মিথ্যা সংবাদ। যে সমাজে জুলমাত বেশি মাত্রায় হয় অর্থাৎ অন্ধকারের গোপন কর্মগুলো বেশি হয় সেখানেই গুজবের সৃষ্টি হয়ে থাকে। সমাজের চুরি-ডাকাতি, অন্যায়-অত্যাচার, জেনা-ব্যভিচার, ধোঁকাবাজি-মিথ্যাচার-প্রতারণা এবং জুলুম যখন মহামারী আকার ধারণ করে এবং ভুক্তভোগীরা যখন কোথাও বিচার পায় না তখন তাদের শরীর-মন-মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মানুষের শরীরে দুই ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। একশ্রেণির হরমোন মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত ও কাপুরুষে পরিণত করে দেয়। এগুলো মানুষের আহার-বিহার-বিনোদনেও ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। মানুষের খাদ্য চাহিদা কমে যায়, কর্ম উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যায়। প্রেম-ভালোবাসা-মায়া-দয়ার মতো মানবিক গুণাবলির ওপর জং বা মরিচা পড়ে যায়। হতাশা, সন্দেহবাতিক, অনিদ্রা, দুঃস্বপ্ন ইত্যাদি ব্যাধিগুলো অন্ধকারে বসবাসরত মানুষজনকে অক্টোপাশের মতো আঁকড়ে ধরে।

অন্ধকার সমাজের মানুষের শরীরে দ্বিতীয় প্রকৃতির সে হরমোন নিঃসৃত হয় তা তার চিন্তাচেতনা এবং শরীরের পেশিগুলোতে এক ধরনের গর্ত বা ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি করে ফেলে। মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মূল নিউক্লিয়াসেও গর্ত সৃষ্টি হয়ে যায়। ফলে মানুষ যা চিন্তা করে এবং যা যা করতে চায় সেসব অদম্য কামনা-বাসনা ও ইচ্ছাশক্তিগুলো হরমোন কর্তৃক সৃষ্ট গর্তে জমা হতে থাকে। মানুষের যাবতীয় হতাশা, ক্ষোভ, বিক্ষোভ, রাগ-ক্রোধ, প্রতিশোধ স্পৃহা এবং শাস্তি দেয়ার অদম্য বাসনা ধীরে ধীরে গর্তগুলোর মধ্যে ছোট ছোট পারমাণবিক বোমার মতো গড়ে ওঠে এবং সুপ্ত আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় থাকে। যে মানুষের মধ্যে যত বেশি মাত্রার গর্ত সৃষ্টি হয় সেই মানুষ তত বেশি নিশ্চুপ ও নিশ্চল হয়ে থাকে।

সমাজ বা রাষ্ট্রে যখন কোনো গুজব শুরু হয়ে যায় তখন নিশ্চুপ ও নিশ্চল মানুষগুলোর মধ্যে সৃষ্টি হওয়া গর্তের মধ্যে জমা করা বোমাগুলোর রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হয়। চুপচাপ মানুষটি হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেয়- আর নিশ্চল মানুষটি আরবের মরুভূমির দূরন্ত পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে শুরু করে। অন্ধকার সমাজের মধ্যে সৃষ্ট গুজবে যেসব মানুষের মন-মস্তিষ্কের এবং পেশি ও ইন্দ্রিয়গুলোর গর্তের মধ্যে সৃষ্ট বোমার বিস্ফোরণ ঘটে যেসব মানুষ ক্ষণিকের তরে অন্ধ-বধির ও মূক বা বোবা হয়ে যায়। তাদের অনুভূতি গণ্ডারের চেয়েও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, তারা শকুনের চেয়েও ভয়ঙ্কর মৃত প্রাণীর মাংস ভক্ষক হায়েনার চেয়েও হিংস্র এবং কাল নাগিণীর চেয়েও বিষধর ও বদমেজাজি হয়ে পড়ে। যখন কোনো দেশে বা সমাজে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে তখন এই শ্রেণীর লোকেরা সর্বশক্তি নিয়ে তাদের ওপর অত্যাচার করা দল-মত-গোষ্ঠীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এখন প্রশ্ন হলো- গুজব কখন ও কিভাবে শুরু হয়। এর আগে বলেছি যে, গুজবের অধিক্ষেত্র হলো সেই সমাজ, যেখানে ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালীরা মিথ্যা বলে। তারা জনগণের সব অধিকার হরণ করে। তারা জনগণের সহায়-সম্পত্তি লুট করে এবং তাদের মান-সম্মান-ইজ্জত ধুলোয় লুটিয়ে দেয়। তারা জনগণকে নির্বোধ এবং গৃহপালিত নিচু জাতের দুর্বল জন্তু জানোয়ারের মতো মনে করে। তারা জনগণের মুখের ভাত কেড়ে নিয়ে নিজেদের পোষা শেয়াল-কুকুর-বিড়ালদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়। তারা জনগণের বস্ত্র হরণ করে এবং উলঙ্গ জনগণকে নেচে গেয়ে তাদের কুকর্মের গুণকীর্তন করতে বাধ্য করে। তারা ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, ভালো ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়গুলোকে ঝেটিয়ে নর্দমায় ফেলে দেয়। স্বেচ্ছাচার, বেআইনি কর্মকাণ্ড, জনগণের অর্থে বিলাসব্যসন এবং জনগণের সহায়-সম্পদ লুটে এনে তা নিজেদের বলে প্রচারকর্মে মেতে ওঠে। তারা এসব কুকর্ম প্রথম দিকে, রাতে করে এবং পরে সাহস ও দম্ভ বেড়ে গেলে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে কুকর্ম করে দিবালোককে আমাবস্যার ঘোর অন্ধকারে পরিণত করে ফেলে। এ অবস্থায় জনগণ রাত বিরেত তো দূরের কথা- দিনের আলোতেও হাঁটাচলা করতে ও কথাবার্তা বলতে শঙ্কাবোধ করে।

দেশকালের পরিস্থিতি যখন উল্লিখিত পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন সমগ্র জাতি-গোষ্ঠী দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মজলুমরা আড়ালে আবডালে চলে যায় এবং চুপচাপ থেকে জুলুমবাজ জাহেলদের দম্ভ দেখে নিজেদের শরীর মনে দুই ধরনের হরমোনের নিঃসরণ ঘটাতে থাকে। তারা দূর থেকে অতি সতর্কতার সাথে জুলুমবাজদের কর্মকাণ্ড দেখে অথবা শোনে। তারপর নিজেদের কল্পনাশক্তি বিচারশক্তি ও বিবেকের বৈকল্যতার কারণে কোনো কিছুই সঠিকভাবে বাছ-বিচার করতে পারে না। তাদের কথা-কাজ মাঝে মধ্যে শিশুদের মতো হয়ে যায়। তাদের চিন্তাচেতনা অনেক সময় প্রাগৈতিহাসিক জনগণের মতো হয়ে পড়ে এবং ক্ষেত্র বিশেষে কিছু আচরণের নিষ্ঠুরতা ও হিংস্রতার সীমা-পরিসীমা থাকে না। এমনতরো অবস্থায় এই হতভাগ্যদের মধ্যে কেউ যদি কোনো গুজব ছড়িয়ে দেয়, তবে তা সাথে সাথে দাবানলের মতো পুরো অন্ধকার সমাজকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। দাবানলের হাত থেকে যেমন কেউ বাঁচতে পারে না, তেমনি গুজব একবার শুরু হয়ে গেলে তা কাউকে রেহাই দেয় না।

গুজবের পর এবার গজব নিয়ে কিছু বলি। গজব বলতে আমরা সাধারণত আসমানি বালা মুছিবত, দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগবালাই, যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি বুঝি। গজব সাধারণত দুই প্রকার হয়ে থাকে। প্রথমটি হলো সুনির্দিষ্ট গজব যা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ওপর নাজিল হয়। দ্বিতীয়টি হলো অনির্দিষ্ট গজব যা মহামারী আকারে পুরো দেশ-জাতি-গোষ্ঠী থেকে শুরু করে নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, বন-বনানী এবং পশু-পাখিকে পর্যন্ত শেষ করে দেয়। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পাপকর্ম সাধারণত তাদের গ্রাস করে। অন্য দিকে পাপী শ্রেণীর সংখ্যা যদি অগুনতি হয়ে যায় এবং জনগণ যদি বিনা বাক্যব্যয়ে তা মেনে নেয় অথবা জাতীয়ভাবে অন্যায়কারীকে নিজেদের মানস পিতা বানিয়ে ঘৃণিতদের মানসপুত্র হিসেবে কুকর্মের উচ্ছিষ্ট ভোগের জন্য পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয়, তবে অনির্দিষ্ট গজবের কবলে পড়ে সবাই শেষ হয়ে যায়।

গজব সব সময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। গজবের কার্যকারণ সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। তবে যুগ-যুগান্তরের নবী-রাসূল, অলি-আল্লাহ, আলেম-ওলামা এবং দার্শনিকেরা খোদায়ী গজবের কারণগুলো যেভাবে ব্যাখ্যা করে গিয়েছেন তাতে এ কথা স্পষ্ট করে বলা যায় যে, মহান আল্লাহ বিনা কারণে গজব নাজিল যেমন করেন না, তেমনি সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক আইনের লঙ্ঘন, জুলুম-অত্যাচারের সীমা অতিক্রম এবং মজলুমের হাহাকারের মাত্রা বেশি না হয়ে গেলে সাধারণত গজব অনিবার্য হয়ে পড়ে না। আল্লাহ প্রত্যেক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট সময় দিয়ে থাকেন সংশোধন হওয়ার জন্য।
পাপীরা যদি বিধাতার ইঙ্গিত বুঝতে না পারে অথবা বুঝতে পারলেও ভয় না পায় তবে গজব পূর্ববর্তী কিছু ফ্যাতনা-ফাসাদ দেখা দেয়। তার পরও যদি অপরাধীরা তাদের কুকর্মে ক্ষান্ত না দেয় তবে গজব-পূর্ববর্তী গুজব মহামারী আকার ধারণ করে। গুজব চলাকালীন সময় পর্যন্ত সংশোধন বা তওবার দরজা খোলা থাকে। কিন্তু একবার গজব শুরু হয়ে গেলে আর সংশোধন বা তওবা করে সঠিক পথে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।

মহান আল্লাহ তার সৃষ্ট বিশ্বজগতের প্রতিটি প্রাণী, বৃক্ষলতা, পাহাড়, সমুদ্র, মরুভূমি এবং মহাকাশের রহস্যময় অজানা সৃষ্টিকুলের জন্য একটি সার্বজনীন নিয়ম তৈরি করে রেখেছেন। মানুষের জন্য যে সার্বজনীন নিয়ম রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- মানুষ পরিশ্রম করবে, হালাল রিজিক খাবে, অন্যের ধন-সম্পত্তির দিকে বদ নজর দেবে না। তারা ন্যায়বিচার করবে অথবা ন্যায়বিচারের সমর্থক হবে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না, সম্ভব হলে বাধা দেবে নতুবা মনেপ্রাণে ঘৃণা করবে। তারা দুষ্টে দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং কোনো মানুষের অধিকারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে। জুলুম-অত্যাচার, চুরি-ডাকাতি, মিথ্যাচার, জেনা-ব্যভিচার, মোনাফেকি, দম্ভ প্রদর্শন, ছলচাতুরী, অন্যের ধন-সম্পত্তি, অধিকার হরণ ইত্যাদি কর্ম, যা কিনা দুনিয়ার মানুষের জন্য অপরিহার্য মহাজাগতিক নূরকে দূরীভূত করে শয়তানি অন্ধকার দিয়ে জমিনকে আচ্ছাদিত করে ফেলে, সেসব কুকর্ম থেকে বিরত থাকবে।

জমিনের সাধারণ মানুষের বেশির ভাগ অংশ যখন মন্দ কাজে জড়ায় অথবা মন্দ কাজের ব্যাপারে চুপ থাকে অথবা মন্দ কাজকে ঘৃণা করার ইচ্ছা শক্তি হারিয়ে ফেলে তখন তাদের জন্য মন্দ চরিত্রের বজ্জাত নেতা মনোনীত করে দেয়া হয়। এসব নেতা ক্ষমতা পেয়ে ধরাকে সরাজ্ঞান আরম্ভ করেন এবং নিজেদের মন্দ নফস ও ইবলিশের যৌথ প্রযোজনায় তাদের মতো আরো অধিকসংখ্যক সঙ্গী-সাথী পয়দা করে ফেলেন। পরবর্তীতে সবাই মিলে মনুষ্য সমাজকে নাপাকি ও হিংস্র পশুদের সমাজ বানিয়েও ক্ষান্ত হতে পারেন না। তারা মাঝে মধ্যে স্রষ্টার ক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসেন। কখনো আবার নিজেদের অত্যাচারের ট্রাক্টর মানুষ ছাড়াও নিরপরাধ বোবা পশু, ফসলি জমি, প্রবহমান নদী এবং সবুজাভ বনভূমি ধ্বংসের জন্য ব্যবহার শুরু করে দেন, যার কারণে পুরো প্রকৃতি ও পরিবেশে হাহাকার শুরু হয়ে যায়। ফলে বিধাতার অভিশাপের খাতায় গজবের তালিকায় সংশ্লিষ্ট নরাধমদের নাম লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।

উল্লিখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আসমানি গজব, বালা-মুসিবত, রোগবালাই একের পর এক জমিনে আঘাত হানতে থাকে। অন্য দিকে গজবসংক্রান্ত গুজবের ডালপালা বিস্তৃত হতে হতে জমিনের পরিবেশ পরিস্থিতি দিনকে দিন অস্থির ও অশান্ত হয়ে ওঠে। তারপর একদিন বিধাতার হুকুমে এমন কিছু ঘটে, যার পরিণতিতে মানুষের মনে এক ধরনের প্রশান্তি চলে আসে এবং সবাই একবাক্যে আল্লাহর ন্যায়বিচারের কাছে অবনত মস্তকে আত্মসমর্পণ করে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ