চলিতেছে সার্কাস !!

Pub: সোমবার, আগস্ট ৫, ২০১৯ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, আগস্ট ৫, ২০১৯ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাহফুজুর রহমান : সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একের পর এক ঘটনা দূর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশের সাধারণ জনগণ। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশ। দেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকা সহ দেশের প্রায় প্রতিটি সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার বেশিরভাগ হাসপাতালে স্থানসংকুলান না হওয়ায় মুমূর্ষু রোগীরা ফেরত যেতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশের ৬৪ জেলায়ই ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। ৩ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা রেকর্ড করে দাড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫১৩ জন। সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৪ জন। সরকারি হিসাবের এই সংখ্যা কোন মহলেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের নজরদারি করছে না। আবার তাদের কাছে রোগীদের তথ্যও সংরক্ষিত নেই বা থকলেও সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য তারা সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করেনা। আইসিডিডিআরবির তথ্য অনুযায়ী এরই মধ্যে সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। বিভিন্ন হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৬২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সারাদেশে ডেঙ্গু রোগের বিস্তার মাহামারী আকার ধারণ করার পরও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাইদ খোকন বলছেন ডেঙ্গু গুজব। ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম সিটি করপোরেশন এর দায়িত্ব এড়িয়ে বলেছেন “বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ির মালিককে জরিমানা করা হবে”। আর সরকার, ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের সকল জেলা বা উপজেলার ইমাম ও খতিবদের জুমআর নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু ও বন্যা গুজব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে খুতবা প্রদানের জন্য ৩০ জুলাই গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যম্যে অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ চলিতেছে সার্কাস !!

জুলাইয়ের প্রথম দিকে শুরু হওয়া বন্যার ব্যপকতা আপাতত কিছুটা কমলেও এখনও অন্তত ১৩৪টি উপজেলার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গত কয়েক সপ্তাহের বন্যায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ১১৪ জন মারা গেছে। দুর্যোগ মোকবেলায় গঠিত নিডস অ্যাসেসমেন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ এর তথ্য মতে ১৩৪ উপজেলার প্রায় ৫৩ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। বন্যায় সম্পূর্ন বিনষ্ট হওয়া বাড়িঘরের সংখ্যা ২৭ হাজার ১৭০টি। আংশিক বিনষ্ট হয়েছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৩৬টি। ২৪ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৮৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ন বিনষ্ট হয়েছে। আংশিক বিনষ্ট হয়েছে ৮১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমির ফসল। উত্তর বঙ্গের দুই প্রধান নদী যমুনা ও তিস্তার পানির স্তর ১০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দাঁড়িয়েছে। তবুও সরকার বলছে বন্যাও নাকি গুজব। কারণ চলিতেছে সার্কাস !!

২০১৯ সালের ৩০ জুন থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর বাজার মূলধন হঠাৎ কমে ৪ লাখ কোটি টাকা থেকে ৩ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এতে বিনিয়গকারীদের ক্ষতি হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই শেয়ার বাজার লুট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর শেয়ার মার্কেট থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৬০ হাজার কোটি টাকা লুট হয়। আর ২০১০ সালে শেয়ার মার্কেট থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২ লাখ কোটি টাকা লোপাট হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের বিচার করা হয়নি। তদন্তে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত সন্দেহে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের নাম আছে। কিন্তু তারপর তারা বহাল তবিয়তে। কারণ চলিতেছে সার্কাস !!

হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গিয়ে অভিযোগ করে বলেছেন বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দুকে গুম করা হয়েছে। ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা তার অভিযোগে বলেন বাংলাদেশের মুসলিম মৌলবাদিরা হিন্দুদের বাড়ি ঘরে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে, ভাঙচূড় করছে, জমি দখল করছে। প্রিয়া সাহার মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের পর সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং প্রিয়া সাহার এই দেশদ্রহী কর্মকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে দেশের সাধারণ জনগণ। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রিয়া সাহা অপর একটি ভিডিও বার্তায় জানান তিনি হিন্দু নির্যাতনের যে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন তা শেখ হাসিনার বক্তব্যের অনুসরন করেই বলেছেন। ২০০১ সালের অক্টেবরে নির্বাচনে পরজয়ের পর ৪ দলীয় জোট সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে শেখ হাসিনাই হিন্দু নির্যাতনের এই সব মিথ্যা অভিযোগ সারা বিশ্বে প্রচার করেছেন। প্রিয়া সাহা শেখ হাসিনার বক্তব্যের ধারাবাহিকতাই রক্ষা করেছেন মাত্র। দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজপথে মিছিল বের করলে সরকার যেখানে মিছিলকারিদের বিরুদ্ধে দেশদ্রহী মামলা দায়ের করে। সেখানে প্রিয়া সাহার এত বড় দেশদ্রহী কর্মকান্ডের পরও সরকার তার বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অন্যকাওকেও সরকার প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে দেয়নি। প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রতিয়মান হয় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে সমর্থন করেছে। কিংবা প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার শক্তি বা সাহস বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের নেই। কারণ এই প্রিয়া সাহারা যেই সার্কাস টিম গঠন করেছে, সেই সার্কাস টিমের জোকার হচ্ছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপিরা। আর এই সব জোকাররা যে সার্কাস খেলা দেখাচ্ছে তা নির্মম উপভোগ করতে বাধ্য হচ্ছে দেশের ১৭ কোটি জনগণ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ